ফুটবলের ‘জেন্টেলম্যান’ কাকার জন্মদিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

রিকার্ডো কাকা। ছবি : সংগৃহীত

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নান্দনিকতা, সৌন্দর্য আর ভদ্রতার এক অনন্য প্রতীক হলেন রিকার্ডো কাকা। ১৯৮২ সালের ২২ এপ্রিল জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি আজ ৪৫ বছরে পা রাখলেন। তাঁর পুরো নাম রিকার্ডো ইজেকসন দোস সান্তোস লেইতে, তবে বিশ্বজুড়ে তিনি ‘কাকা’ নামেই পরিচিত।

কাকার খেলার ধরন ছিল দৃষ্টিনন্দন। দ্রুত গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং, চোখ ধাঁধানো পাস আর দূরপাল্লার শক্তিশালী শট। সহজেই তিনি ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারতেন। মাঠে তাঁর খেলায় ছিল শিল্পের ছোঁয়া, আর মাঠের বাইরে নম্রতা, ভদ্রতা ও মার্জিত আচরণ তাঁকে ভক্তদের কাছে ‘জেন্টলম্যান’ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে। তাঁর সদা-হাস্যোজ্জ্বল মুখ আর বিনয়ী ব্যক্তিত্ব তাঁকে আলাদা করে তুলেছে সমসাময়িক অনেক তারকার ভিড়ে।

কাকা ছিলেন সেই শেষ খেলোয়াড়, যিনি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ এক দশকের আধিপত্য শুরুর আগে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। ২০০৭ সালে এই দুই মহাতারকাকে পেছনে ফেলেই তিনি বিশ্বসেরার মুকুট পরেছিলেন। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর ব্যালন ডি’অর ট্রফিটি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মেসি ও রোনালদো।

রিকার্ডো কাকা। ছবি : সংগৃহীত
রিকার্ডো কাকা। ছবি : সংগৃহীত

সাধারণত লম্বা খেলোয়াড়দের ড্রিবলিং কন্ট্রোল কম থাকে। কিন্তু ৬’১” উচ্চতার কাকার বলের ওপর কন্ট্রোল ছিল অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে মাঝমাঠ থেকে গোল অভিমুখে তাঁর সরাসরি দৌড় ছিল তৎকালীন ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন। কাকা দুই পায়েই সমান দক্ষতায় দূরপাল্লার শট নিতে পারতেন। ২০০৭ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাঁর গোলগুলো এর লেজিট প্রমাণ। একজন এটাকিং মিডফিল্ডার হয়েও স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা তাঁকে ব্যালন ডি’অর এনে দিয়েছিল।

রিকার্ডো কাকা। ছবি : সংগৃহীত
রিকার্ডো কাকা। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় ও ক্লাব পর্যায়ে সফলতা

মিলান ম্যাজিক (২০০৩-২০০৯): এসি মিলানের হয়ে ২০০৭-এ কাকার ক্যারিয়ারের ছিল শীর্ষে। সে বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ গোল করে দলকে শিরোপা জেতান এবং মেসি-রোনালদোকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জয় করেন।

ব্যালন ডি'অর হাতে কাকা। সংগৃহীত ছবি
ব্যালন ডি'অর হাতে কাকা। সংগৃহীত ছবি

জাতীয় দলের গৌরব: ২০০২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৫ ও ২০০৯ কনফেডারেশন কাপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের প্রাণভোমরা।

একনজরে ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান

গোল সংখ্যা: ১৯১ (সিরি-এ, চ্যাম্পিয়ান্সলীগ, লা-লীগা, এমএলএস-সহ বিভিন্ন লীগের ম্যাচে); ব্রাজিলিয়ান ন্যাশনাল টিমে তার গোল সংখ্যা ২৯টি।

এসিস্ট সংখ্যা: ১৬৩ (সিরি-এ, চ্যাম্পিয়ান্সলীগ, লা-লীগা, এমএলএস-সহ বিভিন্ন লীগের ম্যাচে) ন্যাশনাল টিমে ২৩টি

ক্যারিয়ারে মেজর ট্রফি ন্যাশনাল টিম: ফিফা বিশ্বকাপ (২০০২), ফিফা কনফেডারেশন কাপ (২০০৫, ২০০৯)।

মেজর ট্রফি ক্লাব: চ্যাম্পিয়নস লিগ (১), সিরি এ (১), লা লিগা (১), ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ (১)।

ব্যক্তিগত অর্জন: ব্যালন ডি’অর (২০০৭), ফিফা প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার (২০০৪, ২০০৭), উয়েফা ক্লাব ফুটবলার অব দ্য ইয়ার (২০০৭)।

আজকের পাওয়ার ফুটবল আর ট্যাকনিক্যাল লড়াইয়ের ভিড়ে কাকার মতো ‘ভার্টিক্যাল মিডফিল্ডার’ খুঁজে পাওয়াটা ছিল সত্যিই দুষ্কর। মেসি-রোনালদো যুগের আগে শেষ ব্যালন ডি’অর জয়ী এই সম্রাটের আবেদন ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল অমলিন থাকবে। শুভ জন্মদিন, ফুটবলের চিরসবুজ রাজপুত্র!

সম্পর্কিত