জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

এমপিরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে কিনা নিশ্চিত করব: তারেক রহমান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সন্ধ্যায় বিটিভিতে তারেক রহমানের ভাষণ প্রচারিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সংসদ সদস্যরা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা সেটি নিজে দায়িত্ব নিয়ে নিশ্চিত করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তাঁর এ বক্তব্য প্রচার শুরু হয়। ৩৭ মিনিটের এ বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন। ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত এমপিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কিনা সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি যদি আপনাদের সমর্থন পাই, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির মূলমন্ত্র থাকবে মহানবীর (সা.) মহান আদর্শ—ন্যায়পরায়ণতা।’

অতীতের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ভোট চাইলেন

অতীতে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার সময় ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আবারও আমি আপনাদের সমর্থন চাই।’

ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের কথাও বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাছে রাষ্ট্র এবং সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের সমর্থন পেলে দেশের আগামী দিনের সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায় বিএনপি সরকার ইনশাআল্লাহ ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।’

দলীয় ইশতেহারে ঘোষিত নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টর এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। দেশের সকল তরুণ-তরুণী, বেকার জনগোষ্ঠী এবং নারীদের জন্য দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই এবার বিএনপির প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের শাসনামলে প্রতি বছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেওয়া হতো। এভাবে দুর্নীতি এবং টাকা পাচার আর অপচয় রোধ করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড কিংবা বেকারভাতা প্রদানের মতো ইতিবাচক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংকুলান অসম্ভব নয়।’

প্রশাসনে দলীয়করণের চর্চা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বক্তব্যে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী অপশক্তি দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দিয়েছিল। প্রশাসনকে চূড়ান্ত রকমের দলীয়করণ করে ফেলেছিল। প্রশাসন পরিচালনায় বিএনপির নীতি হবে—প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে সাংবিধানিক নিয়মে, শাসন-প্রশাসনকে দলীয়করণ নয়। প্রশাসনে নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করা হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশবরেণ্য অনেক আলেম-ওলেমা সোচ্চার কণ্ঠে বলেছেন, কেউ কেউ দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করারও অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সকল বিশ্বাসীদের প্রতি আহ্বান—কেউ যেন বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী—পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে পুনরায় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চেয়েছিলেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিকামী জনগণের সামনে খালেদা জিয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণের সেই সময় উপস্থিত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ও সরকারে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জনগণের চূড়ান্ত বিজয় দেখে যেতে পারেননি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সারা দেশের সকল ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, গার্মেন্টস কর্মী, ফুটপাতের হকার থেকে শুরু করে শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা শিল্প উদ্যোক্তা এবং দেশের সকল মায়েরা-বোনেরা—সবার কাছে আমার বিনীত আবেদন, আপনারা যারা শহীদ জিয়াকে ভালোবাসেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আপনারা ধানের শীষকে বিজয় করুন।’

তিনি বলেন, ‘ধানের শীষের বিজয়ের অর্থ বাংলাদেশের বিজয়। ধানের শীষের বিজয়ের অর্থ স্বাধীন সার্বভৌম তাঁবেদার মুক্ত বাংলাদেশ।’

দীর্ঘদিন বিদেশে থাকলেও দেশের প্রতিটি এলাকায় যোগাযোগ ছিল জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘২০০১ সালে যখন আপনাদের সমর্থনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছিল, আমি তখন সরকারের অংশ হইনি। তবে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে সারা দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, গ্রাম, নগর, বন্দরে ঘুরেছি। আপনাদের স্থানীয় সমস্যাগুলো, সম্ভাবনাগুলো জানার-বোঝার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতির কারণে বিদেশে থাকতে বাধ্য হলেও হৃদয়, মন, সত্তা জুড়ে ছিল বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ। তাই বিদেশে অবস্থানকালেও দেশের প্রতিটি এলাকায় আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছি।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত