কাজী নিশাত তাবাসসুম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুর্দি জাতিগোষ্ঠী আবার আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে আমেরিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কৌশলগত চাপ তৈরি করতে কুর্দি শক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতেই প্রশ্ন উঠেছে কারা এই কুর্দি জাতি এবং কেন তাদের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে?
কুর্দিরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি বৃহৎ জাতিগোষ্ঠী। তাদের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত পরিচয় রয়েছে। বিশ্বে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি কুর্দি বাস করেন। তারা মূলত ইরাক, ইরান, তুরস্ক এবং সিরিয়া এই চারটি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ‘কুর্দিস্তান’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
কুর্দিরা নিজেদের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের একটি জাতি ‘মিডস’- এর সঙ্গে যুক্ত করে দেখে। কুর্দিদের অধিকাংশই সুন্নি মুসলিম। তবে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে ধর্মীয় সংখ্যালঘুও রয়েছে। এক শতাব্দী আগে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সীমানা নির্ধারণের সময় কুর্দিরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই অস্থির এই অঞ্চলের রক্তাক্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে তারা বারবার জড়িয়ে পড়েছে। ইতিহাস থেকে কুর্দিরা শিখেছে যে কুর্দিদের বন্ধু বলতে বোবা পাহাড় ছাড়া আর কেউ নেই।
কুর্দি জাতীয়তাবাদের সূচনা উনিশ শতকের শেষভাগে। গত এক শতাব্দীতে ব্রিটেন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন পরাশক্তি কুর্দিদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সরকারবিরোধী সংগঠন ও কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে ‘সামরিক সহায়তা’ দেওয়াই এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই কুর্দিদের বেশ কয়েকটি সংগঠন বিবৃতি দিয়ে হামলাকারীদের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা ইরানের সেনাবাহিনীকে সরকারের পক্ষ ত্যাগ করে তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।
এমন পরিস্থিতিতে কুর্দি সংগঠনগুলোর ওপর হামলা শুরু করেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)। বিপ্লবী বাহিনী গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা সশস্ত্র কুর্দিদের সবচেয়ে বড় সংগঠনটির বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একইদিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কুর্দিস্তান গণতান্ত্রিক দলের (কেডিপিআই) সভাপতি মুস্তফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের কুর্দিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করবে ইরানের কুর্দিরা—এমন প্রত্যাশার কথা সিএনএনকে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা। এখন পর্যন্ত যুদ্ধে কোনো স্থল অভিযান চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘাটতি পূরণেই কুর্দিদের শরণাপন্ন হচ্ছে এই দুই শক্তিধর দেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কুর্দি বসবাস করে। সেখানে বিভিন্ন কুর্দি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রয়েছে। এই বাস্তবতাকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছেন কিছু মার্কিন নীতিনির্ধারক।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি ইরানকে সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে হয়, তবে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পাশাপাশি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকেও একটি সম্ভাব্য ‘মিত্র শক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। কারণ কুর্দিদের ভূমিকা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অবস্থান ভিন্ন। বিশেষ করে তুরস্ক অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয় কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যাপারে। এই দেশটি কুর্দিদের অধিকাংশ সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুর্দিদের ইরানবিরোধী যুদ্ধে যুক্ত করা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে কুর্দি প্রশ্নটি শুধু একটি জাতিগত বা আঞ্চলিক ইস্যু নয়,বরং এটি এখন আন্তর্জাতিক কৌশলগত সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তুরস্ক: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও পিকেকে-এর মধ্যকার দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরাক: সাদ্দাম হোসেন উত্তরের কুর্দিদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। তবে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তারা একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। ওই অঞ্চল কুর্দিরা আজও শাসন করছে।
ইরান: ইরানের কুর্দি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইতিহাস অনেক পুরনো। সম্প্রতি ২০২২ সালে মাহসা আমিনির (যিনি একজন ইরানি-কুর্দি ছিলেন) মৃত্যুর পর এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কুর্দি অঞ্চলগুলো ছিল প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সিরিয়া: গত দশকের গৃহযুদ্ধের সময় সিরিয়ায় একটি কুর্দি ছিটমহল তৈরির প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। অথচ ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে স্থলযুদ্ধে কুর্দিরাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। মূলত আঙ্কারার সঙ্গে সম্পর্ক এবং সিরিয়া রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দিয়েছে।
পেশমারগা—যার অর্থ ‘যারা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়’—তারা সীমিত অস্ত্রশস্ত্র নিয়েও তাদের ভূখণ্ড সম্পর্কে জ্ঞান ও অদম্য সাহসের কারণে অত্যন্ত কার্যকর যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে অস্থিতিশীল করতে ইরানি-কুর্দি বিরোধী দলগুলোর যোদ্ধাদের ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বিমান সহায়তা এবং সামরিক উপদেষ্টাদের সহায়তায় পেশমারগা বাহিনী ইরানের কুর্দি-প্রধান এলাকাগুলো দখল ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হতে পারে। তবে তাদের পক্ষে সীমান্তের খুব বেশি ভেতরে অগ্রসর হওয়া অবাস্তব। এর পরিবর্তে আমেরিকার উদ্দেশ্য হতে পারে ইরানি সামরিক কমান্ডারদের সীমান্ত যুদ্ধে ব্যস্ত রাখা, যাতে ইরানের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীও নিজ নিজ এলাকায় বিদ্রোহ শুরু করতে উদ্বুদ্ধ হয়—সম্ভবত সেখানেও মার্কিন সহায়তা থাকবে।
তবে এর পেছনে অনেক ঝুঁকি রয়েছে যা কুর্দি নেতারা ভালো করেই জানেন। বর্তমানে উত্তর ইরাকের মূলধারার ইরাকি-কুর্দি নেতারা নিরপেক্ষ থাকার ওপর জোর দিচ্ছেন। এটি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। কারণ যখনই কোনো বড় যুদ্ধ শুরু হয়, কুর্দিরাই সাধারণত সেই ত্রিমুখী লড়াইয়ের মাঝে পড়ে পিষ্ট হয়। এই বাস্তবতাই বারবার মনে করিয়ে দেয়, পাহাড় চূড়াগুলোই আসলে তাদের একমাত্র প্রকৃত রক্ষক।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুর্দি জাতিগোষ্ঠী আবার আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে আমেরিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কৌশলগত চাপ তৈরি করতে কুর্দি শক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতেই প্রশ্ন উঠেছে কারা এই কুর্দি জাতি এবং কেন তাদের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে?
কুর্দিরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি বৃহৎ জাতিগোষ্ঠী। তাদের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত পরিচয় রয়েছে। বিশ্বে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি কুর্দি বাস করেন। তারা মূলত ইরাক, ইরান, তুরস্ক এবং সিরিয়া এই চারটি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ‘কুর্দিস্তান’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
কুর্দিরা নিজেদের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের একটি জাতি ‘মিডস’- এর সঙ্গে যুক্ত করে দেখে। কুর্দিদের অধিকাংশই সুন্নি মুসলিম। তবে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে ধর্মীয় সংখ্যালঘুও রয়েছে। এক শতাব্দী আগে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সীমানা নির্ধারণের সময় কুর্দিরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই অস্থির এই অঞ্চলের রক্তাক্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে তারা বারবার জড়িয়ে পড়েছে। ইতিহাস থেকে কুর্দিরা শিখেছে যে কুর্দিদের বন্ধু বলতে বোবা পাহাড় ছাড়া আর কেউ নেই।
কুর্দি জাতীয়তাবাদের সূচনা উনিশ শতকের শেষভাগে। গত এক শতাব্দীতে ব্রিটেন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন পরাশক্তি কুর্দিদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সরকারবিরোধী সংগঠন ও কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে ‘সামরিক সহায়তা’ দেওয়াই এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই কুর্দিদের বেশ কয়েকটি সংগঠন বিবৃতি দিয়ে হামলাকারীদের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা ইরানের সেনাবাহিনীকে সরকারের পক্ষ ত্যাগ করে তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।
এমন পরিস্থিতিতে কুর্দি সংগঠনগুলোর ওপর হামলা শুরু করেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)। বিপ্লবী বাহিনী গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা সশস্ত্র কুর্দিদের সবচেয়ে বড় সংগঠনটির বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একইদিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কুর্দিস্তান গণতান্ত্রিক দলের (কেডিপিআই) সভাপতি মুস্তফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের কুর্দিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করবে ইরানের কুর্দিরা—এমন প্রত্যাশার কথা সিএনএনকে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা। এখন পর্যন্ত যুদ্ধে কোনো স্থল অভিযান চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘাটতি পূরণেই কুর্দিদের শরণাপন্ন হচ্ছে এই দুই শক্তিধর দেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কুর্দি বসবাস করে। সেখানে বিভিন্ন কুর্দি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রয়েছে। এই বাস্তবতাকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছেন কিছু মার্কিন নীতিনির্ধারক।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি ইরানকে সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে হয়, তবে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পাশাপাশি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকেও একটি সম্ভাব্য ‘মিত্র শক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। কারণ কুর্দিদের ভূমিকা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অবস্থান ভিন্ন। বিশেষ করে তুরস্ক অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয় কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যাপারে। এই দেশটি কুর্দিদের অধিকাংশ সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুর্দিদের ইরানবিরোধী যুদ্ধে যুক্ত করা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে কুর্দি প্রশ্নটি শুধু একটি জাতিগত বা আঞ্চলিক ইস্যু নয়,বরং এটি এখন আন্তর্জাতিক কৌশলগত সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তুরস্ক: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও পিকেকে-এর মধ্যকার দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরাক: সাদ্দাম হোসেন উত্তরের কুর্দিদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। তবে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তারা একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। ওই অঞ্চল কুর্দিরা আজও শাসন করছে।
ইরান: ইরানের কুর্দি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইতিহাস অনেক পুরনো। সম্প্রতি ২০২২ সালে মাহসা আমিনির (যিনি একজন ইরানি-কুর্দি ছিলেন) মৃত্যুর পর এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কুর্দি অঞ্চলগুলো ছিল প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সিরিয়া: গত দশকের গৃহযুদ্ধের সময় সিরিয়ায় একটি কুর্দি ছিটমহল তৈরির প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। অথচ ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে স্থলযুদ্ধে কুর্দিরাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। মূলত আঙ্কারার সঙ্গে সম্পর্ক এবং সিরিয়া রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দিয়েছে।
পেশমারগা—যার অর্থ ‘যারা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়’—তারা সীমিত অস্ত্রশস্ত্র নিয়েও তাদের ভূখণ্ড সম্পর্কে জ্ঞান ও অদম্য সাহসের কারণে অত্যন্ত কার্যকর যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে অস্থিতিশীল করতে ইরানি-কুর্দি বিরোধী দলগুলোর যোদ্ধাদের ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বিমান সহায়তা এবং সামরিক উপদেষ্টাদের সহায়তায় পেশমারগা বাহিনী ইরানের কুর্দি-প্রধান এলাকাগুলো দখল ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হতে পারে। তবে তাদের পক্ষে সীমান্তের খুব বেশি ভেতরে অগ্রসর হওয়া অবাস্তব। এর পরিবর্তে আমেরিকার উদ্দেশ্য হতে পারে ইরানি সামরিক কমান্ডারদের সীমান্ত যুদ্ধে ব্যস্ত রাখা, যাতে ইরানের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীও নিজ নিজ এলাকায় বিদ্রোহ শুরু করতে উদ্বুদ্ধ হয়—সম্ভবত সেখানেও মার্কিন সহায়তা থাকবে।
তবে এর পেছনে অনেক ঝুঁকি রয়েছে যা কুর্দি নেতারা ভালো করেই জানেন। বর্তমানে উত্তর ইরাকের মূলধারার ইরাকি-কুর্দি নেতারা নিরপেক্ষ থাকার ওপর জোর দিচ্ছেন। এটি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। কারণ যখনই কোনো বড় যুদ্ধ শুরু হয়, কুর্দিরাই সাধারণত সেই ত্রিমুখী লড়াইয়ের মাঝে পড়ে পিষ্ট হয়। এই বাস্তবতাই বারবার মনে করিয়ে দেয়, পাহাড় চূড়াগুলোই আসলে তাদের একমাত্র প্রকৃত রক্ষক।

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক দশকের ‘ছায়াযুদ্ধ’ সীমা অতিক্রম করে সরাসরি ও বহুমুখী প্রলয়ংকরী সংঘাতের রূপ নিয়েছে। এর একদিকে ইসরায়েল ও আমেরিকার সাঁড়াশি অভিযান, আর অন্যদিকে ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার মরিয়া লড়াই—এই দুই চরমপন্থার চাপে পড়ে পুরো অঞ্চলের মানচিত্র আজ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।
৫ ঘণ্টা আগে
বাবা ভাঙ্গা আর নস্ত্রাদামুসের কয়েক শতাব্দী পুরোনো সতর্কবার্তা আজ আর কেবল কথার কথা বলে মনে হচ্ছে না; ২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র যেন তাদের সেই প্রলয়ংকরী পূর্বাভাসকেই সত্য প্রমাণ করতে চাইছে। প্রতি বছর সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসা এই দুই ভবিষ্যদ্বক্তার বাণী এবার যেন ভিন্ন এক মাত্রা পেয়েছে।
১ দিন আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু রেখেছে, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর। কিন্তু সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবার সাময়িকভাবে ভারতকে রাশিয়ার তেল কিনতে ছাড় দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন এই সিদ্ধান্ত? এর পেছনে কী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাব কাজ করছে?
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার পর বাংলাদেশে আতঙ্কজনিত কেনাকাটা ও মজুদের প্রবণতা বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় শুক্রবার (৬ মার্চ) জ্বালানি তেল বিক্রিতে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার।
২ দিন আগে