গোল্ডেন স্পেকট্রাম
হুমায়ূন শফিক

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) নিলাম আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্রে একমাত্র গ্রামীণফোনের অংশ নেওয়া ও অন্যান্য অপারেটরের সরে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নিলামের স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা ও জনস্বার্থ নিয়ে।
বিশ্বে সোনালি তরঙ্গ (গোল্ডেন স্পেকট্রাম) হিসেবে পরিচিত ব্যান্ডটি ফাইভ-জি সেবা সম্প্রসারণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু উচ্চ আদালতের রুল জারির পর বিশাল এই নিলাম প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে যায় বিটিআরসি।
মূলত গত ৪ জানুয়ারি শিক্ষানবিশ আইনজীবী রাইসা মৃধা সামান্তা জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় নিলাম প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। পরে নিলামের নির্ধারিত দিন ১৪ জানুয়ারি বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রুল জারি করেন। আদালত বিবাদীদের (ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, অর্থ সচিব এবং স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক) আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন।
রুলে আদালত কেন প্রক্রিয়াটি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা এবং বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। হাইকোর্ট আদেশে দুটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো–নিলামের বর্তমান কাঠামো কি বাজারের প্রতিযোগিতা নষ্ট করছে? অন্যটি হলো–রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক এবং ছোট অপারেটরদের সুরক্ষা না দিয়ে এই নিলাম আয়োজন কি সংবিধানের লঙ্ঘন নয়?
আদালত নিষেধাজ্ঞা না দিলেও বিটিআরসি কেন ১৪ জানুয়ারি নিলাম করেনি– এমন প্রশ্নে সংস্থার গণমাধ্যম শাখা স্ট্রিমকে জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটা আবেদন করে। পরে দরপত্র থেকে রবি নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এরপরও অনুরোধ পেয়ে একাধিক অপারেটরের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয় বিবেচনা করে কমিশন এবং সংশোধিত নির্দেশনা অনুসারে নিলামের দিন ২১ জানুয়ারি রেখেছে।
সূত্র জানায়, অন্যান্য অপারেটর না থাকায় ২১ জানুয়ারি একমাত্র দরদাতা হিসেবে গ্রামীণফোনই নিলামে অংশ নিচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেব বলেছেন, রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নিলামের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। রুলে যে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, আইনজীবীর মাধ্যমে তা আমরা দেব।
তিনি বলেন, অনেকগুলো তরঙ্গ একসঙ্গে স্পেকট্রাম দিলে সাধারণত নিলামে দাম কমে যায়। এজন্য স্বাভাবিকভাবে একটির পর আরেকটি করা হয়। এখন আমরা প্রথমে ৭০০ মেগাহার্টজের নিলাম করব। এরপর সামান্য যে তরঙ্গ আছে, তার জন্য আরেকটি নিলাম করব। এতে সব পক্ষের দাবিই করা রক্ষা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিশেষ সহকারী বলেন, এখন ভুলভাবে বলা হচ্ছে- নিলাম বন্ধ বা একজনই পাচ্ছে। অন্যরা তো বিনিয়োগ করতেই চায় না। যে বিনিয়োগ করবে না, তাঁকে তো জোর করে আনতে পারব না। আবার কারও জন্য তো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বসিয়ে রাখতে পারি না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ৭০০ তরঙ্গ না দিলে আমাদের ফোর-জি এবং ফাইভ-জির নেটওয়ার্ক কাভারেজের কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) সমস্যার সমাধান হবে না।
কেন এই রিট সে বিষয়ে রাইসা মৃধা সামান্তা স্ট্রিমকে নিজের ভুক্তভোগী হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং নাগরিক দায়বদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত এক-দেড় বছর ধরে ইন্টারনেট প্যাকেজ ও মেয়াদ নিয়ে আমি হতাশ। টেলিটক এবং গ্রামীণ–দুটি সিম ব্যবহার করি। টেলিটকের ১ জিবি যেখানে ১৬, সেখানে গ্রামীণে লাগে ৪০-৪৫ টাকা। আবার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। অথচ প্রতিবেশী ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কায় ডেটা প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হয় না।’
মৃধা সামান্তা আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা আমি রাস্তায় ছিলাম। নাহিদ ইসলাম-হাসনাত আবদুল্লাহরা আন্দোলনের মুখ হলেও, তাদের মূল শক্তি ছিলাম আমরা সাধারণ মানুষ। এখন আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে কে দাঁড়াবে? বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা চলছে। এই টাকা তো জনগণের। এজন্য জনস্বার্থবিরোধী মনোপলি নিলামের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি মনে করেছি।’
তবে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ স্ট্রিমকে বলেছেন, ‘এই নিলামে জনস্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় আমরা দেখতে পাইনি। সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে একাধিকবার পরামর্শ সভা হয়েছে। পরে মোবাইল অপারেটরদের মতামতের ভিত্তিতে নিলাম নির্দেশিকার একাধিক ধারা সংশোধন করা হয় এবং নিলামের সময়সীমাও বাড়ানো হয়।’
তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ‘নিলামে অংশ নেওয়ার বিষয় প্রতিটি মোবাইল অপারেটরের নিজ নিজ বোর্ডের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। গ্রামীণফোন গ্রাহকদের সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সংকল্পবদ্ধ। নেটওয়ার্কের গুণগত মান ও কভারেজ উন্নত করতে লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম অপরিহার্য মনে করেছে।’
সোনালি তরঙ্গ কেন মূল্যবান
৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডকে সোনালি তরঙ্গ বলা হয়। বিটিআরসির নিলাম নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই নিলামে মোট ২৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ পাঁচটি ব্লকে (প্রতিটি ৫ মেগাহার্টজ) বিক্রির জন্য রাখা হয়; ভিত্তি মূল্য ছিল ১৫ বছরের জন্য প্রতি মেগাহার্টজ ২৩৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে ২৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গের বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
এই তরঙ্গের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংকেত (প্রপাগেশন) বিস্তারের ক্ষমতা। উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির (যেমন ১৮০০ বা ২১০০ মেগাহার্টজ) তুলনায় ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ অনেক বেশি এলাকাজুড়ে কাভারেজ দিতে পারে। ফলে কমসংখ্যক টাওয়ার বসিয়েও অপারেটররা বিশাল এলাকায় নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিতে পারে, যাতে অবকাঠামো খরচ কমে আসে। তাছাড়া এই তরঙ্গ সহজে দেয়াল ভেদ করে ঘরের ভেতরে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রত্যন্ত এলাকার জন্য এই তরঙ্গ ফাইভ-জি এবং ফোর-জি সেবার মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যান্য অপারেটরের সরে দাঁড়ানো
নিলামের তফসিলের পর দেখা যায়, দেশের অন্যতম অপারেটর রবি ও বাংলালিংক প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অংশ নেয়নি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকও। একমাত্র দরদাতা (বিডার) হিসেবে থেকে যায় গ্রামীণফোন।
রিটকারীদের মতে, নিলাম হলে গ্রামীণফোন তরঙ্গ পেত এবং তা টেলিকম বাজারে অরাজকতার জন্ম দিত। গ্রামীণফোনের সবচেয়ে বেশি গ্রাহক ও শক্তিশালী অবকাঠামো রয়েছে। সঙ্গে ৭০০ মেগাহার্টজের মতো প্রিমিয়াম তরঙ্গ যুক্ত হলে অন্যান্য অপারেটর তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।
রিটের পক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এই গোল্ডেন রিসোর্স একজনের হাতে চলে গেলে, তারা যা বলবে তাই হবে। তারা ৫০০ টাকার প্যাকেজ ১ হাজারে বিক্রি করলেও গ্রাহকের কিছু করার থাকবে না। গ্রামীণফোন মনোপলি ব্যবসা করবে।’
এ ব্যাপারে গ্রামীণফোনের তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ‘এটি উন্মুক্ত নিলাম, যা সব মোবাইল অপারেটরের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে আয়োজন করা হয়। নিলাম প্রক্রিয়ায় মোট ২৫ মেগাহার্টজের মধ্যে কোনো অপারেটরই ১০ মেগাহার্টজের বেশি তরঙ্গ নিতে পারবে না।’
একমাত্র গ্রামীণফোন দরদাতার বিষয়ে একটি টেলিকম অপারেটরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, রবি, বাংলালিংকের মতো অপারেটর এখনই ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়। তারা ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের নিলাম চেয়েছিল, যা তাদের বর্তমান নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশনের জন্য জরুরি।
রিটের পক্ষে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী জাকারিয়া বলেন, ‘রবি ও বাংলালিংক চেয়েছিল ৯০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলাম করা হোক। কিন্তু বিটিআরসি তাদের দাবি উপেক্ষা করে শুধুমাত্র ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড নিলামে তোলে। হয়তো নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এটা করা হয়েছে। রবি শেষ মুহূর্তে সরে যায়। তারা হয়তো বুঝতে পেরেছে এই অসম প্রতিযোগিতায় তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা হবে না।’
প্রত্যাহারের বিষয়ে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ভিত্তিমূল্য এখনো অনেক বেশি, যা বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ৪৫টির মধ্যে মাত্র ২৫ মেগাহার্টজ রিলিজ হয়েছে। দাম অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ‘তরঙ্গ রিলিজে দৃশ্যমানতার অভাব আছে। অন্যান্য নিম্ন ব্যান্ড রিলিজে দৃশ্যমানতা নেই। যেমন: ৮০০, ইজিএসএম। পুনর্নবীকরণের শর্তে নেই কোনো দৃশ্যমানতা।’
রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম স্ট্রিমকে বলেন, ‘একটি সার্বিক কারিগরি ও কৌশলগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে আমরা চলমান ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে অংশ নিতেই প্রত্যাহার করে নিয়েছি। নিলামের সময়সূচিও আমাদের তাৎক্ষণিক পরিচালনাগত প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম অনেক বেশি এবং এটি এখনই নেওয়ার মতো উপযুক্ত নয়। এই ব্যান্ড চালু করতে নতুন যন্ত্রপাতি বসানো, আলাদা নেটওয়ার্ক স্তর যোগ করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে হবে। এতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়বে।’
সাহেদ আলম আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের নেটওয়ার্কের তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণে কিছু বিকল্প স্পেকট্রাম ব্যান্ড বেশি জরুরি। বিশেষ করে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবনের ভেতরে কভারেজ উন্নত করা। এই প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিশ্চিত করতে আমরা বিটিআরসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহারের বিষয়ও পরিকল্পনায় রয়েছে।’
বিটিআরসির ভূমিকা ও তাড়াহুড়া নিয়ে প্রশ্ন
বিটিআরসি কেন এত তড়িঘড়ি করে এই নিলাম আয়োজন করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর নিলামের বিজ্ঞপ্তি হয় এবং মাত্র দেড় মাসের মাথায় গত ১৪ জানুয়ারি নিলামের দিন ধার্য হয়। সাধারণত এত বড় নিলামের জন্য অপারেটরদের আর্থিক প্রস্তুতি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা, কৌশল নির্ধারণে আরও অনেক সময় প্রয়োজন।
আইনজীবীদের অভিযোগ, এখন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। সংসদ নির্বাচনের আগে এত বড় আর্থিক লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। কাজী জাকারিয়ার মতে, বিটিআরসি জানত যে রবি বা অন্যরা প্রস্তুত নয়। তবুও তারা এগিয়ে গেছে। এমনকি লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পরেও তারা প্রক্রিয়া থামায়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে থামতে বাধ্য হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য স্ট্রিম থেকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। পরে তিনটি প্রশ্ন লিখে ই-মেইল করলেও জবাব দেননি।
রিটকারী রাইসা মৃধা সামান্তার অভিযোগ, ‘একটি কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের ক্ষতি করা যাবে না। নীতি হতে হবে সবার জন্য সমান।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) নিলাম আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্রে একমাত্র গ্রামীণফোনের অংশ নেওয়া ও অন্যান্য অপারেটরের সরে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নিলামের স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা ও জনস্বার্থ নিয়ে।
বিশ্বে সোনালি তরঙ্গ (গোল্ডেন স্পেকট্রাম) হিসেবে পরিচিত ব্যান্ডটি ফাইভ-জি সেবা সম্প্রসারণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু উচ্চ আদালতের রুল জারির পর বিশাল এই নিলাম প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে যায় বিটিআরসি।
মূলত গত ৪ জানুয়ারি শিক্ষানবিশ আইনজীবী রাইসা মৃধা সামান্তা জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় নিলাম প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। পরে নিলামের নির্ধারিত দিন ১৪ জানুয়ারি বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রুল জারি করেন। আদালত বিবাদীদের (ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, অর্থ সচিব এবং স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক) আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন।
রুলে আদালত কেন প্রক্রিয়াটি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা এবং বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। হাইকোর্ট আদেশে দুটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো–নিলামের বর্তমান কাঠামো কি বাজারের প্রতিযোগিতা নষ্ট করছে? অন্যটি হলো–রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক এবং ছোট অপারেটরদের সুরক্ষা না দিয়ে এই নিলাম আয়োজন কি সংবিধানের লঙ্ঘন নয়?
আদালত নিষেধাজ্ঞা না দিলেও বিটিআরসি কেন ১৪ জানুয়ারি নিলাম করেনি– এমন প্রশ্নে সংস্থার গণমাধ্যম শাখা স্ট্রিমকে জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটা আবেদন করে। পরে দরপত্র থেকে রবি নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এরপরও অনুরোধ পেয়ে একাধিক অপারেটরের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয় বিবেচনা করে কমিশন এবং সংশোধিত নির্দেশনা অনুসারে নিলামের দিন ২১ জানুয়ারি রেখেছে।
সূত্র জানায়, অন্যান্য অপারেটর না থাকায় ২১ জানুয়ারি একমাত্র দরদাতা হিসেবে গ্রামীণফোনই নিলামে অংশ নিচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেব বলেছেন, রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নিলামের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। রুলে যে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, আইনজীবীর মাধ্যমে তা আমরা দেব।
তিনি বলেন, অনেকগুলো তরঙ্গ একসঙ্গে স্পেকট্রাম দিলে সাধারণত নিলামে দাম কমে যায়। এজন্য স্বাভাবিকভাবে একটির পর আরেকটি করা হয়। এখন আমরা প্রথমে ৭০০ মেগাহার্টজের নিলাম করব। এরপর সামান্য যে তরঙ্গ আছে, তার জন্য আরেকটি নিলাম করব। এতে সব পক্ষের দাবিই করা রক্ষা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিশেষ সহকারী বলেন, এখন ভুলভাবে বলা হচ্ছে- নিলাম বন্ধ বা একজনই পাচ্ছে। অন্যরা তো বিনিয়োগ করতেই চায় না। যে বিনিয়োগ করবে না, তাঁকে তো জোর করে আনতে পারব না। আবার কারও জন্য তো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বসিয়ে রাখতে পারি না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ৭০০ তরঙ্গ না দিলে আমাদের ফোর-জি এবং ফাইভ-জির নেটওয়ার্ক কাভারেজের কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) সমস্যার সমাধান হবে না।
কেন এই রিট সে বিষয়ে রাইসা মৃধা সামান্তা স্ট্রিমকে নিজের ভুক্তভোগী হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং নাগরিক দায়বদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত এক-দেড় বছর ধরে ইন্টারনেট প্যাকেজ ও মেয়াদ নিয়ে আমি হতাশ। টেলিটক এবং গ্রামীণ–দুটি সিম ব্যবহার করি। টেলিটকের ১ জিবি যেখানে ১৬, সেখানে গ্রামীণে লাগে ৪০-৪৫ টাকা। আবার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। অথচ প্রতিবেশী ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কায় ডেটা প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হয় না।’
মৃধা সামান্তা আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা আমি রাস্তায় ছিলাম। নাহিদ ইসলাম-হাসনাত আবদুল্লাহরা আন্দোলনের মুখ হলেও, তাদের মূল শক্তি ছিলাম আমরা সাধারণ মানুষ। এখন আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে কে দাঁড়াবে? বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা চলছে। এই টাকা তো জনগণের। এজন্য জনস্বার্থবিরোধী মনোপলি নিলামের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি মনে করেছি।’
তবে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ স্ট্রিমকে বলেছেন, ‘এই নিলামে জনস্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় আমরা দেখতে পাইনি। সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে একাধিকবার পরামর্শ সভা হয়েছে। পরে মোবাইল অপারেটরদের মতামতের ভিত্তিতে নিলাম নির্দেশিকার একাধিক ধারা সংশোধন করা হয় এবং নিলামের সময়সীমাও বাড়ানো হয়।’
তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ‘নিলামে অংশ নেওয়ার বিষয় প্রতিটি মোবাইল অপারেটরের নিজ নিজ বোর্ডের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। গ্রামীণফোন গ্রাহকদের সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সংকল্পবদ্ধ। নেটওয়ার্কের গুণগত মান ও কভারেজ উন্নত করতে লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম অপরিহার্য মনে করেছে।’
সোনালি তরঙ্গ কেন মূল্যবান
৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডকে সোনালি তরঙ্গ বলা হয়। বিটিআরসির নিলাম নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই নিলামে মোট ২৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ পাঁচটি ব্লকে (প্রতিটি ৫ মেগাহার্টজ) বিক্রির জন্য রাখা হয়; ভিত্তি মূল্য ছিল ১৫ বছরের জন্য প্রতি মেগাহার্টজ ২৩৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে ২৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গের বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
এই তরঙ্গের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংকেত (প্রপাগেশন) বিস্তারের ক্ষমতা। উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির (যেমন ১৮০০ বা ২১০০ মেগাহার্টজ) তুলনায় ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ অনেক বেশি এলাকাজুড়ে কাভারেজ দিতে পারে। ফলে কমসংখ্যক টাওয়ার বসিয়েও অপারেটররা বিশাল এলাকায় নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিতে পারে, যাতে অবকাঠামো খরচ কমে আসে। তাছাড়া এই তরঙ্গ সহজে দেয়াল ভেদ করে ঘরের ভেতরে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রত্যন্ত এলাকার জন্য এই তরঙ্গ ফাইভ-জি এবং ফোর-জি সেবার মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যান্য অপারেটরের সরে দাঁড়ানো
নিলামের তফসিলের পর দেখা যায়, দেশের অন্যতম অপারেটর রবি ও বাংলালিংক প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অংশ নেয়নি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকও। একমাত্র দরদাতা (বিডার) হিসেবে থেকে যায় গ্রামীণফোন।
রিটকারীদের মতে, নিলাম হলে গ্রামীণফোন তরঙ্গ পেত এবং তা টেলিকম বাজারে অরাজকতার জন্ম দিত। গ্রামীণফোনের সবচেয়ে বেশি গ্রাহক ও শক্তিশালী অবকাঠামো রয়েছে। সঙ্গে ৭০০ মেগাহার্টজের মতো প্রিমিয়াম তরঙ্গ যুক্ত হলে অন্যান্য অপারেটর তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।
রিটের পক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এই গোল্ডেন রিসোর্স একজনের হাতে চলে গেলে, তারা যা বলবে তাই হবে। তারা ৫০০ টাকার প্যাকেজ ১ হাজারে বিক্রি করলেও গ্রাহকের কিছু করার থাকবে না। গ্রামীণফোন মনোপলি ব্যবসা করবে।’
এ ব্যাপারে গ্রামীণফোনের তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ‘এটি উন্মুক্ত নিলাম, যা সব মোবাইল অপারেটরের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে আয়োজন করা হয়। নিলাম প্রক্রিয়ায় মোট ২৫ মেগাহার্টজের মধ্যে কোনো অপারেটরই ১০ মেগাহার্টজের বেশি তরঙ্গ নিতে পারবে না।’
একমাত্র গ্রামীণফোন দরদাতার বিষয়ে একটি টেলিকম অপারেটরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, রবি, বাংলালিংকের মতো অপারেটর এখনই ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়। তারা ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের নিলাম চেয়েছিল, যা তাদের বর্তমান নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশনের জন্য জরুরি।
রিটের পক্ষে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী জাকারিয়া বলেন, ‘রবি ও বাংলালিংক চেয়েছিল ৯০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলাম করা হোক। কিন্তু বিটিআরসি তাদের দাবি উপেক্ষা করে শুধুমাত্র ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড নিলামে তোলে। হয়তো নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এটা করা হয়েছে। রবি শেষ মুহূর্তে সরে যায়। তারা হয়তো বুঝতে পেরেছে এই অসম প্রতিযোগিতায় তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা হবে না।’
প্রত্যাহারের বিষয়ে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ভিত্তিমূল্য এখনো অনেক বেশি, যা বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ৪৫টির মধ্যে মাত্র ২৫ মেগাহার্টজ রিলিজ হয়েছে। দাম অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ‘তরঙ্গ রিলিজে দৃশ্যমানতার অভাব আছে। অন্যান্য নিম্ন ব্যান্ড রিলিজে দৃশ্যমানতা নেই। যেমন: ৮০০, ইজিএসএম। পুনর্নবীকরণের শর্তে নেই কোনো দৃশ্যমানতা।’
রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম স্ট্রিমকে বলেন, ‘একটি সার্বিক কারিগরি ও কৌশলগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে আমরা চলমান ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে অংশ নিতেই প্রত্যাহার করে নিয়েছি। নিলামের সময়সূচিও আমাদের তাৎক্ষণিক পরিচালনাগত প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম অনেক বেশি এবং এটি এখনই নেওয়ার মতো উপযুক্ত নয়। এই ব্যান্ড চালু করতে নতুন যন্ত্রপাতি বসানো, আলাদা নেটওয়ার্ক স্তর যোগ করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে হবে। এতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়বে।’
সাহেদ আলম আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের নেটওয়ার্কের তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণে কিছু বিকল্প স্পেকট্রাম ব্যান্ড বেশি জরুরি। বিশেষ করে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবনের ভেতরে কভারেজ উন্নত করা। এই প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিশ্চিত করতে আমরা বিটিআরসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহারের বিষয়ও পরিকল্পনায় রয়েছে।’
বিটিআরসির ভূমিকা ও তাড়াহুড়া নিয়ে প্রশ্ন
বিটিআরসি কেন এত তড়িঘড়ি করে এই নিলাম আয়োজন করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর নিলামের বিজ্ঞপ্তি হয় এবং মাত্র দেড় মাসের মাথায় গত ১৪ জানুয়ারি নিলামের দিন ধার্য হয়। সাধারণত এত বড় নিলামের জন্য অপারেটরদের আর্থিক প্রস্তুতি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা, কৌশল নির্ধারণে আরও অনেক সময় প্রয়োজন।
আইনজীবীদের অভিযোগ, এখন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। সংসদ নির্বাচনের আগে এত বড় আর্থিক লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। কাজী জাকারিয়ার মতে, বিটিআরসি জানত যে রবি বা অন্যরা প্রস্তুত নয়। তবুও তারা এগিয়ে গেছে। এমনকি লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পরেও তারা প্রক্রিয়া থামায়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে থামতে বাধ্য হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য স্ট্রিম থেকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। পরে তিনটি প্রশ্ন লিখে ই-মেইল করলেও জবাব দেননি।
রিটকারী রাইসা মৃধা সামান্তার অভিযোগ, ‘একটি কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের ক্ষতি করা যাবে না। নীতি হতে হবে সবার জন্য সমান।’
আমবাগানের পেছনে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত। তারপর বিশাল এলাকার একপাশে একাধিক ঘানি থেকে মাড়াই হচ্ছে তেল। অন্য পাশে গবাদি পশুর খামার; মাছের ঘের। সঙ্গে মুরগি ও বিদেশি কুকুরের বাণিজ্যিক ফার্ম। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর তারাইল ইউনিয়নের রাতইলে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে চলছে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ।
২ ঘণ্টা আগে
শুরুর দিকে বলা হয়েছিল, এসব প্রকল্পে লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এগুলো অদূর ভবিষ্যতে একেকটি ‘সিলিকন ভ্যালি’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে চেনাবে। কাগজে-কলমে এগুলোই ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর গর্বিত স্মারক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হাই-টেক পার্কের নামে গত দেড় দশকে তৈরি করা হয়েছে
৮ দিন আগে
সুন্দরবনে চোরাশিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বনের যত্রতত্র নাইলন ও জিআই তারের ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করেন তারা। এই ফাঁদে প্রায়ই আটকা পড়ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বন বিভাগের কর্মীরাও এই চক্রের কাছে অসহায়।
১৩ দিন আগে
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের শীর্ষ কূটনীতিক মোল্লা নুর আহমদ নুর ঢাকায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিভিশনের এই মহাপরিচালক মোল্লা জাওয়ান্দি নামে পরিচিত। এক সপ্তাহ ধরে তিনি ঢাকা ও আশেপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসা সফর করছেন, অংশ নিচ্ছেন নানা কর্মসূচিতে।
২৩ দিন আগে