leadT1ad

বন্ধ হিসাব চালু করলে সুবিধা বহাল রাখবে ইসলামী ব্যাংক

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ২২: ২২
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু আমানত হিসাব পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব হিসাব চালু করলে কোনো মাশুল দিতে হবে না। গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নগদ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে বন্ধ হওয়া এসব হিসাব পুনরায় সচলে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোমবারের (১৫ জুন) জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতির কারণে অনেক গ্রাহক ব্যাংকের বিভিন্ন ডিপোজিট স্কিমের হিসাব বন্ধ বা পরিপক্ব হওয়ার পর নবায়ন করেননি। এসব গ্রাহককে পুনরায় ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে বন্ধ বা পরিপক্ব হওয়া হিসাবধারীরা আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন করলে, তাদের হিসাব পুনরায় চালু করে সংশ্লিষ্ট সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ হওয়া হিসাবগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে গ্রাহকদের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও ঠিকানার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে এবং গৃহীত পদক্ষেপের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে শাখাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত প্রায় এক দশক ধরে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন শুরু করে। চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দিলে গ্রাহকদের একটি অংশ আন্দোলনে নামেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক হয়।

গ্রাহকরা দ্রুত আমানত তুলতে থাকলে, প্রায় তিন সপ্তাহের অস্থিরতা ও অচলাবস্থা অবসানে রোববার (১৪ জুন) রাতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এক আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মোহাম্মদ জহির হোসেন আপাতত ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন। তিনি বলেন, এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য যাচাই-বাছাই চলছে।

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গ্রাহকের ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়ে জহির হোসেন বলেন, পূর্ণাঙ্গ হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা এখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ লোক দিতে চাই, যারা এই ব্যাংকটিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। আশা করি, শিগগির আপনারা একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ বোর্ড পাবেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সীমিত সময়ের জন্য আমি এক সদস্য বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছি, যাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

এ সময় উপস্থিত ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে আরও আড়াই হাজার কোটি টাকা তাঁরা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, রোববার আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছি। সেই অর্থের পুরোটা এখনো ব্যবহার করতে হয়নি। আশা করি, যারা আতঙ্কে টাকা তুলে নিয়েছেন, তাঁরা আবার ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসবেন।

তারল্য সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক রোববারও ব্যাংকটিকে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার দেয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত