ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী সরু জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই কৌশলগত চোকপয়েন্ট বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও তেলের দামে আসলে কি প্রভাব পড়তে পারে।
আল-জাজিরা এক্সপ্লেইনার
বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড উপসাগরের দিকে এগিয়ে আসছে। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতির নিশানায় এবার ইরান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেই বিশ্বের নজর গিয়ে পড়ে হরমুজ প্রণালীর ওপর।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে এর জবাবে ইরান কী করবে তার ইঙ্গিত দেশটি দিয়ে রেখেছে। তারা ঘোষণা করেছে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। উপসাগরের সঙ্গে সবার যাতায়াত বৈধ এমন উন্মুক্ত সাগরের সংযোগকারী এই সরু পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই করিডোরে সরাসরি গোলাবর্ষণের সামরিক মহড়া চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী হলো বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলের সরু পথ (চোকপয়েন্ট)। বাঁকানো এই জলপথের উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ প্রায় ৫০ কিলোমিটার বা ৩১ মাইল চওড়া। কিন্তু সবচেয়ে সরু জায়গায় এটি মাত্র ৩৩ কিলোমিটার বা ২০ মাইল চওড়া। উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে এটি একমাত্র নৌপথ।

সরু হলেও এই পথ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচল করে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে এর ওপর নির্ভর করে। আমদানিকারক দেশগুলোও এই পথের নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের ওপর নির্ভরশীল।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যমতে ২০২৪ সালে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে গেছে। বার্ষিক হিসাবে এর মূল্য প্রায় ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলার।
এই পথ দিয়ে ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল যায় বিশ্বের অন্যান্য দেশে। হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো বাধা উৎপাদনকারী ও তাদের ওপর নির্ভরশীল দেশ—দুপক্ষের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হবে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যেও এই প্রণালীর গুরুত্ব অনেক। ইআইএ-র তথ্যমতে ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী এলএনজি চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই করিডোর দিয়ে গেছে।
এই প্রণালী দিয়ে এলএনজি উভয় দিকেই চলাচল করে। ইআইএ-র অনুমান অনুযায়ী ২০২৪ সালে এই পথ দিয়ে যাওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট গেছে এশীয় বাজারে। গ্যাস বাণিজ্যেও একই চিত্র দেখা যায়। হরমুজ দিয়ে যাওয়া এলএনজির ৮৩ শতাংশ এশিয়ায় যায়।
গত বছর এই পথ দিয়ে যাওয়া ৬৯ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট গেছে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। এই দেশগুলোর কলকারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ গ্রিড উপসাগরীয় জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র তার উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করতে পারে। সবচেয়ে সরু অংশে হরমুজ প্রণালী ও এর জাহাজ চলাচলের পথ পুরোপুরি ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে পড়ে। এই আইনি বাস্তবতা তেহরানকে ভৌগোলিক সুবিধা বা লিভারেজ দেয়।
প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ইরান যদি চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে চায় তবে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে ফাস্ট অ্যাটাক বোট বা দ্রুতগামী নৌযান ও সাবমেরিন দিয়ে মাইন পাতা। তেহরানের নৌবহরে জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল সজ্জিত দ্রুতগামী বোট আছে। এছাড়া সারফেস ভেসেল (ভাসমান জাহাজ), সেমিসাবমারসিবল ক্রাফট ও সাবমেরিন রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট গত বছর হরমুজ প্রণালী বন্ধের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। আঞ্চলিক সমীকরণ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠী ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে। তারা আবারও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে। এই পথ লোহিত সাগরের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য পথকে যুক্ত করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চোকপয়েন্ট।
হুথিরা উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেন ও রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি তারা ‘অটল এবং পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুত’ স্লোগানে বিশাল সমাবেশ করেছে। এটি অভ্যন্তরীণ বা বিদেশি শত্রুর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে একযোগে চাপ সৃষ্টি করা হলে বৈশ্বিক শিপিং, জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
এনার্জি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান কোলবি কনলি আল-জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ হলে তেলের দামে ‘তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব’ পড়বে। এটি নির্ভর করবে কতদিন ধরে প্রণালীটি অবরুদ্ধ থাকে তার ওপর। মনে রাখা দরকার উপসাগর থেকে যা আসে তার বিকল্প কোনো বড় উৎস নেই।
সৌদি আরব তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। ইআইএ-র তথ্যমতে তারা প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল এই করিডোর দিয়ে পাঠায়। ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়। ইআইএ-র মতে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে তারা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে।
কনলি সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাইপলাইন ক্ষমতা সীমিত। লোহিত সাগরের উপকূল ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ফুজাইরাহ বন্দর দিয়ে রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। সরবরাহের সাময়িক সংকট মোকাবিলায় কিছু উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশ আগে থেকেই ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল মজুত করে রাখে। তবে কনলি মনে করেন, বড় ধরনের বাধার মুখে এই বাফার বা সুরক্ষা কবচ সীমিত হতে পারে। তিনি সতর্ক করেন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দাম খুব দ্রুত ওঠানামা করেছে। বড় কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
হরমুজ দিয়ে জ্বালানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানি ও কারখানার খরচ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে চীন তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর নির্ভর করে। জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে। কোম্পানিগুলো সম্ভবত সেই খরচ সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ শৃঙ্খল) ও ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের অ্যাসোসিয়েট ফেলো স্যামুয়েল রামানি সতর্ক করেন, এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব পড়বে। ফলাফল শুধু চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় অর্থনীতি এই প্রণালী দিয়ে আসা চালানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৬০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশ একই পথে সংগ্রহ করে। জাপান তাদের তেল আমদানির প্রায় তিন-চতুর্ধাংশের জন্য এই পথের ওপর নির্ভর করে।
রামানি আল-জাজিরাকে বলেন, দুবাইয়ের বিনিয়োগকারীরা পর্যটন ও অর্থ খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ প্রকল্পগুলোর কিছু বিনিয়োগেও এর ফলে বাধা আসতে পারে। এটি শুধু রপ্তানি ও দাম নয়, এর ব্যাপক সামষ্টিক ও ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক ফলাফলও আছে।
বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড উপসাগরের দিকে এগিয়ে আসছে। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতির নিশানায় এবার ইরান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেই বিশ্বের নজর গিয়ে পড়ে হরমুজ প্রণালীর ওপর।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে এর জবাবে ইরান কী করবে তার ইঙ্গিত দেশটি দিয়ে রেখেছে। তারা ঘোষণা করেছে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। উপসাগরের সঙ্গে সবার যাতায়াত বৈধ এমন উন্মুক্ত সাগরের সংযোগকারী এই সরু পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই করিডোরে সরাসরি গোলাবর্ষণের সামরিক মহড়া চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী হলো বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলের সরু পথ (চোকপয়েন্ট)। বাঁকানো এই জলপথের উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ প্রায় ৫০ কিলোমিটার বা ৩১ মাইল চওড়া। কিন্তু সবচেয়ে সরু জায়গায় এটি মাত্র ৩৩ কিলোমিটার বা ২০ মাইল চওড়া। উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে এটি একমাত্র নৌপথ।

সরু হলেও এই পথ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচল করে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে এর ওপর নির্ভর করে। আমদানিকারক দেশগুলোও এই পথের নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের ওপর নির্ভরশীল।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যমতে ২০২৪ সালে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে গেছে। বার্ষিক হিসাবে এর মূল্য প্রায় ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলার।
এই পথ দিয়ে ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল যায় বিশ্বের অন্যান্য দেশে। হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো বাধা উৎপাদনকারী ও তাদের ওপর নির্ভরশীল দেশ—দুপক্ষের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হবে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যেও এই প্রণালীর গুরুত্ব অনেক। ইআইএ-র তথ্যমতে ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী এলএনজি চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই করিডোর দিয়ে গেছে।
এই প্রণালী দিয়ে এলএনজি উভয় দিকেই চলাচল করে। ইআইএ-র অনুমান অনুযায়ী ২০২৪ সালে এই পথ দিয়ে যাওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট গেছে এশীয় বাজারে। গ্যাস বাণিজ্যেও একই চিত্র দেখা যায়। হরমুজ দিয়ে যাওয়া এলএনজির ৮৩ শতাংশ এশিয়ায় যায়।
গত বছর এই পথ দিয়ে যাওয়া ৬৯ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট গেছে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। এই দেশগুলোর কলকারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ গ্রিড উপসাগরীয় জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র তার উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করতে পারে। সবচেয়ে সরু অংশে হরমুজ প্রণালী ও এর জাহাজ চলাচলের পথ পুরোপুরি ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে পড়ে। এই আইনি বাস্তবতা তেহরানকে ভৌগোলিক সুবিধা বা লিভারেজ দেয়।
প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ইরান যদি চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে চায় তবে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে ফাস্ট অ্যাটাক বোট বা দ্রুতগামী নৌযান ও সাবমেরিন দিয়ে মাইন পাতা। তেহরানের নৌবহরে জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল সজ্জিত দ্রুতগামী বোট আছে। এছাড়া সারফেস ভেসেল (ভাসমান জাহাজ), সেমিসাবমারসিবল ক্রাফট ও সাবমেরিন রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট গত বছর হরমুজ প্রণালী বন্ধের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। আঞ্চলিক সমীকরণ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠী ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে। তারা আবারও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে। এই পথ লোহিত সাগরের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য পথকে যুক্ত করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চোকপয়েন্ট।
হুথিরা উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেন ও রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি তারা ‘অটল এবং পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুত’ স্লোগানে বিশাল সমাবেশ করেছে। এটি অভ্যন্তরীণ বা বিদেশি শত্রুর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে একযোগে চাপ সৃষ্টি করা হলে বৈশ্বিক শিপিং, জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
এনার্জি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান কোলবি কনলি আল-জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ হলে তেলের দামে ‘তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব’ পড়বে। এটি নির্ভর করবে কতদিন ধরে প্রণালীটি অবরুদ্ধ থাকে তার ওপর। মনে রাখা দরকার উপসাগর থেকে যা আসে তার বিকল্প কোনো বড় উৎস নেই।
সৌদি আরব তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। ইআইএ-র তথ্যমতে তারা প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল এই করিডোর দিয়ে পাঠায়। ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়। ইআইএ-র মতে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে তারা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে।
কনলি সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাইপলাইন ক্ষমতা সীমিত। লোহিত সাগরের উপকূল ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ফুজাইরাহ বন্দর দিয়ে রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। সরবরাহের সাময়িক সংকট মোকাবিলায় কিছু উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশ আগে থেকেই ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল মজুত করে রাখে। তবে কনলি মনে করেন, বড় ধরনের বাধার মুখে এই বাফার বা সুরক্ষা কবচ সীমিত হতে পারে। তিনি সতর্ক করেন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দাম খুব দ্রুত ওঠানামা করেছে। বড় কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
হরমুজ দিয়ে জ্বালানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানি ও কারখানার খরচ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে চীন তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর নির্ভর করে। জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে। কোম্পানিগুলো সম্ভবত সেই খরচ সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ শৃঙ্খল) ও ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের অ্যাসোসিয়েট ফেলো স্যামুয়েল রামানি সতর্ক করেন, এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব পড়বে। ফলাফল শুধু চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় অর্থনীতি এই প্রণালী দিয়ে আসা চালানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৬০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশ একই পথে সংগ্রহ করে। জাপান তাদের তেল আমদানির প্রায় তিন-চতুর্ধাংশের জন্য এই পথের ওপর নির্ভর করে।
রামানি আল-জাজিরাকে বলেন, দুবাইয়ের বিনিয়োগকারীরা পর্যটন ও অর্থ খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ প্রকল্পগুলোর কিছু বিনিয়োগেও এর ফলে বাধা আসতে পারে। এটি শুধু রপ্তানি ও দাম নয়, এর ব্যাপক সামষ্টিক ও ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক ফলাফলও আছে।

দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে জানুয়ারির শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলি লারিজানির হাতে। বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষে থাকা লারিজানিই মূলত রাষ্ট্র পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়ে
৫ ঘণ্টা আগে
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর বর্তমানে ইতিহাসের এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা রক্ষার চ্যালেঞ্জ আর ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবের এক সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—মানচিত্রের দিকে তাকালে মনে হয় যেন দুই ভাই পিঠাপিঠি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই দুই ভাইয়ের মধ্যে গত সাত দশক ধরে যে সম্পর্ক মোটেই ভাল যাচ্ছে না। এক কথায় সেই ইতিহাসকে বলা যায় রক্তাক্ত দীর্ঘশ্বাস।
১ দিন আগে
আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দু-একদিন আগেই বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১ দিন আগে