ন্যায্যতা নিশ্চিতে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর আহ্বান সিপিডির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ২১: ৩৫
সিপিডির ‘জাতীয় বাজেটে কর ন্যায্যতা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা। সংগৃহীত ছবি

কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পরোক্ষ করের বোঝা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীতে সিপিডির ‘জাতীয় বাজেটে কর ন্যায্যতা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা দেশের কর ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ বলেন, ‘কর ন্যায্যতার মূল ভিত্তি হলো উন্নয়ন ব্যয়ে সমতা নিশ্চিত করা, পরোক্ষ করের বোঝা কমানো, রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠা।’

তামিম আহমেদ জানান, বর্তমানে দেশের মোট কর রাজস্বের প্রায় ৬৪ থেকে ৬৬ শতাংশ আসে ভ্যাটসহ বিভিন্ন পরোক্ষ কর থেকে, যার ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর বেশি চাপ পড়ে। তাই প্রত্যক্ষ করের অবদান বাড়ানো প্রয়োজন।

বিনা জরিমানায় কালো টাকা বৈধ করার সুযোগকে সৎ করদাতাদের প্রতি অবিচার এবং কর ন্যায্যতার পরিপন্থী বলেও অভিহিত করেন তিনি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রেজোয়ান রহমান বলেন, ‘কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ প্রকৃত ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক বিবেচনায় দেওয়া হয়।’ তিনি আরও জানান, দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ কর ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেই আদায় হয়, যা পুরো দেশের করভিত্তিতে ছড়াতে হবে। এছাড়া তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি পৃথক কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চালডালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিয়া আশরাফ স্টার্টআপের জন্য ৯ বছরের কর অব্যাহতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তবে তিনি বলেন, স্টার্টআপের ‘গ্রোথ স্টেজ’ নির্ধারণে ১০০ কোটি টাকা আয়ের পরিবর্তে ১০০ কোটি টাকা লাভকে মানদণ্ড করা উচিত।

বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর পরোক্ষ করের কাঠামোগত বৈষম্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন রিকশাচালক ও একজন ধনী ব্যক্তি মোবাইল ফোন ব্যবহারে একই হারে কর দেন, যা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। তিনি নিত্যপণ্যে কম এবং বিলাসী পণ্যে বেশি ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দেন।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি. রহমান দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১ কোটি ২০ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ লাখ ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন জমা দেন। রাজস্ব বাড়াতে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপের বিরোধিতা করেন।

নারী উদ্যোক্তা সাথী ইয়াসমিন প্রস্তাব করেন যে নতুন নারী উদ্যোক্তাদের প্রথম পাঁচ বছর টিআইএন ও করের আওতার বাইরে রাখা উচিত। অন্যদিকে পারভীন মমতাজ শবনম অভিযোগ করেন, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও আগের বছরের আয়ের ভিত্তিতে কর দাবি করা আইনসংগত নয়।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম রপ্তানি ক্যাশ প্রণোদনার ওপর কর আরোপ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঋণ লেনদেনে করের বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আপিলের ক্ষেত্রে দাবিকৃত করের ১ শতাংশ জমা দেওয়ার নিয়ম পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

সমাপনী পর্বে এনবিআরের সদস্য (ট্যাক্স পলিসি) মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসা সহজীকরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, খুচরা পর্যায়ে ০ দশমিক ২ শতাংশ কর কাটা মূলত নতুন করদাতাদের শনাক্তকরণের প্রয়াস।

এছাড়া কর অডিট সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঋণের ক্ষেত্রেও মূল অর্থের ওপর নয়, কেবল সুদের অংশের ওপর কর নির্ধারণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত