ad

আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর—৪

পিকাসো মিউজিয়ামে বহুমাত্রিক শিল্পের গোলকধাঁধায়…

চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি ও স্কাল্পচার পার্ক। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর’। আজ প্রকাশিত হলো এর চতুর্থ পর্ব। চোখ রাখুন প্রতি রোববার বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৩৬
পিকাসো মিউজিয়ামের সামনে লেখক। ছবি লেখকের সৌজন্যে

কাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি ঝরেই যাচ্ছে, থামার কোনো লক্ষণ নেই। কিন্তু আমাকে বের হতেই হবে। প্রায় মাসখানেক আগে পিকাসো মিউজিয়ামের এন্ট্রি পাস অনলাইনে নিয়ে রেখেছিলাম।

সময়টা ২০২৪ সালের মে মাস। ঋতুর হিসেবে প্যারিসে তখন বসন্তকাল। কিছুদিন পরেই শুরু হবে গ্রীষ্ম। ইউরোপে গ্রীষ্মকাল মানেই ঝকঝকে উজ্জ্বল দিন, নীল আকাশ, সহনীয় তাপমাত্রা আর লম্বা দিন। আমার প্যারিস ভ্রমণের সময়টা বসন্তের শেষ দিকে ছিল বলেই হয়তো বৃষ্টির খানিকটা আঁচ পেয়েছিলাম। নয়তো এ সময় ইউরোপে সাধারণত বৃষ্টি হয় না।

তবে সে বছর অনেককে বলতে শুনেছিলাম, শীতকালটা নাকি ইউরোপে দীর্ঘ ছিল। ফলে গ্রীষ্ম আসতেও খানিকটা দেরি হতে পারে। তবে প্যারিসের আবহাওয়া তখন আমার মন্দ লাগেনি। এর আগের বছর শীতের সময়ে ইউরোপ ভ্রমণের তুলনায় বরং ভালোই লাগছিল।

আমি যে এয়ারবিএনবিতে ছিলাম, সেখান থেকে পিকাসো মিউজিয়াম খুব বেশি দূরে নয়। জায়গাটার নাম ল্য ম্যারে। হেঁটে যাওয়া যায়, যদিও সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। ইউরোপে অবশ্য এটা স্বাভাবিক হাঁটার দূরত্ব। আবার মেট্রোতেও যাওয়ার সহজ রাস্তা আছে। সেখানে সময় লাগে বিশ থেকে পঁচিশ মিনিট।

পিকাসোর পোস্ট-কিউবিজম পিরিয়ডের কাজ ‘দ্য পেইন্টার এন্ড হিজ মডেল’ (১৯২৬। ছবি লেখকের সৌজন্যে
পিকাসোর পোস্ট-কিউবিজম পিরিয়ডের কাজ ‘দ্য পেইন্টার এন্ড হিজ মডেল’ (১৯২৬। ছবি লেখকের সৌজন্যে

যদিও আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, খুব বেশি দূর না হলে ট্রাম বা মেট্রো ব্যবহার করব না। কারণ প্যারিসের অলিগলি ধরে হেঁটে বেড়ানোর লোভ আমার আজন্মের। শুধু প্যারিস নয়, পুরো ইউরোপের শহরের রাস্তায় হেঁটে বেড়ানোর আনন্দটাই অন্যরকম। যেন, ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া…’এই অনুভূতিটা তখন ভীষণভাবে মনকে নাড়া দেয়।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, গুগল ম্যাপ ধরে হেঁটে হেঁটে অলিগলি দেখতে দেখতে পৌঁছালাম মিউজিয়ামের গেটে। ভেবেছিলাম, হয়তো বিশাল লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু না, কোনো লাইন নেই। মিউজিয়ামের প্রাঙ্গণ একেবারে ফাঁকা। কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে গেলাম। তবে কি আজ মিউজিয়াম বন্ধ? নাকি অন্য কোনো কারণ। পকেট থেকে এন্ট্রি পাস বের করে দেখলাম, তারিখ আর সময় ঠিকঠাক আছে। তাহলে আমিই কি মিউজিয়ামের একমাত্র দর্শক আজকে? ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না।

গলির রাস্তা পেরিয়ে মিউজিয়ামের বাউন্ডারির বড় গেট। তার ওপারে বিশাল উঠান পেরিয়ে মিউজিয়ামের মূল গেট। বাউন্ডারির গেট খুলে উঠানে ঢুকতেই মিউজিয়ামের ভেতর থেকে একজন কর্মী ছুটে এলেন হাতে ছাতা নিয়ে। এসে ধরলেন আমার মাথার ওপর। উঠান পেরিয়ে তাঁর সঙ্গে মিউজিয়ামে ঢুকতেই বুঝলাম আসল রহস্য। বাইরে বৃষ্টি বলে অনেক দর্শক ভেতরের একটি কক্ষে গাদাগাদি করে অপেক্ষা করছেন। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে এন্ট্রি পাস দেখিয়ে মিউজিয়ামের ভেতরে ঢুকছেন।

পিকাসোর কাজ দেখছেন লেখক। (বাম থেকে) ‘সিটেড ন্যুড’, ‘মেল বাস্ট’ এবং ‘উইম্যান উইথ ক্লাস্পড হ্যান্ডস’ (১৯০৭)। ছবি লেখকের সৌজন্যে
পিকাসোর কাজ দেখছেন লেখক। (বাম থেকে) ‘সিটেড ন্যুড’, ‘মেল বাস্ট’ এবং ‘উইম্যান উইথ ক্লাস্পড হ্যান্ডস’ (১৯০৭)। ছবি লেখকের সৌজন্যে

যাই হোক! সেই ঘরেই আমাকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছিল মিনিট পনেরো।

পিকাসো ন্যাশনাল মিউজিয়াম-প্যারিস বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক পিকাসো সংগ্রহশালা। এটি স্থাপিত হয়েছে সপ্তদশ শতাব্দীর একটি অভিজাত ভবন, হোটেল স্যালে-তে। ১৯৭৩ সালে পিকাসোর মৃত্যুর পর সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় ফ্রান্সের ‘দাসিয়োঁ অঁ পেমঁ’ ব্যবস্থার আওতায় তাঁর উত্তরাধিকারীরা করের পরিবর্তে অনেক শিল্পকর্ম সরকারকে প্রদান করেন।

‘দাসিয়োঁ অঁ পেমঁ’ ফ্রান্স সরকারের একটি বিশেষ আইনগত ও রাজস্ব ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি নগদ অর্থের পরিবর্তে মূল্যবান শিল্পকর্ম, ঐতিহাসিক বস্তু বা ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি সরকারকে দিয়ে উত্তরাধিকার বা সম্পত্তি কর পরিশোধ করতে পারেন। এভাবেই বছরের পর বছর মিউজিয়ামে পিকাসোর শিল্পকর্মের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯৮৫ সালে মিউজিয়ামটি আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পরে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মিউজিয়ামটিতে বড় ধরনের সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়।

লেখক দেখছেন শিল্পীর ব্লু পিরিয়ডের কাজ ‘সেলফ-পোর্ট্রেট’ (১৯০১)। ছবি লেখকের সৌজন্যে
লেখক দেখছেন শিল্পীর ব্লু পিরিয়ডের কাজ ‘সেলফ-পোর্ট্রেট’ (১৯০১)। ছবি লেখকের সৌজন্যে

এই মিউজিয়ামে পিকাসোর প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম সংরক্ষিত আছে। আছে পেইন্টিং, স্কেচ, ড্রয়িং, নোটবুক, ভাস্কর্য, সিরামিক কাজ, প্রিন্ট, ফটোগ্রাফসহ ভিডিও আর্কাইভ।

মিউজিয়ামে ঢোকার পর একটি গ্যালারি থেকে আরেকটি গ্যালারি খুব সুন্দরভাবে গোছানো। সবকিছু সাজানো হয়েছে পিকাসোর জীবন ও শিল্পের টাইমলাইন অনুযায়ী। ফলে শিল্পীর জীবন ও শিল্পকর্মের ধারাবাহিকতা বুঝতে দর্শনার্থীদের মোটেও কষ্ট হয় না। প্রতিটি কাজের সঙ্গে রয়েছে সময়কাল ও প্রেক্ষাপটের বর্ণনাও।

ভেতরে ঢুকেই চোখে পড়ল বড় একটি পাথরের সিঁড়ি। সিঁড়িটাকেই অনেকে শিল্পকর্ম ভেবে ভুল করে থাকেন, যেমন আমি নিজেও করেছিলাম। এই সিঁড়ি বেয়েই উপরের গ্যালারিতে প্রবেশ করতে হয়। প্রথম গ্যালারিতে পিকাসোর প্রথম জীবনের কাজগুলো প্রদর্শন করা হয়েছে। এর অধিকাংশই শিল্পীর ছাত্রজীবনের কাজ—রিয়েলিস্টিক ধাঁচের এবং একাডেমিক। কাজগুলো দেখতে দেখতে বুঝতে কষ্ট হলো না, শিল্পীজীবনের শুরু থেকেই পিকাসো কতটা দক্ষ আঁকিয়ে ছিলেন।

পরের অংশে এসে আমার চোখ আটকে গেল। মনে হলো, আমি যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছি না। পিকাসোর বিখ্যাত ব্লু পিরিয়ডের (১৯০১–১৯০৪) কাজগুলো এখানে সারি সারি দেয়ালে ঝোলানো। কাজগুলো মূলত শিল্পীর বিষণ্ণ জীবনের সময়ে আঁকা। নীল রঙের এই আধিক্যের মধ্য দিয়ে শিল্পী তাঁর মনের কোন বেদনাবোধ ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা কেউ কি কখনো জানতে পেরেছে?—ভাবছিলাম তখন। এই অংশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেখেছি, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘লা সেলেস্তিনা’ (১৯০৪) এবং ‘দ্য ওল্ড গিটারিস্ট’ (১৯০৩)।

পিকাসোর আঁকা ‘দ্য বাথার্স’ (১৯১৮)। ছবি লেখকের সৌজন্যে
পিকাসোর আঁকা ‘দ্য বাথার্স’ (১৯১৮)। ছবি লেখকের সৌজন্যে

পরের অংশে গিয়ে আবার মনটা চনমনে হয়ে উঠল। পিকাসোর রোজ পিরিয়ড (১৯০৪–১৯০৬)-এর শিল্পকর্মগুলো দেখতে দেখতে মনের ভেতর একটা উষ্ণতাবোধ কাজ করল। হালকা গোলাপি-কমলা রঙ যেন শিল্পীর জীবনকে রঙিন করে তুলল আমার চোখের সামনে। তাঁর বিখ্যাত ‘অ্যাক্রোবেট অ্যান্ড ইয়াং হারলেকুইন’ (১৯০৫) এবং ‘ফ্যামিলি অব সল্টিমব্যাংকস’ (১৯০৫) এখানেই চোখে পড়ল, যেগুলো এর আগে বইয়ের পাতায় ছাপা অবস্থায় দেখেছি।

জেনে এসেছি, পাবলো পিকাসো কিউবিজমের জনক। বলা যায়, তাঁর হাত ধরেই কিউবিজম ধারাটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ও বিস্তৃত হয়েছিল। গ্যালারির সেই অংশে এসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে যেন এতদিনের জানা কথাগুলো নিজের চোখের সামনে দেখতে পেলাম।

কোনো বস্তু বা অবয়বের ফর্ম কীভাবে ভাঙতে হয়, একটি জিনিসকে ভেঙে কীভাবে নতুনভাবে দেখানো যায়, পিকাসোর সেই নতুন আঙ্গিক দেখতে পেলাম নিজের চোখে। জ্যামিতিক আকার, একই সঙ্গে একাধিক দিক থেকে কোনো বস্তুকে দেখার যে শৈল্পিক দৃষ্টি, তা দেখে দেখে বিমোহিত হচ্ছিলাম। এখানে শিল্পীর কিউবিজম পিরিয়ডের (১৯০৭–১৯১৭) শিল্পকর্মগুলো প্রদর্শন করা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো ‘ম্যান উইথ এ গিটার’ (১৯১১–১২), ‘পোর্ট্রেট অব ডোরা মার’ (১৯৩৭), ‘বুলস হেড’ (১৯৪২) এবং ‘গিটার’ (১৯১২)।

পিকাসোর স্যুররিয়ালিস্ট শিল্পকর্ম—(বামে) ‘ফিগারস অ্যাট দ্য সি-সাইড’ (১৯৩১) এবং (ডানে) ‘হেড অব এ উইম্যান’ (১৯৩০)। ছবি লেখকের সৌজন্যে
পিকাসোর স্যুররিয়ালিস্ট শিল্পকর্ম—(বামে) ‘ফিগারস অ্যাট দ্য সি-সাইড’ (১৯৩১) এবং (ডানে) ‘হেড অব এ উইম্যান’ (১৯৩০)। ছবি লেখকের সৌজন্যে

পিকাসো তাঁর শিল্পীজীবনের শেষের দিকে সিরামিক নিয়ে কাজ করেছিলেন। পটারি, প্লেট, মগ, তৈজসপত্র এবং সিরামিকের পৃষ্ঠে রঙের আঁচড়ে নানা ধরনের কাজ করেছেন। এর অনেকগুলোর কোনো শিরোনাম দেখলাম না ডিসপ্লে বোর্ডে। তাছাড়া কাঠ, কাগজ ও নানা ধরনের ধাতু ব্যবহার করে অসংখ্য ভাস্কর্য তৈরি করেছিলেন তিনি। সেগুলোও এখানে সুন্দরভাবে সাজানো আছে। দেখতে দেখতে শুধু মনে হচ্ছিল, এত বৈচিত্র্যময় খেয়ালের শিল্পী দুনিয়ায় হয়তো খুব কমই আছেন।

পিকাসোর পুরো নাম পাবলো দিয়েগো হোসে ফ্রান্সিসকো দে পাউলা হুয়ান নেপোমুসেনো মারিয়া দে লস রেমেদিওস সিপ্রিয়ানো দে লা সান্তিসিমা ত্রিনিদাদ রুইজ ই পিকাসো। এত বড় নাম সবাইকে চমকে দেওয়ার জন্য ছোটবেলায় মুখস্থ করেছিলাম। বড় হয়ে জেনেছি, তাঁর দীর্ঘ নামের বেশ কিছু অংশ এসেছে পারিবারিক ও ধর্মীয় নামকরণের ঐতিহ্য থেকে। শেষের অংশ ‘রুইজ’ তাঁর বাবার পদবি এবং ‘পিকাসো’ মায়ের পদবি।

পিকাসোর জন্ম স্পেনের মালাগায়। তাঁর বাবা ছিলেন চিত্রশিক্ষক। ফলে শৈশব থেকেই শিল্পচর্চার পরিবেশে বড় হয়েছেন পিকাসো। শোনা যায়, মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তিনি তাঁর বাবার চেয়েও আঁকায় বেশি দক্ষ হয়ে ওঠেন। কৈশোরে তিনি বার্সেলোনা ও মাদ্রিদে শিল্পশিক্ষা নেন, কিন্তু প্রথাগত শিক্ষার নিয়মকানুন তাঁকে তেমন একটা টানেনি। ১৯০০ সালে প্রথমবারের মতো তিনি প্যারিসে আসেন। সে সময় প্যারিস শহরেই ইউরোপের আধুনিক শিল্পের কেন্দ্র গড়ে উঠছিল। ফলে প্যারিসই হয়ে ওঠে তাঁর শিল্পজীবনের প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র।

পিকাসো শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না। তিনি ভাস্কর্য, সিরামিক, প্রিন্টমেকিং এমনকি থিয়েটার ডিজাইনেও কাজ করেছেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতা ছিল সীমাহীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘গোয়ের্নিকা’ (১৯৩৭) যুদ্ধের বিভীষিকা ও মানবিক ট্র্যাজেডির এক শক্তিশালী প্রতিবাদ হয়ে উঠেছিল।

পিকাসোর নোটবুকের পাতায় লেখা কবিতা ও আঁকিবুঁকি  ‘টাং অফ দ্য মেটালিক অক্স অ্যান্ড স্কাল’ (১৯৪০)। ছবি লেখকের সৌজন্যে
পিকাসোর নোটবুকের পাতায় লেখা কবিতা ও আঁকিবুঁকি ‘টাং অফ দ্য মেটালিক অক্স অ্যান্ড স্কাল’ (১৯৪০)। ছবি লেখকের সৌজন্যে

জীবনের শেষ পর্যায়ে পিকাসো দক্ষিণ ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেন। তখনও তিনি অবিরাম কাজ করে গেছেন। বয়স বাড়লেও তাঁর সৃষ্টিশীলতা কমেনি; বরং আরও স্বাধীন ও পরীক্ষামূলক হয়ে উঠেছিল। ১৯৭৩ সালে ৯১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। পাবলো পিকাসো মানুষের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছেন। তাঁর কাজ প্রমাণ করে, শিল্প কখনো স্থির নয়। এটি সময়ের সঙ্গে বদলায়, প্রশ্ন তোলে, ভাবায় এবং নতুন পথ তৈরি করে।

মিউজিয়াম থেকে বের হতে হতে শুধু একটাই কথা ভাবছিলাম, একজন শিল্পী তাঁর সারাটা জীবন নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন শিল্পসাধনায়। কোনো ক্লান্তি নেই, কোনো বিরাম নেই। শুধু কাজ আর কাজ। নানান আঙ্গিক, প্রকরণ, এক্সপেরিমেন্ট, নতুন ভাবনা, নতুন কাজ...

এত বহুমাত্রিক হয় কী করে একজন শিল্পী?

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত