স্ট্রিম ডেস্ক

বাংলাদেশের কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ও খাদ্যনিরাপত্তার মূল ভিত্তি। কৃষিতে ডিজিটাল বিপ্লব ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা বছরের প্রথম দিনে টাঙ্গাইলের শহীদ মসরুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিজিটাল বাটন চেপে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
এই কার্ড নিছক পরিচয়পত্র নয়, বরং কৃষকের ব্যাংক হিসাব, ভর্তুকি, ঋণ এবং বিমা সুবিধার চাবিকাঠি। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সরাসরি কৃষকের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
তবে কৃষক কার্ডের ধারণা বিশ্বে নতুন নয়। একুশ শতকে কৃষি কেবল আর লাঙ্গল-জোয়ালের মধ্যে আটকে নেই। প্রযুক্তি আর ডিজিটাল বিপ্লবের ছোঁয়া লেগেছে মাঠে-ঘাটেও। বিশ্বের অনেক দেশ অনেক আগেই তাদের কৃষকদের জন্য এমন কার্ড বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে। চলুন জানা যাক, বিশ্বের অন্যান্য দেশে কৃষকদের সহায়তার জন্য কী ধরনের কার্ড বা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত কৃষকদের জন্য কার্ড ব্যবস্থায় অনেক এগিয়ে। ১৯৯৮ সালে তারা চালু করেছিল ‘কিষাণ ক্রেডিট কার্ড’ (কেসিসি)। ভারতের ন্যাশনাল ব্যাংক ফর অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (নাবার্ড) এবং রিজার্ভ ব্যাংকের যৌথ সহায়তায় চালু হওয়া এই কার্ড ভারতের কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় এবং সফল উদ্যোগ ধরা হয়।
কেসিসি কার্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। এই কার্ড দিয়ে শুধু বীজ বা সার কেনা যায় না; ফসল কাটার পরের খরচ, ফসল বিক্রির খরচ এমনকি কৃষকের পরিবারের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতেও এই কার্ড থেকে ঋণ নেওয়া যায়।
ভারত সরকার এই কার্ডের ঋণের ওপর ২ শতাংশ ভর্তুকি দেয়। কেউ যদি সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করেন তবে আরও ৩ শতাংশ বাড়তি ছাড় দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত সুদের হার নেমে আসে মাত্র ৪ শতাংশে।
গবেষক হেমামালিনী ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, কেসিসি কার্ড কৃষকদের আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই কার্ডের কারণে কৃষকরা মহাজনদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এখন এই কার্ডকে রুপে (RuPay) নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা সরাসরি এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা তুলতে পারেন।
কৃষিতে আরেক প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও পিছিয়ে নেই। তারা পাঞ্জাব প্রদেশে চালু করেছে ‘কিষাণ কার্ড’ নামের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম। এই কার্ড সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে সার, বীজ ও কীটনাশক ডিলারদের যুক্ত করে।
পাঞ্জাব ল্যান্ড রেকর্ডস অথরিটি, নাদরা (NADRA) এবং ব্যাংক অব পাঞ্জাবের সমন্বিত উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালনা হয়। পাঞ্জাবের এই কার্ডের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘আড়তদারি’ প্রথা ধ্বংস করা। আগে আড়তদাররা কৃষকদের চড়া সুদে ঋণ দিত এবং কম দামে ফসল কিনে নিত।
ব্যাংক অব পাঞ্জাবের প্রেসিডেন্ট জাফর মাসুদের মতে, কিষাণ কার্ডের মাধ্যমে সরকার এখন কৃষকদের একরপ্রতি ৩০ হাজার রুপি সুদমুক্ত ঋণ দিচ্ছে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ দেড় লাখ রুপি পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এই টাকা সরাসরি সার ও বীজ কেনার কাজে ব্যবহৃত হয়। পাঞ্জাব সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালমান শাহ একে কৃষিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেছেন।
উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক এবং বিমা-নির্ভর। সেখানে কোনো নির্দিষ্ট প্লাস্টিকের কার্ড নেই। তবে তাদের আছে শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) অধীনে কাজ করে ‘ফার্ম সার্ভিস এজেন্সি’ (এফএসএ)। এই এজেন্সি কৃষকদের জন্য এক বিশাল সুরক্ষা জাল বা সেফটি নেট তৈরি করেছে।
কৃষকরা এখানে সরাসরি ঋণের পাশাপাশি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকদের বাঁচাতে তাদের ‘অ্যাগ্রিকালচার রিস্ক কভারেজ’ এবং ‘প্রাইস লস কভারেজ’ নামের স্কিম রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ড. জো আউটল এই ব্যবস্থাকে ‘কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল’ বা চক্র-বিপরীত বলেছেন। এর মানে হলো যখন ফসলের দাম কমে যায় বা কোনো দুর্যোগ আসে, তখন সরকারের সহায়তা নিজে থেকেই বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা ‘farmers.gov’ নামের ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে তাদের যাবতীয় কাজ সারতে পারেন।
চীন তার বিশাল জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিতে ব্যাপক প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। চীনেও সরাসরি কোনো একক ‘কৃষক কার্ড’ নেই। তবে তাদের পুরো কৃষি ব্যবস্থাই ডিজিটাল ডেটাবেসের ওপর নির্ভরশীল। চীনের সরকার কৃষকদের জমি, ফসল এবং উৎপাদনের পরিমাণ অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি প্রদান করে।
চীন তাদের কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠায়। সার, বীজ বা কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সরকার এই অর্থ সহায়তা দেয়। এছাড়া আলিবাবা বা টেনসেন্টের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সরকারের সঙ্গে মিলে কৃষকদের জন্য বিশেষ অ্যাপ তৈরি করেছে।
এসব অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকরা শুধু ঋণই পান না বরং আবহাওয়ার খবর, ফসলের রোগের প্রতিকার এবং বাজারে পণ্যের দামের তথ্যও জানতে পারেন। চীনের এই ব্যবস্থা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া ২০১৭-১৮ সালে চালু করে তাদের কৃষক কার্ড ‘কার্তু তানি’। ভর্তুকিযুক্ত সারের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। এই কার্ডে কৃষকের ব্যক্তিগত তথ্য, জমির পরিমাণ এবং সারের চাহিদার ডেটাবেস যুক্ত করা আছে।
কার্তু তানি একই সঙ্গে একটি ই-ওয়ালেট এবং এটিএম কার্ড হিসেবে কাজ করে। এটি পরিচালনা করে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো। গবেষক প্রসত্য ২০২২ সালে এক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে কার্তু তানি ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা এনেছে।
তবে মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে বয়স্ক কৃষকদের এই ডিজিটাল কার্ড ব্যবহারে কিছুটা অনাগ্রহ রয়েছে। তাই ইন্দোনেশিয়ার সরকার এখন কার্ড বিতরণের পাশাপাশি কৃষকদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে বোঝা যায়, ডিজিটাল যুগে কৃষকদের সহায়তা করার ধরন বদলে গেছে। ভারতের কেসিসি, পাকিস্তানের কিষাণ কার্ড বা ইন্দোনেশিয়ার কার্তু তানি প্রমাণ করে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার কৃষকের জীবন বদলে দিতে পারে।
বাংলাদেশের ‘কৃষক কার্ড’ সেই বৈশ্বিক ধারারই একটি অংশ। এই উদ্যোগ সফল করতে হলে শুধু কার্ড দিলেই হবে না; দরকার একটি শক্তিশালী ডেটাবেস এবং কৃষকদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ। ডিজিটাল বিভাজন বা ডিজিটাল ডিভাইড দূর করতে পারলে বাংলাদেশের কৃষক কার্ডও একদিন দেশের কৃষি খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

বাংলাদেশের কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ও খাদ্যনিরাপত্তার মূল ভিত্তি। কৃষিতে ডিজিটাল বিপ্লব ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা বছরের প্রথম দিনে টাঙ্গাইলের শহীদ মসরুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিজিটাল বাটন চেপে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
এই কার্ড নিছক পরিচয়পত্র নয়, বরং কৃষকের ব্যাংক হিসাব, ভর্তুকি, ঋণ এবং বিমা সুবিধার চাবিকাঠি। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সরাসরি কৃষকের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
তবে কৃষক কার্ডের ধারণা বিশ্বে নতুন নয়। একুশ শতকে কৃষি কেবল আর লাঙ্গল-জোয়ালের মধ্যে আটকে নেই। প্রযুক্তি আর ডিজিটাল বিপ্লবের ছোঁয়া লেগেছে মাঠে-ঘাটেও। বিশ্বের অনেক দেশ অনেক আগেই তাদের কৃষকদের জন্য এমন কার্ড বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে। চলুন জানা যাক, বিশ্বের অন্যান্য দেশে কৃষকদের সহায়তার জন্য কী ধরনের কার্ড বা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত কৃষকদের জন্য কার্ড ব্যবস্থায় অনেক এগিয়ে। ১৯৯৮ সালে তারা চালু করেছিল ‘কিষাণ ক্রেডিট কার্ড’ (কেসিসি)। ভারতের ন্যাশনাল ব্যাংক ফর অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (নাবার্ড) এবং রিজার্ভ ব্যাংকের যৌথ সহায়তায় চালু হওয়া এই কার্ড ভারতের কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় এবং সফল উদ্যোগ ধরা হয়।
কেসিসি কার্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। এই কার্ড দিয়ে শুধু বীজ বা সার কেনা যায় না; ফসল কাটার পরের খরচ, ফসল বিক্রির খরচ এমনকি কৃষকের পরিবারের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতেও এই কার্ড থেকে ঋণ নেওয়া যায়।
ভারত সরকার এই কার্ডের ঋণের ওপর ২ শতাংশ ভর্তুকি দেয়। কেউ যদি সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করেন তবে আরও ৩ শতাংশ বাড়তি ছাড় দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত সুদের হার নেমে আসে মাত্র ৪ শতাংশে।
গবেষক হেমামালিনী ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, কেসিসি কার্ড কৃষকদের আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই কার্ডের কারণে কৃষকরা মহাজনদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এখন এই কার্ডকে রুপে (RuPay) নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা সরাসরি এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা তুলতে পারেন।
কৃষিতে আরেক প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও পিছিয়ে নেই। তারা পাঞ্জাব প্রদেশে চালু করেছে ‘কিষাণ কার্ড’ নামের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম। এই কার্ড সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে সার, বীজ ও কীটনাশক ডিলারদের যুক্ত করে।
পাঞ্জাব ল্যান্ড রেকর্ডস অথরিটি, নাদরা (NADRA) এবং ব্যাংক অব পাঞ্জাবের সমন্বিত উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালনা হয়। পাঞ্জাবের এই কার্ডের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘আড়তদারি’ প্রথা ধ্বংস করা। আগে আড়তদাররা কৃষকদের চড়া সুদে ঋণ দিত এবং কম দামে ফসল কিনে নিত।
ব্যাংক অব পাঞ্জাবের প্রেসিডেন্ট জাফর মাসুদের মতে, কিষাণ কার্ডের মাধ্যমে সরকার এখন কৃষকদের একরপ্রতি ৩০ হাজার রুপি সুদমুক্ত ঋণ দিচ্ছে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ দেড় লাখ রুপি পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এই টাকা সরাসরি সার ও বীজ কেনার কাজে ব্যবহৃত হয়। পাঞ্জাব সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালমান শাহ একে কৃষিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেছেন।
উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক এবং বিমা-নির্ভর। সেখানে কোনো নির্দিষ্ট প্লাস্টিকের কার্ড নেই। তবে তাদের আছে শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) অধীনে কাজ করে ‘ফার্ম সার্ভিস এজেন্সি’ (এফএসএ)। এই এজেন্সি কৃষকদের জন্য এক বিশাল সুরক্ষা জাল বা সেফটি নেট তৈরি করেছে।
কৃষকরা এখানে সরাসরি ঋণের পাশাপাশি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকদের বাঁচাতে তাদের ‘অ্যাগ্রিকালচার রিস্ক কভারেজ’ এবং ‘প্রাইস লস কভারেজ’ নামের স্কিম রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ড. জো আউটল এই ব্যবস্থাকে ‘কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল’ বা চক্র-বিপরীত বলেছেন। এর মানে হলো যখন ফসলের দাম কমে যায় বা কোনো দুর্যোগ আসে, তখন সরকারের সহায়তা নিজে থেকেই বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা ‘farmers.gov’ নামের ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে তাদের যাবতীয় কাজ সারতে পারেন।
চীন তার বিশাল জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিতে ব্যাপক প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। চীনেও সরাসরি কোনো একক ‘কৃষক কার্ড’ নেই। তবে তাদের পুরো কৃষি ব্যবস্থাই ডিজিটাল ডেটাবেসের ওপর নির্ভরশীল। চীনের সরকার কৃষকদের জমি, ফসল এবং উৎপাদনের পরিমাণ অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি প্রদান করে।
চীন তাদের কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠায়। সার, বীজ বা কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সরকার এই অর্থ সহায়তা দেয়। এছাড়া আলিবাবা বা টেনসেন্টের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সরকারের সঙ্গে মিলে কৃষকদের জন্য বিশেষ অ্যাপ তৈরি করেছে।
এসব অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকরা শুধু ঋণই পান না বরং আবহাওয়ার খবর, ফসলের রোগের প্রতিকার এবং বাজারে পণ্যের দামের তথ্যও জানতে পারেন। চীনের এই ব্যবস্থা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া ২০১৭-১৮ সালে চালু করে তাদের কৃষক কার্ড ‘কার্তু তানি’। ভর্তুকিযুক্ত সারের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। এই কার্ডে কৃষকের ব্যক্তিগত তথ্য, জমির পরিমাণ এবং সারের চাহিদার ডেটাবেস যুক্ত করা আছে।
কার্তু তানি একই সঙ্গে একটি ই-ওয়ালেট এবং এটিএম কার্ড হিসেবে কাজ করে। এটি পরিচালনা করে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো। গবেষক প্রসত্য ২০২২ সালে এক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে কার্তু তানি ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা এনেছে।
তবে মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে বয়স্ক কৃষকদের এই ডিজিটাল কার্ড ব্যবহারে কিছুটা অনাগ্রহ রয়েছে। তাই ইন্দোনেশিয়ার সরকার এখন কার্ড বিতরণের পাশাপাশি কৃষকদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে বোঝা যায়, ডিজিটাল যুগে কৃষকদের সহায়তা করার ধরন বদলে গেছে। ভারতের কেসিসি, পাকিস্তানের কিষাণ কার্ড বা ইন্দোনেশিয়ার কার্তু তানি প্রমাণ করে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার কৃষকের জীবন বদলে দিতে পারে।
বাংলাদেশের ‘কৃষক কার্ড’ সেই বৈশ্বিক ধারারই একটি অংশ। এই উদ্যোগ সফল করতে হলে শুধু কার্ড দিলেই হবে না; দরকার একটি শক্তিশালী ডেটাবেস এবং কৃষকদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ। ডিজিটাল বিভাজন বা ডিজিটাল ডিভাইড দূর করতে পারলে বাংলাদেশের কৃষক কার্ডও একদিন দেশের কৃষি খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

পাকিস্তানের বন্দরনগরী গওয়াদারে সদ্য নিয়োগ পাওয়া একদল প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক এক আলোচনায় বেলুচিস্তানের কর্পস কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহাত নাদিম আহমেদ খান জানতে চান, কোন কোন কারণ শিক্ষিত তরুণীদের মধ্যে সশস্ত্র আন্দোলনের প্রতি ঝোঁক তৈরি করছে।
৬ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মানিয়ে চলতে চলতে ইরান অভ্যস্ত হয়ে গেছে। যুদ্ধের মধ্যেও তাদের অর্থনীতি সচল রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে বড় রকমের ধাক্কা দিতে পারে।
১ দিন আগে
গত সপ্তাহে বিশ্ববাজার আশাবাদী ছিল। তারা ভেবেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা হয়তো বিশ্ব অর্থনীতিতে চলা ছয় সপ্তাহের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটাবে। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন হুমকি বিশ্ববাজারকে আবারও এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
২ দিন আগে
কৃষিতে ডিজিটাল বিপ্লব ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে বিএনপি সরকার। আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে প্রথম ধাপে ১০টি উপজেলায় প্রাক-পাইলট ভিত্তিতে কার্ডটির উদ্বোধন করা হবে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি প্রধান প্রতিশ্রুতি কৃষক কার্ড। একে বলা যায়, কৃষক,
২ দিন আগে