স্ট্রিম প্রতিবেদক

খেলাপি ঋণ কমাতে মধ্যমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংকখাতে আস্থা ফেরানোর লক্ষ্যে কঠোর তদারকি, ঋণের অর্থ দ্রুত পুনরুদ্ধার, আইনি সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক ঋণ-ক্ষতি নির্ধারণ মানদণ্ডে রূপান্তরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য নতুন মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট-এমপিএস) প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ধারাবাহিকভাবে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ দেশের আর্থিকখাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা, মূলধনের সক্ষমতা, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সর্বশেষ মূল্যায়নে মোট খেলাপি ঋণের হার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ হয়েছে। পরে তা ২০২৬ সালের মার্চে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে নামে। নিট খেলাপি ঋণের হারও একই ধারা অনুসরণ করেছে। এটি ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছানোর পর, গত মার্চে কমে ১৫ দশমিক ০১ শতাংশে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট শ্রেণিকৃত ঋণ ডিসেম্বরে ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মার্চের শেষে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সম্পদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্কার চালু করেছে। একইসঙ্গে চাপের মুখে থাকা ঋণগ্রহীতাদের জন্য নীতিমালাও সংশোধন করেছে। এর আওতায় সম্ভাবনাময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকৃত ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। এ বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
রোডম্যাপকে সমর্থন জোগাতে সম্প্রতি প্রণীত দুটি আইন– ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ এবং আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬ কার্যকর হয়েছে। এর লক্ষ্য, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক পুনর্গঠনে কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী ক্ষমতা দেওয়া, খুচরা আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আর্থিকখাতে নৈতিক ঝুঁকি কমানো।
বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ৬.১% জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি জাতীয় বাজেটের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশের চেয়ে কম। একইসঙ্গে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মূল নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতিতে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা তার আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক।
নতুন মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের আর্থিক কৌশল হচ্ছে প্রবৃদ্ধি-সহায়ক পদক্ষেপের পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এতে কর সংস্কার, ব্যয় যৌক্তিকীকরণ, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আর্থিক অবস্থান হিসেবে উন্নয়ন ব্যয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রবৃদ্ধি-সহায়ক কিন্তু আর্থিকভাবে সতর্ক ও দূরদর্শী নীতি গ্রহণ করেছে।
এতে বলা হয়, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিনিয়োগ-চালিত প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করতে, সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের রূপরেখা অনুযায়ী, সরকারের ‘থ্রিআর (3R)’ কৌশলের– রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন (পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা), রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন (পুনর্গঠন ও গতিশীলতা বৃদ্ধি)– প্রথম ধাপে আগামী এক বছর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।
এই কৌশলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার, সরকারি সেবা প্রদান ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বাজারে টাকার প্রবাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে– নীতি সুদহারের প্রধান সূচকগুলো অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে পলিসি রেপো রেট ১০ শতাংশ, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশেই বহাল থাকছে।
বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬.৮% নির্ধারণ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত অর্থবছরের মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ। অথচ পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাই ছিল সাড়ে ৮ শতাংশ। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা পলিসি রেটের ধারাবাহিকতা রাখব। একইসঙ্গে ঋণের আমানত ও সুদের স্প্রেড ৪ শতাংশ বেধে দেওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত সুদ নির্ধারণ করতে পারবে না। ফলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণের গ্রোথ ৭ শতাংশ হবে। আশা করছি, আগামী জুনের মধ্যে ৮ শতাংশ বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি হবে।

খেলাপি ঋণ কমাতে মধ্যমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংকখাতে আস্থা ফেরানোর লক্ষ্যে কঠোর তদারকি, ঋণের অর্থ দ্রুত পুনরুদ্ধার, আইনি সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক ঋণ-ক্ষতি নির্ধারণ মানদণ্ডে রূপান্তরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য নতুন মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট-এমপিএস) প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ধারাবাহিকভাবে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ দেশের আর্থিকখাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা, মূলধনের সক্ষমতা, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সর্বশেষ মূল্যায়নে মোট খেলাপি ঋণের হার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ হয়েছে। পরে তা ২০২৬ সালের মার্চে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে নামে। নিট খেলাপি ঋণের হারও একই ধারা অনুসরণ করেছে। এটি ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছানোর পর, গত মার্চে কমে ১৫ দশমিক ০১ শতাংশে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট শ্রেণিকৃত ঋণ ডিসেম্বরে ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মার্চের শেষে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সম্পদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্কার চালু করেছে। একইসঙ্গে চাপের মুখে থাকা ঋণগ্রহীতাদের জন্য নীতিমালাও সংশোধন করেছে। এর আওতায় সম্ভাবনাময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকৃত ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। এ বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
রোডম্যাপকে সমর্থন জোগাতে সম্প্রতি প্রণীত দুটি আইন– ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ এবং আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬ কার্যকর হয়েছে। এর লক্ষ্য, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক পুনর্গঠনে কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী ক্ষমতা দেওয়া, খুচরা আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আর্থিকখাতে নৈতিক ঝুঁকি কমানো।
বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ৬.১% জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি জাতীয় বাজেটের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশের চেয়ে কম। একইসঙ্গে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মূল নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতিতে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা তার আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক।
নতুন মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের আর্থিক কৌশল হচ্ছে প্রবৃদ্ধি-সহায়ক পদক্ষেপের পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এতে কর সংস্কার, ব্যয় যৌক্তিকীকরণ, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আর্থিক অবস্থান হিসেবে উন্নয়ন ব্যয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রবৃদ্ধি-সহায়ক কিন্তু আর্থিকভাবে সতর্ক ও দূরদর্শী নীতি গ্রহণ করেছে।
এতে বলা হয়, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিনিয়োগ-চালিত প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করতে, সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের রূপরেখা অনুযায়ী, সরকারের ‘থ্রিআর (3R)’ কৌশলের– রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন (পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা), রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন (পুনর্গঠন ও গতিশীলতা বৃদ্ধি)– প্রথম ধাপে আগামী এক বছর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।
এই কৌশলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার, সরকারি সেবা প্রদান ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বাজারে টাকার প্রবাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে– নীতি সুদহারের প্রধান সূচকগুলো অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে পলিসি রেপো রেট ১০ শতাংশ, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশেই বহাল থাকছে।
বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬.৮% নির্ধারণ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত অর্থবছরের মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ। অথচ পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাই ছিল সাড়ে ৮ শতাংশ। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা পলিসি রেটের ধারাবাহিকতা রাখব। একইসঙ্গে ঋণের আমানত ও সুদের স্প্রেড ৪ শতাংশ বেধে দেওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত সুদ নির্ধারণ করতে পারবে না। ফলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণের গ্রোথ ৭ শতাংশ হবে। আশা করছি, আগামী জুনের মধ্যে ৮ শতাংশ বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি হবে।
.png)

দেশীয় উৎসের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত দ্রুত ফুরাচ্ছে। বিপরীতে নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান নেই। সরবরাহ সচল রাখতে সরকার রেকর্ড পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে। এরপরও সংকট কাটছে না। গ্যাসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানা, সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন।
৫ ঘণ্টা আগে
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে চলতি ও এসটিডি হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়াসহ সাতটি সেবায় বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
১২ ঘণ্টা আগে
বস্ত্রখাতে নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে সরকার। এর অর্থ, যেসব তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করবেন, তারাই বাড়তি এই নগদ সহায়তা পাবেন।
১২ জুলাই ২০২৬
দামের লাগাম টানতে ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করেছে সরকার। কিন্তু বাজারে ধান, চাল, ডাল, তেল-চিনি, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ এসব পণ্যের দামে হেরফের হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে।
১২ জুলাই ২০২৬