জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

খুলনায় এবার বড় প্রভাবক হতে পারে প্রায় ৮ লাখ তরুণ ভোটার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৫০
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনে জয়-পরাজয়ের প্রধান ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখা দিয়েছে নতুন ও তরুণ ভোটাররা। এবার এই বিভাগে মোট ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৮০১ জন তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যার বিচারে এই বিশাল অংশটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আধুনিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁদের রায়ই হবে চূড়ান্ত নির্ণায়ক।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু খুলনা জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে নতুন ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ জন। ভোটার বৃদ্ধির কারণে জেলায় নতুন ৪৭টি ভোটকেন্দ্র এবং ৫৪৩টি ভোটকক্ষ বাড়ানো হয়েছে। খুলনার ৬টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ১ হাজার ৩৩৫ জন। এই ৬টি আসনে মোট ৩৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিগত এক দশকে খুলনা অঞ্চলে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হওয়া এবং গ্যাস সংকটে নতুন শিল্প গড়ে না ওঠায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। ফলে নতুন ভোটারদের প্রধান দাবি—কর্মসংস্থান। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা জীবন শেষে আমরা কাজ খুঁজে পাই না। যে প্রার্থী জয়ী হবেন, তাঁকে খুলনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

আরেক শিক্ষার্থী আরিশা ইসলাম কেয়া মেধাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মেধার সঠিক বিচার। আমরা চাই নতুন বাংলাদেশে যেন মেধার ভিত্তিতেই চাকরি পেতে পারি আমরা।’

বেসরকারি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শুভজ্যোতি সরকার বলেন, ‘আগের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। এবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে আছি।’

অন্যদিকে বিএল কলেজের রায়হান দিপু তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের নিশ্চয়তা চান। তাঁর দাবি, ‘তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা গেলে অনেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন, তারা আর চাকরির পেছনে ছুটবে না। এজন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আমরা স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই।’

তরুণদের বিশাল এই ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে প্রার্থীরাও দিচ্ছেন প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি।

খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা। আমরা এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এবং রোবটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে চাই। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আমরা বেকারদের সম্পদে রূপান্তর করব।’

কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন খুলনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারও। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে স্পষ্ট বলা হয়েছে—কোনো যুবক বেকার থাকবেন না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে। আমরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করব যাতে তাঁরা নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারেন।’

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়িয়ে দিয়েছে। দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনের পর একটি নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে তাঁরা এখন আধুনিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন। এই তরুণেরাই এবারের ভোটের মাঠে বড় প্রভাবক হতে পারে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত