জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পাচার অর্থ ফেরাতে ফাস্ট-ট্র্যাকের নির্দেশ গভর্নরের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে পাচার অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’- এর উদ্যোগের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সোমবার (২ মার্চ) স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের কনসালট্যান্টের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই নির্দেশ দেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিকেলে বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়, পাচার অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত ও কার্যকর করতে নবনিযুক্ত গভর্নর স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের কনসালট্যান্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং পুরো প্রক্রিয়াকে ফাস্ট ট্র্যাকে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

বৈঠকে গভর্নর বলেন, পাচার সম্পদ পুনরুদ্ধার এখন জাতীয় অগ্রাধিকার—যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতিতে জনআস্থার সঙ্গে যুক্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চার বছরের জন্য মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যবসায়ী গভর্নর।

সূত্র জানায়, এখন গুরুত্ব দেওয়া হবে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও টাস্কফোর্সের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, ঝুলে থাকা এমএলএআর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আইনি ও কূটনৈতিক সব সম্ভাব্য পথ অনুসন্ধান করে বিলম্ব কাটানোর ওপর। গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইতিমধ্যে ব্যাংকারদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সরকারি বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে) প্রায় ২০০ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় গেছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নতুন গতি আসে। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে আহ্বায়ক করে গঠিত স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এই টাস্কফোর্স বর্তমানে ১১টি অগ্রাধিকারভিত্তিক মামলা নিয়ে কাজ করছে। এসব মামলায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবার ও বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সংশ্লিষ্টতা, যার মধ্যে অন্যতম এস আলম গ্রুপ।

সাবেক গভর্নর মনসুরের আমলে ১২টি আন্তর্জাতিক আইন ও অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আইএসিসিসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি (আইসিএআর)-এর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়।

এ সময় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮৫ থেকে ২৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ জব্দ করা হয়। দেশে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ৩৬৬টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ স্থগিত করে। তবে জটিল আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সীমাবদ্ধতার কারণে অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর।

সম্পর্কিত