হাঙর সচেতনতা দিবস আজ
আজ ‘শার্ক অ্যাওয়ারনেস ডে’ বা আন্তর্জাতিক হাঙর সচেতনতা দিবস। হাঙর সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে তাদের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরা এবং বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটিকে রক্ষা করাই এই দিবসের প্রধান লক্ষ্য। ভূ-পর্যটক তারেক অণু ২০১০ সালের জুনের শেষ দিকে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। মহাসমুদ্রের তীরে গড়ে ওঠা দক্ষিণ গোলার্ধের বৃহত্তম হাঙর প্রদর্শনী কেন্দ্র ‘উসাকা’-তে গিয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন হাঙরের আশ্চর্য এক জগতের। সেই ভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাই তিনি তুলে ধরেছেন এই লেখায়।
তারেক অণু

প্রতিবছর চেয়ার ভেঙে পড়ে গিয়ে সারা বিশ্বে ২৫ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে। রুটি গরম করার টোস্টার বিস্ফোরিত হয়ে মারা যান প্রায় ৩০ জন। হাঙরের আক্রমণে সারা বিশ্বে বছরে প্রাণ যায় ৩ থেকে ৫ জন মানুষের! প্রতি বছর এই মানুষের হাতেই মৃত্যু ঘটে ১০০ মিলিয়ন হাঙরের!
এই তথ্যগুলো লেখা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে মহাসমুদ্রের তীরে গড়ে ওঠা দক্ষিণ গোলার্ধের বৃহত্তম শার্ক সেন্টার বা হাঙর প্রদর্শনী কেন্দ্র ‘উসাকা’-তে।
সেদিন কাকডাকা ভোরে জীবনে প্রথমবারের মতো ডারবান মহানগরীতে পৌঁছেছি। ২০১০ সালের জুনের শেষ দিকের কথা। আমার সঙ্গে আছে অস্ট্রেলিয়ান তরুণী ডোমিনিকা দেবস্কায়া। মোজাম্বিকের রাজধানী মাপুতো থেকে ফেরার পথে বাসের সামনের সিটে বসে ঝিমোচ্ছিলাম। হঠাৎ পাহাড়ি ঝিরির কুলকুল শব্দের মতো ঝলমলে এক স্বর্ণকেশীর কণ্ঠ বেজে উঠল— ‘কী ক্যামেরা তোমার? একটু দেখি?’ এভাবেই ডোমিনিকার সঙ্গে বন্ধুত্বের শুরু। পেশায় ভবঘুরে আলোকচিত্রী, মানে বিভিন্ন দেশ ঘুরে সেখানের ছবি নানা পত্রিকায় পাঠিয়ে সেই টাকা দিয়েই থাকা, খাওয়া, ঘোরাঘুরি চলে যায় তাঁর। এর আগে বেশকিছু দিন ব্রাজিলে ছিল। সেখানে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক চুকে গেছে চিরতরে, এই কথাও জানিয়ে দিল পরিচয়ের কয়েক মিনিটের মধ্যে।

আমার কাছে পর্তুগাল-ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার ২টি টিকিট ছিল। বললাম একটা টিকেট এক্সট্রা আছে, চাইলে ডারবান আসতে পার খেলার ছবি তুলতে। ব্যস, আমরা এখন ডারবানে। খেলা শুরু হবে বিকেলের শেষে, তাই হাতে থাকা সময়ে আমরা শহরটা ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রথমেই প্রকৃতি জাদুঘরে স্টাফ করে রাখা বিলুপ্ত ডোডো পাখি দেখে মানুষের নির্বুদ্ধিতা আর হৃদয়হীনতার কথা আরেকবার মনে পড়ে গেল।
সকালের লাজুক সূর্য তখন সাগরের বেলাভূমিতে আবির্ভূত হয়েছে স্বমহিমায় অগ্নিরথে। দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীতকাল চললেও আফ্রিকার দক্ষিণ উপকূলে শীত খুব একটা সুবিধা করতে পারে না বোঝাই যাচ্ছে। সাগরের হাওয়ার পরশ যদিও ঘর্মাক্ত হওয়ার হাত থেকে রেহাই দিল আমাদের, কিন্তু ছায়াময় কোথাও বিশ্রাম নেবার কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল থেকে থেকে। দূর থেকেই উসাকা মেরিন ওয়ার্ল্ডের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ল। ডোমিনিকাই জানাল, এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অ্যাকোয়ারিয়াম এবং হাঙরের সংগ্রহশালা হিসেবে দক্ষিণ গোলার্ধের সবচেয়ে বড় জায়গা। এখানে সিলের নাচ, পেঙ্গুইনের হাঁটা, কুমির, সাপ আর প্রবাল দেখার শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে।

ভেতরে ঢুকে দেখলাম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিলের কসরত, পেঙ্গুইনের থপ থপ করে হেলেদুলে হাঁটা। বিশেষ অ্যাকোরিয়ামে রাখা সামুদ্রিক হিংস্র বাইন মাছ মোরে ইলের কথা প্রথম জেনেছিলাম তিন গোয়েন্দার বই পড়ে। কিন্তু আমার মন পড়ে ছিল হাঙরের রাজ্যে। বিশাল এক জাহাজকে ঘষামাজা করে নানা কায়দায় অ্যাকোয়ারিয়াম, খাঁচা আর রেস্তোরাঁ দিয়ে সাজানো হয়েছে হাঙরের এই রাজ্য। এমন বিশাল নীল জলের জগতে জীবনে প্রথমবারের মতো চাক্ষুষ করলাম হাতুড়িমাথা হাঙর! অসম্ভব সুন্দর প্রাণীটি কী সাবলীলভাবেই না পানি চিরে চলেছে। মনে মনে ভাবছিলাম, ইশ! যদি আপন রাজ্যে বুনো অবস্থায় তাকে দেখতে পেতাম!
মানুষের কাছে হাঙর এক বিরাট বিস্ময়। আজ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ প্রজাতির হাঙর আবিষ্কার করেছে মানুষ, যেগুলোর আকৃতি ৭ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ৪০ ফুট পর্যন্ত। ৪৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে তাদের সদর্প জলকেলি চলছে, এমনকি ঘুমানোর সময়ও তারা সাঁতরাতে থাকে। হাঙর নিয়ে মানুষের এত গবেষণার মূল কারণ হলো, একসময় ধারণা করা হতো হাঙরের কোনো অসুখ হয় না, এমনকি ক্যানসারও না। কী এমন রহস্য আছে এই মাছের, যাতে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দাঁত বসাতে পারে না! যদিও এখন জানা গেছে, কোনো কোনো হাঙরেরও বিশেষ ধরনের অসুখ হয়।

সবচেয়ে বড় হাঙর যেটি, সেই হোয়েল শার্ক বা তিমি হাঙর আবার খায় অতি খুদে জীব। মানুষের সঙ্গে তার বেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। ভারত মহাসাগরের তীরে মোজাম্বিকে একশ ডলারের বিনিময়ে তাদের সঙ্গে সাঁতরানোর সুযোগও ছিল। বিশালদেহী এই প্রাণীর শরীরে কোনো হাড় নেই, পুরোটাই কার্টিলেজ!
জানা গেছে রক্তের গন্ধ শুকেই মানুষ শিকারের জন্য পাগলপারা হয়ে ওঠে না হাঙর। রক্তপিপাসু হয়ে মানুষ শিকারের জন্য ফন্দিও করে না সে। বরং নিচ থেকে সাঁতাররত মানুষকে সিল মাছের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে তারা তাড়া করে। হাঙরের পাখনা দেখলে মানুষ যখন আতঙ্কিত হয়ে প্রবল বেগে নড়াচড়া শুরু করে, সন্দেহপ্রবণ মাছটি তখন আক্রমণ করেই বসে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দুর্নামের ভাগীদার আফ্রিকার বৃহত্তম শিকারি গ্রেট হোয়াইট শার্ক। তার এই দুর্নামের পেছনে মানুষের শিকার হওয়ার চেয়ে হলিউডের গুলবাজ সিনেমাগুলোর (বিশেষ করে স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জস’) ভূমিকাই বেশি।

ঘুরে ঘুরে চার ধরনের হাঙর দেখলাম আমরা। কত কোটি বছর ধরে টিকে আছে এই অসাধারণ প্রাণীগুলো! সাগরের মৃত সমস্ত প্রাণী খেয়ে তারা সাগরের নির্মলতা রক্ষা করে। অনেক হাঙরই তাদের খাদ্যশৃঙ্খলের সবচেয়ে উপরের কাতারের সদস্য, সোজা কথায় সাগরের সর্দার। আর এই সর্দারকেই আমরা কাতারে কাতারে মেরে ফেলছি! প্রতি বছর ১০ কোটি হাঙর মারা পড়ে শুধু মানুষের চাহিদার জোগান দিতে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ায় হাঙরের পাখনার স্যুপ বানাতে এবং পোলট্রি শিল্পের খাবার তৈরি করতে এদের নিধন করা হয়। বাংলাদেশে শিকার করা হাঙরের একটা বড় অংশ অন্য দেশে চলে যায় মুরগির খাবার হতে। সাগরের খাদ্যচক্রে এভাবে ভারসাম্য নষ্ট করার ফল ইতিমধ্যে মানুষ হাতেনাতে পেতে শুরু করেছে।
উসাকাতে হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটার একটা সুবর্ণ সুযোগ ছিল। তবে সেটি লোহার খাঁচার ভেতরে ঢুকে। ফ্রাঙ্ক পোলির ‘নীল অন্ধকার’ বা টিম ক্যাহিলের লেখা পড়ে হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটার যে মুগ্ধতা আমার মনে জন্মেছিল, সেটা এই বদ্ধ খাঁচায় জলাঞ্জলি দিতে ইচ্ছে করল না। হাঙর ছাড়াও এখানে নানা সামুদ্রিক প্রাণী ছোঁয়ার সুযোগ ছিল। ডোমিনিকা মহা উৎসাহে স্টারফিশসহ আরও বর্ণিল কিছু জলজ প্রাণী ছুঁয়ে এল।
অসাধারণ এই প্রাণীগুলোর সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ কাটিয়ে আমরা চললাম মহাসমুদ্রে অবগাহন করতে। সেখানে মানবসন্তানদের জন্য কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আলাদা এলাকা করা হয়েছে, আর বাকি অবারিত সমুদ্র ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সমুদ্রের আসল সন্তানদের জন্য। তবে সেই গল্প তোলা থাক অন্য আরেক দিনের জন্য।

প্রতিবছর চেয়ার ভেঙে পড়ে গিয়ে সারা বিশ্বে ২৫ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে। রুটি গরম করার টোস্টার বিস্ফোরিত হয়ে মারা যান প্রায় ৩০ জন। হাঙরের আক্রমণে সারা বিশ্বে বছরে প্রাণ যায় ৩ থেকে ৫ জন মানুষের! প্রতি বছর এই মানুষের হাতেই মৃত্যু ঘটে ১০০ মিলিয়ন হাঙরের!
এই তথ্যগুলো লেখা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে মহাসমুদ্রের তীরে গড়ে ওঠা দক্ষিণ গোলার্ধের বৃহত্তম শার্ক সেন্টার বা হাঙর প্রদর্শনী কেন্দ্র ‘উসাকা’-তে।
সেদিন কাকডাকা ভোরে জীবনে প্রথমবারের মতো ডারবান মহানগরীতে পৌঁছেছি। ২০১০ সালের জুনের শেষ দিকের কথা। আমার সঙ্গে আছে অস্ট্রেলিয়ান তরুণী ডোমিনিকা দেবস্কায়া। মোজাম্বিকের রাজধানী মাপুতো থেকে ফেরার পথে বাসের সামনের সিটে বসে ঝিমোচ্ছিলাম। হঠাৎ পাহাড়ি ঝিরির কুলকুল শব্দের মতো ঝলমলে এক স্বর্ণকেশীর কণ্ঠ বেজে উঠল— ‘কী ক্যামেরা তোমার? একটু দেখি?’ এভাবেই ডোমিনিকার সঙ্গে বন্ধুত্বের শুরু। পেশায় ভবঘুরে আলোকচিত্রী, মানে বিভিন্ন দেশ ঘুরে সেখানের ছবি নানা পত্রিকায় পাঠিয়ে সেই টাকা দিয়েই থাকা, খাওয়া, ঘোরাঘুরি চলে যায় তাঁর। এর আগে বেশকিছু দিন ব্রাজিলে ছিল। সেখানে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক চুকে গেছে চিরতরে, এই কথাও জানিয়ে দিল পরিচয়ের কয়েক মিনিটের মধ্যে।

আমার কাছে পর্তুগাল-ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার ২টি টিকিট ছিল। বললাম একটা টিকেট এক্সট্রা আছে, চাইলে ডারবান আসতে পার খেলার ছবি তুলতে। ব্যস, আমরা এখন ডারবানে। খেলা শুরু হবে বিকেলের শেষে, তাই হাতে থাকা সময়ে আমরা শহরটা ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রথমেই প্রকৃতি জাদুঘরে স্টাফ করে রাখা বিলুপ্ত ডোডো পাখি দেখে মানুষের নির্বুদ্ধিতা আর হৃদয়হীনতার কথা আরেকবার মনে পড়ে গেল।
সকালের লাজুক সূর্য তখন সাগরের বেলাভূমিতে আবির্ভূত হয়েছে স্বমহিমায় অগ্নিরথে। দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীতকাল চললেও আফ্রিকার দক্ষিণ উপকূলে শীত খুব একটা সুবিধা করতে পারে না বোঝাই যাচ্ছে। সাগরের হাওয়ার পরশ যদিও ঘর্মাক্ত হওয়ার হাত থেকে রেহাই দিল আমাদের, কিন্তু ছায়াময় কোথাও বিশ্রাম নেবার কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল থেকে থেকে। দূর থেকেই উসাকা মেরিন ওয়ার্ল্ডের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ল। ডোমিনিকাই জানাল, এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অ্যাকোয়ারিয়াম এবং হাঙরের সংগ্রহশালা হিসেবে দক্ষিণ গোলার্ধের সবচেয়ে বড় জায়গা। এখানে সিলের নাচ, পেঙ্গুইনের হাঁটা, কুমির, সাপ আর প্রবাল দেখার শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে।

ভেতরে ঢুকে দেখলাম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিলের কসরত, পেঙ্গুইনের থপ থপ করে হেলেদুলে হাঁটা। বিশেষ অ্যাকোরিয়ামে রাখা সামুদ্রিক হিংস্র বাইন মাছ মোরে ইলের কথা প্রথম জেনেছিলাম তিন গোয়েন্দার বই পড়ে। কিন্তু আমার মন পড়ে ছিল হাঙরের রাজ্যে। বিশাল এক জাহাজকে ঘষামাজা করে নানা কায়দায় অ্যাকোয়ারিয়াম, খাঁচা আর রেস্তোরাঁ দিয়ে সাজানো হয়েছে হাঙরের এই রাজ্য। এমন বিশাল নীল জলের জগতে জীবনে প্রথমবারের মতো চাক্ষুষ করলাম হাতুড়িমাথা হাঙর! অসম্ভব সুন্দর প্রাণীটি কী সাবলীলভাবেই না পানি চিরে চলেছে। মনে মনে ভাবছিলাম, ইশ! যদি আপন রাজ্যে বুনো অবস্থায় তাকে দেখতে পেতাম!
মানুষের কাছে হাঙর এক বিরাট বিস্ময়। আজ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ প্রজাতির হাঙর আবিষ্কার করেছে মানুষ, যেগুলোর আকৃতি ৭ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ৪০ ফুট পর্যন্ত। ৪৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে তাদের সদর্প জলকেলি চলছে, এমনকি ঘুমানোর সময়ও তারা সাঁতরাতে থাকে। হাঙর নিয়ে মানুষের এত গবেষণার মূল কারণ হলো, একসময় ধারণা করা হতো হাঙরের কোনো অসুখ হয় না, এমনকি ক্যানসারও না। কী এমন রহস্য আছে এই মাছের, যাতে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দাঁত বসাতে পারে না! যদিও এখন জানা গেছে, কোনো কোনো হাঙরেরও বিশেষ ধরনের অসুখ হয়।

সবচেয়ে বড় হাঙর যেটি, সেই হোয়েল শার্ক বা তিমি হাঙর আবার খায় অতি খুদে জীব। মানুষের সঙ্গে তার বেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। ভারত মহাসাগরের তীরে মোজাম্বিকে একশ ডলারের বিনিময়ে তাদের সঙ্গে সাঁতরানোর সুযোগও ছিল। বিশালদেহী এই প্রাণীর শরীরে কোনো হাড় নেই, পুরোটাই কার্টিলেজ!
জানা গেছে রক্তের গন্ধ শুকেই মানুষ শিকারের জন্য পাগলপারা হয়ে ওঠে না হাঙর। রক্তপিপাসু হয়ে মানুষ শিকারের জন্য ফন্দিও করে না সে। বরং নিচ থেকে সাঁতাররত মানুষকে সিল মাছের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে তারা তাড়া করে। হাঙরের পাখনা দেখলে মানুষ যখন আতঙ্কিত হয়ে প্রবল বেগে নড়াচড়া শুরু করে, সন্দেহপ্রবণ মাছটি তখন আক্রমণ করেই বসে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দুর্নামের ভাগীদার আফ্রিকার বৃহত্তম শিকারি গ্রেট হোয়াইট শার্ক। তার এই দুর্নামের পেছনে মানুষের শিকার হওয়ার চেয়ে হলিউডের গুলবাজ সিনেমাগুলোর (বিশেষ করে স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জস’) ভূমিকাই বেশি।

ঘুরে ঘুরে চার ধরনের হাঙর দেখলাম আমরা। কত কোটি বছর ধরে টিকে আছে এই অসাধারণ প্রাণীগুলো! সাগরের মৃত সমস্ত প্রাণী খেয়ে তারা সাগরের নির্মলতা রক্ষা করে। অনেক হাঙরই তাদের খাদ্যশৃঙ্খলের সবচেয়ে উপরের কাতারের সদস্য, সোজা কথায় সাগরের সর্দার। আর এই সর্দারকেই আমরা কাতারে কাতারে মেরে ফেলছি! প্রতি বছর ১০ কোটি হাঙর মারা পড়ে শুধু মানুষের চাহিদার জোগান দিতে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ায় হাঙরের পাখনার স্যুপ বানাতে এবং পোলট্রি শিল্পের খাবার তৈরি করতে এদের নিধন করা হয়। বাংলাদেশে শিকার করা হাঙরের একটা বড় অংশ অন্য দেশে চলে যায় মুরগির খাবার হতে। সাগরের খাদ্যচক্রে এভাবে ভারসাম্য নষ্ট করার ফল ইতিমধ্যে মানুষ হাতেনাতে পেতে শুরু করেছে।
উসাকাতে হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটার একটা সুবর্ণ সুযোগ ছিল। তবে সেটি লোহার খাঁচার ভেতরে ঢুকে। ফ্রাঙ্ক পোলির ‘নীল অন্ধকার’ বা টিম ক্যাহিলের লেখা পড়ে হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটার যে মুগ্ধতা আমার মনে জন্মেছিল, সেটা এই বদ্ধ খাঁচায় জলাঞ্জলি দিতে ইচ্ছে করল না। হাঙর ছাড়াও এখানে নানা সামুদ্রিক প্রাণী ছোঁয়ার সুযোগ ছিল। ডোমিনিকা মহা উৎসাহে স্টারফিশসহ আরও বর্ণিল কিছু জলজ প্রাণী ছুঁয়ে এল।
অসাধারণ এই প্রাণীগুলোর সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ কাটিয়ে আমরা চললাম মহাসমুদ্রে অবগাহন করতে। সেখানে মানবসন্তানদের জন্য কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আলাদা এলাকা করা হয়েছে, আর বাকি অবারিত সমুদ্র ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সমুদ্রের আসল সন্তানদের জন্য। তবে সেই গল্প তোলা থাক অন্য আরেক দিনের জন্য।
.png)

লোকালয়ে কোনো বিপন্ন বন্যপ্রাণী আটকা পড়েছে কিংবা আহত হয়েছে, এমন খবর পেলেই এলাকার মানুষ যার ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করতেন, তিনি সীতেশ রঞ্জন দেব। দেশের মানুষের কাছে যিনি ‘সীতেশ বাবু’ নামেই বেশি পরিচিত। আহত পশুপাখি ও বন্যপ্রাণীদের পরম মমতায় সুস্থ করে তোলার এই অকৃত্রিম কারিগর আর নেই।
৫ ঘণ্টা আগে
এমন অসংখ্য মেটাফোরে ছেয়ে থাকে আরবি ফুটবলের ধারাভাষ্য। বিভিন্ন তারকা প্লেয়াররাও ভূষিত হয় নানান খেতাবে। রোনালদো হয়ে যায় ‘কিংবদন্তি’ বা ‘দুর্ধর্ষ’, মেসি হয়ে যায় ‘পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য’ বা ‘প্রলয়ংকরী’, এরিক হাল্যান্ড হয় ‘ট্যাংক মানব’, রিয়াদ মাহরেজ হয়ে যায় ‘মরুর দুলাল’।
৬ ঘণ্টা আগে
‘কৌতুক অভিনেতা’ বললেই সবার আগে দিলদারের নাম মাথায় আসে। তাঁকে সবাই ভালোবেসে ‘হাসির রাজা’ বলতেন। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকদের মনে আনন্দের ঢেউ। একের পর এক হাততালিতে মুখর হয়ে উঠত সিনেমা হল। তবে সেই সোনালি দিনগুলো আজ শুধুই স্মৃতি। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।
১৩ জুলাই ২০২৬
শহীদুল্লাহ দেখেছিলেন বাঙালি জাতি নিজের ভাষার ইতিহাস অন্যের চোখে দেখতে অভ্যস্ত, নিজের ইতিহাসও অন্যের ভাষায় বলে ও লেখে। আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি সেই প্রচলিত ধারাকে ভেঙেছিলেন। বাংলা ভাষাকে তাই শুধু গবেষণার বিষয় করেননি; তিনি একে গবেষণার ভাষাও করে তুলতে চেয়েছিলেন।
১৩ জুলাই ২০২৬