ছোটবেলায় দাদীর মুখে শুনতাম, রাতের বেলা যদি চোখের সামনে দিয়ে কোনো কালো বিড়াল চলে যায়, তবে সেখানেই থেমে যেতে হবে। নিয়ম ছিল, অন্য কেউ ওই পথ দিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
কাজী নিশাত তাবাসসুম

ছোটবেলায় দাদীর মুখে শুনতাম, রাতের বেলা যদি চোখের সামনে দিয়ে কোনো কালো বিড়াল চলে যায়, তবে সেখানেই থেমে যেতে হবে। সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে হবে। নিয়ম ছিল, অন্য কেউ ওই পথ দিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। শনির দশা কাটুক। নইলে অশুভ কিছু ঘটবে।
এখন মনে প্রশ্ন জাগে, এটা কি শুধুই কুসংস্কার? এই বিশ্বাসের পেছনে আসলে কি কোনো যুক্তি আছে? আমরা যে কালো বিড়ালকে অশুভ বা দুর্ভাগ্যের প্রতীক ভাবি, বিশ্বের অনেক দেশেই কিন্তু তাকে সৌভাগ্যের চিহ্ন হিসেবে মানা হয়।
কালো বিড়াল নিয়ে এই নেতিবাচক ধারণার ইতিহাস বহু পুরোনো। গবেষক এলিজাবেথ ইউকো তাঁর এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, মধ্যযুগে ইউরোপে কালো বিড়ালকে জাদুবিদ্যা ও ডাইনিবিদ্যার সঙ্গে জড়িয়ে দেখা হতো। সেই সময় মানুষের মনে বদ্ধমূল বিশ্বাস ছিল, ডাইনিরা চাইলে কালো বিড়ালের রূপ ধারণ করতে পারে। অথবা এই বিড়ালগুলো ডাইনিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। এই ভয় থেকেই মূলত কালো বিড়াল দেখলে মানুষ দূরে সরে যেতে শুরু করে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণাটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের উপমহাদেশেও এর ব্যাপক প্রভাব দেখা যায়। আজও অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন, যাত্রাপথে সামনে দিয়ে কালো বিড়াল চলে গেলে কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বড় কোনো অমঙ্গলও হতে পারে।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কালো বিড়ালের সঙ্গে দুর্ভাগ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞান বলে, কোনো প্রাণীর গায়ের রং বা তার পথ চলা কখনোই একজন মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না। তবে প্রশ্ন জাগে, মানুষ কেন এখনো এসব বিশ্বাস করে? মনোবিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি আসলে আমাদের মস্তিষ্কের একটি বিশেষ প্রবণতা।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কনফার্মেশন বায়াস’। মানে ‘নিজের বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি খোঁজা’। যখন কোনো একটি বিষয় ভয় বা নেতিবাচক ধারণার সঙ্গে আমাদের মনে গেঁথে যায়, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই ভয়ের সপক্ষেই প্রমাণ খুঁজতে থাকে।
ধরা যাক, কোনো একজন মানুষ বিশ্বাস করেন যে কালো বিড়াল অশুভ। এখন কাকতালীয়ভাবে একদিন কালো বিড়াল দেখার পর তিনি ছোটখাটো কোনো বিপদে পড়লেন বা কোনো খারাপ খবরের সম্মুখীন হলেন। তখন তাঁর মস্তিষ্ক খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, এই খারাপ ঘটনাটি বিড়ালটি দেখার কারণেই হয়েছে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, একই দিনে যদি তাঁর সঙ্গে অনেকগুলো ভালো ঘটনাও ঘটে, তবে সেগুলোকে তিনি আর বিড়ালের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন না বা গুরুত্ব দেন না। এভাবেই মানুষের একতরফা চিন্তাভাবনা আর কাকতালীয় ঘটনার ওপর ভিত্তি করে যুগ যুগ ধরে এসব কুসংস্কার টিকে থাকে।
কালো বিড়াল মানেই যে অশুভ—এই ধারণাটি কিন্তু পৃথিবীর সব দেশে বা সংস্কৃতিতে সমান নয়। অনেক সংস্কৃতিতে কালো বিড়ালকে পরম শ্রদ্ধা আর সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।
পোষা প্রাণীদের যত্ন ও বিভিন্ন তথ্য বিষয়ক জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য স্প্রুস পেটস’-এর নিবন্ধে উঠে এসেছে, জাপানিদের কাছে কালো বিড়াল শুভ। প্রচলিত আছে যে কোনো অবিবাহিত নারীর কাছে কালো বিড়াল থাকা মানে খুব দ্রুত তিনি যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবেন।
শুধু জাপান নয়, এশিয়া ও যুক্তরাজ্যের অনেক জায়গাতেই বিশ্বাস করা হয়, যদি কারো কাছে কালো বিড়াল থাকে তবে তিনি সৌভাগ্যবান। আবার স্কটল্যান্ডের লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, যদি কোনো অপরিচিত কালো বিড়াল হঠাৎ আপনার বাড়ির দরজায় বা সামনে এসে দাঁড়ায়, তবে বুঝবেন খুব শীঘ্রই আপনার বাড়িতে আর্থিক সমৃদ্ধি ও ধন-সম্পদ আসতে চলেছে।
একসময় ব্রিটিশ নাবিকরা বিশ্বাস করতেন, জাহাজে কালো বিড়াল থাকা মানে সেই যাত্রা নিরাপদ হবে। প্রাণীটি জাহাজে সৌভাগ্য বয়ে আনে এবং ভয়াবহ ঝড়-তুফান থেকে নাবিক ও জাহাজকে রক্ষা করবে।
কালো বিড়ালকে নিয়ে কুসংস্কার এই নিরীহ প্রাণীগুলোর জীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্বজুড়ে দেখা গেছে, অন্য যেকোনো রঙের বিড়ালের তুলনায় কালো বিড়াল দত্তক নেওয়ার হার কম। মানুষ যখন কোনো প্রাণীকে ‘অশুভ’ মনে করে এড়িয়ে চলে, তখন সেই প্রাণীগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে এবং অবহেলার শিকার হয়। বিশেষ করে আমাদের গ্রামাঞ্চলে কালো বিড়াল নিয়ে এখনো এক ধরণের ভীতি কাজ করে। তবে আশার কথা হলো, এই অমূলক ধারণাগুলো এখন অনেকটাই কমে আসছে।
রং নয়, বরং প্রাণীর প্রতি মমতা ও সহানুভূতিই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। কালো বিড়ালকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখাটা কেবলই আমাদের লালিত কুসংস্কার। একই প্রাণীকে এক দেশে অমঙ্গল আর অন্য দেশে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখাটাই প্রমাণ করে, পুরো বিষয়টি বাস্তবের চেয়ে মানুষের বিশ্বাসের ওপরই বেশি নির্ভরশীল।

ছোটবেলায় দাদীর মুখে শুনতাম, রাতের বেলা যদি চোখের সামনে দিয়ে কোনো কালো বিড়াল চলে যায়, তবে সেখানেই থেমে যেতে হবে। সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে হবে। নিয়ম ছিল, অন্য কেউ ওই পথ দিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। শনির দশা কাটুক। নইলে অশুভ কিছু ঘটবে।
এখন মনে প্রশ্ন জাগে, এটা কি শুধুই কুসংস্কার? এই বিশ্বাসের পেছনে আসলে কি কোনো যুক্তি আছে? আমরা যে কালো বিড়ালকে অশুভ বা দুর্ভাগ্যের প্রতীক ভাবি, বিশ্বের অনেক দেশেই কিন্তু তাকে সৌভাগ্যের চিহ্ন হিসেবে মানা হয়।
কালো বিড়াল নিয়ে এই নেতিবাচক ধারণার ইতিহাস বহু পুরোনো। গবেষক এলিজাবেথ ইউকো তাঁর এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, মধ্যযুগে ইউরোপে কালো বিড়ালকে জাদুবিদ্যা ও ডাইনিবিদ্যার সঙ্গে জড়িয়ে দেখা হতো। সেই সময় মানুষের মনে বদ্ধমূল বিশ্বাস ছিল, ডাইনিরা চাইলে কালো বিড়ালের রূপ ধারণ করতে পারে। অথবা এই বিড়ালগুলো ডাইনিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। এই ভয় থেকেই মূলত কালো বিড়াল দেখলে মানুষ দূরে সরে যেতে শুরু করে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণাটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের উপমহাদেশেও এর ব্যাপক প্রভাব দেখা যায়। আজও অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন, যাত্রাপথে সামনে দিয়ে কালো বিড়াল চলে গেলে কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বড় কোনো অমঙ্গলও হতে পারে।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কালো বিড়ালের সঙ্গে দুর্ভাগ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞান বলে, কোনো প্রাণীর গায়ের রং বা তার পথ চলা কখনোই একজন মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না। তবে প্রশ্ন জাগে, মানুষ কেন এখনো এসব বিশ্বাস করে? মনোবিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি আসলে আমাদের মস্তিষ্কের একটি বিশেষ প্রবণতা।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কনফার্মেশন বায়াস’। মানে ‘নিজের বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি খোঁজা’। যখন কোনো একটি বিষয় ভয় বা নেতিবাচক ধারণার সঙ্গে আমাদের মনে গেঁথে যায়, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই ভয়ের সপক্ষেই প্রমাণ খুঁজতে থাকে।
ধরা যাক, কোনো একজন মানুষ বিশ্বাস করেন যে কালো বিড়াল অশুভ। এখন কাকতালীয়ভাবে একদিন কালো বিড়াল দেখার পর তিনি ছোটখাটো কোনো বিপদে পড়লেন বা কোনো খারাপ খবরের সম্মুখীন হলেন। তখন তাঁর মস্তিষ্ক খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, এই খারাপ ঘটনাটি বিড়ালটি দেখার কারণেই হয়েছে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, একই দিনে যদি তাঁর সঙ্গে অনেকগুলো ভালো ঘটনাও ঘটে, তবে সেগুলোকে তিনি আর বিড়ালের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন না বা গুরুত্ব দেন না। এভাবেই মানুষের একতরফা চিন্তাভাবনা আর কাকতালীয় ঘটনার ওপর ভিত্তি করে যুগ যুগ ধরে এসব কুসংস্কার টিকে থাকে।
কালো বিড়াল মানেই যে অশুভ—এই ধারণাটি কিন্তু পৃথিবীর সব দেশে বা সংস্কৃতিতে সমান নয়। অনেক সংস্কৃতিতে কালো বিড়ালকে পরম শ্রদ্ধা আর সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।
পোষা প্রাণীদের যত্ন ও বিভিন্ন তথ্য বিষয়ক জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য স্প্রুস পেটস’-এর নিবন্ধে উঠে এসেছে, জাপানিদের কাছে কালো বিড়াল শুভ। প্রচলিত আছে যে কোনো অবিবাহিত নারীর কাছে কালো বিড়াল থাকা মানে খুব দ্রুত তিনি যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবেন।
শুধু জাপান নয়, এশিয়া ও যুক্তরাজ্যের অনেক জায়গাতেই বিশ্বাস করা হয়, যদি কারো কাছে কালো বিড়াল থাকে তবে তিনি সৌভাগ্যবান। আবার স্কটল্যান্ডের লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, যদি কোনো অপরিচিত কালো বিড়াল হঠাৎ আপনার বাড়ির দরজায় বা সামনে এসে দাঁড়ায়, তবে বুঝবেন খুব শীঘ্রই আপনার বাড়িতে আর্থিক সমৃদ্ধি ও ধন-সম্পদ আসতে চলেছে।
একসময় ব্রিটিশ নাবিকরা বিশ্বাস করতেন, জাহাজে কালো বিড়াল থাকা মানে সেই যাত্রা নিরাপদ হবে। প্রাণীটি জাহাজে সৌভাগ্য বয়ে আনে এবং ভয়াবহ ঝড়-তুফান থেকে নাবিক ও জাহাজকে রক্ষা করবে।
কালো বিড়ালকে নিয়ে কুসংস্কার এই নিরীহ প্রাণীগুলোর জীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্বজুড়ে দেখা গেছে, অন্য যেকোনো রঙের বিড়ালের তুলনায় কালো বিড়াল দত্তক নেওয়ার হার কম। মানুষ যখন কোনো প্রাণীকে ‘অশুভ’ মনে করে এড়িয়ে চলে, তখন সেই প্রাণীগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে এবং অবহেলার শিকার হয়। বিশেষ করে আমাদের গ্রামাঞ্চলে কালো বিড়াল নিয়ে এখনো এক ধরণের ভীতি কাজ করে। তবে আশার কথা হলো, এই অমূলক ধারণাগুলো এখন অনেকটাই কমে আসছে।
রং নয়, বরং প্রাণীর প্রতি মমতা ও সহানুভূতিই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। কালো বিড়ালকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখাটা কেবলই আমাদের লালিত কুসংস্কার। একই প্রাণীকে এক দেশে অমঙ্গল আর অন্য দেশে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখাটাই প্রমাণ করে, পুরো বিষয়টি বাস্তবের চেয়ে মানুষের বিশ্বাসের ওপরই বেশি নির্ভরশীল।

অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
১৭ ঘণ্টা আগে
কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার সাধারণ জীবনযাপনের সঙ্গে দুনিয়া কাঁপানো সুপারস্টারদের দারুণ একটি মিল রয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কথাটি একদম সত্য। ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী রবার্ট পাফ তাঁর প্রবন্ধে এমন কথাই বলেছেন। আমাদের সবার জীবনেই ‘অদৃশ্য দর্শক’ বা ‘ইনভিজিবল অডিয়েন্স’ রয়েছে, যা
২০ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ওমানে গাড়ির ভেতরে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাতে ময়নাতদন্তের পর কার্বন মনোক্সাইডে শ্বাস গ্রহণকে কারণ হিসেবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।
২ দিন আগে
নদীনির্ভর বাংলাদেশের কৃষির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হলো ফারাক্কা বাঁধ। এই বাঁধের বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে লংমার্চের ডাক দিয়েছিলেন মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২ দিন আগে