হাতিয়ায় শিশুকে যৌননির্যাতনের অভিযোগে জামায়াত কর্মীকে ৫০ বেত্রাঘাত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
হাতিয়া (নোয়াখালী)

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ০৫
হাতিয়ায় শিশুকে যৌননির্যাতনে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন। সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক শিশুকে (৯) যৌননির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হেলাল উদ্দিন নামে একজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিসে তাঁকে ৫০ বেত্রাঘাত করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও তা নিতে অস্বীকার করে শিশুর পরিবার।

গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) ওই বিচারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি জানিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন।

অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় পল্লি চিকিৎসক। স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী তিনি। তবে স্থানীয়দের দাবি, তিনি একসময় যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হোন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে দোকান থেকে মশলা কিনে ফিরছিল ভুক্তভোগী শিশু ও তার ছোট বোন। পথে তাদের ডাকেন হেলাল উদ্দিন। পরে ছোট বোন বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে যাওয়ার পর সে চিৎকার করে ফিরে আসে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিস বসে।

সালিসে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, শিশুর পরিবারের সম্মতিতেই তারা সালিসের আয়োজন করে। শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের অভিযোগের ভিত্তিতে হেলাল উদ্দিনের বিচার হয়। এতে উপস্থিত ব্যক্তিদের সম্মতিতে তাঁকে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে শিশুটির পরিবার ওই টাকা নিতে রাজি হয়নি।

জামায়াতের রাজনীতিকে সক্রিয়া থাকার কথা স্বীকার করে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, ভিকটিম পরিবার দরিদ্র ও অসহায়। তাই তারা প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার নারীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। সে সব তদন্ত করে তাঁর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো যেত।

শিশুর নানা স্ট্রিমকে বলেন, স্থানীয়ভাবে যে বিচার করেছে, তা তারা মেনে নিয়েছেন। তবে টাকা নেইনি। ‘বড় ঘটনা’ ঘটলে তারা থানায় অভিযোগ করতেন।

ঘটনা এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্ট্রিমকে বলেন, যৌননিপীড়নমূলক ঘটনার বিচার গ্রাম্য সালিসে বা ইউনিয়ন পরিষদে করার কোনো আইনগত এক্তিয়ার নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।

হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, ঘটনা এলাকাটি হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত