কর ছাড়ের প্রভাব নেই বাজারে, বৃষ্টিতে চিন্তার ভাজ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

টানা বর্ষণের প্রভাবে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে সবজি, ডিম, মুরগি ও মাছের দাম। সংগৃহীত ছবি

দামের লাগাম টানতে ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করেছে সরকার। কিন্তু বাজারে ধান, চাল, ডাল, তেল-চিনি, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ এসব পণ্যের দামে হেরফের হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা বাজেট কার্যকরের আগে ছিল ১৮৬ থেকে ১৯২ টাকা। ১ জুলাই বাজেট পাস হয়েছে। এরপর ডিম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। ১৫ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়। সোনালি মুরগি মিলছে আগের ৩২০-৩৩০ টাকায়। তবে পাকিস্তানি হাইব্রিড মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩১০-৩২০ টাকা। দেশি মুরগি আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে, ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের আদর্শ চিকেন ব্রয়লার হাউসের বিক্রেতা সালাহ উদ্দিন জানান, খামার থেকেই তাঁরা বেশি দামে কিনছেন। বিক্রিও করতে হচ্ছে চড়া দামে।

ছোট ও মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩৫০-৪০০, বড় আকারের রুই ৪২০-৫০০, চিংড়ি ৬০০-৮০০, টেংরা ৬০০- ৮০০, কৈ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ইলিশের বাজারে আগুন অব্যাহত রয়েছে। ছোট আকারের ইলিশের কেজি ১ হাজার টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজি বা তার চেয়ে বড় ইলিশের দাম ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা সেলিম জানান, পাইকারি বাজারে মাছের সরবরাহ কম। চাহিদা বেশি হওয়ায় চাপ বেড়েছে।

বেগুন ৪০-৮০, পটল ৪০-৫০, করলা ৬০-৭০, চিচিঙ্গা ৫০-৬০, কচুর লতি ৬০-৭০, কাকরোল ৬০-৭০, ঢ্যাঁড়শ ৪০-৫০, পেঁপে ৩০-৪০ কেজি বিক্রি হচ্ছে। টানা বৃষ্টির প্রভাবে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। ৪০ টাকা বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা।

শুধু কর ছাড়ে নিত্যপণ্যের দাম কমবে না। পরিবহন ব্যয়, অদক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা, সীমিত প্রতিযোগিতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামাও পণ্যের দামে বড় প্রভাব ফেলে। কর ছাড়ের সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে কার্যকর বাজার তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। তাসকীন আহমেদ, সভাপতি, ডিসিসিআই

পেঁয়াজ আগেই মতোই ৩৫-৪০, দেশি রসুন ৮০-৯০, আমদানিকৃত রসুন ১০০-১২০, আদা ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা কেজি।

বোরো ধান বাজারে এলেও কমেনি চালের দাম। সরু চাল ৭০-৮৫ এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০-১৭০, মোটা দানার মসুর ৮০-১০০, মুগডাল ১৪০-১৬০ এবং ছোলার ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি।

কারওয়ান বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুল ইসলাম বলেন, বাজেটের পরে নিত্যপণ্যের দাম কমবে আশা করেছিলাম। কিন্তু বাজার খুব হেরফের হয়নি।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজার তদারকির সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা না রাখায় নিত্যপণ্যের দাম কমছে না। উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী থাকায় করছাড়ের সুবিধার বড় অংশ পাইকারি পর্যায়ে আটকে যাচ্ছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় না থাকলে নিত্যপণ্যে সীমিত করছাড় দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘উৎসে কর কমানো ইতিবাচক। তবে শুধু কর ছাড়ে নিত্যপণ্যের দাম কমবে না। পরিবহন ব্যয়, অদক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা, সীমিত প্রতিযোগিতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামাও পণ্যের দামে বড় প্রভাব ফেলে। কর ছাড়ের সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে কার্যকর বাজার তদারকি, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত