তথ্যসূত্র:

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সর্বশেষ উত্তেজনার অংশ হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার বা কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটছে ইরান। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জাহাজ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে বাজারগুলো প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। সবার নজর এখন তেল ও গ্যাস প্রবাহের ঝুঁকির দিকে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়া এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে সবাই চিন্তিত।
এই উদ্বেগ অবশ্যই যৌক্তিক। কিন্তু তেল-গ্যাস পুরো গল্পের একটি অংশ মাত্র। হরমুজ দিয়ে চলাচল দীর্ঘস্থায়ীভাবে বিঘ্নিত হলে তা কেবল জ্বালানি সংকট তৈরি করবে না, বরং একটি ‘ফার্টিলাইজার শক’ বা সারের সংকটও তৈরি করবে। অর্থাৎ সারের দাম নাটকীয়ভাবে বাড়বে এবং সরবরাহ কমে যাবে। ফলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে।
আধুনিক কৃষি শুধু সূর্যের আলো আর মাটির ওপর নির্ভর করে চলে না। এর জন্য দরকার প্রাকৃতিক গ্যাস। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রিৎজ হেবার ও কার্ল বশ নাইট্রোজেন ফিক্সেশন (সংবন্ধন পদ্ধতি) আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁদের এই আবিষ্কার বড় পরিসরে অ্যামোনিয়া তৈরির পথ দেখিয়েছিল, যা বৈশ্বিক রাসায়নিক বিপ্লবের সূচনা করে। আধুনিক সভ্যতা ও কৃষির ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে আছে এই বিপ্লব।
নাইট্রোজেন ফিক্সেশনে মিথেন গ্যাসকে অ্যামোনিয়ায় রূপান্তর করা হয়। এরপর অ্যামোনিয়া থেকে তৈরি হয় ইউরিয়া এবং অন্যান্য নাইট্রোজেন সার। ইউরিয়া হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার। এই সারের কারণেই আজকের বিশ্বের বিপুল জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এই সার না থাকলে গম, ভুট্টা ও ধানের ফলন নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
বিশ্ববাজারে লেনদেন হওয়া ইউরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। পারস্য উপসাগর দুটি কারণে এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রথমত এখানে বিশ্বের অন্যতম সস্তা প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, যা অ্যামোনিয়া উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। দ্বিতীয়ত গত কয়েক দশকে কাতার এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে বিশাল বিনিয়োগ করা হয়েছে। সেখানে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। মূলত রপ্তানি বাজারের কথা মাথায় রেখেই এই সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। তাই বিশ্ববাজারে নাইট্রোজেন সারের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং অন্য জায়গায় সার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবশ্যই হরমুজ প্রণালি দিয়েই যেতে হয়। প্রণালি বন্ধ হলে শুধু তেল ও গ্যাস রপ্তানিই হুমকিতে পড়বে না। নাইট্রোজেন সারের সরবরাহ এবং সার তৈরির কাঁচামালের প্রবাহও বন্ধ হয়ে যাবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে অ্যামোনিয়া এবং ইউরিয়া ও এলএনজির পরিবহনে দেরি হবে। জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা জাহাজ ভাড়া ও বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিবহন অসম্ভব ব্যয়বহুল হয়ে পড়তে পারে। তবে এর গভীর প্রভাব আগামী মাসগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন খামারে দেখা যাবে।

উত্তর গোলার্ধে রোপণ মৌসুমের আগে সারের কেনাকাটা বেড়ে যায়। কয়েক সপ্তাহের দেরিও সেখানে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। আর কয়েক মাসের বিঘ্ন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। যদি সারের চালান সময়মতো না পৌঁছায় তবে কৃষকদের সামনে কঠিন সব বিকল্প এসে দাঁড়াবে। তাদের চড়া দামে সার কিনতে হবে অথবা সারের ব্যবহার কমাতে হবে। কিংবা ফসলের ধরন পাল্টে ফেলতে হবে। ফসলের ফলন নাইট্রোজেনের ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে সারের ব্যবহার সামান্য কমালেও ফলন অনেক বেশি কমে যেতে পারে। এর মানে হলো লাখ লাখ টন শস্য উৎপাদন কম হবে। এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনে পড়বে। পশুখাদ্য এবং গবাদিপশু উৎপাদন ও জৈব জ্বালানি এবং শেষ পর্যন্ত খুচরা খাদ্যমূল্যেও এর আঁচ লাগবে।
কিছু দেশের নিজস্ব সারের জোগান আছে কিন্তু সহজলভ্যতার জন্য অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে ভারতের কথা বলা যায়। তারা তাদের ইউরিয়া কারখানাগুলো চালানোর জন্য পারস্য উপসাগর থেকে আসা এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্রাজিল তাদের সয়াবিন ও ভুট্টা উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত নাইট্রোজেন ও ফসফেট সারের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদনকারী হয়েও অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া আমদানি করে। আঞ্চলিক চাহিদা মেটাতে এবং দাম কমাতে তারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার বিদেশ থেকে আনে। সাব-সাহারান আফ্রিকায় সারের ব্যবহার এমনিতেই কম। দাম আরও বাড়লে ব্যবহার আরও কমবে। এতে ফলন কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে।
এই ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা শুধু নাইট্রোজেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সালফার হলো উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, মূলত তেল ও গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের উপজাত। হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তেল ও গ্যাসের সঙ্গে সালফার উৎপাদনও কমে যাবে। তাই এই ধাক্কা শুধু সারের চালান কমাবে না, অন্য জায়গায় সার উৎপাদনের পথও রুদ্ধ করবে।
প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি হয় বলে সিন্থেটিক বা কৃত্রিম নাইট্রোজেন উৎপাদন জ্বালানি বাজারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। গ্যাস সরবরাহ বা অ্যামোনিয়া বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বব্যাপী নাইট্রোজেনের প্রাপ্যতা কমে যাবে। ধারণা করা হয় সিন্থেটিক নাইট্রোজেন ছাড়া বিশ্ব তার বর্তমান জনসংখ্যার ক্ষুদ্র অংশকে খাওয়াতে পারবে। অর্থাৎ বৃহৎ অংশের খাবারই সিন্থেটিক নাইট্রোজেন ছাড়া সম্ভব নয়।
সার উৎপাদনের জায়গা রাতারাতি পরিবর্তন করা যায় না। নতুন অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট বা কারখানা তৈরি করতে বছরের পর বছর সময় লাগে এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। কোনো প্রধান অঞ্চল থেকে রপ্তানি দুই অঙ্কের ঘরে কমে গেলে তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়। এই অন্তর্বর্তী সময়ে দাম বাড়বে ও বাণিজ্যের পথ পরিবর্তন হবে এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেই চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খাদ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতার ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। এই পরিস্থিতি সেই অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাধারণত জ্বালানিজনিত মূল্যস্ফীতির দিকেই বেশি নজর দেয়। তারা হয়তো সারের অভাবের কারণে সামগ্রিক মূল্যের ওপর প্রভাবকে ছোট করে দেখতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সারের সংকট তেলের সংকটের মতো তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। পেট্রোলের দাম রাতারাতি বদলে যায়। কিন্তু ফসলের ফলন কম হওয়ার বিষয়টি বোঝা যায় কয়েক মাস পর। অথচ এই বিলম্বিত প্রভাবই বেশি অস্থিতিশীল হতে পারে।
এই সরু সামুদ্রিক পথের নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ হয়ে যাওয়া পারস্য উপসাগরের বাইরে বহু দূরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বদলে দেবে।
বিংশ শতাব্দী নীতিনির্ধারকদের তেল অবরোধ বা এম্বারগোকে ভয় পেতে শিখিয়েছিল। একুশ শতাব্দীর উচিত তাদের সারের সংকটকে ভয় পেতে শেখানো। জ্বালানি বাজার রিজার্ভ বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাক্কা সামাল দিতে পারে। কিন্তু বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার সেই সক্ষমতা বা বাফার অনেক কম। হরমুজে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন শুধু তেলের দাম নতুন করে নির্ধারণ করবে না, বরং আধুনিক সভ্যতার টিকে থাকার ভিত্তি অর্থাৎ নাইট্রোজেন চক্রের সহনশীলতাকেও পরীক্ষা করবে।
গাড়ি চলে তেলে। আর ফসল ফলায় নাইট্রোজেন। তাই হরমুজ প্রণালী যদি বন্ধ হয়, তাহলে তেলের দাম যত না বাড়বে তারচেয়েও বেশি বাড়বে খাদ্যদ্রব্যের দাম।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সর্বশেষ উত্তেজনার অংশ হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার বা কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটছে ইরান। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জাহাজ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে বাজারগুলো প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। সবার নজর এখন তেল ও গ্যাস প্রবাহের ঝুঁকির দিকে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়া এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে সবাই চিন্তিত।
এই উদ্বেগ অবশ্যই যৌক্তিক। কিন্তু তেল-গ্যাস পুরো গল্পের একটি অংশ মাত্র। হরমুজ দিয়ে চলাচল দীর্ঘস্থায়ীভাবে বিঘ্নিত হলে তা কেবল জ্বালানি সংকট তৈরি করবে না, বরং একটি ‘ফার্টিলাইজার শক’ বা সারের সংকটও তৈরি করবে। অর্থাৎ সারের দাম নাটকীয়ভাবে বাড়বে এবং সরবরাহ কমে যাবে। ফলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে।
আধুনিক কৃষি শুধু সূর্যের আলো আর মাটির ওপর নির্ভর করে চলে না। এর জন্য দরকার প্রাকৃতিক গ্যাস। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রিৎজ হেবার ও কার্ল বশ নাইট্রোজেন ফিক্সেশন (সংবন্ধন পদ্ধতি) আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁদের এই আবিষ্কার বড় পরিসরে অ্যামোনিয়া তৈরির পথ দেখিয়েছিল, যা বৈশ্বিক রাসায়নিক বিপ্লবের সূচনা করে। আধুনিক সভ্যতা ও কৃষির ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে আছে এই বিপ্লব।
নাইট্রোজেন ফিক্সেশনে মিথেন গ্যাসকে অ্যামোনিয়ায় রূপান্তর করা হয়। এরপর অ্যামোনিয়া থেকে তৈরি হয় ইউরিয়া এবং অন্যান্য নাইট্রোজেন সার। ইউরিয়া হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার। এই সারের কারণেই আজকের বিশ্বের বিপুল জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এই সার না থাকলে গম, ভুট্টা ও ধানের ফলন নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
বিশ্ববাজারে লেনদেন হওয়া ইউরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। পারস্য উপসাগর দুটি কারণে এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রথমত এখানে বিশ্বের অন্যতম সস্তা প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, যা অ্যামোনিয়া উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। দ্বিতীয়ত গত কয়েক দশকে কাতার এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে বিশাল বিনিয়োগ করা হয়েছে। সেখানে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। মূলত রপ্তানি বাজারের কথা মাথায় রেখেই এই সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। তাই বিশ্ববাজারে নাইট্রোজেন সারের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং অন্য জায়গায় সার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবশ্যই হরমুজ প্রণালি দিয়েই যেতে হয়। প্রণালি বন্ধ হলে শুধু তেল ও গ্যাস রপ্তানিই হুমকিতে পড়বে না। নাইট্রোজেন সারের সরবরাহ এবং সার তৈরির কাঁচামালের প্রবাহও বন্ধ হয়ে যাবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে অ্যামোনিয়া এবং ইউরিয়া ও এলএনজির পরিবহনে দেরি হবে। জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা জাহাজ ভাড়া ও বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিবহন অসম্ভব ব্যয়বহুল হয়ে পড়তে পারে। তবে এর গভীর প্রভাব আগামী মাসগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন খামারে দেখা যাবে।

উত্তর গোলার্ধে রোপণ মৌসুমের আগে সারের কেনাকাটা বেড়ে যায়। কয়েক সপ্তাহের দেরিও সেখানে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। আর কয়েক মাসের বিঘ্ন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। যদি সারের চালান সময়মতো না পৌঁছায় তবে কৃষকদের সামনে কঠিন সব বিকল্প এসে দাঁড়াবে। তাদের চড়া দামে সার কিনতে হবে অথবা সারের ব্যবহার কমাতে হবে। কিংবা ফসলের ধরন পাল্টে ফেলতে হবে। ফসলের ফলন নাইট্রোজেনের ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে সারের ব্যবহার সামান্য কমালেও ফলন অনেক বেশি কমে যেতে পারে। এর মানে হলো লাখ লাখ টন শস্য উৎপাদন কম হবে। এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনে পড়বে। পশুখাদ্য এবং গবাদিপশু উৎপাদন ও জৈব জ্বালানি এবং শেষ পর্যন্ত খুচরা খাদ্যমূল্যেও এর আঁচ লাগবে।
কিছু দেশের নিজস্ব সারের জোগান আছে কিন্তু সহজলভ্যতার জন্য অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে ভারতের কথা বলা যায়। তারা তাদের ইউরিয়া কারখানাগুলো চালানোর জন্য পারস্য উপসাগর থেকে আসা এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্রাজিল তাদের সয়াবিন ও ভুট্টা উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত নাইট্রোজেন ও ফসফেট সারের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদনকারী হয়েও অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া আমদানি করে। আঞ্চলিক চাহিদা মেটাতে এবং দাম কমাতে তারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার বিদেশ থেকে আনে। সাব-সাহারান আফ্রিকায় সারের ব্যবহার এমনিতেই কম। দাম আরও বাড়লে ব্যবহার আরও কমবে। এতে ফলন কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে।
এই ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা শুধু নাইট্রোজেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সালফার হলো উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, মূলত তেল ও গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের উপজাত। হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তেল ও গ্যাসের সঙ্গে সালফার উৎপাদনও কমে যাবে। তাই এই ধাক্কা শুধু সারের চালান কমাবে না, অন্য জায়গায় সার উৎপাদনের পথও রুদ্ধ করবে।
প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি হয় বলে সিন্থেটিক বা কৃত্রিম নাইট্রোজেন উৎপাদন জ্বালানি বাজারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। গ্যাস সরবরাহ বা অ্যামোনিয়া বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বব্যাপী নাইট্রোজেনের প্রাপ্যতা কমে যাবে। ধারণা করা হয় সিন্থেটিক নাইট্রোজেন ছাড়া বিশ্ব তার বর্তমান জনসংখ্যার ক্ষুদ্র অংশকে খাওয়াতে পারবে। অর্থাৎ বৃহৎ অংশের খাবারই সিন্থেটিক নাইট্রোজেন ছাড়া সম্ভব নয়।
সার উৎপাদনের জায়গা রাতারাতি পরিবর্তন করা যায় না। নতুন অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট বা কারখানা তৈরি করতে বছরের পর বছর সময় লাগে এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। কোনো প্রধান অঞ্চল থেকে রপ্তানি দুই অঙ্কের ঘরে কমে গেলে তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়। এই অন্তর্বর্তী সময়ে দাম বাড়বে ও বাণিজ্যের পথ পরিবর্তন হবে এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেই চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খাদ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতার ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। এই পরিস্থিতি সেই অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাধারণত জ্বালানিজনিত মূল্যস্ফীতির দিকেই বেশি নজর দেয়। তারা হয়তো সারের অভাবের কারণে সামগ্রিক মূল্যের ওপর প্রভাবকে ছোট করে দেখতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সারের সংকট তেলের সংকটের মতো তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। পেট্রোলের দাম রাতারাতি বদলে যায়। কিন্তু ফসলের ফলন কম হওয়ার বিষয়টি বোঝা যায় কয়েক মাস পর। অথচ এই বিলম্বিত প্রভাবই বেশি অস্থিতিশীল হতে পারে।
এই সরু সামুদ্রিক পথের নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ হয়ে যাওয়া পারস্য উপসাগরের বাইরে বহু দূরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বদলে দেবে।
বিংশ শতাব্দী নীতিনির্ধারকদের তেল অবরোধ বা এম্বারগোকে ভয় পেতে শিখিয়েছিল। একুশ শতাব্দীর উচিত তাদের সারের সংকটকে ভয় পেতে শেখানো। জ্বালানি বাজার রিজার্ভ বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাক্কা সামাল দিতে পারে। কিন্তু বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার সেই সক্ষমতা বা বাফার অনেক কম। হরমুজে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন শুধু তেলের দাম নতুন করে নির্ধারণ করবে না, বরং আধুনিক সভ্যতার টিকে থাকার ভিত্তি অর্থাৎ নাইট্রোজেন চক্রের সহনশীলতাকেও পরীক্ষা করবে।
গাড়ি চলে তেলে। আর ফসল ফলায় নাইট্রোজেন। তাই হরমুজ প্রণালী যদি বন্ধ হয়, তাহলে তেলের দাম যত না বাড়বে তারচেয়েও বেশি বাড়বে খাদ্যদ্রব্যের দাম।

নেপালের রাজনীতিতে গত কয়েক মাসে যে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে, তা শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া গণআন্দোলন সেই পরিবর্তনের সূচনা করে।
১৫ ঘণ্টা আগে
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে তাকালে সাধারণ মানুষের মনে আজ গভীর প্রশ্ন জাগছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি তবে চলছে?
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এরই মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধকে ধর্মীয় রুপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
২ দিন আগে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ইরানের ভেতরে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
২ দিন আগে