ভেজাল খাদ্য রোধে জেলায় ভ্রাম্যমাণ ল্যাব করবে সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ২১: ২৮
সংসদে কথা বলছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

ভেজাল খাদ্য শনাক্ত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে দেশের ৬৪ জেলায় বিশেষ ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি ভ্যান চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সংসদে এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের নোটিশের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এই তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেজাল খাদ্য দ্রুত পরীক্ষা করার সুবিধার্থে দেশের প্রতিটি জেলায় মিনি ল্যাবরেটরি সংবলিত মোবাইল ভ্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের বাজারে বিক্রীত খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা যাবে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দণ্ডবিধি, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩, বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ সহ বিভিন্ন আইনের অধীনে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হচ্ছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় বিষাক্ত বা ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ সাজার বিধান রয়েছে।

খাদ্য পরীক্ষার বর্তমান সক্ষমতা তুলে ধরে মো. আব্দুল বারী বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৬৪ জেলা ও আট বিভাগীয় কার্যালয়ে ৭২টি মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে। এসব ল্যাবে বিগত পাঁচ মাসে ৬ হাজার ৭৯৫টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এবং চলতি বছরে প্রায় ১৯ হাজার ৭০০ নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান। বর্তমানে বিভাগীয় শহরে আটটি মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যানের মাধ্যমে দুধ, ঘি, শাকসবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের ভেজাল পরীক্ষা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের পরিধি দেশব্যাপী বাড়াতে আরও ৬৪টি নতুন ভ্রাম্যমাণ ল্যাব ভ্যান কেনা হবে।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকায় কেন্দ্রীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরি এবং চট্টগ্রাম ও খুলনায় দুটি বিভাগীয় ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রধান প্রধান আমদানি প্রবেশদ্বার—হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরেও আমদানি খাদ্যপণ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন, বেতার ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একসঙ্গে পাঁচটি নতুন প্রবিধান প্রণয়নের কাজ চলছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত