leadT1ad

গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি: জামায়াত আমির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ২১
বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের জড় কেটে দিতে হলে গণভোটে হ্যাঁ দিতে হবে। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। এই লড়াকু জাতি আজাদির জন্যে লড়ে যাবে। জামায়াত আমির বলেন, ‘আজাদি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না। বিজয় আমাদের নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।’

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের পক্ষ থেকে যাত্রাবাড়ী কাজলা ব্রিজ এলাকায় আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির এই মন্তব্য করেছেন। এসময় তিনি বলেন, রাস্তার পাশে এই জনসভা করতে হচ্ছে, এর কারণ এই এলাকায় খেলার মাঠ নেই। থাকলে মানুষকে কষ্টা দিয়ে জামায়াত এখানে জনসভা করত না। সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।’

যাত্রাবাড়ীর জনসভায় দাঁড়িয়ে বক্তব্যের শুরুতে জামায়াত আমির বলেন, তিনি এসেছেন যাত্রাবাড়ির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে। এসময় শহীদদের স্মৃতিচারণ করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বড় গণহত্যা চালানো হয়েছে এই যাত্রাবাড়ীতে। এই জায়গার ঋণই আমরা পরিশোধ করব সবার আগে। জামায়াত আমির জানান, অতীতেও তারা শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে গেছেন, ক্ষমতায় যেতে পারলে আবারও খোঁজে খোঁজে বের করে হতাহতদের পরিবারের খোঁজ নেবেন, আলোচনা করে সমাধান বের করবেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই এলাকায় অনেকগুলো কওমি মাদরাসা রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে তারা সমানতালে লড়াই করেছে। তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে প্রতিটি সরকার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি চরম অবহেলা করেছে। অথচ তারাও এদেশের নাগরিক ও অন্যদের মতো তারাও ট্যাক্স আদায় করে। জামায়াত আমির বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিয়ে তাদের প্রতি সামান্য সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি তারা এখনও পাননি। তাদের এই স্বীকৃতি আর কেউ না দিলেও আমরা দেবো ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত আমির বলেন, মানুষ আর পুরানা ধাঁচের বস্তাপচা রাজনীতি দেখতে চায় না। ইতিমধ্যে যুব সমাজ জানিয়ে দিয়েছে তারা পরিবর্তন চায়, দুর্নীতিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ চায়। তরুণরা যে ফ্যাসিবাদের ছায়া ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চায় এটা তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে। জনগণের এই ভাষা যারা বুঝতে পারে না, তাদের ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ বুঝিয়ে দেবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

জামায়াত আমির বলেন, এই দেশে নতুন একটি ‘পেশা’ খুব ভালো চলছে। নতুন জন্ম হওয়া এই পেশার নাম চাঁদাবাজি। চাঁদাকে আমরা ঘৃণা করি। এটি ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট। আমরা চাঁদাবাজি যেমন করবো না তেমনি কাউকে করতেও দেবো না।

এসময় যুবকদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিক বলেন, জামায়াত যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চায় না। জামায়াত তরুণদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করতে চায়। জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আমাদের যুবক-যুবতীদের মুখে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও আরবি তুলে দেবো। সারা দুনিয়ায় তারা যেন সম্মানের সঙ্গে নিজের কর্মসংস্থান এবং পরিবার ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। আমরা তাদের হাতকে দক্ষ হাত করে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। এর জন্য আলাদা কোনো শিক্ষাব্যবস্থা লাগবে না।’ তিনি জানান বর্তমানে চলমান সাধারণ, আলিয়া ও কওমি তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাতেই এটি করা হবে।

ইসলাম সুমহান মানদণ্ডে সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও জানান জামায়াত আমির।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত