বস্ত্রখাতে নগদ সহায়তা ১.৫ থেকে বেড়ে হল ৫ শতাংশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ২১: ৫৭
পোশাক কারখানায় কাজ করছেন এক শ্রমিক। সংগৃহীত ছবি

বস্ত্রখাতে নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে সরকার। এর অর্থ, যেসব তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করবেন, তারাই বাড়তি এই নগদ সহায়তা পাবেন।

রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশি সুতা বা কাপড় ব্যবহারে শুল্ক বন্ড ও ‘ডিউটি ড্র-ব্যাকের’ পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হল।

গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে জানায়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আগের আর্থিক বছরের মতোই রপ্তানিমুখী দেশি বস্ত্র ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে। দু্ই সপ্তাহের মাথায় সেই নির্দেশনা পরিবর্তন করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্ধিত ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা পেতে হলে রপ্তানিকারককে (বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ বা অন্যান্য অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য) প্রণোদনা গ্রহণের পূর্বে দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল (সুতা/কাপড়) সংগ্রহের প্রমাণক দাখিল করতে হবে। বর্ধিত এই সুবিধা গত ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২ জুলাই বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ ডিসেম্বরের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়, রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা নেওয়ার আগে দেশি উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। সুবিধাটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমইএ–এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

এ সময় তারা দেশি সুতা ব্যবহার উৎসাহিত করতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করাসহ ছয় দাবি জানান।

আড়াই বছর আগে স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তা কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়। ছয় মাস পর সেই সহায়তা আরও কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়।

বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৮০০টির বেশি টেক্সটাইল মিল রয়েছে। এর মধ্যে স্পিনিং মিলের সংখ্যা ৫২৭টি। খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটে গত দুই বছরে দুই শতাধিক টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত