আল জাজিরার বিশ্লেষণ
স্ট্রিম ডেস্ক

নির্যাতন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনকভাবে বেশি। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে একজন নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
তবে দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে এবার প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের মোট সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ কমে আসে, যার প্রধান কারণ ছিল বিভিন্ন দেশে শরণার্থী ও নিজ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় পরিসরে ফিরে যাওয়া। কিন্তু এই ইতিবাচক প্রবণতার মধ্যেও নতুন সংকট দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। গত মার্চের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর লেবাননে দ্রুত নতুন বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়। ইসরায়েলি হামলার কারণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে এবং ইরানের ভেতরেই আরও ৩২ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বর্তমানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ হলো নিজ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত মানুষ। এদের সংখ্যা ৬ কোটি ৮৬ লাখ। এ ছাড়া ইউএনএইচসিআর-এর আওতায় থাকা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ। আশ্রয়প্রার্থী বা অ্যাসাইলাম সিকার, অর্থাৎ যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের সংখ্যা ৯০ লাখ। আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা ৭২ লাখ।
আন্তর্জাতিক আইনে শরণার্থী বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝায়, যারা নিপীড়ন, যুদ্ধ, সহিংসতা থেকে বাঁচতে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। পাশাপাশি যাদের জীবন, বেঁচে থাকার স্বাধীনতা ও শারীরিক নিরাপত্তার গুরুতর হুমকিতে রয়েছে বলে মনে করেন, এবং এ কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন, তাদের শরণার্থী বলা হয়।
বিশ্বের মোট শরণার্থীর প্রায় ৭২ শতাংশই এসেছে মাত্র সাতটি দেশ থেকে। সবচেয়ে বেশি শরণার্থী এসেছে ভেনেজুয়েলা থেকে, যেখানে ৬৪ লাখ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এরপর রয়েছে ফিলিস্তিন, যেখানে শরণার্থীর সংখ্যা ৬০ লাখ। ইউক্রেন থেকে ৫২ লাখ, সিরিয়া থেকে ৪৯ লাখ, আফগানিস্তান থেকে ৩৭ লাখ, সুদান থেকে ২৮ লাখ এবং দক্ষিণ সুদান থেকে ২৪ লাখ মানুষ শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত।
বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শরণার্থী মাত্র সাতটি দেশে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি শরণার্থী রয়েছে কলম্বিয়ায়, যেখানে ২৮ লাখ শরণার্থী বসবাস করছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, যেখানে শরণার্থী রয়েছে ২৭ লাখ। তুরস্কে রয়েছে ২৪ লাখ, উগান্ডায় ১৯ লাখ, ইরানে ১৭ লাখ, চাদে ১৫ লাখ এবং পাকিস্তানে ১৩ লাখ শরণার্থী।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৫ শতাংশ শরণার্থী এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষ নিজেদের দেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রেই আশ্রয় নিয়েছে। ইরান ও পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের প্রায় সবাই আফগান। তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ মানুষ সিরীয়। কলম্বিয়ার শরণার্থীদের বড় অংশ এসেছে ভেনেজুয়েলা থেকে। অন্যদিকে জার্মানিতে ইউক্রেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। উগান্ডায় সবচেয়ে বেশি শরণার্থী এসেছে দক্ষিণ সুদান থেকে, আর চাদে সবচেয়ে বড় শরণার্থী গোষ্ঠী হলো সুদান থেকে আসা মানুষ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর ১৯৫১ সালে জাতিসংঘ শরণার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য ‘রিফিউজি কনভেনশন’ বা শরণার্থী কনভেনশন প্রণয়ন করে। শুরুতে এটি ইউরোপকেন্দ্রিক ছিল। পরে ১৯৬৭ সালে এর আওতা পুরো বিশ্বে সম্প্রসারিত করা হয়।
এই কনভেনশন চালুর সময় বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২১ লাখ। ১৯৮০ সালে প্রথমবারের মতো এই সংখ্যা এক কোটির বেশি হয়। আফগানিস্তান ও ইথিওপিয়ার যুদ্ধের কারণে ১৯৮০-এর দশকে শরণার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ১৯৯০ সালে তা দুই কোটিতে পৌঁছে যায়।
পরবর্তী দুই দশক শরণার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ এবং পরে দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। এর ফলে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়ে যায়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে দ্রুত বিস্তৃত শরণার্থী সংকটগুলোর একটি তৈরি হয়। এক বছরেরও কম সময়ে ৫৭ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে সংঘাত নতুন শরণার্থী ঢেউ সৃষ্টি করে। ওই বছরই প্রায় ১৫ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে পড়ে।
একই সময়ে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার কারণে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। গাজার প্রায় ২৩ লাখ মানুষ কোনো না কোনো সময়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অনেককে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ বৈরিতা পুনরায় শুরু হওয়ার পর লেবাননেও নতুন বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের ব্যাপক হারে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থল ও আকাশ হামলার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে।
২০২৫ সালে শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ওই বছরে প্রত্যাবর্তনের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৪৭ লাখের বেশি হয়েছিল। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।
ফিরে যাওয়া মানুষের ৯২ শতাংশই মাত্র ছয়টি দেশে ফিরে গেছে। এর মধ্যে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ফিরে গেছে ৩৬ লাখ মানুষ। একই সংখ্যক, অর্থাৎ ৩৬ লাখ মানুষ ফিরে গেছে সুদানে। সিরিয়ায় ফিরেছে ৩৩ লাখ, আফগানিস্তানে ২০ লাখ, ইউক্রেনে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ জন এবং মিয়ানমারে ৪ লাখ ১৫ হাজার ২০০ জন।
তবে ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, এই প্রত্যাবর্তনের অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। অনেক মানুষ এমন এলাকায় ফিরে যাচ্ছে, যেখানে এখনো সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নিরাপত্তাহীনতা বিদ্যমান। ফলে দেশে ফিরে যাওয়া মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও টেকসই পুনর্বাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সামান্য কমলেও বৈশ্বিক শরণার্থী সংকট এখনো বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ। প্রতি ৭০ জনে একজন মানুষ যখন জোরপূর্বক ঘরছাড়া, তখন এটি শুধু যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিসংখ্যান নয়—বরং কোটি কোটি মানুষের হারিয়ে যাওয়া নিরাপত্তা, পরিচয় ও স্বাভাবিক জীবনের গল্প।
(আল জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

নির্যাতন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনকভাবে বেশি। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে একজন নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
তবে দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে এবার প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের মোট সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ কমে আসে, যার প্রধান কারণ ছিল বিভিন্ন দেশে শরণার্থী ও নিজ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় পরিসরে ফিরে যাওয়া। কিন্তু এই ইতিবাচক প্রবণতার মধ্যেও নতুন সংকট দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। গত মার্চের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর লেবাননে দ্রুত নতুন বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়। ইসরায়েলি হামলার কারণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে এবং ইরানের ভেতরেই আরও ৩২ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বর্তমানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ হলো নিজ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত মানুষ। এদের সংখ্যা ৬ কোটি ৮৬ লাখ। এ ছাড়া ইউএনএইচসিআর-এর আওতায় থাকা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ। আশ্রয়প্রার্থী বা অ্যাসাইলাম সিকার, অর্থাৎ যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের সংখ্যা ৯০ লাখ। আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা ৭২ লাখ।
আন্তর্জাতিক আইনে শরণার্থী বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝায়, যারা নিপীড়ন, যুদ্ধ, সহিংসতা থেকে বাঁচতে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। পাশাপাশি যাদের জীবন, বেঁচে থাকার স্বাধীনতা ও শারীরিক নিরাপত্তার গুরুতর হুমকিতে রয়েছে বলে মনে করেন, এবং এ কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন, তাদের শরণার্থী বলা হয়।
বিশ্বের মোট শরণার্থীর প্রায় ৭২ শতাংশই এসেছে মাত্র সাতটি দেশ থেকে। সবচেয়ে বেশি শরণার্থী এসেছে ভেনেজুয়েলা থেকে, যেখানে ৬৪ লাখ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এরপর রয়েছে ফিলিস্তিন, যেখানে শরণার্থীর সংখ্যা ৬০ লাখ। ইউক্রেন থেকে ৫২ লাখ, সিরিয়া থেকে ৪৯ লাখ, আফগানিস্তান থেকে ৩৭ লাখ, সুদান থেকে ২৮ লাখ এবং দক্ষিণ সুদান থেকে ২৪ লাখ মানুষ শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত।
বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শরণার্থী মাত্র সাতটি দেশে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি শরণার্থী রয়েছে কলম্বিয়ায়, যেখানে ২৮ লাখ শরণার্থী বসবাস করছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, যেখানে শরণার্থী রয়েছে ২৭ লাখ। তুরস্কে রয়েছে ২৪ লাখ, উগান্ডায় ১৯ লাখ, ইরানে ১৭ লাখ, চাদে ১৫ লাখ এবং পাকিস্তানে ১৩ লাখ শরণার্থী।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৫ শতাংশ শরণার্থী এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষ নিজেদের দেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রেই আশ্রয় নিয়েছে। ইরান ও পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের প্রায় সবাই আফগান। তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ মানুষ সিরীয়। কলম্বিয়ার শরণার্থীদের বড় অংশ এসেছে ভেনেজুয়েলা থেকে। অন্যদিকে জার্মানিতে ইউক্রেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। উগান্ডায় সবচেয়ে বেশি শরণার্থী এসেছে দক্ষিণ সুদান থেকে, আর চাদে সবচেয়ে বড় শরণার্থী গোষ্ঠী হলো সুদান থেকে আসা মানুষ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর ১৯৫১ সালে জাতিসংঘ শরণার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য ‘রিফিউজি কনভেনশন’ বা শরণার্থী কনভেনশন প্রণয়ন করে। শুরুতে এটি ইউরোপকেন্দ্রিক ছিল। পরে ১৯৬৭ সালে এর আওতা পুরো বিশ্বে সম্প্রসারিত করা হয়।
এই কনভেনশন চালুর সময় বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২১ লাখ। ১৯৮০ সালে প্রথমবারের মতো এই সংখ্যা এক কোটির বেশি হয়। আফগানিস্তান ও ইথিওপিয়ার যুদ্ধের কারণে ১৯৮০-এর দশকে শরণার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ১৯৯০ সালে তা দুই কোটিতে পৌঁছে যায়।
পরবর্তী দুই দশক শরণার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ এবং পরে দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। এর ফলে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়ে যায়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে দ্রুত বিস্তৃত শরণার্থী সংকটগুলোর একটি তৈরি হয়। এক বছরেরও কম সময়ে ৫৭ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে সংঘাত নতুন শরণার্থী ঢেউ সৃষ্টি করে। ওই বছরই প্রায় ১৫ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে পড়ে।
একই সময়ে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার কারণে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। গাজার প্রায় ২৩ লাখ মানুষ কোনো না কোনো সময়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অনেককে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ বৈরিতা পুনরায় শুরু হওয়ার পর লেবাননেও নতুন বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের ব্যাপক হারে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থল ও আকাশ হামলার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে।
২০২৫ সালে শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ওই বছরে প্রত্যাবর্তনের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৪৭ লাখের বেশি হয়েছিল। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।
ফিরে যাওয়া মানুষের ৯২ শতাংশই মাত্র ছয়টি দেশে ফিরে গেছে। এর মধ্যে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ফিরে গেছে ৩৬ লাখ মানুষ। একই সংখ্যক, অর্থাৎ ৩৬ লাখ মানুষ ফিরে গেছে সুদানে। সিরিয়ায় ফিরেছে ৩৩ লাখ, আফগানিস্তানে ২০ লাখ, ইউক্রেনে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ জন এবং মিয়ানমারে ৪ লাখ ১৫ হাজার ২০০ জন।
তবে ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, এই প্রত্যাবর্তনের অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। অনেক মানুষ এমন এলাকায় ফিরে যাচ্ছে, যেখানে এখনো সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নিরাপত্তাহীনতা বিদ্যমান। ফলে দেশে ফিরে যাওয়া মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও টেকসই পুনর্বাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সামান্য কমলেও বৈশ্বিক শরণার্থী সংকট এখনো বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ। প্রতি ৭০ জনে একজন মানুষ যখন জোরপূর্বক ঘরছাড়া, তখন এটি শুধু যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিসংখ্যান নয়—বরং কোটি কোটি মানুষের হারিয়ে যাওয়া নিরাপত্তা, পরিচয় ও স্বাভাবিক জীবনের গল্প।
(আল জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)
.png)

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই আবহাওয়া অফিস থেকে শোনা যায়—‘আগামী তিন দিনে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে’, ‘পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে’ কিংবা ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সতর্কতা জারি করা হলো’ ইত্যাদি। এ বছরও এমন পূর্বাভাসের মধ্যেই চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তত সাতটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ও ভারতের ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজমহল নিয়ে নতুন এক আইনি ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কথিত আছে, সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও স্মৃতি সমাধি হিসেবে তাজমহল নির্মাণ করেছেন, তবে বিতর্ক শুরু হয়েছে তাজমহলের নিচে বা একই স্থানে আগে একটি প্রাচীন শিবমন্দির ছিল, য
১২ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটছে না। বিবিএসের জনশুমারি অনুযায়ী সংখ্যা ১৭ কোটির কম, ইউএনএফপিএর প্রতিবেদনে তা প্রায় সাড়ে সতেরো কোটি। অথচ নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার হিসাবে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ কোটিতে।
১১ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের বোঝা হয়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
০৯ জুলাই ২০২৬