জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সিরিয়া-সুদান নয়, বাংলাদেশ কীভাবে ধ্বংসের পথ এড়ালো

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬: ০৭
স্ট্রিম গ্রাফিক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছিল। সেই ঘটনার ১৯ মাসের পরিক্রমায় বাংলাদেশ এখন রাষ্ট্র সংস্কার ও স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে। বিগত দুই দশকে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে গণআন্দোলনের মুখে সরকার পতনের ঘটনা বিরল নয়।

তিউনিসিয়া, মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া, সুদান, মালদ্বীপের মতো দেশগুলোতে প্রবল জনরোষে শাসকের পতন ঘটেছে। কিন্তু পরবর্তী পরিস্থিতির বিচারে অধিকাংশ দেশই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গৃহযুদ্ধ কিংবা পুনরায় স্বৈরতন্ত্রের কবলে পড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাইপরবর্তী বাংলাদেশের গতিপথ ও বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার এই বদ্বীপ রাষ্ট্র অন্য অনেক দেশের তুলনায় ধ্বংসাত্মক পরিণতি এড়াতে সক্ষম হয়েছে।

তাহরির স্কয়ার বনাম জুলাই চত্বর

আরব বসন্তের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ২০১১ সালে মিসরের তাহরির স্কয়ারের আন্দোলন। দীর্ঘ ৩০ বছরের শাসক হোসনি মোবারকের পতন ঘটিয়েছিল সেই বিপ্লব। মোবারক পতনের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডের মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালে সেখানে পুনরায় সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ক্ষমতা দখল করেন এবং মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কঠোর দমনপীড়ন শুরু করেন। মিসরের বিপ্লব কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং দেশটি পুনরায় সামরিক একনায়কতন্ত্রের অধীনে চলে যায়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের পর এখানে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমতায় বসেনি। এর পরিবর্তে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। মিসরে যেমন সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা দখল করে রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, বাংলাদেশে সেনাবাহিনী জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা করেছে। গত ১৯ মাসে বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের কোনো উচ্চাভিলাষ দেখা যায়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকলেও মিসরের মতো রক্তক্ষয়ী সংঘাত বা পাল্টাপাল্টি নিধনের ঘটনা ঘটেনি।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ বনাম বাংলাদেশের সংযম

২০১১ সালে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। আসাদ সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পরিবর্তে জনগণের ওপর সেনাবাহিনীর পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে। ফলশ্রুতিতে সিরিয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং দেশটি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সিরিয়ার রাষ্ট্রকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন আন্দোলন তুঙ্গে, তখন তৎকালীন সরকার বলপ্রয়োগের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সাধারণ জওয়ানরা শেষ মুহূর্তে জনতার বুকে গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়। এই একটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছে। সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনী সাময়িকভাবে ভেঙে পড়লেও, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনসার ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সিরিয়ায় যেমন বিদেশি শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ ও প্রক্সি যুদ্ধ দেশটিকে ধ্বংস করেছে, বাংলাদেশে তেমনটি ঘটতে পারেনি। ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকেও বাংলাদেশ সফলভাবে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। গত দুই বছরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রয়েছে এবং দেশটি কোনো গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়নি।

সুদানের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বাংলাদেশের ঐকমত্য

২০১৯ সালে গণআন্দোলনের মুখে সুদানে দীর্ঘদিনের শাসক ওমর আল-বশিরের পতন ঘটেছিল। বশিরের পতনের পর সেখানে সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। সেই দ্বন্দ্ব ২০২৩ সালে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। খার্তুমসহ পুরো সুদান এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

সুদানের সঙ্গে বাংলাদেশের মূল পার্থক্য হলো সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড বা নির্দেশনার কাঠামো। বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনো বিভক্তি বা বিদ্রোহী গ্রুপ তৈরি হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সামরিক বাহিনী একটি সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে। সুদানে যেমন দুই জেনারেলের ক্ষমতার লোভে রাষ্ট্র ভেঙে পড়েছে, বাংলাদেশে তেমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। এখানে রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি অলিখিত সমঝোতা কাজ করেছে যে, দেশকে অস্থিতিশীল করা যাবে না। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে, সুদানের মানুষ যখন প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়ছে, তখন বাংলাদেশের মানুষ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং নির্বাচনমুখী সংস্কারে মনোনিবেশ করেছে।

তিউনিসিয়ার জেসমিন বিপ্লব ও একনায়কতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি

আরব বসন্তের জন্মভূমি তিউনিসিয়ায় ২০১০-১১ সালে জয়নাল আবেদিন বেন আলীর পতন ঘটেছিল। তিউনিসিয়াকে আরব বসন্তের একমাত্র সফল উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু দীর্ঘ এক দশক পর সেখানেও গণতন্ত্র হোঁচট খায়। প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ সংসদ ভেঙে দিয়ে এবং সংবিধান স্থগিত করে পুনরায় একক ক্ষমতার অধিকারী হন। তিউনিসিয়ার এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, কেবল শাসকের পতনই যথেষ্ট নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী না করলে স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসে।

বাংলাদেশ এই জায়গাটিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশে কেবল নির্বাচনের জন্য তাড়াহুড়ো করা হয়নি। সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা এবং পুলিশ প্রশাসনের খোলনলচে পাল্টে ফেলার জন্য সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। তিউনিসিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর কোন্দলের সুযোগে একনায়কতন্ত্র ফিরে এসেছিল। বাংলাদেশে সেই সুযোগ বন্ধ করতে ‘জুলাই সনদ’ বা জাতীয় ঐকমত্যের দলিলের ওপর ভিত্তি করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দিকে এগোনো হয়েছে। গত দুই বছরে বাংলাদেশে কোনো একক নেতার হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়নি। ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার এই প্রচেষ্টা তিউনিসিয়ার চেয়ে বাংলাদেশকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

মালদ্বীপের অস্থিরতা ও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা

২০১২ সালে মালদ্বীপের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একাংশের বিদ্রোহ এবং বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর মালদ্বীপে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন এবং বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে দেশটি বারবার সংকটে পড়েছে।

মালদ্বীপের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশেও বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। কিন্তু এই রদবদল মালদ্বীপের মতো প্রতিহিংসাপরায়ণ বা বিশৃঙ্খল ছিল না। বিচারকদের অপসারণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি আইনি কাঠামো অনুসরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। মালদ্বীপে যেমন সরকার পতনের পর ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের লড়াই তীব্র হয়েছিল, বাংলাদেশেও তেমন ঝুঁকি ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত দক্ষ হাতে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেছে। ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে মালদ্বীপের মতো বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের ক্রীড়নকে পরিণত হয়নি।

অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধে বাংলাদেশের সাফল্য

সরকার পতনের পর অধিকাংশ দেশেই অর্থনীতি ধসে পড়ার নজির রয়েছে। লিবিয়ার তেল-নির্ভর অর্থনীতি গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হয়েছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের সময় বাংলাদেশের অর্থনীতিও ছিল ভঙ্গুর। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের অরাজকতা ছিল চরমে। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন বাংলাদেশ হয়তো শ্রীলঙ্কা বা সুদানের পথে হাঁটবে।

কিন্তু গত দুই বছরের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সচল থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল হয়েছে। পোশাক খাত, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ, তা বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদি ধর্মঘট বা ভাঙচুর ছাড়াই টিকে আছে। মিসরে বিপ্লব পরবর্তী সময়ে পর্যটন ও বিনিয়োগে ধস নেমেছিল। বাংলাদেশেও সাময়িক স্থবিরতা এসেছিল, কিন্তু তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোপুরি চাঙ্গা না হলেও তা খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসেছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন।

ধর্মীয় রাজনীতি ও সামাজিক সহনশীলতা

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে সরকার পতনের পর ইসলামপন্থী দলগুলোর উত্থান একটি সাধারণ ঘটনা। মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং তিউনিসিয়ায় আন-নাহদা পার্টির উত্থান এর প্রমাণ। বাংলাদেশেও ২০২৪ সালের পর ইসলামি দলগুলোর কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলগুলো রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়েছে। তবে বাংলাদেশের সমাজকাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ভিন্ন। এখানে উগ্রবাদ বা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও তা রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে পারেনি।

সিরিয়া বা ইরাকে যেমন আইএস-এর মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, বাংলাদেশে তেমন কোনো শঙ্কা তৈরি হয়নি। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর বিচ্ছিন্ন কিছু হামলার ঘটনা ঘটলেও সরকার ও ছাত্রসমাজের ত্বরিত পদক্ষেপে তা বড় আকার ধারণ করতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বা উত্তেজনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগগুলো কার্যকর ছিল। মিসরে কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর যেমন ধারাবাহিকভাবে হামলা হয়েছিল, বাংলাদেশে সেই তুলনায় সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যৎ কোন পথে

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে। মিসর, সিরিয়া বা সুদানের মতো ট্র্যাজিক পরিণতি বরণ করতে হয়নি এই দেশকে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, ছাত্রদের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা।

তবে এখনো সব ঝুঁকি কেটে গেছে এমনটা বলা যাবে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে জনমনে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে সংঘাতের রূপ নিতে পারে। কিন্তু গত দুই বছরে বাংলাদেশ যে অস্তিত্ব সংকটে পড়েনি, রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়েনি এবং গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি —এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।

মিসরে বিপ্লব চুরি হয়েছিল, সিরিয়ায় বিপ্লব কবরে পরিণত হয়েছিল এবং সুদানে বিপ্লব গৃহযুদ্ধে হারিয়ে গেছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অভ্যুত্থানকে ধারণ করে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের পথে ধীরপায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়াই প্রমাণ করে, আবেগের বশবর্তী হয়ে কেবল সরকার পতন নয়, বরং রাষ্ট্রকে মেরামত করার প্রজ্ঞা বাংলাদেশের জনগণের রয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত