কবি ফররুখ আহমদের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী
তামান্না আনজুম

সাহিত্য সমালোচকদের মতে, ফররুখ আহমদ কাব্যের মাধ্যমে ইসলামি ভাবধারাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি রাষ্ট্রের কোনো আনুকূল্য পাননি। বরং তাঁকে শিকার হতে হয়েছে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিহিংসার। তবুও ক্ষুরধার কলম থেমে থাকেনি।
কিশোর বয়স থেকেই কবিতার জগতে প্রবেশ করলেও ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ হবীবুল্লাহ বাহার সম্পাদিত বুলবুল পত্রিকার শ্রাবণ সংখ্যায় ‘রাত্রি’ নামে এবং মোহাম্মদ আকরম খাঁ সম্পাদিত মোহম্মদীতে ‘পাপ-জন্ম’ নামে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘অন্তর্লীন’ প্রকাশিত হয় মোহাম্মদীতে আষাঢ় সংখ্যায়। অন্যান্য প্রকাশিত গল্প বিবর্ণ, মৃত বসুধা, যে পুতুল ডলির মা, প্রচ্ছন্ন নায়িকা প্রকাশিত হয় ১৩৪৪-৪৬ বঙ্গব্দের পরিসরে। ১৯৩৮ সালে আল্লামা ইকবালের মৃত্যুতে তাঁকে উদ্দেশ্যে করে লেখেন স্মরণী। ১৯৪১ সালে কাব্যে কোরান শিরোনামে মোহাম্মদী ও সওগাত পত্রিকায় বেশ কিছু সুরার স্বচ্ছন্দ অনুবাদ করেন।
১৯৪৫ সাল থেকে মোহাম্মদী পত্রিকাতে যোগ দেন। দেশভাগের পর ঢাকায় রেডিও পাকিস্তানে যোগ দেন। ঢাকা বেতারে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি জনপ্রিয় ‘ছোটদের খেলাঘর’ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।
প্রথমদিকে বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে মুসলিম রেনেসাঁর সমর্থক হন। ফররুখ আহমদ প্রথম খ্যাতি পান ১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা ‘লাশ’ কবিতার জন্য। ১৯৪৪ সালের ৫৬ এর মন্বন্তরের পটভূমিতে লেখা তাঁর 'লাশ' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অনন্য দলিল। দুর্ভিক্ষ নিয়ে ব্যথিত কবি উচ্চকণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন:
যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোড়,
কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়,
সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প'ড়ে আছে জমিনের 'পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর।
কবিতাটি প্রকাশিত হয় সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আকাল’-এ। প্রথম কাব্যগন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশিত হবার পরপরই কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম তাঁর কবিতার সম্ভাবনা প্রকাশ করেন। ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘আজাদ করো পাকিস্তান’ কাব্য-পুস্তিকা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা কবিতায় আরবি ও ফারসি শব্দের যে সার্থক প্রয়োগ শুরু করেছিলেন, মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ তা আরও বেগবান করেন। মুসলিম কবিদের মধ্যে কাব্যনাটক রচনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন সফল পথিকৃৎ। তাঁর ‘নৌফেল ও হাতেম’ একটি জনপ্রিয় কাব্যনাটক। সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা রচনায়ও তিনি ছিলেন সমান সফল। বলা হয়, বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের পরে আর কোনো কবি এত বেশি সফল সনেট রচনা করতে পারেননি। তাঁর সনেট গ্রন্থের মধ্যে ‘মুহূর্তের কবিতা’, ‘দিলরুবা’ ও ‘অনুস্বার’ প্রধান।
গদ্য কবিতা রচনাতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন কবি ফররুখ আহমদ। তাঁর গদ্য কবিতার সংকলন ‘হাবেদা মরুর কাহিনী’ পাঠকমহলে বেশ সফল। এ ছাড়া তাঁর বিখ্যাত গীতিনাট্য হলো ‘আনার কলি’।
তবে ‘সাত সাগরের মাঝি’ তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা গ্রন্থ। এটি ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। প্রকাশের এত বছর পরও এই গ্রন্থ সমানভাবে পাঠকসমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসনীয়। এই কাব্যগ্রন্থের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ও বিখ্যাত কবিতা ‘পাঞ্জেরী’।
রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শুন্যতা ঘেরী।
কবি ফররুখ আহমদের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও সমাদৃত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের ভাষা, ব্যাকুলতা ও আবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কবি একইসঙ্গে মুসলিম সমাজকে তাদের অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে উজ্জীবিত করছেন, আবার তাদের বর্তমান পতিত জীবনযাপন দেখে ব্যথিত হয়েছেন। তিনি তাদের সোনালি দিনের শোভা গ্রহণ করতে বলছেন, কিন্তু অতীতে ফিরে যেতে নিষেধ করছেন। আর অতীতে ফিরে না গিয়ে ঐতিহ্য ধারণ করার নামই সম্ভবত জাগরণ। এই ডাক দিয়ে যাওয়ার কারণে ফররুখ আহমদকে জাগরণের কবি বলা হয়।
ফররুখ আহমদকে প্রায়ই ‘পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এই কবি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালিয়ে ছাত্র হত্যা করলে এর প্রতিবাদে রেডিও পাকিস্তান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিলেন। নেতৃত্ব দিয়ে সবাইকে নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছিলেন রাজপথে। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের হাত থেকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
আবার ‘হায়াতদারাজ খান’ ছদ্মনামে পাকিস্তানি শাসকচক্রের অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে রচনা করেছিলেন অসংখ্য ব্যঙ্গ কবিতা। ফররুখের তথাকথিত অপরাধ শুধু এটাই ছিল যে, তিনি তাঁর জনগোষ্ঠীর ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক জাগরণকে পুরোপুরি ধরতে পারেননি। আহমদ ছফা তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘ফররুখ আহমদের অপরাধ শেষ পর্যন্ত এই দাঁড়ায় যে, তিনি অন্যান্য বিশ্বাসঘাতকদের মত শ্লোগান বদল করতে পারেননি। সৎ কবিরা অনেক সময় ধরতাই বুলিতে গা ঢেলে দিতে পারেন না। সেটাই তাদের একমাত্র অপরাধ। কবি ফররুখ আহমদও এই একই অপরাধে অপরাধী।’
কবি ফররুখ আহমদকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চরম দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়েছে। তিনি তাঁর কবিতায় সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা লিখে গেলেও, নিজের জীবনে তাঁকে বহু দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতে হয়েছে। তাঁর এক ছেলে ডাক্তারি পড়ছিলেন, কিন্তু টাকার অভাবে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। চিকিৎসার অভাবে চোখের সামনে এক মেয়ে মারা যান।
টাকার অভাবে ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দিনের পর দিন না খেয়েই রোজা রাখতেন তিনি। এই জীর্ণ অবস্থাতেই রমজান মাসে মারা যান বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কবি। ১৯৭৪ সালের ১৯শে অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁকে কোথায় দাফন করা হবে, তা নিয়েও এক বড় সমস্যা দেখা দেয়। প্রখ্যাত সাংবাদিক আসাফউদ্দৌলা রেজাসহ অনেকেই সরকারিভাবে কোনো জায়গা পাওয়া যায় কি না, তার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জায়গা পাওয়া যায়নি। অবশেষে কবি বেনজীর আহমদ উদারতা দেখান এবং তাঁর শাহজাহানপুরের পারিবারিক গোরস্থানে কবি ফররুখ আহমদকে দাফন করার জায়গা দান করেন।

সাহিত্য সমালোচকদের মতে, ফররুখ আহমদ কাব্যের মাধ্যমে ইসলামি ভাবধারাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি রাষ্ট্রের কোনো আনুকূল্য পাননি। বরং তাঁকে শিকার হতে হয়েছে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিহিংসার। তবুও ক্ষুরধার কলম থেমে থাকেনি।
কিশোর বয়স থেকেই কবিতার জগতে প্রবেশ করলেও ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ হবীবুল্লাহ বাহার সম্পাদিত বুলবুল পত্রিকার শ্রাবণ সংখ্যায় ‘রাত্রি’ নামে এবং মোহাম্মদ আকরম খাঁ সম্পাদিত মোহম্মদীতে ‘পাপ-জন্ম’ নামে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘অন্তর্লীন’ প্রকাশিত হয় মোহাম্মদীতে আষাঢ় সংখ্যায়। অন্যান্য প্রকাশিত গল্প বিবর্ণ, মৃত বসুধা, যে পুতুল ডলির মা, প্রচ্ছন্ন নায়িকা প্রকাশিত হয় ১৩৪৪-৪৬ বঙ্গব্দের পরিসরে। ১৯৩৮ সালে আল্লামা ইকবালের মৃত্যুতে তাঁকে উদ্দেশ্যে করে লেখেন স্মরণী। ১৯৪১ সালে কাব্যে কোরান শিরোনামে মোহাম্মদী ও সওগাত পত্রিকায় বেশ কিছু সুরার স্বচ্ছন্দ অনুবাদ করেন।
১৯৪৫ সাল থেকে মোহাম্মদী পত্রিকাতে যোগ দেন। দেশভাগের পর ঢাকায় রেডিও পাকিস্তানে যোগ দেন। ঢাকা বেতারে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি জনপ্রিয় ‘ছোটদের খেলাঘর’ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।
প্রথমদিকে বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে মুসলিম রেনেসাঁর সমর্থক হন। ফররুখ আহমদ প্রথম খ্যাতি পান ১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা ‘লাশ’ কবিতার জন্য। ১৯৪৪ সালের ৫৬ এর মন্বন্তরের পটভূমিতে লেখা তাঁর 'লাশ' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অনন্য দলিল। দুর্ভিক্ষ নিয়ে ব্যথিত কবি উচ্চকণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন:
যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোড়,
কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়,
সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প'ড়ে আছে জমিনের 'পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর।
কবিতাটি প্রকাশিত হয় সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আকাল’-এ। প্রথম কাব্যগন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশিত হবার পরপরই কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম তাঁর কবিতার সম্ভাবনা প্রকাশ করেন। ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘আজাদ করো পাকিস্তান’ কাব্য-পুস্তিকা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা কবিতায় আরবি ও ফারসি শব্দের যে সার্থক প্রয়োগ শুরু করেছিলেন, মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ তা আরও বেগবান করেন। মুসলিম কবিদের মধ্যে কাব্যনাটক রচনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন সফল পথিকৃৎ। তাঁর ‘নৌফেল ও হাতেম’ একটি জনপ্রিয় কাব্যনাটক। সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা রচনায়ও তিনি ছিলেন সমান সফল। বলা হয়, বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের পরে আর কোনো কবি এত বেশি সফল সনেট রচনা করতে পারেননি। তাঁর সনেট গ্রন্থের মধ্যে ‘মুহূর্তের কবিতা’, ‘দিলরুবা’ ও ‘অনুস্বার’ প্রধান।
গদ্য কবিতা রচনাতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন কবি ফররুখ আহমদ। তাঁর গদ্য কবিতার সংকলন ‘হাবেদা মরুর কাহিনী’ পাঠকমহলে বেশ সফল। এ ছাড়া তাঁর বিখ্যাত গীতিনাট্য হলো ‘আনার কলি’।
তবে ‘সাত সাগরের মাঝি’ তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা গ্রন্থ। এটি ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। প্রকাশের এত বছর পরও এই গ্রন্থ সমানভাবে পাঠকসমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসনীয়। এই কাব্যগ্রন্থের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ও বিখ্যাত কবিতা ‘পাঞ্জেরী’।
রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শুন্যতা ঘেরী।
কবি ফররুখ আহমদের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও সমাদৃত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের ভাষা, ব্যাকুলতা ও আবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কবি একইসঙ্গে মুসলিম সমাজকে তাদের অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে উজ্জীবিত করছেন, আবার তাদের বর্তমান পতিত জীবনযাপন দেখে ব্যথিত হয়েছেন। তিনি তাদের সোনালি দিনের শোভা গ্রহণ করতে বলছেন, কিন্তু অতীতে ফিরে যেতে নিষেধ করছেন। আর অতীতে ফিরে না গিয়ে ঐতিহ্য ধারণ করার নামই সম্ভবত জাগরণ। এই ডাক দিয়ে যাওয়ার কারণে ফররুখ আহমদকে জাগরণের কবি বলা হয়।
ফররুখ আহমদকে প্রায়ই ‘পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এই কবি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালিয়ে ছাত্র হত্যা করলে এর প্রতিবাদে রেডিও পাকিস্তান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিলেন। নেতৃত্ব দিয়ে সবাইকে নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছিলেন রাজপথে। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের হাত থেকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
আবার ‘হায়াতদারাজ খান’ ছদ্মনামে পাকিস্তানি শাসকচক্রের অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে রচনা করেছিলেন অসংখ্য ব্যঙ্গ কবিতা। ফররুখের তথাকথিত অপরাধ শুধু এটাই ছিল যে, তিনি তাঁর জনগোষ্ঠীর ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক জাগরণকে পুরোপুরি ধরতে পারেননি। আহমদ ছফা তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘ফররুখ আহমদের অপরাধ শেষ পর্যন্ত এই দাঁড়ায় যে, তিনি অন্যান্য বিশ্বাসঘাতকদের মত শ্লোগান বদল করতে পারেননি। সৎ কবিরা অনেক সময় ধরতাই বুলিতে গা ঢেলে দিতে পারেন না। সেটাই তাদের একমাত্র অপরাধ। কবি ফররুখ আহমদও এই একই অপরাধে অপরাধী।’
কবি ফররুখ আহমদকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চরম দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়েছে। তিনি তাঁর কবিতায় সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা লিখে গেলেও, নিজের জীবনে তাঁকে বহু দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতে হয়েছে। তাঁর এক ছেলে ডাক্তারি পড়ছিলেন, কিন্তু টাকার অভাবে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। চিকিৎসার অভাবে চোখের সামনে এক মেয়ে মারা যান।
টাকার অভাবে ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দিনের পর দিন না খেয়েই রোজা রাখতেন তিনি। এই জীর্ণ অবস্থাতেই রমজান মাসে মারা যান বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কবি। ১৯৭৪ সালের ১৯শে অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁকে কোথায় দাফন করা হবে, তা নিয়েও এক বড় সমস্যা দেখা দেয়। প্রখ্যাত সাংবাদিক আসাফউদ্দৌলা রেজাসহ অনেকেই সরকারিভাবে কোনো জায়গা পাওয়া যায় কি না, তার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জায়গা পাওয়া যায়নি। অবশেষে কবি বেনজীর আহমদ উদারতা দেখান এবং তাঁর শাহজাহানপুরের পারিবারিক গোরস্থানে কবি ফররুখ আহমদকে দাফন করার জায়গা দান করেন।
.png)

আজ ‘শার্ক অ্যাওয়ারনেস ডে’ বা আন্তর্জাতিক হাঙর সচেতনতা দিবস। হাঙর সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে তাদের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরা এবং বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটিকে রক্ষা করাই এই দিবসের প্রধান লক্ষ্য। ভূ-পর্যটক তারেক অণু ২০১০ সালের জুনের শেষ দিকে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। মহ
১৯ ঘণ্টা আগে
লোকালয়ে কোনো বিপন্ন বন্যপ্রাণী আটকা পড়েছে কিংবা আহত হয়েছে, এমন খবর পেলেই এলাকার মানুষ যার ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করতেন, তিনি সীতেশ রঞ্জন দেব। দেশের মানুষের কাছে যিনি ‘সীতেশ বাবু’ নামেই বেশি পরিচিত। আহত পশুপাখি ও বন্যপ্রাণীদের পরম মমতায় সুস্থ করে তোলার এই অকৃত্রিম কারিগর আর নেই।
১৪ জুলাই ২০২৬
এমন অসংখ্য মেটাফোরে ছেয়ে থাকে আরবি ফুটবলের ধারাভাষ্য। বিভিন্ন তারকা প্লেয়াররাও ভূষিত হয় নানান খেতাবে। রোনালদো হয়ে যায় ‘কিংবদন্তি’ বা ‘দুর্ধর্ষ’, মেসি হয়ে যায় ‘পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য’ বা ‘প্রলয়ংকরী’, এরিক হাল্যান্ড হয় ‘ট্যাংক মানব’, রিয়াদ মাহরেজ হয়ে যায় ‘মরুর দুলাল’।
১৪ জুলাই ২০২৬
‘কৌতুক অভিনেতা’ বললেই সবার আগে দিলদারের নাম মাথায় আসে। তাঁকে সবাই ভালোবেসে ‘হাসির রাজা’ বলতেন। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকদের মনে আনন্দের ঢেউ। একের পর এক হাততালিতে মুখর হয়ে উঠত সিনেমা হল। তবে সেই সোনালি দিনগুলো আজ শুধুই স্মৃতি। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।
১৩ জুলাই ২০২৬