কাজী নিশাত তাবাসসুম

কোরবানি ঈদ এলেই দেশের চামড়াশিল্প ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। সরকার প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে এবং আগের বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বাড়িয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বিক্রেতারা ক্ষোভে চামড়া ফেলে দিয়েছেন নদী-খালে কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। সরকার দাম বাড়ানোর পরও কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো?
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান গণমাধ্যমে বলেছেন, এই সমস্যার মূল কারণ শুধু সরকারি মূল্য নির্ধারণ নয়; চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ট্যানারি শিল্পের দীর্ঘদিনের সংকটও এর সঙ্গে জড়িত।
প্রতি বছর সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার জন্য একটি নির্ধারিত মূল্য ঘোষণা করে। এ বছর লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২-৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭-৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য মূলত লবণযুক্ত চামড়ার পাইকারি দর হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষ বা মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাঁচা চামড়া বিক্রি করেন। ফলে সরকারি দামের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব লেনদেনের বড় ধরনের পার্থক্য থেকে যায়। অনেক এলাকায় দেখা যায়, সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তার চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া কিনতে চান। ফলে বিক্রেতারা মনে করেন, তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চামড়ার বাজারে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা। কোরবানির কয়েক দিনের মধ্যে দেশে লাখ লাখ পশুর চামড়া বাজারে আসে। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা সব সময় থাকে না।
চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যানারিগুলোর আর্থিক সংকট, ব্যাংক ঋণ জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ওঠানামার কারণে কাঁচা চামড়ার বাজারও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মাঠপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখান না।
অন্যদিকে লেদার ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাদাত হোসেন সেলিম গণমাধ্যমে বলেছেন, একটি দুষ্টচক্র দেশের চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করছে। এই চক্রে কিছু ট্যানারি মালিক এবং আড়তদার আছেন। যারা নিজেরা চামড়া কিনবেন না আবার অন্যকে কিনতেও দিচ্ছেন না। কিছু ব্যাংক এই চক্রে জড়িয়ে পড়েছে। তারা গুটিকয়েক ট্যানারিকে ঋণ দিচ্ছে, যা বাজারে কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। এই চক্রের কারণে চামড়াশিল্পে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসছে না। চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে হলে এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে।
চামড়া সংরক্ষণের জন্য দ্রুত লবণ ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিকভাবে লবণ না দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চামড়ার মান নষ্ট হতে শুরু করে। বাংলাদেশের অনেক গ্রামীণ এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত লবণ, সংরক্ষণ সুবিধা কিংবা প্রশিক্ষিত কর্মী নেই। ফলে বিক্রেতারা বাধ্য হয়ে দ্রুত চামড়া বিক্রি করতে চান। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খুব কম দামে চামড়া কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অনেক সময় চামড়া বিক্রি না হলে সংরক্ষণের খরচও বিক্রেতাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তখন তারা ক্ষতির আশঙ্কায় চামড়া ফেলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নেন।
চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্বত্বভোগীদের শক্তিশালী একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। প্রান্তিক বিক্রেতার সঙ্গে ট্যানারির সরাসরি যোগাযোগ খুবই সীমিত। সাধারণত স্থানীয় সংগ্রাহক, আড়তদার এবং পাইকার একাধিক ধাপ পেরিয়ে চামড়া ট্যানারিতে পৌঁছায়। প্রতিটি স্তরে লাভের হিসাব যুক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রাথমিক বিক্রেতারা তুলনামূলক কম দাম পান। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা কম থাকলে এবং ক্রেতার সংখ্যা সীমিত হলে বিক্রেতারা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ হারান।
একসময় বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে তৈরি পোশাকের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু গত এক দশকে নানা কারণে এ খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে স্থানান্তরের পর পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের মানদণ্ড পূরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের একটি অংশ অন্য দেশের দিকে ঝুঁকে যায়। এর প্রভাব পড়ে কাঁচা চামড়ার বাজারেও। ট্যানারিগুলো কম দামে চামড়া কিনতে চাওয়ায় নিচের স্তরে মূল্য আরও কমে যায়।
চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা মূলত ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। যখন কোনো বিক্রেতা একটি গরুর চামড়ার জন্য কয়েকশ টাকা খরচ করে সংরক্ষণ করেন, কিন্তু বিক্রির সময় ন্যায্য দাম পান না, তখন অনেকেই ক্ষোভের কারণে নাম মাত্র মূল্য গ্রহণ করতে চান না। কিছু এলাকায় চামড়ার দাম এতটাই কমে যায় যে পরিবহন খরচই বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে দাঁড়ায়। তখন বিক্রেতাদের কাছে চামড়া ফেলে দেওয়া বা নষ্ট হতে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। যে ঘটনা এ বছর কোরবানির ঈদে ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশকিছু ভিডিওতে দেখা যায় ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল জেলায় চামড়া ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে নদীতে চামড়া ফেলে দিয়েছেন।
তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী বা খালে চামড়া ফেলে দেওয়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এতে পানি দূষণ, দুর্গন্ধ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শুধু দাম ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কার। প্রথমত, কোরবানির আগে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ এবং চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রান্তিক বিক্রেতা ও মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে ট্যানারির সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমে। তৃতীয়ত, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অস্থায়ী সংগ্রহকেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনার নিশ্চয়তা থাকবে। চতুর্থত, চামড়া শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে পরিবেশগত মান, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে।
কোরবানির চামড়ার দাম বাড়ানো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু কাগজে-কলমে মূল্য বৃদ্ধি সব সময় মাঠপর্যায়ে সুফল বয়ে আনে না। চামড়া বিক্রেতারা ন্যায্য দাম না পাওয়ার পেছনে রয়েছে বাজারের দুর্বল কাঠামো, সংরক্ষণ সংকট, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং ট্যানারি শিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফলে সরকার মূল্য বাড়ালেও অনেক ক্ষেত্রে সেই সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছায় না। আর এই ব্যবস্থাগত দুর্বলতার কারণেই প্রতিবছর কোরবানির পর কোথাও কোথাও চামড়া অবহেলায় নষ্ট হয়, এমনকি ক্ষোভে নদীতেও ফেলে দেওয়া হয়। চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে হলে তাই শুধু দাম ঘোষণা নয়, পুরো বাজার ব্যবস্থার সংস্কারই এখন সময়ের দাবি।

কোরবানি ঈদ এলেই দেশের চামড়াশিল্প ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। সরকার প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে এবং আগের বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বাড়িয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বিক্রেতারা ক্ষোভে চামড়া ফেলে দিয়েছেন নদী-খালে কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। সরকার দাম বাড়ানোর পরও কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো?
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান গণমাধ্যমে বলেছেন, এই সমস্যার মূল কারণ শুধু সরকারি মূল্য নির্ধারণ নয়; চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ট্যানারি শিল্পের দীর্ঘদিনের সংকটও এর সঙ্গে জড়িত।
প্রতি বছর সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার জন্য একটি নির্ধারিত মূল্য ঘোষণা করে। এ বছর লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২-৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭-৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য মূলত লবণযুক্ত চামড়ার পাইকারি দর হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষ বা মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাঁচা চামড়া বিক্রি করেন। ফলে সরকারি দামের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব লেনদেনের বড় ধরনের পার্থক্য থেকে যায়। অনেক এলাকায় দেখা যায়, সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তার চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া কিনতে চান। ফলে বিক্রেতারা মনে করেন, তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চামড়ার বাজারে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা। কোরবানির কয়েক দিনের মধ্যে দেশে লাখ লাখ পশুর চামড়া বাজারে আসে। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা সব সময় থাকে না।
চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যানারিগুলোর আর্থিক সংকট, ব্যাংক ঋণ জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ওঠানামার কারণে কাঁচা চামড়ার বাজারও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মাঠপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখান না।
অন্যদিকে লেদার ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাদাত হোসেন সেলিম গণমাধ্যমে বলেছেন, একটি দুষ্টচক্র দেশের চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করছে। এই চক্রে কিছু ট্যানারি মালিক এবং আড়তদার আছেন। যারা নিজেরা চামড়া কিনবেন না আবার অন্যকে কিনতেও দিচ্ছেন না। কিছু ব্যাংক এই চক্রে জড়িয়ে পড়েছে। তারা গুটিকয়েক ট্যানারিকে ঋণ দিচ্ছে, যা বাজারে কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। এই চক্রের কারণে চামড়াশিল্পে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসছে না। চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে হলে এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে।
চামড়া সংরক্ষণের জন্য দ্রুত লবণ ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিকভাবে লবণ না দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চামড়ার মান নষ্ট হতে শুরু করে। বাংলাদেশের অনেক গ্রামীণ এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত লবণ, সংরক্ষণ সুবিধা কিংবা প্রশিক্ষিত কর্মী নেই। ফলে বিক্রেতারা বাধ্য হয়ে দ্রুত চামড়া বিক্রি করতে চান। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খুব কম দামে চামড়া কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অনেক সময় চামড়া বিক্রি না হলে সংরক্ষণের খরচও বিক্রেতাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তখন তারা ক্ষতির আশঙ্কায় চামড়া ফেলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নেন।
চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্বত্বভোগীদের শক্তিশালী একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। প্রান্তিক বিক্রেতার সঙ্গে ট্যানারির সরাসরি যোগাযোগ খুবই সীমিত। সাধারণত স্থানীয় সংগ্রাহক, আড়তদার এবং পাইকার একাধিক ধাপ পেরিয়ে চামড়া ট্যানারিতে পৌঁছায়। প্রতিটি স্তরে লাভের হিসাব যুক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রাথমিক বিক্রেতারা তুলনামূলক কম দাম পান। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা কম থাকলে এবং ক্রেতার সংখ্যা সীমিত হলে বিক্রেতারা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ হারান।
একসময় বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে তৈরি পোশাকের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু গত এক দশকে নানা কারণে এ খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে স্থানান্তরের পর পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের মানদণ্ড পূরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের একটি অংশ অন্য দেশের দিকে ঝুঁকে যায়। এর প্রভাব পড়ে কাঁচা চামড়ার বাজারেও। ট্যানারিগুলো কম দামে চামড়া কিনতে চাওয়ায় নিচের স্তরে মূল্য আরও কমে যায়।
চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা মূলত ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। যখন কোনো বিক্রেতা একটি গরুর চামড়ার জন্য কয়েকশ টাকা খরচ করে সংরক্ষণ করেন, কিন্তু বিক্রির সময় ন্যায্য দাম পান না, তখন অনেকেই ক্ষোভের কারণে নাম মাত্র মূল্য গ্রহণ করতে চান না। কিছু এলাকায় চামড়ার দাম এতটাই কমে যায় যে পরিবহন খরচই বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে দাঁড়ায়। তখন বিক্রেতাদের কাছে চামড়া ফেলে দেওয়া বা নষ্ট হতে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। যে ঘটনা এ বছর কোরবানির ঈদে ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশকিছু ভিডিওতে দেখা যায় ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল জেলায় চামড়া ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে নদীতে চামড়া ফেলে দিয়েছেন।
তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী বা খালে চামড়া ফেলে দেওয়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এতে পানি দূষণ, দুর্গন্ধ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শুধু দাম ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কার। প্রথমত, কোরবানির আগে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ এবং চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রান্তিক বিক্রেতা ও মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে ট্যানারির সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমে। তৃতীয়ত, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অস্থায়ী সংগ্রহকেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনার নিশ্চয়তা থাকবে। চতুর্থত, চামড়া শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে পরিবেশগত মান, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে।
কোরবানির চামড়ার দাম বাড়ানো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু কাগজে-কলমে মূল্য বৃদ্ধি সব সময় মাঠপর্যায়ে সুফল বয়ে আনে না। চামড়া বিক্রেতারা ন্যায্য দাম না পাওয়ার পেছনে রয়েছে বাজারের দুর্বল কাঠামো, সংরক্ষণ সংকট, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং ট্যানারি শিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফলে সরকার মূল্য বাড়ালেও অনেক ক্ষেত্রে সেই সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছায় না। আর এই ব্যবস্থাগত দুর্বলতার কারণেই প্রতিবছর কোরবানির পর কোথাও কোথাও চামড়া অবহেলায় নষ্ট হয়, এমনকি ক্ষোভে নদীতেও ফেলে দেওয়া হয়। চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে হলে তাই শুধু দাম ঘোষণা নয়, পুরো বাজার ব্যবস্থার সংস্কারই এখন সময়ের দাবি।

আগামীকাল (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে এটি শুধু একটি আর্থিক দলিল নয়; বরং অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির একটি নীতিগত রূপরেখা হিসেবেও
১৮ ঘণ্টা আগে
টানা কয়েক দশক ধরে ভারত সরকার বিদেশি দাতাগোষ্ঠীদের সহায়তায় জনগণের উদ্দেশে একটি বার্তা প্রচার করেছে—‘তোমরা অতিরিক্ত সন্তান জন্ম দিচ্ছো’। ১৯৬০-এর দশকে স্কুল ভবনের দেয়ালে দেয়ালে লেখা থাকত, দুই-তিনটি সন্তানই যথেষ্ট। ১৯৭০-এর দশকে এই প্রচারণা আরও তীব্র রূপ নিয়েছিল।
১ দিন আগে
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের দুটি উপজেলার ভারত-সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের (ঠেলে দেওয়া) চেষ্টা করে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তীব্র বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং প্রায় ৭০ ঘণ্টা শূন্যরেখায় অবরুদ্ধ থাকার পর বিএসএফ তাদের ভারতের অ
৩ দিন আগে
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উন্মাদনা আর নতুনত্বের ছোঁয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপও ব্যতিক্রম নয়। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক দল এবার অংশ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে এই ৩৯ দিনের মহাযজ্ঞের আয়োজন করছে।
৩ দিন আগে