বিএনপির ভেতর থেকেই রাষ্ট্রপতি, আলোচনা চার থেকে নেমে একে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০০: ১২
স্ট্রিম গ্রাফিক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শুরুতে বিএনপির অন্তত চারজনের নাম সামনে এলেও এখন একজনকে ঘিরেই আলোচনা। এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে জমে উঠেছে নির্বাচন। রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে বেছে নেবে ক্ষমতাসীনরা।

২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন নেওয়া হবে। ফলে বিএনপি কাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিচ্ছে, তা হয়তো আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই জানা যাবে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিলেও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার চেয়ে দলের মধ্য থেকে একজন সক্রিয় ও অভিজ্ঞ রাজনীতিককে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে রেখে দেওয়ারও। তবে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্যদের চেয়ে সব বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই এগিয়ে রয়েছেন।

কেন এগিয়ে মির্জা ফখরুল

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি দলের রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলটির বক্তব্য জনসমক্ষে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক অঙ্গনে তুলনামূলকভাবে সংযত বক্তব্য এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতাও তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিএনপির একজন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা বলেন, ‘আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন। তবে বাকিদের যে সম্ভাবনা নেই, তেমনটিও বলা যাচ্ছে না। তিনি দীর্ঘদিন সবার সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সারা দেশে মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।’

তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনতে হবে। ফলে তাঁর সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়া শুধু রাষ্ট্রপতি ভবনের পরিবর্তন নয়, বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও একটি পরিবর্তন আনতে পারে। এই সমীকরণটিও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে।

খন্দকার মোশাররফের সামনে অভিজ্ঞতার সমীকরণ

রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় থাকা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বড় বিবেচনা হতে পারে। বিশেষ করে নতুন সরকারের শুরুতে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজন হলে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন দলের কেউ কেউ।

আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতায় মঈন খান

ড. আবদুল মঈন খানকে বিভিন্ন সময়ে বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গেছে।

রাষ্ট্রপতি পদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার চিন্তা থাকলে মঈন খানের নাম গুরুত্ব পেতে পারে।

বিশেষ করে নতুন সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক আরও সক্রিয় করার প্রয়োজন হলে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে—এমন যুক্তিও দলটির ভেতরে রয়েছে।

শ্রমিক রাজনীতি থেকে নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক পরিচিতি ও ত্যাগী নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, অন্য প্রার্থীদের তুলনায় রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর নাম কতটা জোরালোভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে রাখার গুঞ্জন

বিএনপির চার নেতার বাইরে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ আহমেদ বীর বিক্রমকেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখে দেওয়ার একটি আলোচনা রয়েছে।

তাঁকে বহাল রাখার পক্ষে যাঁরা যুক্তি দিচ্ছেন, তাঁদের বিবেচনায় বর্তমান অবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রপতি পদে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি না করাও একটি কারণ হতে পারে। তবে এটি এখন পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত নয়; রাজনৈতিক মহলের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

অধ্যাপক ইউনূসের নাম কেন আলোচনায়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও আলোচনায় রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ইউনূসকে বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি সামনে এনে অনেকে ধারণা করছেন, তাঁকে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি পদে দেখা যেতে পারে।

তবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

শুধু রাষ্ট্রপতি নয়, নেতৃত্বেরও সমীকরণ

বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে শুধু সাংবিধানিক পদে নিয়োগের বিষয় হিসেবে দেখছেন না দলের নেতারা। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে মহাসচিব পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। আবার স্থায়ী কমিটির অন্য কোনো নেতাকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দলের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চললেও দলীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শেষ কথা বলবেন তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁকেই প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২ আগস্ট রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত