স্মৃতিগদ্য
কাজী নিশাত তাবাসসুম

এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
সুরটা যেন মুহূর্তেই আমাকে থমকে দিল। অজান্তেই চোখ ঘুরিয়ে তাকালাম শব্দের উৎসের দিকে। শত শত গাড়ির ভিড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই চিরচেনা সারি সারি বইয়ের কাঁচঘেরা বিশাল ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে লেখা, ‘আলোকিত মানুষ চাই’।
এক নিমিষেই আমি যেন হারিয়ে গেলাম আমার ফেলে আসা সেইসব স্মৃতিতে। সাল ২০১১। আমি তখন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হঠাৎ একদিন শ্রেণিকক্ষের জানালা দিকে তাকাতেই দেখতে পাই স্কুল প্রাঙ্গনে এক বইভর্তি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। একটু পর পর বেজে ওঠে রবীন্দ্রনাথের সেই গান ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা, আলো নয়ন ধোওয়া আমার আলো হৃদয় হরা।’ শ্রেণিকক্ষের উৎসুক সব সহপাঠীরা দৌড়ে বেরিয়ে গেলাম, কি এসেছে দেখতে।
এরপর জানতে পারলাম সেই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের বইপড়া কর্মসূচির কথা। সে বছরই জেলাভিত্তিক তরুণদের বইপড়ার উৎসাহ দিতে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এভাবেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম, আমরা এই কেন্দ্রের সদস্য হব। পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিশ্বকে জানার এবং নিজের একটি আলাদা জগৎ তৈরি করে দিয়েছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই বইপড়া কর্মসূচি। মূলত এখান থেকেই শুরু হয় আমার বইপড়ার যাত্রা। টানা চার বছর ছিলাম এই বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে। প্রথমবার সদস্যপদ পাওয়ার দিনটি আজও মনে পরে। ছোট্ট একটি কার্ড হাতে পেয়ে মনে হয়েছিল, যেন এক বিশাল জগতের দরজা খুলে গেছে আমার সামনে। সেই দরজার ওপারে ছিল হাজারো বই, হাজারো চরিত্র, হাজারো জীবন।
সপ্তাহজুড়ে সুযোগ ছিল একটি বই ইস্যু করে পড়ার। পড়া শেষে মন্তব্যের খাতায় লিখে রাখতে হতো সেই বই সম্পর্কে। নির্দিষ্ট সেই বই পড়ে কেমন লেগেছে, বই পড়ে কি জেনেছি আর কি শিখেছি। বছর শেষে হতো তালিকাভুক্ত সকল বইয়ের ওপর মূল্যায়ন। আর প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেওয়া হতো পুরস্কার। স্বাগত, শুভেচ্ছা, অভিনন্দন আর বিশ্ব সাহিত্য পুরস্কার। এতো সুন্দর সব পুরস্কারের ক্যাটাগরি এক পর্যায়ে আমাকে বই পড়তে মনোযোগী করে তুলল।
বইপড়া প্রতিযোগিতার দিনগুলো ছিল এক অন্যরকম উত্তেজনার। একটি বই পড়ে শেষ করার পর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম সেই ভ্রাম্যমাণ গাড়িটির জন্য। নতুন বইয়ের গন্ধ, বই হাতে পাওয়ার উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প কে কত বই পড়েছে, আর বই পড়ার আনন্দে ভরে থাকা বিকেলগুলো একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠল।
আজও মনে পড়ে প্রথম যে বইটি ধার নিয়েছিলাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে। ড্যানিয়েল ডিফোর বিখ্যাত উপন্যাস ‘রবিনসন ক্রুসো’। এটি ছিল একটি অ্যাডভেঞ্চারমূলক উপন্যাস। বইটি শেষ করার পর পৃথিবীকে আগের মতো লাগেনি। বুঝেছিলাম, মানুষের জীবন শুধু নিজের চারপাশে সীমাবদ্ধ নয়, বইয়ের ভেতর দিয়ে হাজারো মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম, প্রেম আর স্বপ্নের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়।
আমি নিজেকে পরম ভাগ্যবান বলে মনে করি। যার ঝুলিতে একে একে বিশ্বসাহিত্যের সবকটি পুরষ্কারই এসেছিল। প্রথম যখন পুরস্কার পেয়েছিলাম, সেটি ছিল স্বাগত পুরষ্কার। খুব বড় কোনো অর্জন ছিল না সেটি, কিন্তু সেই ছোট্ট স্বীকৃতি আমাকে আরও বেশি বই পড়তে আগ্রহী করেছিল। এর পর একে একে পেয়েছি শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার। সবচেয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম এবং নিজেকে বিশ্বজয়ী মনে হয়েছিল যেবার সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘বিশ্বসাহিত্য পুরস্কার’ হাতে পেলাম। এই পুরস্কারের একটি বিশেষত্ব হলো, পুরস্কারের সঙ্গে প্রদান করা হবে বিশ্বসাহিত্যের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের স্বাক্ষরিত সনদ। যেটি অন্য ক্যাটাগরির পুরষ্কারের সাথে দেওয়া হতো না।
এখনো মনে পড়ে সেই দিনের স্মৃতি। ছোট্ট মফস্বল শহরের সব স্কুলের বিশ্বসাহিত্যের সদস্যরা সমবেত হয়েছিল ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমের প্রাঙ্গনে। মনের মধ্যে শঙ্কা ছিল এ বছর কি পাব পুরস্কার? পুরস্কার প্রদানের শুরুতে বিচারকদের পক্ষ থেকে একজন পুরো আয়োজনের সার্বিক মূল্যায়ন, বক্তব্য প্রদানের পর হাস্যজ্জ্বল ভঙ্গিতে জানালেন এ বছর দুজন বিশ্বসাহিত্য পুরস্কারে মনোনীত হয়েছে, যা ইতোপূর্বে কেউ পায়নি। কথাটি শোনার পর এক রকম অনুভূতি হলো, কৌতুহল জাগলো, কে পাচ্ছে সেই পুরস্কার।
একে একে সব ক্যাটাগরির পুরস্কার প্রদান শেষ হলো। পরিচিত প্রায় সবার মুখে হাসি পুরস্কার হাতে পেয়ে। আমার মনটা বিষন্ন হলো, তখনও আমার নাম ঘোষণা করেনি। এক পর্যায়ে হাল ছেড়ে দিলাম পুরস্কার পাওয়ার। এক পর্যায়ে নাম ঘোষণা হলো বিশ্বসাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের। সেই ভাগ্যবানদের একজন হিসেবে নিজের নাম শোনার পর বিশ্বাসই করতে পারছিলাম কোনোভাবে। সেই দিনটি আজও আমার সবচেয়ে প্রিয় ও স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। তবে মনের মধ্যে আজও একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের স্বাক্ষরিত সেই মূল্যবান সনদ হাতে পেলেও, তাঁর হাত থেকে সেই সনদ নিতে পারিনি।
মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আমার জীবনে না আসত, তাহলে হয়তো আমার পৃথিবীটা অনেক ছোট হয়ে থাকত। হয়তো এত লেখকের সঙ্গে পরিচয় হতো না, এত মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখা হতো না। হয়তো নিজের ভেতরের মানুষটাকেও এভাবে আবিষ্কার করতে পারতাম না।
ব্যস্ত নগরের কোলাহলের মাঝেও সেই পরিচিত গান আর আলোকিত ভুবন যেন আমাকে মনে করিয়ে দিলো কিছু স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না। সময় যতই পেরিয়ে যাক, হৃদয়ের গভীরে তারা ঠিকই আলো জ্বেলে রাখে। হয়তো এ কারণেই আজও সেই সুর শুনলেই মনে হয়, আমি আবার ফিরে গেছি আমার জীবনের সবচেয়ে আলোকিত দিনগুলোর কাছে।

এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
সুরটা যেন মুহূর্তেই আমাকে থমকে দিল। অজান্তেই চোখ ঘুরিয়ে তাকালাম শব্দের উৎসের দিকে। শত শত গাড়ির ভিড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই চিরচেনা সারি সারি বইয়ের কাঁচঘেরা বিশাল ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে লেখা, ‘আলোকিত মানুষ চাই’।
এক নিমিষেই আমি যেন হারিয়ে গেলাম আমার ফেলে আসা সেইসব স্মৃতিতে। সাল ২০১১। আমি তখন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হঠাৎ একদিন শ্রেণিকক্ষের জানালা দিকে তাকাতেই দেখতে পাই স্কুল প্রাঙ্গনে এক বইভর্তি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। একটু পর পর বেজে ওঠে রবীন্দ্রনাথের সেই গান ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা, আলো নয়ন ধোওয়া আমার আলো হৃদয় হরা।’ শ্রেণিকক্ষের উৎসুক সব সহপাঠীরা দৌড়ে বেরিয়ে গেলাম, কি এসেছে দেখতে।
এরপর জানতে পারলাম সেই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের বইপড়া কর্মসূচির কথা। সে বছরই জেলাভিত্তিক তরুণদের বইপড়ার উৎসাহ দিতে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এভাবেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম, আমরা এই কেন্দ্রের সদস্য হব। পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিশ্বকে জানার এবং নিজের একটি আলাদা জগৎ তৈরি করে দিয়েছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই বইপড়া কর্মসূচি। মূলত এখান থেকেই শুরু হয় আমার বইপড়ার যাত্রা। টানা চার বছর ছিলাম এই বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে। প্রথমবার সদস্যপদ পাওয়ার দিনটি আজও মনে পরে। ছোট্ট একটি কার্ড হাতে পেয়ে মনে হয়েছিল, যেন এক বিশাল জগতের দরজা খুলে গেছে আমার সামনে। সেই দরজার ওপারে ছিল হাজারো বই, হাজারো চরিত্র, হাজারো জীবন।
সপ্তাহজুড়ে সুযোগ ছিল একটি বই ইস্যু করে পড়ার। পড়া শেষে মন্তব্যের খাতায় লিখে রাখতে হতো সেই বই সম্পর্কে। নির্দিষ্ট সেই বই পড়ে কেমন লেগেছে, বই পড়ে কি জেনেছি আর কি শিখেছি। বছর শেষে হতো তালিকাভুক্ত সকল বইয়ের ওপর মূল্যায়ন। আর প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেওয়া হতো পুরস্কার। স্বাগত, শুভেচ্ছা, অভিনন্দন আর বিশ্ব সাহিত্য পুরস্কার। এতো সুন্দর সব পুরস্কারের ক্যাটাগরি এক পর্যায়ে আমাকে বই পড়তে মনোযোগী করে তুলল।
বইপড়া প্রতিযোগিতার দিনগুলো ছিল এক অন্যরকম উত্তেজনার। একটি বই পড়ে শেষ করার পর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম সেই ভ্রাম্যমাণ গাড়িটির জন্য। নতুন বইয়ের গন্ধ, বই হাতে পাওয়ার উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প কে কত বই পড়েছে, আর বই পড়ার আনন্দে ভরে থাকা বিকেলগুলো একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠল।
আজও মনে পড়ে প্রথম যে বইটি ধার নিয়েছিলাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে। ড্যানিয়েল ডিফোর বিখ্যাত উপন্যাস ‘রবিনসন ক্রুসো’। এটি ছিল একটি অ্যাডভেঞ্চারমূলক উপন্যাস। বইটি শেষ করার পর পৃথিবীকে আগের মতো লাগেনি। বুঝেছিলাম, মানুষের জীবন শুধু নিজের চারপাশে সীমাবদ্ধ নয়, বইয়ের ভেতর দিয়ে হাজারো মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম, প্রেম আর স্বপ্নের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়।
আমি নিজেকে পরম ভাগ্যবান বলে মনে করি। যার ঝুলিতে একে একে বিশ্বসাহিত্যের সবকটি পুরষ্কারই এসেছিল। প্রথম যখন পুরস্কার পেয়েছিলাম, সেটি ছিল স্বাগত পুরষ্কার। খুব বড় কোনো অর্জন ছিল না সেটি, কিন্তু সেই ছোট্ট স্বীকৃতি আমাকে আরও বেশি বই পড়তে আগ্রহী করেছিল। এর পর একে একে পেয়েছি শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার। সবচেয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম এবং নিজেকে বিশ্বজয়ী মনে হয়েছিল যেবার সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘বিশ্বসাহিত্য পুরস্কার’ হাতে পেলাম। এই পুরস্কারের একটি বিশেষত্ব হলো, পুরস্কারের সঙ্গে প্রদান করা হবে বিশ্বসাহিত্যের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের স্বাক্ষরিত সনদ। যেটি অন্য ক্যাটাগরির পুরষ্কারের সাথে দেওয়া হতো না।
এখনো মনে পড়ে সেই দিনের স্মৃতি। ছোট্ট মফস্বল শহরের সব স্কুলের বিশ্বসাহিত্যের সদস্যরা সমবেত হয়েছিল ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমের প্রাঙ্গনে। মনের মধ্যে শঙ্কা ছিল এ বছর কি পাব পুরস্কার? পুরস্কার প্রদানের শুরুতে বিচারকদের পক্ষ থেকে একজন পুরো আয়োজনের সার্বিক মূল্যায়ন, বক্তব্য প্রদানের পর হাস্যজ্জ্বল ভঙ্গিতে জানালেন এ বছর দুজন বিশ্বসাহিত্য পুরস্কারে মনোনীত হয়েছে, যা ইতোপূর্বে কেউ পায়নি। কথাটি শোনার পর এক রকম অনুভূতি হলো, কৌতুহল জাগলো, কে পাচ্ছে সেই পুরস্কার।
একে একে সব ক্যাটাগরির পুরস্কার প্রদান শেষ হলো। পরিচিত প্রায় সবার মুখে হাসি পুরস্কার হাতে পেয়ে। আমার মনটা বিষন্ন হলো, তখনও আমার নাম ঘোষণা করেনি। এক পর্যায়ে হাল ছেড়ে দিলাম পুরস্কার পাওয়ার। এক পর্যায়ে নাম ঘোষণা হলো বিশ্বসাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের। সেই ভাগ্যবানদের একজন হিসেবে নিজের নাম শোনার পর বিশ্বাসই করতে পারছিলাম কোনোভাবে। সেই দিনটি আজও আমার সবচেয়ে প্রিয় ও স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। তবে মনের মধ্যে আজও একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের স্বাক্ষরিত সেই মূল্যবান সনদ হাতে পেলেও, তাঁর হাত থেকে সেই সনদ নিতে পারিনি।
মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আমার জীবনে না আসত, তাহলে হয়তো আমার পৃথিবীটা অনেক ছোট হয়ে থাকত। হয়তো এত লেখকের সঙ্গে পরিচয় হতো না, এত মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখা হতো না। হয়তো নিজের ভেতরের মানুষটাকেও এভাবে আবিষ্কার করতে পারতাম না।
ব্যস্ত নগরের কোলাহলের মাঝেও সেই পরিচিত গান আর আলোকিত ভুবন যেন আমাকে মনে করিয়ে দিলো কিছু স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না। সময় যতই পেরিয়ে যাক, হৃদয়ের গভীরে তারা ঠিকই আলো জ্বেলে রাখে। হয়তো এ কারণেই আজও সেই সুর শুনলেই মনে হয়, আমি আবার ফিরে গেছি আমার জীবনের সবচেয়ে আলোকিত দিনগুলোর কাছে।
.png)

প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
২ ঘণ্টা আগে
একসময় বইয়ের দোকানে মানুষ যেত বই কিনতে। এখন অনেকেই যান বই কিনতে, পড়তে, আড্ডা দিতে, কিংবা শুধু বইয়ের গন্ধে কিছুটা সময় কাটাতে। ঢাকার বাতিঘর, বুকওয়ার্ম, পাঠক সমাবেশ কিংবা বিভিন্ন রিডিং ক্যাফেতে ঢুকলে দেখা যায়, কেউ এক কোণে বসে নিজের মতো বই পড়ছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বই নিয়ে তর্ক করছেন, আবার কোথাও
২ ঘণ্টা আগে
ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান অনেক সময়ই ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে আসে না; আসে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, আত্মত্যাগ ও অভিজ্ঞতার গল্প থেকে। চব্বিশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সেই জনতার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র ‘জুলাই ডায়েরিজ’।
৪ ঘণ্টা আগে
সংগঠক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ৮৭তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৯ সালের ২৫ জুলাই কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
৪ ঘণ্টা আগে