প্রয়াণদিবসে স্মরণ
সুমন সাজ্জাদ

রবীন্দ্রনাথকে ভাঙতে পারলে অনেকের শান্তি হয়; যদি ভাঙা নাও যায়, অন্ততপক্ষে আঁচড় কেটে কেউ কেউ তৃপ্তি পান। বাংলা অঞ্চলে সেই আঁচড় কাটার ইতিহাস বেশ পুরনো। এমনকি বিগত দুই বছরেও নানামাত্রিক নখরাঘাত চোখে পড়েছে; প্রশ্ন তোলা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি, ধর্ম কিংবা অঞ্চলগত পরিচয় প্রসঙ্গে। সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রবাহ থেকে তাঁকে লুপ্ত করে দেওয়া যায় কিনা এমন ভাবনাও কারও কারও মগজে উর্বরতা পেয়েছে। এতে কোনো বিস্ময় নেই; বরং প্রশ্নই স্বাভাবিক; কিন্তু প্রশ্নের পেছনের কার্যকারণ কী? নাকি এই কালে এসে ইতিহাসের এক পর্বের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে মাত্র?
ষাট-সত্তর বছর আগে পাকিস্তান-পর্বে পূর্ববঙ্গের বাঙালিদের একটি অংশ রবীন্দ্রনাথকে প্রশ্ন দিয়েই মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন এবং নিয়েছিলেন বাতিলের উদ্যোগ। তাদের কাছে রাষ্ট্র গঠনের প্রধান উপাদান ছিল দুই পরিচয়—পাকিস্তান ও মুসলমান। রবীন্দ্রনাথের ‘হিন্দু’ ও ‘বাঙালি’ পরিচিতির কারণে তাঁরা রবীন্দ্রনাথকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তো ‘পাকিস্তান’ নেই; তবু সমস্যা কোথায়? জবাবগুলোকে এভাবে সাজানো যেতে পারে:
প্রথমত, বাংলাদেশি বাঙালির জাতীয়তাবাদী অস্তিত্বকে অস্বীকার করার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই চিন্তার অধিকারীরা মনে করেন, জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত বর্ণবাদী ব্যাপার; আর তাই বর্ণবাদের পাশাপাশি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাবপ্রতিমাকেও অস্বীকার করা যেতে পারে। সেই সূত্রে তারা মনে করেন রবীন্দ্রনাথকে বাদ দেওয়া দরকার।
দ্বিতীয়ত, অনেকে ‘বাঙালি’ পরিচয়কে ‘হিন্দু’ ও ‘হিন্দুত্ববাদ’-এর সঙ্গে একীভূত করে ভাবতে চান বলে এই পরিচয়কে তারা বাতিলযোগ্য মনে করেন। তারই লেজুড় হয়ে রবীন্দ্রনাথও তাদের কাছে ‘হিন্দু’ ও ‘হিন্দুত্ববাদী’; আর সে কারণেই তাদের তরফে রবীন্দ্রনাথ পরিত্যাজ্য।
তৃতীয়ত, রবীন্দ্রনাথকে উহ্য বা অবনমিত রাখার তৎপরতায় আছে নতুন সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণ করার প্রবণতা। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় উপাদান—বাংলাদেশি মুসলমানের পরিচয়; রবীন্দ্রনাথ এখানে মুখ্য নন, তাঁর গৌণ উপস্থিতিতেই তারা সন্তুষ্ট।
সাধারণভাবে এই তিন প্রবণতা রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতাকে বাতিল করে দিতে চায়; কিন্তু বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নের মীমাংসা করতে পারে না। যেমন—যারা বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান থেকে জাতীয়তাবাদ ও রবীন্দ্রনাথকে বাতিলযোগ্য মনে করেন তারা জাতীয়তা ও সাহিত্যের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা বিস্মৃত হন। ফলে প্রশ্ন জাগে, বর্ণবাদের বাইরে জাতীয়তাবাদের ভেতর কি আত্মরক্ষামূলক উপাদান নেই? রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য বাঙালির সাংস্কৃতিক সুরক্ষাবলয় তৈরি করেনি?
বাঙালিত্ব ও হিন্দুত্বকে যারা একই চিন্তার দুই রকম উৎসারণ বলে মনে করেন তারাও ইতিহাসের পর্বগুলো ধোঁয়াটে করে ফেলেন। তখন জবাব খুঁজতে হয় এই প্রশ্নের—ইতিহাসের সব পর্বের বাঙালি কি ‘হিন্দু’ সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছিল?
মুসলমানের পরিচয়কে কেন্দ্র করে যাঁরা নতুন সংস্কৃতির কথা বলেন, তাঁদের কথায় মনে হয় সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরি করা নিতান্ত ডালভাতের ব্যাপার। কেবল ইচ্ছা আর ক্ষমতা থাকলেই হলো। সে কারণে রবীন্দ্রনাথকে বাদ দেওয়া কোনো বিষয়ই নয়। কিন্তু চাইলেই কি নতুন সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরি করা যায়?
ঐতিহাসিক সত্য হলো, জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তার পরিগঠন ছাড়া আধুনিক রাষ্ট্র গঠিত হয়নি। ইউরোপের জাতিরাষ্ট্রগুলোর উদ্ভবের পেছনে আছে জাতীয় চেতনা। বিশ্বের উপনিবেশিত অঞ্চলসমূহে জাতীয়তাবাদ ছিল আত্মরক্ষার শক্তি। ফলে জাতীয়তাবাদের বর্ণবাদী ও ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার প্রবণতা সত্ত্বেও বলতে হয় জাতীয়তাবাদ মাত্রই ‘খারাপ’ বস্তু নয়।
অন্যদিকে, ‘বাঙালি’ পরিচয়ও আদি ও অকৃত্রিম কোনো চিহ্নের সমষ্টি নয়। উনিশ শতকের বাঙালি, বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সময়কার বাঙালি, চল্লিশের দশকের বাঙালি, বায়ান্নোর ভাষা-আন্দোলনের বাঙালি, পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি সবসময় একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বাঙালি নয়। একই ধরনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গ-অঞ্চলে ‘বাঙালি’ পরিচয় গড়ে ওঠেনি। আর তাই, এ কথা বলা যায় না যে, ৪৭-পূর্ব বাঙালি পরিচয়ের উপাদানই রূপান্তরহীনভাবে পূর্ববঙ্গের বাঙালি জাতীয়তাবাদকে পুনর্গঠিত করেছে।
সমকালীন রবীন্দ্রবিরোধীরা নিশ্চয়ই জানেন, রবীন্দ্রনাথ জাতীয়তাবাদের কট্টর সমালোচক। কিন্তু এ অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী চিন্তা গড়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাথকে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সূত্রে। এক্ষেত্রে এও বলা দরকার, বাঙালির জাতীয়তাবাদে রবীন্দ্রনাথকে একক হিস্যা দেওয়া হচ্ছে—ব্যাপারটি তেমনও নয়; কেননা লালন, নজরুল, জীবনানন্দ—এমনকি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো ‘কিশোর কবি’ও তখন বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিমিশ্রিত হয়েছেন। যদিও মানতে হবে শেষপর্যন্ত শহুরে মধ্যবিত্তের সংস্কৃতিই প্রাধান্য পেয়েছে।
আদতে ষাটের দশকে পূর্ববঙ্গে নতুন বাঙালি জাতীয়তাবাদ দেখা দিয়েছে, যার সঙ্গে পূর্ববর্তী বাঙালি জাতীয়তাবাদী চিন্তার রাজনৈতিক সংযোগ শূন্য। মূলত রবীন্দ্রনাথ নির্মিত হয়েছেন নতুন বয়ানে, নতুন লক্ষ্যে। চাইলেই এই রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে মুছে ফেলা যায় না।
এ কালের অনেকে বাংলাদেশে নতুন সাংস্কৃতিক উপাদান ও তৎপরতা যুক্ত করতে চান, তৈরি করতে চান নতুন সাংস্কৃতিক প্রতিমা, যেখানে মুসলমানকেই অনিবার্য উপাদান আকারে ভাবা হয়। অথচ তারাই আবার বহুত্ববাদের প্রসঙ্গ টানেন। রবীন্দ্রনাথের বিপরীতে তারা এমন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে দাঁড় করাতে চান, যাঁরা শিল্প ও নন্দনতাত্ত্বিক কারণে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাঁদের সৃষ্টিসম্ভার ‘জাতীয়’ হয়ে ওঠে নি। তার কারণ এই নয় যে, তাঁরা প্রতিভা-সমুজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব নন; তার কারণ এই—প্রথমত, বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাস পরিগঠনকালে তাঁরা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকে মান্য মনে করেছেন। দ্বিতীয়ত, তাঁদের রচনাসম্ভারে অনুপস্থিত সেই আরাধ্য বৈচিত্র্য ও ঐক্য এবং দার্শনিক বিশ্ববীক্ষা, যা দিয়ে সাহিত্য-ব্যক্তিত্বের ঐতিহাসিক নেতৃত্বকে চিহ্নিত করা যায়। সাংস্কৃতিক মান্যায়নের দিক থেকে রবীন্দ্রনাথ তাই হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অনিবার্য অংশ। সাংস্কৃতিক পরিসরে বারবার উচ্চারিত হয়েছে তাঁর জীবন ও সাহিত্য।
দৃষ্টান্ত হিসেবে পূর্ববঙ্গের মুসলিম সাহিত্য সমাজের কাজের দিকে নজর ফেরানো যাক। ১৯২৬ সালে এই সংগঠনের প্রথম সম্মিলনের সভাপতি এ এফ রহমান রবীন্দ্রনাথের বাণী দিয়েই শেষ করেছিলেন তাঁর বক্তৃতা। সাহিত্য সমাজের প্রথম অধিবেশনে পাঠ করা হয়েছিল ‘রবীন্দ্রকাব্যের স্বরূপ’ নামের একটি প্রবন্ধ। সম্পাদক আবুল হুসেন লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের এ যুগের Representative man, এই সমাজের প্রথম অধিবেশনেই তাঁর কাব্যের আলোচনা শুভ লক্ষণ সূচনা করেছে। তাঁর কাব্য হতে আমরা এই শিক্ষা লাভ করি যেন সংস্কারকে ডিঙ্গিয়ে মনকে মুক্ত করে সত্যকে ও মানুষকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে পারি।’ সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত লেখকদের বড় অংশ ব্যাপকভাবে রবীন্দ্র-অনুরাগী। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাঁদের লেখা ও ইতিবাচক মন্তব্যের সংখ্যা প্রচুর।

ঘোর পাকিস্তান আমলেও পাকিস্তানবাদী পত্রিকাগুলো রবীন্দ্রজয়ন্তী ও রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবসের খবর ছাপত। রবীন্দ্রনাথের বাণী প্রয়োগ করে ছাপা হত বিজ্ঞাপন। যেমন ১৯৬৫ সালের ১৪ আগস্ট-এ আজাদ পত্রিকায় ‘সোনার বাংলা ব্লেডে’র বিজ্ঞাপনে ছাপা হয়েছে ‘‘আমার সোনার বাংলা গানে’র অংশবিশেষ। ছাপা হয়েছে সাধারণ কোনো সংখ্যায় নয়, ‘আজাদি দিবস’’ উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে। এমনকি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান আন্দোলন ও মুসলিম সাহিত্য শীর্ষক বইয়ে গৃহীত হলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর লেখার শিরোনাম দেওয়া হলো ‘পাকিস্তান কেন’; আদতে প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথের ‘হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক প্রবন্ধের একটি অংশ। আর ‘পাকিস্তান কেন’ শীর্ষক রচনাটি প্রথম ছাপা হয়েছিল ১৯৪৪ সালে—পাকিস্তান পত্রিকায়। তার মানে হলো, রবীন্দ্রনাথকে স্বীকার করতেই হয়েছে। অথচ পাকিস্তানবাদী সংস্কৃতি নির্মাণের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছিল প্রবল। কিন্তু শেষমেশ পাকিস্তানবাদী সাংস্কৃতিক প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে।
আর তাই, এখন এই মুহূর্তে কাউকে বা কোনো গোষ্ঠীকে সাংস্কৃতিক প্রতিমায় পরিণত ‘করতে হবে’ কিংবা ‘করা দরকার’—এ জাতীয় চিন্তা অসম্ভব ও অদরকারি লাগে। কেননা বাঙালি ও বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অভ্যাস নতুন প্রতিমাকে আকস্মিক দ্রুততায় গ্রহণ করবে না। বাঙালি কেন, কোনো জনগোষ্ঠীই ঐতিহাসিকভাবে তেমন করে নি। এমনকি রাষ্ট্র ও তার নিয়ন্ত্রিত সমস্ত প্রতিষ্ঠান চাইলেও তা কার্যত অসম্ভব। রাষ্ট্রযন্ত্র যদি প্রতিদিন স্তব আকারে সাংস্কৃতিক শ্লোকও পাঠ করে তাতেও নতুন সাংস্কৃতিক উপাদান পরিগৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তার বড় কারণ—কোনো জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক অবচেতনে ব্যক্তিত্ব ও তার চিন্তার সাংস্কৃতিক প্রবেশ ঘটেছে ধীর প্রক্রিয়ায়। রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটেছে।
ভাষা যদি হয়ে থাকে সংস্কৃতির মৌল উপাদান এবং সাংস্কৃতিক ক্ষমতার চিরায়ত প্রকাশ, তাহলে মনে রাখা ভালো যে, রবীন্দ্রনাথ ভাষিকভাবেই বাংলাদেশে উৎপাদিত ও পুনরুৎপাদিত হয়েছেন। ন্যূনতম একশো বছর ধরে বাঙালির সাংস্কৃতিক কল্পনা রবীন্দ্রনাথকে নির্মাণ করেছে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাহিত্যেও—যেমন হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য—রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি প্রবল। এ কারণেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন।
প্রশ্ন হতে পারে, রবীন্দ্রনাথের কাছে বাংলাদেশ ও বাঙালি কি ‘চিরকেলে সাংস্কৃতিক দাস’ হয়েই থাকবে? তাঁকে ঘিরে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাঙালি চিরকালই রবীন্দ্রনাথকে প্রশ্ন করে গেছে। আবার, মর্মভরে গ্রহণও করেছে। যাঁরা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মনের কোণেও লুকিয়ে আছে বহুমাত্রিক প্রশ্ন। কিন্তু সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে অস্বীকার করা আর প্রশ্ন করা তো এক বিষয় নয়। দ্বিচারিতার কুয়াশা কাটিয়ে বরং মেনে নেয়াই ভালো যে, রবীন্দ্রনাথ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংযু্ক্তি ঐতিহাসিক এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এর প্রভাব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে মানবো, অথচ বাঙালির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশমানতাকে অস্বীকার করব, তা হয় না।

রবীন্দ্রনাথকে ভাঙতে পারলে অনেকের শান্তি হয়; যদি ভাঙা নাও যায়, অন্ততপক্ষে আঁচড় কেটে কেউ কেউ তৃপ্তি পান। বাংলা অঞ্চলে সেই আঁচড় কাটার ইতিহাস বেশ পুরনো। এমনকি বিগত দুই বছরেও নানামাত্রিক নখরাঘাত চোখে পড়েছে; প্রশ্ন তোলা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি, ধর্ম কিংবা অঞ্চলগত পরিচয় প্রসঙ্গে। সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রবাহ থেকে তাঁকে লুপ্ত করে দেওয়া যায় কিনা এমন ভাবনাও কারও কারও মগজে উর্বরতা পেয়েছে। এতে কোনো বিস্ময় নেই; বরং প্রশ্নই স্বাভাবিক; কিন্তু প্রশ্নের পেছনের কার্যকারণ কী? নাকি এই কালে এসে ইতিহাসের এক পর্বের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে মাত্র?
ষাট-সত্তর বছর আগে পাকিস্তান-পর্বে পূর্ববঙ্গের বাঙালিদের একটি অংশ রবীন্দ্রনাথকে প্রশ্ন দিয়েই মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন এবং নিয়েছিলেন বাতিলের উদ্যোগ। তাদের কাছে রাষ্ট্র গঠনের প্রধান উপাদান ছিল দুই পরিচয়—পাকিস্তান ও মুসলমান। রবীন্দ্রনাথের ‘হিন্দু’ ও ‘বাঙালি’ পরিচিতির কারণে তাঁরা রবীন্দ্রনাথকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তো ‘পাকিস্তান’ নেই; তবু সমস্যা কোথায়? জবাবগুলোকে এভাবে সাজানো যেতে পারে:
প্রথমত, বাংলাদেশি বাঙালির জাতীয়তাবাদী অস্তিত্বকে অস্বীকার করার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই চিন্তার অধিকারীরা মনে করেন, জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত বর্ণবাদী ব্যাপার; আর তাই বর্ণবাদের পাশাপাশি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাবপ্রতিমাকেও অস্বীকার করা যেতে পারে। সেই সূত্রে তারা মনে করেন রবীন্দ্রনাথকে বাদ দেওয়া দরকার।
দ্বিতীয়ত, অনেকে ‘বাঙালি’ পরিচয়কে ‘হিন্দু’ ও ‘হিন্দুত্ববাদ’-এর সঙ্গে একীভূত করে ভাবতে চান বলে এই পরিচয়কে তারা বাতিলযোগ্য মনে করেন। তারই লেজুড় হয়ে রবীন্দ্রনাথও তাদের কাছে ‘হিন্দু’ ও ‘হিন্দুত্ববাদী’; আর সে কারণেই তাদের তরফে রবীন্দ্রনাথ পরিত্যাজ্য।
তৃতীয়ত, রবীন্দ্রনাথকে উহ্য বা অবনমিত রাখার তৎপরতায় আছে নতুন সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণ করার প্রবণতা। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় উপাদান—বাংলাদেশি মুসলমানের পরিচয়; রবীন্দ্রনাথ এখানে মুখ্য নন, তাঁর গৌণ উপস্থিতিতেই তারা সন্তুষ্ট।
সাধারণভাবে এই তিন প্রবণতা রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতাকে বাতিল করে দিতে চায়; কিন্তু বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নের মীমাংসা করতে পারে না। যেমন—যারা বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান থেকে জাতীয়তাবাদ ও রবীন্দ্রনাথকে বাতিলযোগ্য মনে করেন তারা জাতীয়তা ও সাহিত্যের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা বিস্মৃত হন। ফলে প্রশ্ন জাগে, বর্ণবাদের বাইরে জাতীয়তাবাদের ভেতর কি আত্মরক্ষামূলক উপাদান নেই? রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য বাঙালির সাংস্কৃতিক সুরক্ষাবলয় তৈরি করেনি?
বাঙালিত্ব ও হিন্দুত্বকে যারা একই চিন্তার দুই রকম উৎসারণ বলে মনে করেন তারাও ইতিহাসের পর্বগুলো ধোঁয়াটে করে ফেলেন। তখন জবাব খুঁজতে হয় এই প্রশ্নের—ইতিহাসের সব পর্বের বাঙালি কি ‘হিন্দু’ সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছিল?
মুসলমানের পরিচয়কে কেন্দ্র করে যাঁরা নতুন সংস্কৃতির কথা বলেন, তাঁদের কথায় মনে হয় সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরি করা নিতান্ত ডালভাতের ব্যাপার। কেবল ইচ্ছা আর ক্ষমতা থাকলেই হলো। সে কারণে রবীন্দ্রনাথকে বাদ দেওয়া কোনো বিষয়ই নয়। কিন্তু চাইলেই কি নতুন সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরি করা যায়?
ঐতিহাসিক সত্য হলো, জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তার পরিগঠন ছাড়া আধুনিক রাষ্ট্র গঠিত হয়নি। ইউরোপের জাতিরাষ্ট্রগুলোর উদ্ভবের পেছনে আছে জাতীয় চেতনা। বিশ্বের উপনিবেশিত অঞ্চলসমূহে জাতীয়তাবাদ ছিল আত্মরক্ষার শক্তি। ফলে জাতীয়তাবাদের বর্ণবাদী ও ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার প্রবণতা সত্ত্বেও বলতে হয় জাতীয়তাবাদ মাত্রই ‘খারাপ’ বস্তু নয়।
অন্যদিকে, ‘বাঙালি’ পরিচয়ও আদি ও অকৃত্রিম কোনো চিহ্নের সমষ্টি নয়। উনিশ শতকের বাঙালি, বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সময়কার বাঙালি, চল্লিশের দশকের বাঙালি, বায়ান্নোর ভাষা-আন্দোলনের বাঙালি, পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি সবসময় একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বাঙালি নয়। একই ধরনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গ-অঞ্চলে ‘বাঙালি’ পরিচয় গড়ে ওঠেনি। আর তাই, এ কথা বলা যায় না যে, ৪৭-পূর্ব বাঙালি পরিচয়ের উপাদানই রূপান্তরহীনভাবে পূর্ববঙ্গের বাঙালি জাতীয়তাবাদকে পুনর্গঠিত করেছে।
সমকালীন রবীন্দ্রবিরোধীরা নিশ্চয়ই জানেন, রবীন্দ্রনাথ জাতীয়তাবাদের কট্টর সমালোচক। কিন্তু এ অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী চিন্তা গড়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাথকে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সূত্রে। এক্ষেত্রে এও বলা দরকার, বাঙালির জাতীয়তাবাদে রবীন্দ্রনাথকে একক হিস্যা দেওয়া হচ্ছে—ব্যাপারটি তেমনও নয়; কেননা লালন, নজরুল, জীবনানন্দ—এমনকি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো ‘কিশোর কবি’ও তখন বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিমিশ্রিত হয়েছেন। যদিও মানতে হবে শেষপর্যন্ত শহুরে মধ্যবিত্তের সংস্কৃতিই প্রাধান্য পেয়েছে।
আদতে ষাটের দশকে পূর্ববঙ্গে নতুন বাঙালি জাতীয়তাবাদ দেখা দিয়েছে, যার সঙ্গে পূর্ববর্তী বাঙালি জাতীয়তাবাদী চিন্তার রাজনৈতিক সংযোগ শূন্য। মূলত রবীন্দ্রনাথ নির্মিত হয়েছেন নতুন বয়ানে, নতুন লক্ষ্যে। চাইলেই এই রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে মুছে ফেলা যায় না।
এ কালের অনেকে বাংলাদেশে নতুন সাংস্কৃতিক উপাদান ও তৎপরতা যুক্ত করতে চান, তৈরি করতে চান নতুন সাংস্কৃতিক প্রতিমা, যেখানে মুসলমানকেই অনিবার্য উপাদান আকারে ভাবা হয়। অথচ তারাই আবার বহুত্ববাদের প্রসঙ্গ টানেন। রবীন্দ্রনাথের বিপরীতে তারা এমন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে দাঁড় করাতে চান, যাঁরা শিল্প ও নন্দনতাত্ত্বিক কারণে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাঁদের সৃষ্টিসম্ভার ‘জাতীয়’ হয়ে ওঠে নি। তার কারণ এই নয় যে, তাঁরা প্রতিভা-সমুজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব নন; তার কারণ এই—প্রথমত, বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাস পরিগঠনকালে তাঁরা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকে মান্য মনে করেছেন। দ্বিতীয়ত, তাঁদের রচনাসম্ভারে অনুপস্থিত সেই আরাধ্য বৈচিত্র্য ও ঐক্য এবং দার্শনিক বিশ্ববীক্ষা, যা দিয়ে সাহিত্য-ব্যক্তিত্বের ঐতিহাসিক নেতৃত্বকে চিহ্নিত করা যায়। সাংস্কৃতিক মান্যায়নের দিক থেকে রবীন্দ্রনাথ তাই হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অনিবার্য অংশ। সাংস্কৃতিক পরিসরে বারবার উচ্চারিত হয়েছে তাঁর জীবন ও সাহিত্য।
দৃষ্টান্ত হিসেবে পূর্ববঙ্গের মুসলিম সাহিত্য সমাজের কাজের দিকে নজর ফেরানো যাক। ১৯২৬ সালে এই সংগঠনের প্রথম সম্মিলনের সভাপতি এ এফ রহমান রবীন্দ্রনাথের বাণী দিয়েই শেষ করেছিলেন তাঁর বক্তৃতা। সাহিত্য সমাজের প্রথম অধিবেশনে পাঠ করা হয়েছিল ‘রবীন্দ্রকাব্যের স্বরূপ’ নামের একটি প্রবন্ধ। সম্পাদক আবুল হুসেন লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের এ যুগের Representative man, এই সমাজের প্রথম অধিবেশনেই তাঁর কাব্যের আলোচনা শুভ লক্ষণ সূচনা করেছে। তাঁর কাব্য হতে আমরা এই শিক্ষা লাভ করি যেন সংস্কারকে ডিঙ্গিয়ে মনকে মুক্ত করে সত্যকে ও মানুষকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে পারি।’ সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত লেখকদের বড় অংশ ব্যাপকভাবে রবীন্দ্র-অনুরাগী। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাঁদের লেখা ও ইতিবাচক মন্তব্যের সংখ্যা প্রচুর।

ঘোর পাকিস্তান আমলেও পাকিস্তানবাদী পত্রিকাগুলো রবীন্দ্রজয়ন্তী ও রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবসের খবর ছাপত। রবীন্দ্রনাথের বাণী প্রয়োগ করে ছাপা হত বিজ্ঞাপন। যেমন ১৯৬৫ সালের ১৪ আগস্ট-এ আজাদ পত্রিকায় ‘সোনার বাংলা ব্লেডে’র বিজ্ঞাপনে ছাপা হয়েছে ‘‘আমার সোনার বাংলা গানে’র অংশবিশেষ। ছাপা হয়েছে সাধারণ কোনো সংখ্যায় নয়, ‘আজাদি দিবস’’ উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে। এমনকি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান আন্দোলন ও মুসলিম সাহিত্য শীর্ষক বইয়ে গৃহীত হলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর লেখার শিরোনাম দেওয়া হলো ‘পাকিস্তান কেন’; আদতে প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথের ‘হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক প্রবন্ধের একটি অংশ। আর ‘পাকিস্তান কেন’ শীর্ষক রচনাটি প্রথম ছাপা হয়েছিল ১৯৪৪ সালে—পাকিস্তান পত্রিকায়। তার মানে হলো, রবীন্দ্রনাথকে স্বীকার করতেই হয়েছে। অথচ পাকিস্তানবাদী সংস্কৃতি নির্মাণের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছিল প্রবল। কিন্তু শেষমেশ পাকিস্তানবাদী সাংস্কৃতিক প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে।
আর তাই, এখন এই মুহূর্তে কাউকে বা কোনো গোষ্ঠীকে সাংস্কৃতিক প্রতিমায় পরিণত ‘করতে হবে’ কিংবা ‘করা দরকার’—এ জাতীয় চিন্তা অসম্ভব ও অদরকারি লাগে। কেননা বাঙালি ও বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অভ্যাস নতুন প্রতিমাকে আকস্মিক দ্রুততায় গ্রহণ করবে না। বাঙালি কেন, কোনো জনগোষ্ঠীই ঐতিহাসিকভাবে তেমন করে নি। এমনকি রাষ্ট্র ও তার নিয়ন্ত্রিত সমস্ত প্রতিষ্ঠান চাইলেও তা কার্যত অসম্ভব। রাষ্ট্রযন্ত্র যদি প্রতিদিন স্তব আকারে সাংস্কৃতিক শ্লোকও পাঠ করে তাতেও নতুন সাংস্কৃতিক উপাদান পরিগৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তার বড় কারণ—কোনো জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক অবচেতনে ব্যক্তিত্ব ও তার চিন্তার সাংস্কৃতিক প্রবেশ ঘটেছে ধীর প্রক্রিয়ায়। রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটেছে।
ভাষা যদি হয়ে থাকে সংস্কৃতির মৌল উপাদান এবং সাংস্কৃতিক ক্ষমতার চিরায়ত প্রকাশ, তাহলে মনে রাখা ভালো যে, রবীন্দ্রনাথ ভাষিকভাবেই বাংলাদেশে উৎপাদিত ও পুনরুৎপাদিত হয়েছেন। ন্যূনতম একশো বছর ধরে বাঙালির সাংস্কৃতিক কল্পনা রবীন্দ্রনাথকে নির্মাণ করেছে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাহিত্যেও—যেমন হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য—রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি প্রবল। এ কারণেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন।
প্রশ্ন হতে পারে, রবীন্দ্রনাথের কাছে বাংলাদেশ ও বাঙালি কি ‘চিরকেলে সাংস্কৃতিক দাস’ হয়েই থাকবে? তাঁকে ঘিরে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাঙালি চিরকালই রবীন্দ্রনাথকে প্রশ্ন করে গেছে। আবার, মর্মভরে গ্রহণও করেছে। যাঁরা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মনের কোণেও লুকিয়ে আছে বহুমাত্রিক প্রশ্ন। কিন্তু সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে অস্বীকার করা আর প্রশ্ন করা তো এক বিষয় নয়। দ্বিচারিতার কুয়াশা কাটিয়ে বরং মেনে নেয়াই ভালো যে, রবীন্দ্রনাথ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংযু্ক্তি ঐতিহাসিক এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এর প্রভাব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে মানবো, অথচ বাঙালির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশমানতাকে অস্বীকার করব, তা হয় না।
.png)

‘যুদ্ধ’ শব্দটার সঙ্গে আমাদের পরিচয় অনেক দিনের। টিভি খুললেই যুদ্ধের খবর, ফেসবুকে ঢুকলেই ধ্বংসস্তূপ, আগুন আর মানুষের কান্নার ছবি। এত বেশি দেখতে দেখতে আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। নিউজফিড স্ক্রল করতে এখন আর আঙুল থেমে যায় না।
১৫ মিনিট আগে
হাড় সুস্থ রাখতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিন। এ ছাড়া ভিটামিন কে, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও ফসফরাস হাড় ও পেশি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্যালসিয়ামের কথা উঠলেই সবার আগে আসে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের নাম। ২০০ মিলিলিটার এক গ্লাস দুধে প্রায় ২৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
৯ ঘণ্টা আগে
আমাদের প্রতিবাদী গানের ইতিহাস দীর্ঘ। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সংগীত রাজপথে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। প্রতিটি আন্দোলনেই প্রতিবাদী গান নিজস্ব স্বর ও স্বকীয়তা নিয়ে হাজির হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সেই ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে র্যাপ গান।
২০ ঘণ্টা আগে
চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান নিয়ে এরই মধ্যে বেশকিছু গবেষণা হয়েছে। আজকের লেখায় গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তিনটি গবেষণা নিয়ে আলোচনা করব। গবেষণাগুলোতে এই গণঅভ্যুত্থানকে তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষকরা বিশ্লেষণ করেছেন।
১ দিন আগে