রেমিট্যান্সে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৫: ৩০
রেমিট্যান্স। স্ট্রিম গ্রাফিক

বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো কর্মীদের উৎসাহিত করতে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বেলা ৩টা থেকে সংসদ অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা সুদৃঢ় করতে আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ জারি করেছি।’

বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা এবং কল্যাণকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ প্রবাসী কার্ড প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া– দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি, এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সরকার প্রবাস আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশনভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে– এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছি। বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছি।’

সম্পর্কিত