জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঈদের বাজারে পাকিস্তানি পোশাকের দাপট কেন বাড়ছে

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বাজারে পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেশ বেড়েছে। সাধারণ সুতি পোশাক থেকে শুরু করে জরি বা ভারী কাজের জামা—বিভিন্ন ধরনের পাকিস্তানি পোশাক এখন ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। প্রশ্ন হলো, এসব পোশাকের জনপ্রিয়তা কেন বাড়ছে?

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২০: ৩২
ঈদের বাজারে পাকিস্তানি পোশাকের দাপট কেন বাড়ছে। স্ট্রিম গ্রাফিক

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া লামিয়া রহমান একদিন স্মার্টফোনে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে করতে দেখলেন জনপ্রিয় পাকিস্তানি তারকা হানিয়া আমিরের পরা একটি ‘ঘারারা স্যুট’। পোশাকটি তাঁর এতই ভালো লাগে যে সেই ছবিটা ফোনে রেখে তিনি বেরিয়ে পড়েন দোকান খুঁজতে। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে দেখান ফোনের সেই ছবি। কিন্তু আসল পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের দোকান খুব বেশি না থাকায় পছন্দের পোশাকটি খুঁজে পাওয়া সহজ হচ্ছে না।

শুধু লামিয়া নন, এখন দেশের অনেক ক্রেতার ঈদের কেনাকাটার গল্প প্রায় এমনই। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বাজারে পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেশ বেড়েছে। সাধারণ সুতি পোশাক থেকে শুরু করে জরি বা ভারী কাজের জামা—বিভিন্ন ধরনের পাকিস্তানি পোশাক এখন ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। প্রশ্ন হলো, এসব পোশাকের জনপ্রিয়তা কেন বাড়ছে?

আরাম ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের মেলবন্ধন

ঈদের পোশাক কেনার সময় ক্রেতারা শুধু পোশাকের সৌন্দর্যই দেখেন না, সেটি পরতে কতটা আরামদায়ক—সেটিও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে গরমের সময়ে ঈদ হলে আরামদায়ক কাপড়ের চাহিদা আরও বেশি থাকে। এই জায়গাতেই পাকিস্তানি পোশাকগুলো অনেক ক্রেতার নজর কাড়ছে।

হানিয়া আমির। সংগৃহীত ছবি
হানিয়া আমির। সংগৃহীত ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লামিয়া রহমান জানান, পাকিস্তানি জামার প্রতি তাঁর আগ্রহের মূল কারণ হলো এর আরামদায়ক কাপড় ও আলাদা ধরনের ডিজাইন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি পোশাক পরতে খুব আরাম লাগে। তাদের সুতি বা লন কাপড় সাধারণত ভালো মানের হয়। পাশাপাশি ডিজাইনগুলোও বেশ আলাদা এবং রংগুলো উজ্জ্বল। প্রতিদিনের ব্যবহার থেকে শুরু করে বিয়ে বা ঈদের মতো অনুষ্ঠান, সব জায়গাতেই এই পোশাক ভালো মানিয়ে যায়।’

গৃহিণী নুসরাত জাহানও এবার নিজের ও মেয়ের জন্য পাকিস্তানি লন ও শিফনের ড্রেস কিনেছেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘পাকিস্তানি ড্রেসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর প্যাস্টেল কালার কম্বিনেশন আর বড় দোপাট্টা বা ওড়না। এদের ওড়নাগুলো যেকোনো সাধারণ জামাকেও অনেক গর্জিয়াস লুক শিশু থেকে শুরু করে বড়দের জন্যও নানা ধরনের ডিজাইন পাওয়া যায় এসব পোশাকে।’

ভারতীয় ‘পাখি’ থেকে পাকিস্তানি ‘আঘানূর’

একসময় ঈদে ‘আনারকলি’, ‘মাসাক্কালি’ কিংবা ‘পাখি’ জামার জন্য রীতিমতো উন্মাদনা দেখা যেত চারদিকে। ভারতীয় সিরিয়ালের নায়িকাদের জমকালো পোশাকগুলোই ছিল অনেকের প্রথম পছন্দ। এখন সেই পোশাকের জায়গা দখল করে নিয়েছে আঘানূর, তাওয়াক্কাল, সাদা বাহার, মারিয়া বি, সানা সাফিনাজ, আসিম জোফা কিংবা গুল আহমেদের মতো পাকিস্তানি ব্র্যান্ডগুলোর জামা।

রাজধানীতে ‘অথেন্টিক’ বা আসল পাকিস্তানি ড্রেস বিক্রি করে, এমন একটি শপের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা স্ট্রিমের। পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা সম্পর্কে তাদের বিক্রয় প্রতিনিধি রিপন আহমেদ বলেন, ‘মানুষ এখন পোশাকের ডিজাইনে যেমন নতুনত্ব চায়, তেমনি আরামও চায়। তাই দাম একটু বেশি হলেও পাকিস্তানি জামা কেনার প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়েছে।’

রিপন আহমেদের মতে, এখন সব বয়সী নারীই এসব পোশাক কিনছেন। কেউ সাধারণ লন কাপড়ের ড্রেস নিচ্ছেন, আবার কেউ পার্টি বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য ভারী কাজ করা ড্রেস কিনছেন। তাদের আউটলেটে পাকিস্তানের বেশিরভাগ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের কাপড় পাওয়া যায় এবং প্রতিটি ব্র্যান্ডেরই আলাদা আলাদা ক্রেতা রয়েছে।

‘পাকিস্তানি ইনস্পায়ার্ড’ পোশাকের জয়জয়কার

পাকিস্তানি পোশাকের জনপ্রিয়তা এখন এতটাই বেড়েছে যে শুধু আসল বা অথেন্টিক পাকিস্তানি ড্রেস বিক্রি করা দোকানই নয়, পাশাপাশি ‘পাকিস্তানি ইনস্পায়ার্ড’ বা একই ধরনের ডিজাইনের পোশাক বিক্রি করা অনলাইন পেজ ও দোকানের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।

পাকিস্তানি জামার জনপ্রিয়তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে পাকিস্তানি ড্রামা বা নাটকগুলো। এক দশক আগেও বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি পোশাকের প্রতি এতটা আগ্রহ দেখাতেন না। তখন মানুষের বিনোদনের বড় অংশ জুড়ে ছিল ভারতীয় মেগা সিরিয়াল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে পাকিস্তানি নাটকও বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এর মূল কারণ হলো দাম। আসল পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের থ্রি–পিস বা পোশাকের দাম সাধারণত বেশ বেশি হয়, যা অনেক সময় সাধারণ ক্রেতাদের বাজেটের বাইরে চলে যায়। তাই অনেকেই একই ধরনের ডিজাইনের তুলনামূলক সস্তা ‘ইনস্পায়ার্ড’ পোশাক কিনে থাকেন।

এমনই একজন ক্রেতা জানান, আসল পাকিস্তানি পোশাকের দাম বেশি, এজন্য তিনি ইনস্পায়ার্ড পোশাক কিনছেন, যা দেখতে একই রকম। তাঁর ভাষায়, ‘পাকিস্তানি ইনস্পায়ার্ড ড্রেসগুলোর মানও মোটামুটি ভালো এবং দামও তুলনামূলক কম। তাই আমি এগুলোই বেশি পরি। এবার ঈদের জন্যও এমন কিছু পোশাক কেনার পরিকল্পনা আছে।’

নেপথ্যে পাকিস্তানি নাটকের প্রভাব

ক্রেতা-বিক্রেতা দুই পক্ষই মনে করেন, দেশে পাকিস্তানি জামার জনপ্রিয়তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে পাকিস্তানি ড্রামা বা নাটকগুলো। এক দশক আগেও বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি পোশাকের প্রতি এতটা আগ্রহ দেখাতেন না। তখন মানুষের বিনোদনের বড় অংশ জুড়ে ছিল ভারতীয় মেগা সিরিয়াল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে পাকিস্তানি নাটকও বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এসব নাটকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের পোশাকের স্টাইল অনেক দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। লামিয়া রহমান মনে করেন, হানিয়া আমির, সজল আলি বা আয়েজা খানের মতো অভিনেত্রীরা নাটকে যে ধরনের লং কামিজ, ঘারারা, সারারা বা বড় দোপাট্টা ব্যবহার করেন, অনেক তরুণী এখন সেই স্টাইল অনুসরণ করতে চান।

ফলে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানি তারকাদের জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ঈদের বাজারেও পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। আরামদায়ক কাপড়, আকর্ষণীয় ডিজাইন আর সোশ্যাল মিডিয়ার ত্রিমুখী প্রভাবেই এবারের ঢাকার ঈদ বাজারে অনেকটাই নিজেদের দখলে নিয়েছে পাকিস্তানি পোশাক।

এসব নাটকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের পোশাকের স্টাইল অনেক দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। লামিয়া রহমান মনে করেন, হানিয়া আমির, সজল আলি বা আয়েজা খানের মতো অভিনেত্রীরা নাটকে যে ধরনের লং কামিজ, ঘারারা, সারারা বা বড় দোপাট্টা ব্যবহার করেন, অনেক তরুণী এখন সেই স্টাইল অনুসরণ করতে চান।

ফলে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানি তারকাদের জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ঈদের বাজারেও পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। আরামদায়ক কাপড়, আকর্ষণীয় ডিজাইন আর সোশ্যাল মিডিয়ার ত্রিমুখী প্রভাবেই এবারের ঢাকার ঈদ বাজারে অনেকটাই নিজেদের দখলে নিয়েছে পাকিস্তানি পোশাক।

সম্পর্কিত