ফারুক হোসাইন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর প্রাণ ফিরছে হরমুজ প্রণালিতে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ৮০ ডলারে নেমেছে। বাংলাদেশেও জ্বালানির নিম্নমুখী বাজার প্রত্যাশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষজ্ঞরা দেশে এই দাম কতটুকু কমবে এবং সাধারণ মানুষ সুফল পাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত ১৭ জুন ১৪ দফার প্রাথমিক চুক্তি করে। এই খবরে বিশ্ববাজারে কমতে থাকে জ্বালানি তেলের দাম। শুক্রবার (১৯ জুন) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৩ সেন্ট বা ০.৫৪ শতাংশ কমে, প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৭৯ দশমিক ৪২ ডলারে। শনিবার (২০ জুন) তা একটু বেড়ে হয়েছে ৮০ দশমিক ৫৭ ডলার।
অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৭ সেন্ট বা ০.২২ শতাংশ কমে শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ৪৩ এবং শনিবার তা ৭৭.৫৪ ডলারে বিক্রি হয়। চুক্তির খবরের পর দুই ধরনের তেলের দামই গত মার্চের পর সর্বনিম্নে নেমেছে। এছাড়া আগস্টের জন্য সরবরাহ চুক্তির তেলের দাম ৩০ সেন্ট কমে প্রতিব্যারেল ৭৫ দশমিক ৫৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
চুক্তির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বাজারে আসবে। ইরানি তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে বাজারে আরও বাড়বে সরবরাহ। যদিও শনিবার আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের কথা জানিয়েছে ইরান। এখন দেখার, আপাতত পড়তি দরের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ে কিনা?
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ম. তামিম স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমছে, দেশেও কমা উচিত। আমার ধারণা, বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল হলে, সে অনুপাতে সরকারও পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে পেট্রল ও অকটেনের দাম কমবে। কারণ, দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবহারকারীরা এতদিন বাড়তি খরচ করেছেন। দাম কমার সুফল এখন তাদের পাওয়া উচিত।
তবে ডিজেলের দাম কমবে কিনা, তা নিশ্চিত নন এই বিশেষজ্ঞ, ‘ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পরোক্ষ প্রভাব পড়ে, পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যায়। কিন্তু ডিজেলের দাম কমলেও ভাড়া কখনো কমে না। ফলে সুফল জনগণ পায় না, বরং বাস-ট্রাক মালিকরা এই সুবিধা পান। ডিজেলের দাম এবার কমবে কিনা, তা নিয়ে আমি সন্দিহান।’
বিশ্ববাজারে দাম কমছে, দেশেও কমা উচিত। আমার ধারণা, বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল হলে, সে অনুপাতে সরকারও পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে পেট্রল ও অকটেনের দাম কমবে। কারণ, দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবহারকারীরা এতদিন বাড়তি খরচ করেছেন। দাম কমার সুফল এখন তাদের পাওয়া উচিত। অধ্যাপক ম. তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান এবং জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। তবে গত ১ জুন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন, ‘আমি খুব দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি– আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে, দেশেও কমবে।’
বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ দুইভাবে হয়। উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল এবং বাসাবাড়ি ও গাড়ির এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এক্ষেত্রে গণশুনানি এবং সৌদি আরামকোর প্রতিমাসের ঘোষিত মূল্যকে (সৌদি সিপি) ভিত্তি ধরা হয়। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত চার জ্বালানি–ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্বাহী আদেশে ঠিক করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্বালানি তেলের এই স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ সূত্র চালু করে সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের গড় খরচ বিবেচনা করে প্রতিমাসের শুরুতে নতুন দাম ঘোষণা করার কথা। তবে প্রতিমাসে নতুন দাম ঘোষণা করা হলেও, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিপরীতে কমলে, সেই অনুপাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেমন প্রভাব পড়ে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনার পাশাপাশি ইসরায়েলে হামলা চালায়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটে অস্থিরতা দেখা দেয়। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে। দেশেও সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয় এবং ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন পড়তে থাকে। কয়েক মাস ধরে দেশে চড়েছে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম।
সরকার গত ১৯ এপ্রিল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায়। তখন প্রতিলিটার ডিজেল ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ এবং পেট্রল ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাড়ানো হয় বাসভাড়াও। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও গত ৩১ মে এক ঘোষণায় জুনের জন্য কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। কেবল ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়।
জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গত ৭ জুনের তথ্যে, মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে, বিগত কয়েক মাসে দেশের এলপিজি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে এলপিজির দাম ছিল টানা ঊর্ধ্বমুখী। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৫ মাসের ব্যবধানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৪০ টাকা বাড়ানো হয়। যদিও জুনের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমানো হয়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৮৫ টাকায়।
বাংলাদেশ এনার্জি কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিইসিএ) সাবেক সভাপতি ও ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, ‘খনিজ তেলের বাজার চাপে রয়েছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের কারণে প্রভাব ক্রমাগত কমছে। ফলে জ্বালানির দামও ধারাবাহিকভাবে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটি চলমান প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে এক ধরনের স্বস্তির বার্তা।’ ম. তামিমও প্রত্যাশা করছেন, সামনে এলপিজির দাম কমে আসবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয়ের কথা বলা হলেও, এখান থেকে সাধারণ মানুষ খুব বেশি উপকৃত হচ্ছেন না। বিশ্ববাজারে বাড়লে এখানে যে গতিতে বৃদ্ধি পায়, কমলে এখানে তার ছিটেফোঁটা পড়ে না। এগুলো অযৌক্তিক। সরকার সেবা নিশ্চিত করার বদলে জ্বালানি তেলকে আয়ের বড় উৎস বানিয়ে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন কমছে, সরকার চাইলে এটি সমন্বয় সম্ভব।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্ববাজারে দরপতনের বড় প্রভাব পড়বে ইনস্যুরেন্স চার্জ ও জাহাজ ভাড়ার ওপর। এগুলো কমে গেলে তেলের সামগ্রিক আমদানি ব্যয় কমবে। সৌদি আরামকোর দাম ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে আমরা নিয়মিত এলপিজির দাম সমন্বয় করি। সামনেও সেটি করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর প্রাণ ফিরছে হরমুজ প্রণালিতে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ৮০ ডলারে নেমেছে। বাংলাদেশেও জ্বালানির নিম্নমুখী বাজার প্রত্যাশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষজ্ঞরা দেশে এই দাম কতটুকু কমবে এবং সাধারণ মানুষ সুফল পাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত ১৭ জুন ১৪ দফার প্রাথমিক চুক্তি করে। এই খবরে বিশ্ববাজারে কমতে থাকে জ্বালানি তেলের দাম। শুক্রবার (১৯ জুন) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৩ সেন্ট বা ০.৫৪ শতাংশ কমে, প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৭৯ দশমিক ৪২ ডলারে। শনিবার (২০ জুন) তা একটু বেড়ে হয়েছে ৮০ দশমিক ৫৭ ডলার।
অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৭ সেন্ট বা ০.২২ শতাংশ কমে শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ৪৩ এবং শনিবার তা ৭৭.৫৪ ডলারে বিক্রি হয়। চুক্তির খবরের পর দুই ধরনের তেলের দামই গত মার্চের পর সর্বনিম্নে নেমেছে। এছাড়া আগস্টের জন্য সরবরাহ চুক্তির তেলের দাম ৩০ সেন্ট কমে প্রতিব্যারেল ৭৫ দশমিক ৫৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
চুক্তির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বাজারে আসবে। ইরানি তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে বাজারে আরও বাড়বে সরবরাহ। যদিও শনিবার আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের কথা জানিয়েছে ইরান। এখন দেখার, আপাতত পড়তি দরের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ে কিনা?
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ম. তামিম স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমছে, দেশেও কমা উচিত। আমার ধারণা, বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল হলে, সে অনুপাতে সরকারও পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে পেট্রল ও অকটেনের দাম কমবে। কারণ, দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবহারকারীরা এতদিন বাড়তি খরচ করেছেন। দাম কমার সুফল এখন তাদের পাওয়া উচিত।
তবে ডিজেলের দাম কমবে কিনা, তা নিশ্চিত নন এই বিশেষজ্ঞ, ‘ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পরোক্ষ প্রভাব পড়ে, পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যায়। কিন্তু ডিজেলের দাম কমলেও ভাড়া কখনো কমে না। ফলে সুফল জনগণ পায় না, বরং বাস-ট্রাক মালিকরা এই সুবিধা পান। ডিজেলের দাম এবার কমবে কিনা, তা নিয়ে আমি সন্দিহান।’
বিশ্ববাজারে দাম কমছে, দেশেও কমা উচিত। আমার ধারণা, বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল হলে, সে অনুপাতে সরকারও পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে পেট্রল ও অকটেনের দাম কমবে। কারণ, দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবহারকারীরা এতদিন বাড়তি খরচ করেছেন। দাম কমার সুফল এখন তাদের পাওয়া উচিত। অধ্যাপক ম. তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান এবং জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। তবে গত ১ জুন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন, ‘আমি খুব দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি– আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে, দেশেও কমবে।’
বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ দুইভাবে হয়। উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল এবং বাসাবাড়ি ও গাড়ির এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এক্ষেত্রে গণশুনানি এবং সৌদি আরামকোর প্রতিমাসের ঘোষিত মূল্যকে (সৌদি সিপি) ভিত্তি ধরা হয়। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত চার জ্বালানি–ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্বাহী আদেশে ঠিক করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্বালানি তেলের এই স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ সূত্র চালু করে সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের গড় খরচ বিবেচনা করে প্রতিমাসের শুরুতে নতুন দাম ঘোষণা করার কথা। তবে প্রতিমাসে নতুন দাম ঘোষণা করা হলেও, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিপরীতে কমলে, সেই অনুপাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেমন প্রভাব পড়ে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনার পাশাপাশি ইসরায়েলে হামলা চালায়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটে অস্থিরতা দেখা দেয়। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে। দেশেও সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয় এবং ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন পড়তে থাকে। কয়েক মাস ধরে দেশে চড়েছে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম।
সরকার গত ১৯ এপ্রিল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায়। তখন প্রতিলিটার ডিজেল ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ এবং পেট্রল ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাড়ানো হয় বাসভাড়াও। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও গত ৩১ মে এক ঘোষণায় জুনের জন্য কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। কেবল ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়।
জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গত ৭ জুনের তথ্যে, মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে, বিগত কয়েক মাসে দেশের এলপিজি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে এলপিজির দাম ছিল টানা ঊর্ধ্বমুখী। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৫ মাসের ব্যবধানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৪০ টাকা বাড়ানো হয়। যদিও জুনের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমানো হয়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৮৫ টাকায়।
বাংলাদেশ এনার্জি কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিইসিএ) সাবেক সভাপতি ও ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, ‘খনিজ তেলের বাজার চাপে রয়েছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের কারণে প্রভাব ক্রমাগত কমছে। ফলে জ্বালানির দামও ধারাবাহিকভাবে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটি চলমান প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে এক ধরনের স্বস্তির বার্তা।’ ম. তামিমও প্রত্যাশা করছেন, সামনে এলপিজির দাম কমে আসবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয়ের কথা বলা হলেও, এখান থেকে সাধারণ মানুষ খুব বেশি উপকৃত হচ্ছেন না। বিশ্ববাজারে বাড়লে এখানে যে গতিতে বৃদ্ধি পায়, কমলে এখানে তার ছিটেফোঁটা পড়ে না। এগুলো অযৌক্তিক। সরকার সেবা নিশ্চিত করার বদলে জ্বালানি তেলকে আয়ের বড় উৎস বানিয়ে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন কমছে, সরকার চাইলে এটি সমন্বয় সম্ভব।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্ববাজারে দরপতনের বড় প্রভাব পড়বে ইনস্যুরেন্স চার্জ ও জাহাজ ভাড়ার ওপর। এগুলো কমে গেলে তেলের সামগ্রিক আমদানি ব্যয় কমবে। সৌদি আরামকোর দাম ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে আমরা নিয়মিত এলপিজির দাম সমন্বয় করি। সামনেও সেটি করা হবে।
.png)

সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে দিনে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট হিসেবে রিগ্যাসিফায়েড লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে চাপ বাড়িয়ে রাত ২টার মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত ফ্যাশন সোর্সিং ট্রেড ফেয়ারে বৈশ্বিক ক্রেতা ও তৈরি পোশাক শিল্পের অংশীদারদের নজর কেড়েছে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন। গত ১০ থেকে ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক ২০২৬’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত এ মেলায় নিজেদের সক্ষমতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।
১৩ আগস্ট ২০২৬
সরকারি কাজে পুনঃচক্রায়িত কাগজ-কলম ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
১২ আগস্ট ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তাঁকে ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করেছে।
১২ আগস্ট ২০২৬