জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নগদ অর্থের ব্যবহার কমছে, ইউনিট গঠনের নির্দেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২: ২৬
নগদ টাকা নিয়ন্ত্রণ করে ক্যাশলেস বাজার গড়বে সরকার। সংগৃহীত ছবি

বিএনপি সরকার দেশে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে চায়। এর অংশ হিসেবে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) প্রধান কার্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনার তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ক্যাশলেস বাংলাদেশ নিয়ে একটি সভা হয়। সেখানে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আনতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছে।

ইউনিট গঠনের উদ্দেশ্য

ইউনিট গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশজুড়ে ক্যাশলেস এবং ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলা কিউআর, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও পয়েন্ট অফ সেলস মেশিনের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ছে। এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট ইউনিট থাকা দরকার। উদ্যোগের আওতায় খুচরা ব্যবসায়ী ও মার্চেন্টদের লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়নের ক্ষেত্রে এখন ‘বাংলা কিউআর’ লেনদেনের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ইউনিটের কাঠামো ও জনবল নিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই ইউনিটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা। এমএফএস, পিএসপি ও পিএসওর ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ঠিক এক ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পালন করবেন।

জনবল কাঠামো

জনবলের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর এই ইউনিটে কমপক্ষে চার কর্মকর্তা এবং এমএফএস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুজন কর্মকর্তা থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যাংকগুলোতে একজন উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদমর্যাদার কর্মকর্তা ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে, এমএফএস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পাবেন। এছাড়া তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য সহকারী ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে ব্যাংকের ক্ষেত্রে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) এবং এমএফএসের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিন ধাপ নিচের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে।

কী করবে ইউনিট

এই ইউনিটের প্রধান কাজ হবে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রসারে লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও ‘রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করা । তারা বাংলা কিউআর, পয়েন্ট অফ সেলস এবং অনলাইন কার্ড পেমেন্ট সম্প্রসারণে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অ্যাপে গ্রাহকদের নিবন্ধন ও ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশব্যাপী মার্চেন্ট অনবোর্ডিং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার দায়িত্বও থাকবে ইউনিটের।

এছাড়া শাখা পর্যায়ে ক্যাশলেস কার্যক্রম তদারকি, কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরিতে নিয়মিত সেমিনার ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে। গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং ডিজিটাল লেনদেনের ঝুঁকি কমানোর বিষয় এই ইউনিটের কর্মপরিধির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গঠনে স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করবে এই ইউনিট।

সময়সীমা ও প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে– আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে এই ইউনিট গঠন করতে হবে এবং বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ছকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রতি বছর মার্চের শেষ কার্যদিবসের মধ্যে ক্যাশলেস কার্যক্রমের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।

সম্পর্কিত