ওলিউর রহমান

জাকাত ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি রোকনের (আমলের) একটি। কোরআনে অনেক জায়গায় আল্লাহ তাআলা জাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে রাসুল সা. যারা জাকাত প্রদান করে না, তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তির সতর্কবার্তা জানিয়েছেন।
সহিহ বুখারিতে উল্লেখ আছে, ‘যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে তার জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন এই সম্পদকে টাকমাথা বিষধর সাপে রূপ দেওয়া হবে। সেই সাপ উক্ত ব্যক্তি গলা পেঁচিয়ে তাকে দংশন করতে করতে বলতে থাকবে আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়।’
কোরআনের সূরা তাওবায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যারা সোনা, রুপা জমা করে রাখে কিন্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।’
কাদের ওপর জাকাত ফরজ
স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থমস্তিষ্কের মুসলিম নারী-পুরুষ যদি তার স্বাভাবিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং তা এক বছর অধিক সময় ধরে বহাল থাকে তাহলে তাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়।
যেসব সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ
গৃহপালিত পশু, র্স্বণ, রুপা, টাকা বা ব্যবসায়ীক পণ্য—এই চার ধরনের বর্ধনশীল সম্পত্তিতে জাকাত ফরজ হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে গৃহপালিত পশুর নেসাব সচরাচর প্রযোজ্য হয় না।
স্বর্ণ-রুপা-ব্যবসায়ীক পণ্যের নেসাবের হিসাব
হাদিসে উল্লেখিত স্বর্ণের নেসাব হলো ২০ মিসকাল। আধুনিক পরিমাপে সাড়ে সাত ভরি। আর রুপার নেসাব হাদিসে উল্লেখ আছে ২ শ দিরহাম। আধুনিক হিসেবে সাড়ে বায়ান্ন ভরি। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ ২০ হাজার। স্বর্ণ-রুপা ব্যবহার্য অলংকার হিসেবে থাকুক কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত—সর্বাবস্থায় এগুলোর জাকাত দিতে হবে।
টাকা ও ব্যবসায়ীক পণ্যের নেসাবের ক্ষেত্রে রুপার নেসাবের মূল্য বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ কারো কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা সমপরিমাণ নগদ টাকা থাকে কিংবা এতটুকু পরিমাণ ব্যবসায়ীক পণ্য থাকে যার বাজারমূল্য রুপার নেসাব সমপরিমাণ তাহলে এই টাকা ও ব্যবসায়িক পণ্যের জাকাত দিতে হবে।
যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায়
১. ফকির: যার বেঁচে থাকার মতো সম্বল নেই বা খুব সামান্য।
২. মিসকিন: এমন অভাবি, যার রোজগার তার নিজের এবং তার ওপরে নির্ভরশীলদের অপরিহার্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
৩. রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণকাজে নিয়োজিত কর্মচারী।
৪. ঋণী ব্যক্তি যিনি জাকাতের অর্থে ঋণ পরিশোধ করতে চান।
৫. আল্লাহর পথে যুদ্ধ এবং ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত ব্যক্তি।
৬. বিপদগ্রস্ত মুসাফির।
যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায় না
১. নিজের ঊর্ধ্বতন: অর্থাৎ, বাবা, দাদা-দাদি, কিংবা মা, নানা-নানি সূত্রে তাদের পূর্ববর্তীগণ।
২. অধস্তন: অর্থাৎ, নিজের সন্তান এবং তাদের সন্তান সূত্রে পরবর্তীগণ।
৩. স্বামী তার স্ত্রী কে জাকাত দিতে পারবে না। অবশ্য স্বামী যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয় তাহলে স্ত্রী থেকে জাকাত নিতে পারবে।
৪. ধনী ব্যক্তি। যে নিজে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না।
৫. কোনো অমুসলিম।
৬. বনি হাশেম। অর্থাৎ রাসূল সা. এর বংশধর। তাদের জন্য জাকাতের সম্পদ গ্রহণ বৈধ নয়।
যে সব জিনিসের ওপর জাকাত ফরজ নয়
১. নিজের এবং পরিজনের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও বাহনের ওপর যাকাত ফরজ নয়।
২. গৃহের আসবাবপত্র যেমন খাট-পালঙ্ক, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, আলমারি ইত্যাদি এবং গার্হস্থ্যসামগ্রী যেমন হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাটি, গ্লাস ইত্যাদির ওপর জাকাত ফরজ নয়। তা যত উচ্চমূল্যেরই হোক না কেন।
৩. পরিধেয় বস্ত্র, জুতা যদি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশিও থাকে তবুও তাতে জাকাত ফরজ হবে না।
৪. দোকান-পাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমন আসবাবপত্র যা ব্যবসাপণ্য নয়, তার ওপর জাকাত ফরজ নয়। তবে ফার্নিচারের দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে যেসব ফার্নিচার রাখা থাকে তা যেহেতু বাণিজ্যদ্রব্য তাই এসবের ওপর জাকাত ফরজ হবে।
৫. ঘর-বাড়ি বা দোকানপাট তৈরি করে ভাড়া দিলে তাতেও জাকাত ফরজ নয়। তবে এসব ক্ষেত্রে ভাড়াবাবদ যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা নেসাব পরিমাণ হলে সেটির জাকাত দিতে হবে।
৬. ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর-বাড়ি বা অন্য কোনো সামগ্রী যেমন ডেকোরেটরের বড় বড় ডেগ, থালা-বাটি ইত্যাদি ক্রয় করলে তার ওপরও জাকাত ফরজ নয়। তবে ভাড়াবাবদ প্রাপ্ত অর্থের উপর জাকাত আসবে।
ঋণ ও পাওনা প্রসঙ্গ
১. কারো ঋণ যদি এত হয় যা বাদ দিলে তার কাছে নেসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে না তাহলে তার ওপর জাকাত ফরজ নয়।
কিন্তু এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই প্রসিদ্ধ মাসালাটি সব ঋণের ক্ষেত্রে নয়। ঋণ দুই ধরনের হয়ে থাকে। ক. প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে যে ঋণ নেওয়া হয়। খ. ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যে ঋণ নেওয়া হয়।
প্রথম প্রকারের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে জাকাতের নিসাব বাকি থাকে কিনা, তার হিসাব করতে হবে। নিসাব থাকলে জাকাত ফরজ হবে, অন্যথায় নয়। কিন্তু যে সব ঋণ উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয় যেমন কারখানা বানানো, কিংবা ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বিল্ডিং বানানো অথবা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণ নিলে জাকাতের হিসাবের সময় সে ঋণ ধর্তব্য হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে যাকাত কম দেওয়া যাবে না।
২. বিয়েশাদিতে মোহরানার যে অংশ বাকি থাকে, তা স্বামীর কাছে স্ত্রীর পাওনা। কিন্তু এই পাওনা স্বামীর ওপর জাকাত ফরজ হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ জাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাবের সময় এই ঋণ বাদ দেওয়া যাবে না; বরং সমুদয় সম্পদের জাকাত দিতে হবে।
৩. অন্যকে যে টাকা ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে বা ব্যবসায়ী কোনো পণ্য বাকিতে বিক্রয় করেছে এই পাওনা টাকা পৃথকভাবে বা অন্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে মিলিতভাবে নেসাব পূর্ণ করলে তারও জাকাত দিতে হবে।
৪. পাওনা উসূল হওয়ার পর ওই টাকার যাকাত আদায় করা ফরজ হয়। তার আগে আদায় করা জরুরি নয়, তবে আদায় করলে জাকাত আদায় হয়ে যাবে।
৫. উপরোক্ত ক্ষেত্রে পাওনা উসুল হতে যদি কয়েক বছর সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে উসুল হওয়ার পর বিগত সকল বছরের জাকাত আদায় করা ফরজ হয়।
৬. স্বামীর কাছে পাওনা মোহরানা নেসাব পরিমাণ হলেও তা স্ত্রীর হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাতে জাকাত ফরজ হয় না। হস্তগত হওয়ার পর যদি আগে থেকেই ঐ মহিলার কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ নেসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে এখন থেকে বছর গণনা শুরু হবে এবং বছর পূর্ণ হওয়ার পর জাকাত আদায় করতে হবে। আর যদি স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার আগ থেকেই নিসাব পরিমাণ অর্থ বা সম্পদের মালিক থেকে থাকে তাহলে এই সদ্যপ্রাপ্ত মোহরানা অন্যান্য টাকা-পয়সা বা সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং সেই সব পুরানো সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের জাকাত দিতে হবে।

জাকাত ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি রোকনের (আমলের) একটি। কোরআনে অনেক জায়গায় আল্লাহ তাআলা জাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে রাসুল সা. যারা জাকাত প্রদান করে না, তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তির সতর্কবার্তা জানিয়েছেন।
সহিহ বুখারিতে উল্লেখ আছে, ‘যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে তার জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন এই সম্পদকে টাকমাথা বিষধর সাপে রূপ দেওয়া হবে। সেই সাপ উক্ত ব্যক্তি গলা পেঁচিয়ে তাকে দংশন করতে করতে বলতে থাকবে আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়।’
কোরআনের সূরা তাওবায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যারা সোনা, রুপা জমা করে রাখে কিন্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।’
কাদের ওপর জাকাত ফরজ
স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থমস্তিষ্কের মুসলিম নারী-পুরুষ যদি তার স্বাভাবিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং তা এক বছর অধিক সময় ধরে বহাল থাকে তাহলে তাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়।
যেসব সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ
গৃহপালিত পশু, র্স্বণ, রুপা, টাকা বা ব্যবসায়ীক পণ্য—এই চার ধরনের বর্ধনশীল সম্পত্তিতে জাকাত ফরজ হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে গৃহপালিত পশুর নেসাব সচরাচর প্রযোজ্য হয় না।
স্বর্ণ-রুপা-ব্যবসায়ীক পণ্যের নেসাবের হিসাব
হাদিসে উল্লেখিত স্বর্ণের নেসাব হলো ২০ মিসকাল। আধুনিক পরিমাপে সাড়ে সাত ভরি। আর রুপার নেসাব হাদিসে উল্লেখ আছে ২ শ দিরহাম। আধুনিক হিসেবে সাড়ে বায়ান্ন ভরি। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ ২০ হাজার। স্বর্ণ-রুপা ব্যবহার্য অলংকার হিসেবে থাকুক কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত—সর্বাবস্থায় এগুলোর জাকাত দিতে হবে।
টাকা ও ব্যবসায়ীক পণ্যের নেসাবের ক্ষেত্রে রুপার নেসাবের মূল্য বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ কারো কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা সমপরিমাণ নগদ টাকা থাকে কিংবা এতটুকু পরিমাণ ব্যবসায়ীক পণ্য থাকে যার বাজারমূল্য রুপার নেসাব সমপরিমাণ তাহলে এই টাকা ও ব্যবসায়িক পণ্যের জাকাত দিতে হবে।
যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায়
১. ফকির: যার বেঁচে থাকার মতো সম্বল নেই বা খুব সামান্য।
২. মিসকিন: এমন অভাবি, যার রোজগার তার নিজের এবং তার ওপরে নির্ভরশীলদের অপরিহার্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
৩. রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণকাজে নিয়োজিত কর্মচারী।
৪. ঋণী ব্যক্তি যিনি জাকাতের অর্থে ঋণ পরিশোধ করতে চান।
৫. আল্লাহর পথে যুদ্ধ এবং ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত ব্যক্তি।
৬. বিপদগ্রস্ত মুসাফির।
যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায় না
১. নিজের ঊর্ধ্বতন: অর্থাৎ, বাবা, দাদা-দাদি, কিংবা মা, নানা-নানি সূত্রে তাদের পূর্ববর্তীগণ।
২. অধস্তন: অর্থাৎ, নিজের সন্তান এবং তাদের সন্তান সূত্রে পরবর্তীগণ।
৩. স্বামী তার স্ত্রী কে জাকাত দিতে পারবে না। অবশ্য স্বামী যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয় তাহলে স্ত্রী থেকে জাকাত নিতে পারবে।
৪. ধনী ব্যক্তি। যে নিজে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না।
৫. কোনো অমুসলিম।
৬. বনি হাশেম। অর্থাৎ রাসূল সা. এর বংশধর। তাদের জন্য জাকাতের সম্পদ গ্রহণ বৈধ নয়।
যে সব জিনিসের ওপর জাকাত ফরজ নয়
১. নিজের এবং পরিজনের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও বাহনের ওপর যাকাত ফরজ নয়।
২. গৃহের আসবাবপত্র যেমন খাট-পালঙ্ক, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, আলমারি ইত্যাদি এবং গার্হস্থ্যসামগ্রী যেমন হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাটি, গ্লাস ইত্যাদির ওপর জাকাত ফরজ নয়। তা যত উচ্চমূল্যেরই হোক না কেন।
৩. পরিধেয় বস্ত্র, জুতা যদি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশিও থাকে তবুও তাতে জাকাত ফরজ হবে না।
৪. দোকান-পাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমন আসবাবপত্র যা ব্যবসাপণ্য নয়, তার ওপর জাকাত ফরজ নয়। তবে ফার্নিচারের দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে যেসব ফার্নিচার রাখা থাকে তা যেহেতু বাণিজ্যদ্রব্য তাই এসবের ওপর জাকাত ফরজ হবে।
৫. ঘর-বাড়ি বা দোকানপাট তৈরি করে ভাড়া দিলে তাতেও জাকাত ফরজ নয়। তবে এসব ক্ষেত্রে ভাড়াবাবদ যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা নেসাব পরিমাণ হলে সেটির জাকাত দিতে হবে।
৬. ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর-বাড়ি বা অন্য কোনো সামগ্রী যেমন ডেকোরেটরের বড় বড় ডেগ, থালা-বাটি ইত্যাদি ক্রয় করলে তার ওপরও জাকাত ফরজ নয়। তবে ভাড়াবাবদ প্রাপ্ত অর্থের উপর জাকাত আসবে।
ঋণ ও পাওনা প্রসঙ্গ
১. কারো ঋণ যদি এত হয় যা বাদ দিলে তার কাছে নেসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে না তাহলে তার ওপর জাকাত ফরজ নয়।
কিন্তু এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই প্রসিদ্ধ মাসালাটি সব ঋণের ক্ষেত্রে নয়। ঋণ দুই ধরনের হয়ে থাকে। ক. প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে যে ঋণ নেওয়া হয়। খ. ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যে ঋণ নেওয়া হয়।
প্রথম প্রকারের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে জাকাতের নিসাব বাকি থাকে কিনা, তার হিসাব করতে হবে। নিসাব থাকলে জাকাত ফরজ হবে, অন্যথায় নয়। কিন্তু যে সব ঋণ উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয় যেমন কারখানা বানানো, কিংবা ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বিল্ডিং বানানো অথবা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণ নিলে জাকাতের হিসাবের সময় সে ঋণ ধর্তব্য হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে যাকাত কম দেওয়া যাবে না।
২. বিয়েশাদিতে মোহরানার যে অংশ বাকি থাকে, তা স্বামীর কাছে স্ত্রীর পাওনা। কিন্তু এই পাওনা স্বামীর ওপর জাকাত ফরজ হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ জাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাবের সময় এই ঋণ বাদ দেওয়া যাবে না; বরং সমুদয় সম্পদের জাকাত দিতে হবে।
৩. অন্যকে যে টাকা ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে বা ব্যবসায়ী কোনো পণ্য বাকিতে বিক্রয় করেছে এই পাওনা টাকা পৃথকভাবে বা অন্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে মিলিতভাবে নেসাব পূর্ণ করলে তারও জাকাত দিতে হবে।
৪. পাওনা উসূল হওয়ার পর ওই টাকার যাকাত আদায় করা ফরজ হয়। তার আগে আদায় করা জরুরি নয়, তবে আদায় করলে জাকাত আদায় হয়ে যাবে।
৫. উপরোক্ত ক্ষেত্রে পাওনা উসুল হতে যদি কয়েক বছর সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে উসুল হওয়ার পর বিগত সকল বছরের জাকাত আদায় করা ফরজ হয়।
৬. স্বামীর কাছে পাওনা মোহরানা নেসাব পরিমাণ হলেও তা স্ত্রীর হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাতে জাকাত ফরজ হয় না। হস্তগত হওয়ার পর যদি আগে থেকেই ঐ মহিলার কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ নেসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে এখন থেকে বছর গণনা শুরু হবে এবং বছর পূর্ণ হওয়ার পর জাকাত আদায় করতে হবে। আর যদি স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার আগ থেকেই নিসাব পরিমাণ অর্থ বা সম্পদের মালিক থেকে থাকে তাহলে এই সদ্যপ্রাপ্ত মোহরানা অন্যান্য টাকা-পয়সা বা সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং সেই সব পুরানো সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের জাকাত দিতে হবে।

রমজানের ১৫ তারিখ রাত। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের মৃদু আলোতে বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত মহল্লার কচিকাঁচার দল হল্লা করতে করতে ছুটছে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে। দরজায় কড়া নেড়ে সবাইকে জানাচ্ছে রমজানের মধ্যভাগের শুভেচ্ছা।
১ দিন আগে
আজ তেরোতম রোজা। রমহমতের দশক শেষ হয়ে মাগফেরাতের দশক চলছে। রমজানের শুরুতে আমলের প্রতি সবার যে আগ্রহ ও উদ্দীপনা ছিল তা কি খানিকটা কমতে শুরু করেছে? মসজিদে মুসুল্লির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে দিন দিন৷ সেহরি-ইফতারসহ রমজানের অনেক আমল এখন যেন কেবল অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
২ দিন আগে
রাজধানী ঢাকার একটু উন্নত এলাকার আলীশান কোনো মসজিদ। তারাবির দীর্ঘ নামাজেও ভরপুর মুসল্লি। ইমাম সাহেব তেলাওয়াত করেন খুবই ধীরলয়ে। তবুও মুসল্লিদের কোনো বিরক্তি নেই৷ এয়ার কন্ডিশনের আরামদায়ক পরিবেশে সুললিত কণ্ঠের হাফেজ সাহেবের মধুর তেলাওয়াত দামি আর উন্নত মাইক্রোফোনে শুনতে বিরক্তি তো না লাগারই কথা৷
৩ দিন আগে
মুসলমানদের সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাস পরাজয়ের ইতিহাস। আরাকান, কাশ্মীর, জিনজিয়ান, আফগান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান, ইয়েমেন—সর্বত্রই মুসলমানদের চরম দুর্দিন৷ কোথাও তারা বহিঃশত্রুর আক্রমণে পর্যদুস্ত, কোথাও অভ্যন্তরীণ এবং জাতিগত কোন্দলে বিপর্যস্ত।
৪ দিন আগে