নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখায় উদ্বেগ ডিসিসিআইয়ের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১৮: ৪২
ডিসিসিআই লোগো। ছবি: সংগৃহীত

নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক বিবৃতিতে আর্থিক ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

ডিসিসিআইয়ের মতে, দেশে গত চার বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামেনি। উল্টো ২০২৬ সালের মে মাসে বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিবৃতিতে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য হতাশাজনক। এর ফলে বাণিজ্যিক ঋণের সুদ কমানোর সুযোগও সীমিত হবে।

সংগঠনটি জানায়, সম্প্রতি অনুমোদিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যায়নি। এর ফলে সরকারের আর্থিক (ফিসক্যাল) ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট।

তবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন ও প্রণোদনা প্যাকেজকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই তহবিলের স্বচ্ছ, কার্যকর ও দক্ষ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ডিসিসিআই।

ডিসিসিআইর মতে, কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই), রপ্তানিমুখী শিল্প এবং উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে, কম কাগজপত্রে এবং দ্রুত অনুমোদনে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে বন্ধ হওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকারে সহায়তা দেওয়া আরও জরুরি। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে দ্রুত প্রণোদনার অর্থ পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে ডিসিসিআই।

ব্যাংকঋণের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিসিসিআই জানায়, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে ব্যাংকিং খাতের সীমিত তারল্যের বড় অংশ সরকার গ্রহণ করছে এবং বেসরকারি খাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৮ শতাংশ করা হলেও, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী অর্থায়ন ছাড়া বাজেটে ঘোষিত প্রণোদনা ও কর-সুবিধার সুফল মিলবে না।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারি খাতনির্ভর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আর্থিক ও মুদ্রানীতির আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি সহায়তা জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত