leadT1ad

ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সমস্যার সমাধান করবে না, নতুন সংকট সৃষ্টি করবে: ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিবৃতি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ১২
বিবৃতির প্রতীকী ছবি

সরকারের ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বিদ্যমান সমস্যার সমাধান না করে বরং নতুন সংকট সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের ১৭টি শীর্ষ এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেছেন, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে গত কয়েক দশকে এই খাতের অর্জন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক ভূমিকা গুরুতরভাবে ব্যাহত হতে পারে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই উদ্বেগ জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটি প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কর্মকর্তারা বলেন, অধ্যাদেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকে রূপান্তরের যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান একটি উন্নয়নভিত্তিক ও অলাভজনক সেবা, যেখানে ব্যাংক মূলত মুনাফাভিত্তিক। এই রূপান্তরের ফলে ক্ষুদ্রঋণ খাত তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে এবং দরিদ্ররা সেবাবঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা অধ্যাদেশে নেই। উল্টো এটি কার্যকর হলে দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও করপোরেট বিনিয়োগকারীদের জন্য লাইসেন্স পাওয়ার পথ খুলবে। এতে অনৈতিক চর্চা, অতিরিক্ত মুনাফালোভ এবং সুশাসন সংকটের ঝুঁকি তৈরি হবে।

নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মূল ধারার ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ ও দুর্নীতির মতো সমস্যাগুলো এই স্বচ্ছ খাতেও সংক্রমিত হতে পারে। ব্যক্তিগত মালিকানায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিধান ক্ষুদ্রঋণ খাতের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও উন্নয়নকামী চরিত্রকে দুর্বল করবে বলে তাঁরা মনে করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এমআরএ-এর সনদপ্রাপ্ত যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকে রূপান্তরের সম্ভাবনা ছিল, অধ্যাদেশ প্রণয়নের আগে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। তাই অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানান তাঁরা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন—ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, আশার প্রেসিডেন্ট মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বুরো বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, পদক্ষেপের নির্বাহী পরিচালক মো. সালেহ বিন সামস, কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করীম চৌধুরীসহ ১৭টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত