গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপদেষ্টারা দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দেন।
স্ট্রিম প্রতিবেদক

বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশির ভাগ কমিটির মেয়াদ নেই। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে দলটি। শিগগির এসব কমিটি পুনর্গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারে ছিল প্রায় সাড়ে ১৫ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে বিএনপি মাঠ গোছাতে পারেনি। ফলে অধিকাংশ কমিটির মেয়াদ নেই। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির প্রার্থীদের জয় তুলে আনা কঠিন হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মিলে ১১ সাংগঠনিক কমিটির ১০টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সামনে বড় কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নেই। বর্তমানে মূল চ্যালেঞ্জ সঠিকভাবে সরকার পরিচালনা করা। ফলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজর আপাতত সেদিকেই। এ নিয়ে তৃণমূলে বাড়ছে হতাশা।
যদিও ঈদুল ফিতরের পর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। দ্রুত দেওয়া হতে পারে কয়েকটি সংগঠনের কমিটিও। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপদেষ্টারা দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীও ঈদের পর এ লক্ষ্যে কাজ শুরুর ইঙ্গিত দেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আপাতত বিএনপির কাউন্সিল করার বিষয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। সবার নজর এখন সরকারের দিকে।
বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পরপর কাউন্সিলের কথা থাকলেও দলটি তা করতে পারেনি। তবে এই সময়ে নির্বাহী কমিটি একাধিকবার পুনর্গঠন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন পদে সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। সর্বশেষ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হয়েছেন তারেক রহমান।
দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ অনেক নেতা এবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। স্থান পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়ও। তবে দীর্ঘদিনেও কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। শীর্ষ নেতারা এমপি-মন্ত্রী হওয়ায় সংগঠনকে সময় দিতে পারছেন না। আবার কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বও তৈরি হয়নি। পদপ্রত্যাশী অনেকে হতাশা থেকে হয়ে পড়ছেন নিষ্ক্রিয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী না করলে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে না। তা ছাড়া সংগঠনগুলোতে নিয়মিত কাউন্সিল না হলে নতুন নেতা তৈরি হবে না। ভবিষ্যতে সংকট তৈরি হবে আদর্শবান নেতৃত্বের।
ছাত্রদলে পদপ্রত্যাশীদের দৌঁড়ঝাপ
ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ১ মার্চ। সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের বর্তমান কমিটি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিসহ একাধিক কারণে সমালোচিত। এসব কারণে ঈদের পর কমিটি দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নেতারা তদবিরও শুরু করেছেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, আমাদের দুই বছরের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন চাইবেন তখনই কমিটি হবে। তবে এখনই কমিটি দেওয়ার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।
স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ দুই নেতাই এমপি-মন্ত্রী
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি হয়। তিন বছরের কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এরমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজীব আহসান হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতাই সংসদে, কমিটির মেয়াদও শেষ– সব মিলিয়েই যেকোনো সময় স্বেচ্ছাসেবক দলে আসতে পারে নতুন নেতৃত্ব।
সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান বলেন, ‘আমরা যতদিন আছি, ততদিন ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করব। দল যদি নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসে স্বাগত জানাব।’
দেড় বছরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি যুবদলের
আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই যুবদলের আংশিক কমিটি হয়। দেড় বছরেও সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি তাঁরা। বর্তমানে ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে চলছে কার্যক্রম।
নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, এখন দল যদি আমাকে সংগঠনে না রেখে অন্য কোথাও কাজে লাগাতে চায়, সেটাই হবে। আবার সংগঠনে রাখতে চাইলেও সমস্যা নেই। মূল কথা দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে শিগগির পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার কথা জানান তিনি।
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে চলছে কৃষক দল
দেড় বছর আগে মেয়াদ শেষ কৃষক দলের। সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, নির্বাচনের আগেই কমিটি ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে সংগঠনের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল দুজনই এমপি প্রার্থী হওয়ায় ভোটের মাঠে প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় তা করা হয়নি।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব বলেন, চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব দ্রুত অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নতুন করে সাজাবেন। আসলে কৃষক দল পিছিয়ে পড়া একটা সংগঠন ছিল। সেখান থেকে বর্তমান সভাপতি-সম্পাদকসহ পুরো কমিটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সফলও হয়েছেন।
এক কমিটিতে দশক পার মহিলা দলের
২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে হয় মহিলা দলের কমিটি। দুই বছর মেয়াদের কমিটিতেই চলছে প্রায় ১০ বছর। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব নানা সময় প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েকবার অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় পদবঞ্চিতরা নিজেদের গুটিয়ে রাখছেন। এতে মহিলা দল সাংগঠনিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
এক যুগ আগের কমিটিতে চলছে মুক্তিযোদ্ধা এবং শ্রমিক দল
মুক্তিযোদ্ধা দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর। এতে ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ সভাপতি ও সাদেক খান সাধারণ সম্পাদক হন। এই কমিটি মেয়াদের চারগুণ সময় পার করেছে। সাধারণ সম্পাদকের দাবি, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তাদের কাউন্সিল হয়। সেই হিসাবে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২১ সালে।
তবে তাঁর দাবির সত্যতা মেলেনি। কারণ, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন। এ ব্যাপারে সাদেক খান বলেন, আমরা কাউন্সিলের জন্য বিএনপির কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু দল থেকে কাউন্সিলের আয়োজন করেনি। আর এখন আমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় দলের সঙ্গে নেই।
একইভাবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কমিটি হয়েছিল প্রায় ১ যুগ আগে। ২০১৪ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল ওই কাউন্সিলে শীর্ষ দুই পদ পান আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিম। ২০১৬ সালে মেয়াদ শেষ হওয়া সেই কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম।
অভিযোগ রয়েছে, পহেলা মে শ্রমিক দিবসে র্যালি ও আলোচনা সভা ছাড়া সংগঠনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না। উল্টো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। অনেককে বহিষ্কারও করা হয়।
তথৈবচ তাঁতি এবং মৎস্যজীবী দল
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক ও মজিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করে তাঁতি দলের ১২৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হয়। ২০২২ সালে মেয়াদ শেষ হলেও দেওয়া হয়নি নতুন কমিটি। একই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্য সচিব করে মৎস্যজীবী দলের ১৫৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর সেই কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। তবে দেয়নি নতুন কমিটি।
বিএনপির নেতারা বলছেন, সাধারণত যারা বিএনপি বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনে জায়গা পান না, তাদের পদপদবি দেওয়ার কৌশল থেকেই তাঁতি এবং মৎস্যজীবী দলের কমিটি করা হয়। এ কারণে এসব সংগঠনের কমিটি নিয়ে তেমন আগ্রহ থাকে না। তবে দল ক্ষমতায় আসায় এখন কদর বেড়েছে।
হ-য-ব-র-ল জাসাস
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কার্যক্রম মূলত বিভিন্ন দিবসে সীমাবদ্ধ। সংগঠনের নেতারা বলছেন, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ড. মামুন আহমেদ ও হেলাল খানের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর হেলাল খানকে আহ্বায়ক ও জাকির হোসেন রোকনকে সদস্যসচিব করে ৬ নভেম্বর ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও প্রায় ৫ বছর পার হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটিতেই।
সংগঠনের নেতাকর্মীর অভিযোগ, জাসাদের কার্যক্রম সম্পর্কে এক কথায় বলা যায় হ-য-ব-র-ল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়া তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের নিয়ে গত ১৫ বছরে তাদের কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশির ভাগ কমিটির মেয়াদ নেই। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে দলটি। শিগগির এসব কমিটি পুনর্গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারে ছিল প্রায় সাড়ে ১৫ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে বিএনপি মাঠ গোছাতে পারেনি। ফলে অধিকাংশ কমিটির মেয়াদ নেই। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির প্রার্থীদের জয় তুলে আনা কঠিন হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মিলে ১১ সাংগঠনিক কমিটির ১০টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সামনে বড় কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নেই। বর্তমানে মূল চ্যালেঞ্জ সঠিকভাবে সরকার পরিচালনা করা। ফলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজর আপাতত সেদিকেই। এ নিয়ে তৃণমূলে বাড়ছে হতাশা।
যদিও ঈদুল ফিতরের পর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। দ্রুত দেওয়া হতে পারে কয়েকটি সংগঠনের কমিটিও। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপদেষ্টারা দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীও ঈদের পর এ লক্ষ্যে কাজ শুরুর ইঙ্গিত দেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আপাতত বিএনপির কাউন্সিল করার বিষয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। সবার নজর এখন সরকারের দিকে।
বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পরপর কাউন্সিলের কথা থাকলেও দলটি তা করতে পারেনি। তবে এই সময়ে নির্বাহী কমিটি একাধিকবার পুনর্গঠন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন পদে সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। সর্বশেষ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হয়েছেন তারেক রহমান।
দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ অনেক নেতা এবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। স্থান পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়ও। তবে দীর্ঘদিনেও কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। শীর্ষ নেতারা এমপি-মন্ত্রী হওয়ায় সংগঠনকে সময় দিতে পারছেন না। আবার কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বও তৈরি হয়নি। পদপ্রত্যাশী অনেকে হতাশা থেকে হয়ে পড়ছেন নিষ্ক্রিয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী না করলে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে না। তা ছাড়া সংগঠনগুলোতে নিয়মিত কাউন্সিল না হলে নতুন নেতা তৈরি হবে না। ভবিষ্যতে সংকট তৈরি হবে আদর্শবান নেতৃত্বের।
ছাত্রদলে পদপ্রত্যাশীদের দৌঁড়ঝাপ
ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ১ মার্চ। সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের বর্তমান কমিটি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিসহ একাধিক কারণে সমালোচিত। এসব কারণে ঈদের পর কমিটি দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নেতারা তদবিরও শুরু করেছেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, আমাদের দুই বছরের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন চাইবেন তখনই কমিটি হবে। তবে এখনই কমিটি দেওয়ার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।
স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ দুই নেতাই এমপি-মন্ত্রী
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি হয়। তিন বছরের কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এরমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজীব আহসান হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতাই সংসদে, কমিটির মেয়াদও শেষ– সব মিলিয়েই যেকোনো সময় স্বেচ্ছাসেবক দলে আসতে পারে নতুন নেতৃত্ব।
সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান বলেন, ‘আমরা যতদিন আছি, ততদিন ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করব। দল যদি নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসে স্বাগত জানাব।’
দেড় বছরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি যুবদলের
আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই যুবদলের আংশিক কমিটি হয়। দেড় বছরেও সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি তাঁরা। বর্তমানে ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে চলছে কার্যক্রম।
নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, এখন দল যদি আমাকে সংগঠনে না রেখে অন্য কোথাও কাজে লাগাতে চায়, সেটাই হবে। আবার সংগঠনে রাখতে চাইলেও সমস্যা নেই। মূল কথা দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে শিগগির পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার কথা জানান তিনি।
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে চলছে কৃষক দল
দেড় বছর আগে মেয়াদ শেষ কৃষক দলের। সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, নির্বাচনের আগেই কমিটি ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে সংগঠনের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল দুজনই এমপি প্রার্থী হওয়ায় ভোটের মাঠে প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় তা করা হয়নি।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব বলেন, চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব দ্রুত অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নতুন করে সাজাবেন। আসলে কৃষক দল পিছিয়ে পড়া একটা সংগঠন ছিল। সেখান থেকে বর্তমান সভাপতি-সম্পাদকসহ পুরো কমিটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সফলও হয়েছেন।
এক কমিটিতে দশক পার মহিলা দলের
২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে হয় মহিলা দলের কমিটি। দুই বছর মেয়াদের কমিটিতেই চলছে প্রায় ১০ বছর। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব নানা সময় প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েকবার অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় পদবঞ্চিতরা নিজেদের গুটিয়ে রাখছেন। এতে মহিলা দল সাংগঠনিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
এক যুগ আগের কমিটিতে চলছে মুক্তিযোদ্ধা এবং শ্রমিক দল
মুক্তিযোদ্ধা দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর। এতে ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ সভাপতি ও সাদেক খান সাধারণ সম্পাদক হন। এই কমিটি মেয়াদের চারগুণ সময় পার করেছে। সাধারণ সম্পাদকের দাবি, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তাদের কাউন্সিল হয়। সেই হিসাবে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২১ সালে।
তবে তাঁর দাবির সত্যতা মেলেনি। কারণ, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন। এ ব্যাপারে সাদেক খান বলেন, আমরা কাউন্সিলের জন্য বিএনপির কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু দল থেকে কাউন্সিলের আয়োজন করেনি। আর এখন আমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় দলের সঙ্গে নেই।
একইভাবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কমিটি হয়েছিল প্রায় ১ যুগ আগে। ২০১৪ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল ওই কাউন্সিলে শীর্ষ দুই পদ পান আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিম। ২০১৬ সালে মেয়াদ শেষ হওয়া সেই কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম।
অভিযোগ রয়েছে, পহেলা মে শ্রমিক দিবসে র্যালি ও আলোচনা সভা ছাড়া সংগঠনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না। উল্টো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। অনেককে বহিষ্কারও করা হয়।
তথৈবচ তাঁতি এবং মৎস্যজীবী দল
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক ও মজিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করে তাঁতি দলের ১২৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হয়। ২০২২ সালে মেয়াদ শেষ হলেও দেওয়া হয়নি নতুন কমিটি। একই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্য সচিব করে মৎস্যজীবী দলের ১৫৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর সেই কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। তবে দেয়নি নতুন কমিটি।
বিএনপির নেতারা বলছেন, সাধারণত যারা বিএনপি বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনে জায়গা পান না, তাদের পদপদবি দেওয়ার কৌশল থেকেই তাঁতি এবং মৎস্যজীবী দলের কমিটি করা হয়। এ কারণে এসব সংগঠনের কমিটি নিয়ে তেমন আগ্রহ থাকে না। তবে দল ক্ষমতায় আসায় এখন কদর বেড়েছে।
হ-য-ব-র-ল জাসাস
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কার্যক্রম মূলত বিভিন্ন দিবসে সীমাবদ্ধ। সংগঠনের নেতারা বলছেন, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ড. মামুন আহমেদ ও হেলাল খানের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর হেলাল খানকে আহ্বায়ক ও জাকির হোসেন রোকনকে সদস্যসচিব করে ৬ নভেম্বর ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও প্রায় ৫ বছর পার হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটিতেই।
সংগঠনের নেতাকর্মীর অভিযোগ, জাসাদের কার্যক্রম সম্পর্কে এক কথায় বলা যায় হ-য-ব-র-ল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়া তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের নিয়ে গত ১৫ বছরে তাদের কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘অলটারনেটিভস’ তাদের ১৭ জাতীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাজনূভা জাবীন রয়েছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রের শীর্ষ পদের উদাহরণ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আগে “জয় বাংলা” বলে বক্তব্য শেষ করতেন। এখন “জিন্দাবাদ” বলে শেষ করছেন। গোটা দেশ এভাবেই চলছে। শুধু জয় বাংলার পরিবর্তে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ হয়েছে।’
৮ ঘণ্টা আগে
সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে দেশের তরুণরা আবারও রাজপথে নামবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৬ মার্চ) এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘এনসিপির যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
১১ ঘণ্টা আগে
নবগঠিত বিএনপি সরকারের সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এই কর্মশালা শুরু হয়। এতে উপস্থিত আছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১৬ ঘণ্টা আগে