leadT1ad

শিশু অপহরণের অভিযোগে মেট্রোরেলের ভাইরাল ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৩৯
ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা দুই শিশুকে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মেট্রোরেলে করে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়, ওই দুই ব্যক্তি শিশু দুটিকে অপহরণ করছিলেন। এমন সন্দেহের জেরে মেট্রোরেলের ভেতরে তাঁরা যাত্রীদের একাংশের ক্ষোভ ও জনরোষের মুখে পড়েন। তবে স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা যায়, ভাইরাল হওয়া মেট্রোরেলের ভিডিওতে শিশু অপহরণ করা হয়নি; বরং শিশু দুটিকে পরিবার অনুমোদিত ড্রাইভার ও কেয়ারটেকার থেরাপি সেশন শেষে বাড়ির পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি ফেসবুকে MR Riyad নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ১৩ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে পোস্ট করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ভিডিওটি প্রায় ১ কোটি বার দেখা, ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি শেয়ার এবং প্রায় ১ হাজার ৯০০ মন্তব্য পেয়েছে। এছাড়া ১৩ জানুয়ারি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি থেমে না থেকে আজ ১৫ জানুয়ারিতেও একই দাবিতে ভিডিওটি নতুন করে ছড়াতে দেখা যায় (,,)।

ভাইরাল ভিডিওটি (প্রায় ৫ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড) খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যায়, মেট্রোরেলের ভেতরে কয়েকজন যাত্রী শিশুদেরকে প্রশ্ন করছেন। এক পর্যায়ে ভিডিওটির ৫:১৪ মিনিটে একটি শিশুকে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে শিশুটি ইঙ্গিত করে জানায় যে, তাকে কিডন্যাপ করা হয়নি, বরং তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এ ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়।

ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওতে উল্লেখিত তথ্য, সংশ্লিষ্ট কীওয়ার্ড এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান করা হয়। এ সময় ফ্যান্টাসি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিট (ফ্যান্টাসি আইল্যান্ড) এর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ফেসবুকে পাওয়া যায়।

ঘোষণায় জানানো হয়, ভিডিওতে দেখা দুই শিশু ফ্যান্টাসি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের নিয়মিত থেরাপি গ্রহণকারী শিশু। তারা প্রায় চার মাস ধরে পুরান ঢাকা থেকে উত্তরা দিয়াবাড়িতে অবস্থিত ফ্যান্টাসি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটে (ফ্যান্টাসি আইল্যান্ড) নিয়মিত থেরাপি সেশনে অংশগ্রহণ করে আসছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে শিশুদের বাবা-মা সরাসরি সঙ্গে যেতে না পারায়, পরিবারের সম্মতিতে তাদের ব্যক্তিগত ড্রাইভার ও একজন কেয়ারটেকারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে থেরাপি সেন্টারে পাঠানো হয়। এটি তাদের নিয়মিত যাতায়াতের অংশ এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অনুমোদিত ও নিয়মতান্ত্রিক ছিল।

অপহরণের অভিযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ফ্যান্টাসি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিট তাদের ঘোষণায় স্পষ্টভাবে জানায়, এ ঘটনায় কোনো ধরনের অপহরণ বা অবৈধ কার্যকলাপ ঘটেনি। শিশুদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা পরিবারের অনুমোদিত ড্রাইভার ও কেয়ারটেকার বর্তমানে শিশু দুটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ অবস্থায় তাদের বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

বিষয়টি আরও নিশ্চিত করতে ফ্যান্টাসি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শিশুদের বাবার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই নম্বরে যোগাযোগ করে ওই দুই শিশুর বাবা মারুফ হাসানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, ভিডিওতে থাকা দুই ব্যক্তি তাদের পরিবারের ড্রাইভার ও কেয়ারটেকার এবং ঘটনাটির সঙ্গে শিশু অপহরণের কোনো সম্পর্ক নেই।

সুতরাং ভিডিওটি বাস্তব হলেও সেটি শিশু অপহরণের প্রমাণ নয়। ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশন ও দাবি প্রেক্ষাপটবিহীন ও বিভ্রান্তিকর। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় অপহরণের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। শিশুদের যাতায়াত ছিল পূর্বনির্ধারিত, নিয়মিত এবং পরিবারের সম্মতিতে।

অর্থাৎ, একটি অসম্পূর্ণ ভিডিও ও আবেগঘন ব্যাখ্যার মাধ্যমে ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা যাচাই করা তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত