স্টিভ সালগ্রা রেমা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও এবং কিছু স্থিরচিত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে , এক তরুণীর বাবা আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ার অপরাধে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে তিন দিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে এবং মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তায় ফেলে গেছে। স্ট্রিমের যাচাই বলছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত ২১ জানুয়ারি রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে ‘The Crack Team’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিওটি প্রচার করা হয়। এই পেজের সূত্র ধরে পরবর্তী সময়ে একাধিক ফেসবুক পেজ এই অপতথ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে থাকে (১,২,৩)। ভিডিওটিতে একজন তরুণীকে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দেখা যায়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা এই পাশবিকতা চালিয়েছে। তবে ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় বরং পারিবারিক। এবং এর সাথে ছাত্রশিবির বা ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৃত ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৩ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের একটি পারিবারিক বিরোধের জেরে। ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছে স্ট্রিম। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর মামা এবং মামাতো ভাই-বোনরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা চালায়।
ওই তরুণীর দেওয়া ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আপন মামা ও কয়েকজন কাজিন মিলে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই তরুণী সেখানে উল্লেখ করেন, লোডশেডিংয়ের অন্ধকারের সুযোগে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারে। সেই আঘাতে তাঁর কপাল ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে, ওই দিনের সেই জখম হওয়ার ভিডিওটিকেই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিকৃত প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হচ্ছে।
ওই তরুণী স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, এটি একটি পারিবারিক বিষয় এবং তাঁর আপন মামা এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার সময় তাঁর ভাই হোসেন আব্বাস ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। পরে সেই ভিডিওর ক্লিপ কেটে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, তাঁর ভাই যখন ভিডিওটি আপলোড করেছিলেন তখন ক্যাপশনে লেখা ছিল— ‘পারিবারিক বিষয়ে মামা ভাগ্নির মাথা ফাটায় দিছে।’
লক্ষণীয় যে ওই তরুণী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, এই হামলার মূল হোতা তাঁর মামা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন। অপপ্রচারে দাবি করা হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ার কারণে তরুণীকে ছাত্রশিবিরের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অর্থাৎ, খোদ ভিকটিমের পরিবারের ওপর হামলাকারীই আওয়ামী লীগের পদধারী ব্যক্তি।
এই একই ঘটনাকে ভিন্ন আরেকটি মিথ্যা দাবি বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে রাজধানীর রাস্তায় গণধর্ষণ করে ফেলে রাখা হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন নিশ্চিত করে যে, ভিডিওটি চট্টগ্রামের একটি পারিবারিক সংঘর্ষের এবং এর সাথে ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, একই ঘটনা বারবার ভিন্ন ভিন্ন মিথ্যা মোড়কে ফেসবুকে ছাড়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ বিভাগ তাদের তদন্তে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ 'গুজব' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশের অফিসিয়াল বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশ আরও নিশ্চিত করেছে, ওই তরুণীর ওপর হামলার ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় একটি অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে।
সার্বিক তথ্য-প্রমাণ ও দলিলাদি বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত করা যায়, চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় জমি সংক্রান্ত পারিবারিক কলহের জেরে আহত এক তরুণীর ভিডিওকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ‘শিবিরের ধর্ষণ’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ বানোয়াট গল্প হিসেবে সাজানো হয়েছে। ওই তরুণী কোনো রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হননি, বরং তার আপন মামার দ্বারা জমি সংক্রান্ত বিবাদে হামলার শিকার হয়েছিলেন। সুতরাং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিকর।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও এবং কিছু স্থিরচিত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে , এক তরুণীর বাবা আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ার অপরাধে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে তিন দিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে এবং মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তায় ফেলে গেছে। স্ট্রিমের যাচাই বলছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত ২১ জানুয়ারি রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে ‘The Crack Team’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিওটি প্রচার করা হয়। এই পেজের সূত্র ধরে পরবর্তী সময়ে একাধিক ফেসবুক পেজ এই অপতথ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে থাকে (১,২,৩)। ভিডিওটিতে একজন তরুণীকে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দেখা যায়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা এই পাশবিকতা চালিয়েছে। তবে ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় বরং পারিবারিক। এবং এর সাথে ছাত্রশিবির বা ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৃত ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৩ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের একটি পারিবারিক বিরোধের জেরে। ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছে স্ট্রিম। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর মামা এবং মামাতো ভাই-বোনরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা চালায়।
ওই তরুণীর দেওয়া ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আপন মামা ও কয়েকজন কাজিন মিলে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই তরুণী সেখানে উল্লেখ করেন, লোডশেডিংয়ের অন্ধকারের সুযোগে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারে। সেই আঘাতে তাঁর কপাল ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে, ওই দিনের সেই জখম হওয়ার ভিডিওটিকেই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিকৃত প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হচ্ছে।
ওই তরুণী স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, এটি একটি পারিবারিক বিষয় এবং তাঁর আপন মামা এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার সময় তাঁর ভাই হোসেন আব্বাস ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। পরে সেই ভিডিওর ক্লিপ কেটে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, তাঁর ভাই যখন ভিডিওটি আপলোড করেছিলেন তখন ক্যাপশনে লেখা ছিল— ‘পারিবারিক বিষয়ে মামা ভাগ্নির মাথা ফাটায় দিছে।’
লক্ষণীয় যে ওই তরুণী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, এই হামলার মূল হোতা তাঁর মামা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন। অপপ্রচারে দাবি করা হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ার কারণে তরুণীকে ছাত্রশিবিরের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অর্থাৎ, খোদ ভিকটিমের পরিবারের ওপর হামলাকারীই আওয়ামী লীগের পদধারী ব্যক্তি।
এই একই ঘটনাকে ভিন্ন আরেকটি মিথ্যা দাবি বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে রাজধানীর রাস্তায় গণধর্ষণ করে ফেলে রাখা হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন নিশ্চিত করে যে, ভিডিওটি চট্টগ্রামের একটি পারিবারিক সংঘর্ষের এবং এর সাথে ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, একই ঘটনা বারবার ভিন্ন ভিন্ন মিথ্যা মোড়কে ফেসবুকে ছাড়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ বিভাগ তাদের তদন্তে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ 'গুজব' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশের অফিসিয়াল বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশ আরও নিশ্চিত করেছে, ওই তরুণীর ওপর হামলার ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় একটি অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে।
সার্বিক তথ্য-প্রমাণ ও দলিলাদি বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত করা যায়, চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় জমি সংক্রান্ত পারিবারিক কলহের জেরে আহত এক তরুণীর ভিডিওকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ‘শিবিরের ধর্ষণ’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ বানোয়াট গল্প হিসেবে সাজানো হয়েছে। ওই তরুণী কোনো রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হননি, বরং তার আপন মামার দ্বারা জমি সংক্রান্ত বিবাদে হামলার শিকার হয়েছিলেন। সুতরাং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিকর।

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে বলা হচ্ছে, বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে। ফটোকার্ডে আরও বলা হয়েছে, পাঠ্যক্রমে যুক্ত হবে এআই, সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়।
২ দিন আগে
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, ডিভোর্সের পর কেউ দায়িত্ব না নেওয়ায় শিশু সন্তানকে এতিমখানায় ফেলে গেছেন জন্মদাতা বাবা-মা।
২ দিন আগে
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, মাইন পাতার জন্য বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী বিএসএফের এক গুপ্তচরকে আটক করেছে বিজিবি। ভিডিওর ওপর বসানো লেখায় বলা হয়েছে, ‘সীমান্তে মাইন পাতার সময় ভারতীয় গুপ্তচর আটক।’
৩ দিন আগে
ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, কারামুক্তির পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আইভী।
৪ দিন আগে