স্ট্রিম অনুসন্ধান-১

বাংলাদেশে ডানা মেলছে আফগান নেটওয়ার্ক

স্ট্রিম গ্রাফিক

আফগানিস্তানে সরকার গঠনের পর তালেবান দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরির উদ্যোগ নেয় তারা। নিজস্ব বলয়ের রাজনীতিক থেকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তালেবানের আমন্ত্রণে অনেকে আফগানিস্তান ঘুরে এসেছেন।

সূত্রের দাবি, এসব ব্যক্তিরা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরে ‘জিহাদি কূটনীতির’ মাধ্যমে বাংলাদেশে তালেবান নেটওয়ার্ক বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেন। এজন্য পুরোনো মিত্রদের সক্রিয়সহ বিভিন্ন কার্যক্রম করছে। ইতোমধ্যে এই নেটওয়ার্কের আমন্ত্রণে তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিভিশনের মহাপরিচালক মোল্লা নুর আহমদ নুর ওরফে মোল্লা জাওয়ান্দি, আবদুল্লাহ শাহ মাজহারসহ ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বেশ কয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ঢাকা ঘুরে গেছেন।

জিহাদি কূটনীতি কী, কাজ করে কীভাবে

জাতীয় স্বার্থ বা পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রের আওতার বাইরে থাকা উগ্রবাদী সংগঠন বা গোষ্ঠীকে কোনো রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক পক্ষের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাকে ‘জিহাদি কূটনীতি’ বলা হয়। এই তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কেউই পেশাদার কূটনীতিক নন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রভাবশালী ব্যক্তি, আস্থাভাজন নেতারা কাজটি করে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের ব্যবহার করা হলেও, এটি করা হয় গোপনে কিংবা অনানুষ্ঠানিক উপায়ে।

বাংলাদেশে জিহাদি কূটনীতি

তালেবানের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা পাকিস্তানের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছেন। ফলে দেশটির শীর্ষস্থানীয় আলেম, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তালেবানের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এক সময় বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে গিয়ে অনেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। এই সূত্রে এদেশে কওমিধারার আলেমদের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এর মধ্যে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধের সময় ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে ব্যানার টানিয়ে প্রকাশ্যে মুজাহিদ (যোদ্ধা) সংগ্রহ করা হয়। ওই যুদ্ধের শেষ দিকে বিদেশি মুজাহিদদের নিয়ে বৈশ্বিকভাবে গড়ে ওঠে ‘হরকাতুল জিহাদ আল আলামি’। ১৯৮৯ সালে এই সংগঠনের শাখা ‘হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি)’ প্রতিষ্ঠা করেন যশোরের মনিরামপুরের মাওলানা আবদুর রহমান ফারুকী। তবে ওই বছরই মাইন অপসারণের সময় আফগানিস্তানের খোস্তে মারা যান তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালের এপ্রিলে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে হুজি-বি। আফগানফেরত মুজাহিদদের বেশির ভাগ এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে এই সংগঠন হলেও, পরে প্রশিক্ষিত যোদ্ধারা দেশে দ্রুত নেটওয়ার্কের বিস্তার ঘটায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সমাবেশ ও ধর্মীয় স্থাপনায় বোমা হামলায় এই সংগঠনের অনেকে গ্রেপ্তার হন। একপর্যায়ে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে ২০০৫ সালের অক্টোবরে হুজি-বিকে নিষিদ্ধ করে সরকার।

তবে থেমে থাকেনি এমন কর্মকাণ্ড। সারাদেশে বোমা হামলা চালিয়ে চমকে দেয় জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এরপর রাজধানীর হলি আর্টিজানে হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে সামনে আসে আইএস। তবে হলি আর্টিজানের ঘটনার পর বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ধরপাকড়, মৃত্যু ও অন্য পেশায় যুক্ত হওয়ায় হুজি আড়ালে চলে যায়। তবে ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পরে আবারও তারা সক্রিয় হয়।

ঢাকা-কাবুল সেতুবন্ধনে ধর্মীয় নেতা

ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে ঢাকা-কাবুল সেতুবন্ধনের চেষ্টা হয় ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে। দুদেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা পরস্পরের আমন্ত্রণে দেশ দুটি সফর করেন। কথা বলে জানা যায়, তাদের এই সফরের উদ্দেশ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক স্বার্থসিদ্ধি।

গত বছরের মাঝামাঝি আফগানিস্তান সফর করেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামিয়া কারামিয়া মাদ্রাসার পরিচালক আবু সায়েম খালেদ। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্র স্ট্রিমকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে দুবাই হয়ে আফগানিস্তান সফর করে খালেদের নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল। সফরে উচ্চ পর্যায়ের তালেবান নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন খালেদরা। পরে পাকিস্তান হয়ে সবাই বাংলাদেশে ফেরেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে খালেদ ‘বাংলাদেশ-আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিসিআই)’ প্রতিষ্ঠা করেন। বিএসিসিআইর চেয়ারম্যান আবু সায়েম খালেদের শুরুর পরিকল্পনায় ছিলেন– এমন একজন স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, খালেদ বর্তমানে হুজির নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির। তবে স্ট্রিমের কাছে আমিরের দায়িত্বে থাকার কথা অস্বীকার করেন খালেদ।

জানা যায়, মোল্লা নুর আহমদ নুর ওরফে মোল্লা জাওয়ান্দি, পাকিস্তানের জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ শাহ মাজহারসহ কয়েক নেতা ও ধর্মীয় বক্তা বিভিন্ন সময়ে খালেদের আমন্ত্রণে তাঁর নারায়ণগঞ্জের মাদ্রাসায় অতিথি হয়ে অবস্থান করেছেন। মোল্লা জাওয়ান্দি ও আবদুল্লাহ শাহ মাজহার অতিথি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন খালেদ।

হুজি সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি তালেবান সরকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ইসলামপন্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে। খালেদের আফগান সফরের পরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটি সফর করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ৭ আলেম।

এই মুহূর্তে ভারতকে তালেবান সরকারের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রাষ্ট্র মনে করা হয়। বাংলাদেশ সফর শেষে গত জানুয়ারিতে দিল্লিতে আফগান দূতাবাসের দায়িত্ব নেন মোল্লা জাওয়ান্দি। তাঁর বাংলাদেশ সফরে খালেদের বিএসিসিআই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘ব্লুপ্রিন্ট অব দ্য ইসলামিক এমিরেট’ শীর্ষক সমাবেশ আয়োজন করে। সেখানে মোল্লা জাওয়ান্দি না এলেও, উপস্থিত অতিথিদের বেশির ভাগই ছিলেন হুজির কার্যক্রমে জড়িত। সমাবেশে প্রতিষ্ঠিত কোনো ব্যবসায়ীকে দেখা যায়নি। হুজির সাবেক আমির রহমতুল্লাহ ওরফে শেখ ফরিদের ভাইদের সমাবেশে সক্রিয় দেখা যায়।

বুড়িগঙ্গায় নৌকা ভাসিয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মোল্লা জাওয়ান্দি। সংগৃহীত ছবি
বুড়িগঙ্গায় নৌকা ভাসিয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মোল্লা জাওয়ান্দি। সংগৃহীত ছবি

মোল্লা জাওয়ান্দিকে নিয়ে বুড়িগঙ্গায় নৌকা ভাসিয়ে একটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেন খালেদ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ নেননি হেফাজতে ইসলামের এক শীর্ষ নেতা। স্ট্রিমকে সম্প্রতি তিনি জানান, খালেদের হুজি সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে অনেকেই জানে। এই কারণে শেষ পর্যন্ত আর সেখানে যাওয়া হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের শেষ দিকে দুবার বাংলাদেশ সফর করে খালেদের অতিথি হন আবদুল্লাহ শাহ মাজহার। তাঁর সম্পর্কে বিবিসির উর্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহ মাজহার পাকিস্তানের জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী। অতীতে তিনি নিষিদ্ধঘোষিত জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারসহ বেশ কয়েকজনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

গত বছরের শেষ দিকে দুবার বাংলাদেশ সফর করেছেন পাকিস্তানের জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ শাহ মাজহার ওরফে মাজহার সাইদ শাহ। ছবি: সংগৃহীত
গত বছরের শেষ দিকে দুবার বাংলাদেশ সফর করেছেন পাকিস্তানের জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ শাহ মাজহার ওরফে মাজহার সাইদ শাহ। ছবি: সংগৃহীত

হুজি সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি তালেবান সরকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ইসলামপন্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে। খালেদের আফগান সফরের পরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটি সফর করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ৭ আলেম। তারা সবাই হেফাজতে ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কওমিধারার প্রভাবশালী রাজনীতিক।

সফর শেষে দেশে ফিরে মামুনুল হক সাংবাদিকদের জানান, সফরে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোল্লা আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমির খান মুত্তাকি তাদের জানিয়েছেন– ‘৪১টি দেশের সঙ্গে তালেবান সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান থাকলেও বাংলাদেশ নেই।’

বাংলাদেশে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরির জন্য আমির খান মুত্তাকি তাদের কাজ করতে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান মামুনুল হক।

মামুনুল হকসহ সাত আলেম পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দুবাই হয়ে কাবুল গিয়েছিলেন। আবার দুবাই হয়ে বাংলাদেশে আসেন। দুবাই থেকে আফগানিস্তানে যাওয়ার জন্য দেশটির সরকার তাদের বিশেষ ভিসার ব্যবস্থা করে। তাদের ওই সফরের পরে ২১ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় আসেন তালেবান সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতা মোল্লা নুর আহমদ নুর। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান আবু সায়েম খালেদ। এক সপ্তাহ ধরে তিনি নারায়ণগঞ্জে খালেদের ওই মাদ্রাসাসহ ঢাকা ও আশেপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ঘুরে দেখেন।

নুর আহমদ নুরের বাংলাদেশ সফরের পরে গত ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ। তাঁর সঙ্গে আরও প্রায় অর্ধশত অতিথি বাংলাদেশে সরকারিভাবে সফর করেন। এই সফরের সময়েও তাদের সঙ্গে ছিলেন খালেদ।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষকদের

দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে কড়া নজর রাখা পর্যবেক্ষক ও তরুণ আলেম মনযূরুল হক স্ট্রিমকে বলেন, উপমহাদেশে ধর্মীয় কূটনীতির ব্যবহার আগেও ছিল। একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় জমিয়তের উলামায়ে হিন্দের প্রধান আসআদ মাদানিকে বাংলাদেশে পাঠানো ছিল ভারতের ধর্মীয় কূটনীতির অংশ। এদেশে এসে তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই করতে আলেমদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

তালেবান ধর্মীয় কূটনীতির ব্যবহার বিস্তৃত করছে কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, মাওলানা মামুনুল হকসহ কয়েকজন আফগানিস্তান ঘুরে এসেছেন। তালেবানের প্রথম মেয়াদে মামুনুল হকের বাবা শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, খেলাফত মজলিসের তৎকালীন আমির প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমানসহ অনেকেই আমন্ত্রিত হয়ে আফগানিস্তান সফর করেছিলেন। তখনও তাদের মাধ্যমে ধর্মীয় কূটনৈতিক বোঝাপড়ার চেষ্টা হয়েছিল।

অতীতের এই ধর্মীয় কূটনীতির নজির অনুসরণ করে তালেবান সরকার এগোতে চাইলে তা ইতিবাচক ব্যাপার হবে বলে মনে করেন মনযূরুল হক। তবে তাঁর মতে, এই ক্ষেত্রে তালেবান সরকারকেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশে যেসব ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত, তাদের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালে দুদেশের জন্যই তা উপকারী হতে পারে।

অবশ্য মনযূরুলের আশঙ্কা, এখানকার ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটা অংশ আছে বিচ্ছিন্নতাবাদী। এদের একটা অংশ আফগান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিল। পরে দেশে ফিরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তারা আর সম্পৃক্ত হননি। আবার আফগান ফেরতদের অনেকে গণতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় শামিল হয়েছেন। যেমন– বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রয়াত আমির শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফের ছেলেও আফগান যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। তাদের অনুসারীরা আফগান যুদ্ধে তালেবানের প্রবল সমর্থক। এরপরেও মূলধারার গণতান্ত্রিক ইসলামী রাজনীতিতে তারা সম্পৃক্ত হয়েছেন। তালেবান সরকার বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হাত ধরলে ওই গোষ্ঠীটা ক্ষমতায়িত হবে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা আফগানিস্তানের যে সম্পর্ক চাই, সেটি বিতর্কিত হবে।

তবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে এখনই সুসম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে নন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও সম্পর্কের বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ। এতে জটিলতা বাড়তে পারে জানিয়ে স্ট্রিমকে তিনি বলেন, আফগানিস্তানে আমাদের জরুরি কোনো স্বার্থ নেই। ফলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপেক্ষা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানে আইএসসহ বিদেশি বিভিন্ন সশস্ত্র শক্তি তৎপর বলে ইসলামাবাদসহ অনেকে অভিযোগ করে আসছে। এই শক্তিগুলো আফগানিস্তানকে কেন্দ্রে রেখে দক্ষিণ এশিয়ায় তৎপরতা চালায়। তালেবানদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশিক্ষিত জনশক্তি বাংলাদেশেও সক্রিয় বলে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে কাবুলের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ঢাকার সরকার সতর্ক হবে সেটিই কাম্য। ব্যত্যয় ঘটলে এখানকার সমাজে জটিলতা বাড়তে পারে।

সম্পর্কিত