ওলিউর রহমান

১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি। জিব্রাল্টার প্রণালির পাশ ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা। এরই পাদদেশের শহর গ্রানাডার আকাশেই অস্ত যায় মুসলিম আন্দালুসের আট শতকের গৌরবময় ইতিহাসের শেষ সূর্য। ক্যাস্টিলের রানি ইসাবেলা ও আরাগনের রাজা ফার্ডিন্যান্ড এর যৌথ অভিযানে পতন ঘটে ইউরোপে মুসলিম শাসনের শেষ দুর্গের।
এরপর ধীরে ধীরে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক অবস্থানের ওপর আসে কঠোর বিধিনিষেধ। অমানবিক নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে হাজার হাজার পরিবারকে জন্মভূমি ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয় উত্তর আফ্রিকায়। এই নির্বাসিত মানুষের স্রোত থেকেই উঠে আসে ইতিহাসের অসাধারণ নারী নেতৃত্ব— সাইয়্যিদা আল-হুররা।
‘আল-হুররা’ কোনো নাম নয়; এটি একটি উপাধি, যার অর্থ ‘স্বাধীন’ বা ‘মর্যাদাবান নারী’। তবে তাঁর প্রকৃত নাম আয়েশা।
ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি আন্দালুসিয়ার অভিজাত মুসলিম পরিবার বনী রশিদে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রানাডার পতনের পর তাঁর পরিবারের ঠিকানা হয় উত্তর মরক্কো। স্বদেশ হারানোর বেদনাই পরবর্তী জীবনে সাইয়্যিদা আল-হুররার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণা হয়ে ওঠে।
পরিবারের সঙ্গে মরক্কোর শেফশাওয়েনে বসতি স্থাপনের পর সাইয়্যিদা আল-হুররা শিক্ষা ও ব্যক্তিত্বে নিজেকে গড়ে তোলেন। তিনি কুরআন, ইসলামি জ্ঞান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়নের পাশাপাশি প্রশাসন, কূটনীতি এবং স্প্যানিশ ভাষায়ও দক্ষতা অর্জন করেন। সে সময় একজন মুসলিম নারীর জন্য এমন বিস্তৃত শিক্ষা অর্জন ছিল ইতিহাসে বিরল।
শৈশব থেকেই আন্দালুস হারানোর গল্প তাঁকে আন্দোলিত করে তোলে। তাই তাঁর কাছে ক্ষমতা কখনো ব্যক্তিগত গৌরবের বিষয় ছিল না, ছিল মুসলিম জনপদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার একটি দায়িত্ব।
পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাঁর বিয়ে হয় মরক্কোর বন্দরনগর তেতুয়ানের শাসক সিদি মুহাম্মদ আল-মানদারির সঙ্গে। আল-মানদারিও ছিলেন আন্দালুস থেকে নির্বাসিত এক অভিজ্ঞ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা। তেতুয়ানকে তিনি উদ্বাস্তু মুসলিমদের জন্য একটি নতুন আবাসভূমিতে পরিণত করেছিলেন।
বিয়ের পর সাইয়্যিদা আল-হুররা কেবল রাজপরিবারের সদস্য হননি। নিজ কাঁধে তুলে নেন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং নগর পরিচালনার মতো কঠিন দায়িত্বভার। তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা খুব দ্রুতই রাজদরবারে লাভ করে স্বীকৃতি।
কিছুদিন পর স্বামী আল-মানদারির মৃত্যু হলে তেতুয়ানের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কিন্তু পরিস্থিতির বাঁক বদল হয়। প্রশাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জনগণের আস্থার কারণে সাইয়্যিদা আল-হুররাকেই তেতুয়ানের শাসনভার অর্পণ করা হয়। ষোড়শ শতকে উত্তর আফ্রিকায় এটি ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ সে সময় নারী শাসকের উদাহরণ ছিল অত্যন্ত বিরল।
ক্ষমতা হাতে নিয়ে প্রথমেই তিনি তেতুয়ানকে শুধু একটি নগর হিসেবে নয়, বরং আন্দালুস থেকে বিতাড়িত মুসলিমদের নিরাপদ আশ্রয়, বাণিজ্যকেন্দ্র এবং প্রতিরোধের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শহরটি উত্তর আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধে ভূমধ্যসাগর ছিল পৃথিবীর অন্যতম অস্থির জলসীমা। পূর্বে উসমানীয় সাম্রাজ্য, পশ্চিমে স্পেন ও পর্তুগাল—এই ত্রিশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সমুদ্রপথ পরিণত হয়েছিল সংঘাতের মঞ্চে। গ্রানাডা পতনের পর স্পেন শুধু আন্দালুস দখল করেই থেমে থাকেনি। উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতেও তারা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। তারা পর্তুগাল-মরক্কোর বিভিন্ন বন্দরনগরীতে ঘাঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালায়।
এই সময় তেতুয়ানের শাসক সাইয়্যিদা আল-হুররা উপলব্ধি করেন যে, কেবল স্থলভাগের শক্তি দিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। সমুদ্রকে বুঝতে হবে, সমুদ্রপথকে নিরাপদ রাখতে হবে এবং উপকূলীয় মুসলিম জনপদের সুরক্ষার জন্য একটি কার্যকর নৌ-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে তিনি উসমানীয় নৌবাহিনীর কিংবদন্তি অধিনায়ক খায়রুদ্দীন বারবারোসার সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে তোলেন।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, বারবারোসা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সক্রিয় থাকলেও সাইয়্যিদা আল-হুররা পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের নৌ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তেতুয়ানকে কেন্দ্র করে তিনি সামুদ্রিক যোগাযোগ, উপকূলীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বন্দি বিনিময়ের একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
সেই সময় ভূমধ্যসাগরের রাজনীতিতে বন্দি বিনিময় ও মুক্তিপণ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুদ্ধ কিংবা সমুদ্রসংঘাতে বন্দিদের মুক্তির জন্য শাসকদের মধ্যে আলোচনা হতো। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগে সাইয়্যিদা আল-হুররার ভূমিকার উল্লেখ বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায়।
পরবর্তীকালে তাঁর বিয়ে হয় মরক্কোর ওয়াত্তাসি সুলতান আহমদ আল-ওয়াত্তাসির সঙ্গে। এই বিয়ে ইতিহাসে স্মরণীয়। কারণ প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কনেকেই রাজধানীতে যেতে হতো। কিন্তু সাইয়্যিদা আল-হুররা তেতুয়ান ছেড়ে যেতে রাজি হননি। ফলে সুলতান নিজেই তেতুয়ানে এসে বিবাহ সম্পন্ন করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, মরক্কোর রাজকীয় ইতিহাসে এটি ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা, যা তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদা ও স্বাধীন অবস্থানের প্রতীক।
দীর্ঘ প্রায় তিন দশক তেতুয়ান শাসনের পর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারিবারিক বিরোধের কারণে ১৫৪২ সালের দিকে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। কথিত আছে এরপর তাঁকে শৈশবের শহর শেফশাওয়েনে নির্বাসিত করা হয়, সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটান। তাঁর মৃত্যুর সাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও অধিকাংশের ধারণা, ষোড়শ শতকের মধ্যভাগেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
তবে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে, তিনি ছিলেন উত্তর আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম নারী শাসক। নির্বাসনের বেদনাকে তিনি দুর্বলতায় নয়, নেতৃত্বের শক্তিতে রূপ দিয়েছিলেন। আন্দালুসের স্মৃতি, তেতুয়ানের পুনর্গঠন, ভূমধ্যসাগরে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার কৌশল এবং তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা তাঁকে মুসলিম ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ইতিহাসের গতিপথ শুধু সম্মুখসমর করেই পরিবর্তন করা যায় না। কখনো দূরদর্শী নেতৃত্ব, কূটনীতি ও অদম্য আত্মমর্যাদাও ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়।
তথ্যসূত্র: ফরগটেন কুইন অব ইসলাম, তুর্ক প্রেস

১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি। জিব্রাল্টার প্রণালির পাশ ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা। এরই পাদদেশের শহর গ্রানাডার আকাশেই অস্ত যায় মুসলিম আন্দালুসের আট শতকের গৌরবময় ইতিহাসের শেষ সূর্য। ক্যাস্টিলের রানি ইসাবেলা ও আরাগনের রাজা ফার্ডিন্যান্ড এর যৌথ অভিযানে পতন ঘটে ইউরোপে মুসলিম শাসনের শেষ দুর্গের।
এরপর ধীরে ধীরে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক অবস্থানের ওপর আসে কঠোর বিধিনিষেধ। অমানবিক নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে হাজার হাজার পরিবারকে জন্মভূমি ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয় উত্তর আফ্রিকায়। এই নির্বাসিত মানুষের স্রোত থেকেই উঠে আসে ইতিহাসের অসাধারণ নারী নেতৃত্ব— সাইয়্যিদা আল-হুররা।
‘আল-হুররা’ কোনো নাম নয়; এটি একটি উপাধি, যার অর্থ ‘স্বাধীন’ বা ‘মর্যাদাবান নারী’। তবে তাঁর প্রকৃত নাম আয়েশা।
ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি আন্দালুসিয়ার অভিজাত মুসলিম পরিবার বনী রশিদে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রানাডার পতনের পর তাঁর পরিবারের ঠিকানা হয় উত্তর মরক্কো। স্বদেশ হারানোর বেদনাই পরবর্তী জীবনে সাইয়্যিদা আল-হুররার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণা হয়ে ওঠে।
পরিবারের সঙ্গে মরক্কোর শেফশাওয়েনে বসতি স্থাপনের পর সাইয়্যিদা আল-হুররা শিক্ষা ও ব্যক্তিত্বে নিজেকে গড়ে তোলেন। তিনি কুরআন, ইসলামি জ্ঞান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়নের পাশাপাশি প্রশাসন, কূটনীতি এবং স্প্যানিশ ভাষায়ও দক্ষতা অর্জন করেন। সে সময় একজন মুসলিম নারীর জন্য এমন বিস্তৃত শিক্ষা অর্জন ছিল ইতিহাসে বিরল।
শৈশব থেকেই আন্দালুস হারানোর গল্প তাঁকে আন্দোলিত করে তোলে। তাই তাঁর কাছে ক্ষমতা কখনো ব্যক্তিগত গৌরবের বিষয় ছিল না, ছিল মুসলিম জনপদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার একটি দায়িত্ব।
পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাঁর বিয়ে হয় মরক্কোর বন্দরনগর তেতুয়ানের শাসক সিদি মুহাম্মদ আল-মানদারির সঙ্গে। আল-মানদারিও ছিলেন আন্দালুস থেকে নির্বাসিত এক অভিজ্ঞ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা। তেতুয়ানকে তিনি উদ্বাস্তু মুসলিমদের জন্য একটি নতুন আবাসভূমিতে পরিণত করেছিলেন।
বিয়ের পর সাইয়্যিদা আল-হুররা কেবল রাজপরিবারের সদস্য হননি। নিজ কাঁধে তুলে নেন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং নগর পরিচালনার মতো কঠিন দায়িত্বভার। তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা খুব দ্রুতই রাজদরবারে লাভ করে স্বীকৃতি।
কিছুদিন পর স্বামী আল-মানদারির মৃত্যু হলে তেতুয়ানের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কিন্তু পরিস্থিতির বাঁক বদল হয়। প্রশাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জনগণের আস্থার কারণে সাইয়্যিদা আল-হুররাকেই তেতুয়ানের শাসনভার অর্পণ করা হয়। ষোড়শ শতকে উত্তর আফ্রিকায় এটি ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ সে সময় নারী শাসকের উদাহরণ ছিল অত্যন্ত বিরল।
ক্ষমতা হাতে নিয়ে প্রথমেই তিনি তেতুয়ানকে শুধু একটি নগর হিসেবে নয়, বরং আন্দালুস থেকে বিতাড়িত মুসলিমদের নিরাপদ আশ্রয়, বাণিজ্যকেন্দ্র এবং প্রতিরোধের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শহরটি উত্তর আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধে ভূমধ্যসাগর ছিল পৃথিবীর অন্যতম অস্থির জলসীমা। পূর্বে উসমানীয় সাম্রাজ্য, পশ্চিমে স্পেন ও পর্তুগাল—এই ত্রিশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সমুদ্রপথ পরিণত হয়েছিল সংঘাতের মঞ্চে। গ্রানাডা পতনের পর স্পেন শুধু আন্দালুস দখল করেই থেমে থাকেনি। উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতেও তারা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। তারা পর্তুগাল-মরক্কোর বিভিন্ন বন্দরনগরীতে ঘাঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালায়।
এই সময় তেতুয়ানের শাসক সাইয়্যিদা আল-হুররা উপলব্ধি করেন যে, কেবল স্থলভাগের শক্তি দিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। সমুদ্রকে বুঝতে হবে, সমুদ্রপথকে নিরাপদ রাখতে হবে এবং উপকূলীয় মুসলিম জনপদের সুরক্ষার জন্য একটি কার্যকর নৌ-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে তিনি উসমানীয় নৌবাহিনীর কিংবদন্তি অধিনায়ক খায়রুদ্দীন বারবারোসার সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে তোলেন।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, বারবারোসা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সক্রিয় থাকলেও সাইয়্যিদা আল-হুররা পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের নৌ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তেতুয়ানকে কেন্দ্র করে তিনি সামুদ্রিক যোগাযোগ, উপকূলীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বন্দি বিনিময়ের একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
সেই সময় ভূমধ্যসাগরের রাজনীতিতে বন্দি বিনিময় ও মুক্তিপণ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুদ্ধ কিংবা সমুদ্রসংঘাতে বন্দিদের মুক্তির জন্য শাসকদের মধ্যে আলোচনা হতো। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগে সাইয়্যিদা আল-হুররার ভূমিকার উল্লেখ বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায়।
পরবর্তীকালে তাঁর বিয়ে হয় মরক্কোর ওয়াত্তাসি সুলতান আহমদ আল-ওয়াত্তাসির সঙ্গে। এই বিয়ে ইতিহাসে স্মরণীয়। কারণ প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কনেকেই রাজধানীতে যেতে হতো। কিন্তু সাইয়্যিদা আল-হুররা তেতুয়ান ছেড়ে যেতে রাজি হননি। ফলে সুলতান নিজেই তেতুয়ানে এসে বিবাহ সম্পন্ন করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, মরক্কোর রাজকীয় ইতিহাসে এটি ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা, যা তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদা ও স্বাধীন অবস্থানের প্রতীক।
দীর্ঘ প্রায় তিন দশক তেতুয়ান শাসনের পর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারিবারিক বিরোধের কারণে ১৫৪২ সালের দিকে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। কথিত আছে এরপর তাঁকে শৈশবের শহর শেফশাওয়েনে নির্বাসিত করা হয়, সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটান। তাঁর মৃত্যুর সাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও অধিকাংশের ধারণা, ষোড়শ শতকের মধ্যভাগেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
তবে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে, তিনি ছিলেন উত্তর আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম নারী শাসক। নির্বাসনের বেদনাকে তিনি দুর্বলতায় নয়, নেতৃত্বের শক্তিতে রূপ দিয়েছিলেন। আন্দালুসের স্মৃতি, তেতুয়ানের পুনর্গঠন, ভূমধ্যসাগরে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার কৌশল এবং তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা তাঁকে মুসলিম ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ইতিহাসের গতিপথ শুধু সম্মুখসমর করেই পরিবর্তন করা যায় না। কখনো দূরদর্শী নেতৃত্ব, কূটনীতি ও অদম্য আত্মমর্যাদাও ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়।
তথ্যসূত্র: ফরগটেন কুইন অব ইসলাম, তুর্ক প্রেস
.png)

স্ট্রিম: ‘চিহ্ন’ পত্রিকার ২৫ বছরের যাত্রায় ফিরে তাকালে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে হয়? শহীদ ইকবাল: অর্জন তো কোট-আনকোট (‘’)। আমরা কাজের নেশা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের জার্নিটা একটা প্রভাবশালী শক্তি। সামগ্রিক অবদান তো সেভাবে দেখা যাবে না। তবে বড় অর্জনের
৬ ঘণ্টা আগে
‘গতকল্য বৃহস্পতিবার বেলা ১২.১৩ মিঃ সময় বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলিকাতা জোড়াসাঁকোস্থিত বাসভবনে মহাপ্রয়াণ করিয়াছেন। মৃত্যুকালে তাঁহার বয়স ৮০ বৎসর ৩ মাস হইয়াছিল।
১৭ ঘণ্টা আগে
‘যুদ্ধ’ শব্দটার সঙ্গে আমাদের পরিচয় অনেক দিনের। টিভি খুললেই যুদ্ধের খবর, ফেসবুকে ঢুকলেই ধ্বংসস্তূপ, আগুন আর মানুষের কান্নার ছবি। এত বেশি দেখতে দেখতে আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। নিউজফিড স্ক্রল করতে এখন আর আঙুল থেমে যায় না।
২০ ঘণ্টা আগে
রবীন্দ্রনাথকে ভাঙতে পারলে অনেকের শান্তি হয়; যদি ভাঙা নাও যায়, অন্ততপক্ষে আঁচড় কেটে কেউ কেউ তৃপ্তি পান। বাংলা অঞ্চলে সেই আঁচড় কাটার ইতিহাস বেশ পুরনো। এমনকি বিগত দুই বছরেও নানামাত্রিক নখরাঘাত চোখে পড়েছে; প্রশ্ন তোলা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি, ধর্ম কিংবা অঞ্চলগত পরিচয় প্রসঙ্গে।
২১ ঘণ্টা আগে