বিদায়, ‘বিরাট শিশু’ মুস্তাফা মনোয়ার

অর্থী দাস
অর্থী দাস

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১৫: ৩৬
স্ট্রিম গ্রাফিক

সাদাকালো টেলিভিশন সেটের ঝিরি ঝিরি শব্দ কিংবা অস্পষ্ট অবয়ব ঠিক করতে বাঁশের মাথায় বেঁধে রাখা অ্যান্টেনা ঘোরানো—একসময়ে গ্রাম কিংবা মফস্বলের বাড়িগুলোর পরিচিত চিত্র। শুক্রবারে এন্টেনা ঘুরাতেই দেখা মিলত পারুলের। ‘মনের…. কথা…’ বলে পারুলের উচ্ছ্বাস, ষাঁড় আর বাউলের মধ্যকার খুনসুটিতে পারুলের মধ্যস্থতায় ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার দৃশ্য দেশের প্রায় সব শিশুর কাছে অতি পরিচিত। এই খুনসুটির মাঝে একজন মানুষ আসতেন পর্দায়। পারুলের মতো শিশু নন তিনি। তিনি আসতেন সাদা ক্যানভাস, অনেক অনেক তুলি আর জলরং নিয়ে। পারুলের শিল্পী ভাই। পারুল নাচতে নাচতে, গাইতে গাইতে তার শিল্পী ভাইয়ের সামনে উপস্থিত হতো:

‘ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে…

পারুল: শিল্পী ভাই, কেমন আছ?

শিল্পী ভাই: আমি ভালো আছি, তুমি কেমন আছ?’

এভাবেই গল্প করতে করতে জলরং ও তুলির আঁচড়ে এঁকে ফেলতেন নানান ছবি। তাঁর সেই তুলির আঁচড় দেশের অগণিত শিশুর মনে আঁকিয়ে হবার স্বপ্নবীজ বপন করেছিল। বড়দের মনেও যে এই সুপ্তবাসনা জাগ্রত হয়েছিল এবং সে সংখ্যাটিও নিছক কম নয়। শহরের বিশেষ বিত্তের শিশুদের দেশি-বিদেশি নানান কমিক ও কার্টুনের সঙ্গে সংযোগ থাকলেও গ্রাম ও মফস্বলের শিশুদের জন্য ছিল ‘মনের কথা’। পারুল, বাউল, ষাঁড় এবং ডাক্তারের ভুবন ভোলানো অভিনয় শিশুদের মনে আনন্দের কল্লোল নিয়ে এসেছিল।

প্রাণ এবং প্রকৃতির মিশেলে নির্মল আনন্দের নাম ছিল ‘মনের কথা’। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছিলেন মনের কথার মনের মানুষ মুস্তাফা মনোয়ার। মনের কথার পুতুলেরা পর্দায় এলে অবাক না হয়ে উপায় ছিল না। হাত নেড়ে নেড়ে কথোপকথন কত জল্পনার যে জন্ম দিয়েছে!

বাউল, ষাঁড় ভাই, শিল্পী ভাই, ডাক্তারসহ আরো অন্যান্য চরিত্রদের সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্ত কথোপকথন, গান অভিনয়ের মাধ্যমে শিশু এবং জনমনে সচেতনতা তৈরি করেছে শুরু থেকেই। শুধুই সচেতনতাই নয়, ষাঁড় কীভাবে মানুষের ভাষায় কথা বলছে, বাউলের সঙ্গে মতের অমিল হলে কেন তেড়ে যায়, কিংবা কীভাবে যায়, এই প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরপাক খেতে খেতে উত্তর মিললে অনেকেই আবার পাপেটিয়ারও হতে চেয়েছেন। যার স্বপ্নদ্রষ্টা মুস্তাফা মনোয়ার।

২.

১৯৩৫ সালে জন্ম নেয়া এই মানুষটি স্কুল জীবনেই ছবি আঁকার প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে উঠেছিলেন। বাবা বিখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা কবিতা লেখার পাশাপাশি অসাধারণ গান গাইতেন। বাবার ক্যামেরা দিয়ে স্কুলজীবনে ফটোগ্রাফি করতেন মুস্তাফা মনোয়ার। ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি অগাধ টান ছিল শুরু থেকেই।

১৯৫২ সালে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের নবম শ্রেণির প্রতিবাদী কিশোর ভাষা আন্দোলন নিয়ে কার্টুন এঁকে পাকিস্তানি সরকারের রোষানলে পড়ে মাসখানেক কারাবরণ করেছিলেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের রক্তিম সূর্যের প্রতিরূপ স্থাপন করার পরিকল্পক ছিলেন তিনি।

মুস্তাফা মনোয়ার শুধু পুতুলের মধ্যেই প্রাণ সঞ্চার করেননি। প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন এই বিরলপ্রায় শিল্পটিতেই। ভারতবর্ষকে পুতুলনাচ বা পুতুলনাট্যের আদিভূমি বলা হয়। এটি চিরায়ত লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু, নানান ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও শিল্পী সংকটের কারণে বাংলাদেশে পুতুলনাট্যের গতি কিছুটা মন্থর ছিল।

ম্যাট্রিক পাশ করার পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হলেও ভালো না লাগায় ভর্তি হন কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে। মহাবিদ্যালয়ে পড়ার সময় জলরঙে তাঁর আঁকা ছবি দেখে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায় মুগ্ধ হয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ারের ছবি খুব অল্প রেখায় অনেক কথা বলতে পারে।’

সত্যজিৎ রায়ের এই কথার প্রতিফলণ কি আমরা মুস্তাফা মনোয়ারের সমগ্র জীবনের কর্মযজ্ঞে দেখিনি!

৩.

বাংলা রূপকথার অন্যতম গল্প ‘সাত ভাই চম্পা’। তাদের একমাত্র বোন পারুল, যে তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মা ও ভাইদের বিরুদ্ধে হওয়া চক্রান্তের পর্দা উন্মোচন করে; মা এবং ভাইদের উদ্ধার করে। সেই পারুলের নাম থেকে মনের কথার ‘পারুল’ চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। চরিত্রটি বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ ও কার্যকলাপের মধ্যদিয়ে নানান সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে।

‘পারুল’ চরিত্রটির সমাজ পরিবর্তনের ক্ষমতা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন ইউনিসেফের তৎকালীন কর্মকর্তা র‍্যাচেল কার্নেগি। নব্বয়ের দশকের শুরুতে ইউনিসেফ দক্ষিণ এশিয়ার কন্যাশিশুদের অধিকার ও শিক্ষার জন্য বেশ বড়সড় প্রকল্প হাতে নেয়। কার্নেগির উদ্যোগে মুস্তাফা মনোয়ারের ‘পারুল’ চরিত্রের আদলে ভারতীয় অ্যানিমেটর রাম মোহনের তুলি এবং ডেনমার্কের অ্যানিমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি জনপ্রিয় একটি চরিত্রের সৃষ্টি হয়। চরিত্রটির নাম ‘মীনা’! মীনা কার্টুনের মীনা! ভাইদের জাগানো পারুলের মতোই বাস্তব সমাজের কন্যাশিশুদের অধিকার সচেতন করতে শক্তিশালী এই চরিত্রটির খসড়াও তৈরি করেন মুস্তাফা মনোয়ার, উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং মুস্তাফা মনোয়ার নাম দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থে উল্লিখিত ‘সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম’ গণসংগীতটিতে মাত্র ১০ জন শিল্পীকে ক্যামেরা ও আয়নার কারসাজিতে শতশত শিল্পীতে রূপান্তরকারী ‘মন্টু’ই হলেন মুস্তাফা মনোয়ার!

স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ সালে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণ এবং বিকাশের লক্ষ্যে মুস্তাফা মনোয়ার শুরু করেন ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা। বিশ্বখ্যাত ‘সিসেমি স্ট্রিটে’র বাংলাদেশ সংস্করণ ‘সিসিমপুর’ ২০০৫ সালে যখন যাত্রা করে, সেটির মুখ্য সৃজনশীল উপদেষ্টা (চিফ ক্রিয়েটিভ অ্যাডভাইজার) ছিলেন তিনি। একনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটিকে তিনি এদেশের শিশুদের মনোজগতের উপযোগী করে তৈরী করেছিলেন। ভাষা থেকে শুরু করে চরিত্র ও গল্প—সবকিছুতেই দেশীয় পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

আশির দশকের শেষের দিকে মুস্তাফা মনোয়ার টেলিভিশনে পুতুলনাচের অনুষ্ঠান শুরু করেন। অবশ্য পুতুলনাট্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন বহু আগে। মুক্তিযুদ্ধেরও আগে। ‘পাপেটম্যান’ মুস্তাফা মনোয়ার কেঁদেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থীদের জন্য। বড় এবং অসহায় শিশুদের মনে একটু আনন্দের জোয়ার বয়ে দিতে তিনি শরণার্থী শিবিরে উপস্থাপন করেছিলেন প্রথম পাপেট শো।

পাকিস্তান টিভির চাকরিতে যোগদানের কিছুদিন পরেই মুস্তাফা মনোয়ারের পাপেটের যাত্রা শুরু হয়। টিভিতে ‘আজব দেশে’ নামে অনুষ্ঠান শুরু করেন ১৯৬৬ সালে। দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি সৃষ্টি করেন ‘বাঘা’ ও ‘মেনি’ নামে দুটি পাপেট চরিত্র। তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ ও পূর্ব বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানিদের নিপীড়নমূলক অবস্থানকে ব্যঙ্গ করে গেছেন চরিত্র দুটির মাধ্যমে। টানা তিন বছর ধরে চলা তুমুল জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে মুস্তাফা মনোয়ার বলেছিলেন, ‘আমার এই অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ছিল দেশাত্মবোধ জাগানো।’ সেই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি একেবারে ভিন্ন ধারার পাপেটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন পুরো দেশকে।

এ দেশের জন্য নতুন ধারার পুতুলের ব্যাপারে মুস্তাফা মনোয়ার বলেছিলেন, ‘দুই সুতার এই পাপেট আমাকে দারুণ আকর্ষণ করে। অসাধারণ দক্ষতায় শিল্পীরা এগুলো দিয়ে পারফর্ম করাতেন। টিভিতে যোগ দেওয়ার আগে ঢাকা আর্ট কলেজে থাকতেই এসব নিয়ে কিছু কাজ করেছি। যোগ দেওয়ার পর বুঝলাম, টিভিতে এসব ব্যবহারের সুযোগ আছে। আমাদের দেশেও পাপেট বা পুতুলনাচের ব্যবহার ছিল, তিন সুতা ব্যবহার করে সেগুলোকে নাচানো হতো। কিন্তু এগুলোর মুখের এক্সপ্রেশন বা চোখ নাড়ানো যেত না। টিভির চাহিদা আলাদা। এখানেও ক্লোজ শট, লং শট ব্যবহার করার সুযোগ আছে। তখন বিভিন্ন কারিগরি কৌশল যুক্ত করে টিভির জন্য উপযোগী পাপেট তৈরি করার কাজে নেমে পড়লাম।’

এই পাপেটগুলোর নিচের বা পেছনের দিক থেকে কাঠি বা রডের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা হয় পুতুলের চলন। আকারে হ্যান্ড বা গ্লাভ পাপেটের চেয়ে বড়। ফলে এই পুতুলগুলোর শরীরের বিভিন্ন অংশ সূক্ষ্মভাবে নাড়ানোর জন্য একাধিক রড বা কাঠি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুতুল ও সুতাপুতুলের মধ্যে পরিচালনাগত পার্থক্য রয়েছে। সুতাপুতুলের দেহের নানান অঙ্গ সুতার সাথে বাঁধা থাকে। পাপেটিয়াররা উপর থেকে হাতের সুনিপুণ দক্ষতায় সেই সুতাগুলোয় টান দিয়ে পুতুল পরিচালনা করেন। কারিগরি ও পরিচালনাগত পার্থক্য থাকলেও এই দুই ধরনের পুতুলনাট্যের উদ্দেশ্য এক। আর বাচিক শিল্পীরা পুতুলের চলনের সাথে নিজেদের কণ্ঠকে নানারূপে পরিবর্তন করে পুতুলের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করেন।

৪.

মুস্তাফা মনোয়ার শুধু পুতুলের মধ্যেই প্রাণ সঞ্চার করেননি। প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন এই বিরলপ্রায় শিল্পটিতেই। ভারতবর্ষকে পুতুলনাচ বা পুতুলনাট্যের আদিভূমি বলা হয়। এটি চিরায়ত লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু, নানান ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও শিল্পী সংকটের কারণে বাংলাদেশে পুতুলনাট্যের গতি কিছুটা মন্থর ছিল।

বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার পুতুলনাট্যকে বাঁচিয়ে রাখতে ও সময়োপযোগী করে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। সেই চেষ্টার ফল হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিষয়ভিত্তিক পুতুলনাট্য করেছেন। মনের কথা পৌঁছে গেছে সবার কাছে। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন Educational Puppet Development Centre (EPDC)-য়ে। যেখানে শিক্ষা ও জনসচেতনতার অংশ হিসেবে পুতুলনাট্য চর্চা করা হয়।

বাংলা রূপকথার অন্যতম গল্প ‘সাত ভাই চম্পা’। তাদের একমাত্র বোন পারুল, যে তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মা ও ভাইদের বিরুদ্ধে হওয়া চক্রান্তের পর্দা উন্মোচন করে; মা এবং ভাইদের উদ্ধার করে। সেই পারুলের নাম থেকে মনের কথার ‘পারুল’ চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন মুস্তাফা মনোয়ার।

কিংবদন্তি মুস্তাফা মনোয়ারের দেখানো পথের অনুপ্রেরণাতেই ২০০৭ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি হারিয়ে যাওয়া এই শিল্প উদ্ধারে ১০টি পুতুলনাট্যের দল নিয়ে প্রথমবার উৎসব আয়োজন করে। তবে, এই শিল্পের গুরুত্ব পুনোরুদ্ধার হয় ২০১৩ সালে, যখন থেকে নিয়মিতভাবে পুতুলনাট্য উৎসব আয়োজিত হচ্ছে; গুণীশিল্পীদের সম্মানিতও করা হচ্ছে ফি-বছর। এ ছাড়া, সে বছরই দুটি পুতুলনাট্য কর্মশালায় ৩৫ জন শিল্পীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। একই সালে ইন্দোনেশিয়ায় ৪৬টি দেশের ষাটোধিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পাপেট শোতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ১২ সদস্য বিশিষ্ট ‘টেলস অব বাংলাদেশ’ পারফরম্যান্সটি ‘বেস্ট ট্র্যাডিশনাল মিউজিক্যাল পাপেট’ পুরস্কার লাভ করে।

এই পুনঃজীবন পর্বে পুতুলনাট্য পৌঁছে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও, যা নিঃসন্দেহে বড় ঘটনা। এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য চর্চাকে নতুন আঙ্গিকে দেশ-বিদেশে উপস্থাপনের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এবং ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রে’র ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন। ইন্দোনেশিয়ায় পুরস্কারপ্রাপ্ত দলটিতেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই প্রতিষ্ঠান দুটির কয়েকজন সদস্য।

এ ছাড়া, জলপুতুল পাপেটস, ইনভেন্টরস পাপেট, কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারসহ আরও বেশ কিছু পুতুলনাট্য দল তৈরি হয়েছে। শিশুদের নির্মল বিনোদনের পাশাপাশি ডিভাইস আসক্তি থেকে মুক্তি, টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন, কমিউনিটি ডেভলপমেন্টসহ নানান বিষয়কে পুতুলনাট্য পরিবেশনার দ্বারা তুলে ধরে তারা বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

৫.

মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পচর্চার সবচেয়ে বড় সার্থকতা এটাই—তিনি শুধু নিজেই চর্চা করেননি, চর্চার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অন্তত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন বাংলাদেশের কয়েক প্রজন্ম জুড়ে। যতদিন এই শিল্পটি থাকবে, ততদিন ২০০৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত এই কিংবদন্তি শিল্পী স্মরিত হবেন পরম শ্রদ্ধায়।

চারুশিল্পী, নাট্যনির্দেশক, শিল্প গবেষক, ভাস্কর, নকশাকার, সর্বোপরি বাংলাদেশে পাপেট চর্চার প্রাণপুরুষ তথা ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ মুস্তাফা মনোয়ার ৯১ বছর বয়সে সুবিস্তৃত এবং দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অবসান ঘটিয়ে যাত্রা করলেন অনন্তের পথে।

পারুলের শিল্পী ভাই, শিশুদের শৈশব রঙিন করার কারিগর ও আজীবন ‘বিরাট শিশু’ হয়ে থাকা এই কিংবদন্তির প্রতি বিদায়ী শ্রদ্ধাঞ্জলি!

Ad 300x250

সম্পর্কিত