আজ বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খানের জন্মদিন। থিয়েটারের মঞ্চ থেকে রুপালি পর্দায় তিনি কীভাবে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন, তা জানা যাবে এ লেখায়।
স্ট্রিম ডেস্ক

শাহরুখ খানের এই গল্পটা নিছক কোনো অভিনেতার ‘সুপারস্টার’ হয়ে ওঠার নয়। গল্পটা আসলে দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির আবহে দিল্লিতে বেড়ে ওঠা এক ছেলের বলিউডের ‘কিং খান’ হয়ে ওঠার।
বাবার দিক থেকে পাওয়া পেশোয়ারি পাঠানদের দৃঢ়তা আর মায়ের দিক থেকে পাওয়া হায়দরাবাদি ভদ্রতা, এই দুই স্বভাবের ভারসাম্যই গড়ে তুলেছে আজকের বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খানকে।
শাহরুখ খানের বাবা মীর তাজ মোহাম্মদ খান ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ারের একজন পাঠান। তিনি পেশায় আইনজীবী ছিলেন এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, শাহরুখের মা লতিফ ফাতিমা খান ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট ও সমাজকর্মী। তাঁর শিকড় ছিল হায়দরাবাদের এক শিক্ষিত ও অভিজাত পরিবারে।

দিল্লির রাজেন্দ্র নগরের ভাড়া বাড়িতে এই দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মোহনায় শাহরুখের বেড়ে ওঠা। বাড়ির পরিবেশে ছিল পাঠানদের দৃঢ়তা আর হায়দরাবাদি ভদ্রতা ও সংবেদনশীলতার মিশেল। বাবা মীর তাজ মোহাম্মদ সন্তানদের শোনাতেন পেশোয়ারের বীরত্বের গল্প, শেখাতেন হার না মানার মানসিকতা। মা লতিফ ফাতিমা শেখাতেন শিক্ষার গুরুত্ব, বিনয় আর মানুষের মন জয় করার ক্ষমতা। বাবার ব্যবসায়িক ব্যর্থতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের সময়ে মা-ই ছিলেন পরিবারের ভরসা ও শক্তি।
আজকের শাহরুখ খানের আত্মবিশ্বাসী, সংবেদনশীল ও পরিশ্রমী মনোভাবের পেছনে এই দুই ভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাবই হয়ত গভীরভাবে কাজ করেছে।
তবে শাহরুখের জীবন শুধু বৈচিত্র্য আর সাফল্যের গল্প নয়। মাত্র পনেরো বছর বয়সে বাবাকে হারান, আর বলিউডে পা রাখার আগেই ১৯৯০ সালে হারান মাকেও। কিন্তু শাহরুখ থেমে থাকেননি। এই শোকই তাঁকে আরও দৃঢ় করে তুলেছিল, এগিয়ে নিয়েছিল জীবনের এক অনন্য উচ্চতায়।
দিল্লির হংসরাজ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হওয়ার পর শাহরুখ খান ভর্তি হন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় গণযোগাযোগ বিভাগে। কিন্তু তাঁর আসল ভালোবাসা ছিল অভিনয়। দিল্লির থিয়েটার অ্যাকশন গ্রুপে যোগ দিয়ে নাট্যগুরু ব্যারি জনের তত্ত্বাবধানে শেখেন অভিনয়ের সূক্ষ্ম কৌশল। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর শিল্পযাত্রার ভিত গড়ে তোলা।
বাবা-মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর দুঃখ ভুলতেই হয়তো শাহরুখ নিজেকে অভিনয়ে পুরোপুরি সঁপে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টেলিভিশনের পর্দায় ‘ফৌজি’ (১৯৮৯) এবং ‘সার্কাস’ (১৯৮৯)-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে শাহরুখ ধীরে ধীরে পৌঁছে যান সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে।

কিন্তু এই অল্পতে কি আর কিং খান থামেন! তাঁর স্বপ্ন তখন সিনেমার রুপালি পর্দায়। একরাশ স্বপ্ন আর পকেটে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে পা রাখেন বোম্বেতে (মুম্বাই)। কোনো পারিবারিক সমর্থন বা সিনেজগতের কোনো ‘গডফাদার’-এর সমর্থন ছাড়াই শুরু হয় সিনেমার পর্দায় জায়গা করে নেওয়ার যুদ্ধ।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বলিউডের নায়কেরা শুধু ‘ভালো মানুষের’ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয় হচ্ছিলেন, তখন শাহরুখ খান বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। ‘ডর’(১৯৯৩), ‘বাজিগর’(১৯৯৩) এবং ‘আঞ্জাম’(১৯৯৪)-এ খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সবাইকে অবাক করলেন। তাঁর অট্টহাসি, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর বিখ্যাত সংলাপ ‘ক...ক...ক...কিরণ’ দর্শকদের মনে গেঁথে গেল। শাহরুখ প্রমাণ করলেন, প্রকৃত অভিনেতার শক্তি চরিত্রের ধরনে নয়, তাঁর উপস্থাপনায়।
তবে শাহরুখকে স্থায়ীভাবে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে যায় ১৯৯৫ সালের সিনেমা ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’। ‘রাজ মালহোত্রা’ চরিত্রের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন এক প্রজন্মের ভালোবাসার প্রতীক।
এরপর ‘দিল তো পাগল হ্যায়’(১৯৯৭), ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’(১৯৯৮), ‘কাভি খুশি কাভি গম’(২০০১) এবং ‘বীর-জারা’(২০০৪)-এর মতো ছবিতে রোমান্সের এক নতুন ভাষা তৈরি করেন তিনি। তাঁর দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়ানোর ভঙ্গি ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভালোবাসার ‘আইকনিক’ প্রতীকে।
সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারে একসময় এসে নেমেছিল অমাবস্যা। টানা বেশ কয়েকটি সিনেমা ‘ফ্যান’ (২০১৬), ‘জাব হ্যারি মেট সেজল’ (২০১৭), ‘জিরো’ (২০১৮) প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল আনতে পারেনি।
বক্স অফিসে ব্যর্থতার পর সমালোচকেরা বলতে শুরু করেন, হয়ত শাহরুখের সময় শেষ হয়ে এসেছে। তাঁর স্ক্রিপ্ট নির্বাচন, অভিনয়ের ধরণ, সবকিছু নিয়েই শুরু হয় প্রশ্ন।
এই সময়েই জনপ্রিয় হতে শুরু করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ট্রল, মিমের বাইরেও সবাই বলতে শুরু করে, ‘শাহরুখ হয়ত এই প্রজন্মকে বুঝতে পারেনি। শাহরুখের যুগের সমাপ্তি হলো।’

এই কঠিন সময়ে শাহরুখ খান প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নেন। প্রায় চার বছর তিনি বড় পর্দা থেকে দূরে থাকেন। তাঁর এই নীরবতা ভক্তদের মনেও প্রশ্ন জাগায়—‘বাদশা কি তবে তাঁর সিংহাসন চিরতরে হারালেন?’
সব সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৩ সালে শাহরুখ খান আবার পর্দায় ফিরলেন। আর কিং-এর প্রত্যাবর্তন তো রাজকীয় হবেই! ‘পাঠান’ (২০২৩) ও ‘জওয়ান’ (২০২৩) সিনেমার মাধ্যমে প্রমাণ করলেন, সিংহাসন আজও তাঁরই। বক্স অফিসের সমস্ত পুরোনো রেকর্ড চুরমার করে এই দুই সিনেমা নতুন ইতিহাস তৈরি করল।
গত বেশ কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার দাপটে পিছিয়ে পড়া হিন্দি সিনেমা যেন নতুন করে শ্বাস নিতে শুরু করে শাহরুখের এই ফেরায়। আর হবেই বা না কেন! বলিউডের রাজত্ব যদি হুমকির মুখে পড়ে, তাকে বাঁচাতে কিং খানকেই তো ফিরে আসতে হতো।
এরপর ‘ডাঙ্কি’ (২০২৩)-এর মতো ভিন্ন স্বাদের সিনেমা দিয়ে প্রমাণ করলেন, দর্শকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন আজও অটুট।

১৯৯২ সালে অভিনয়ে যাত্রা শুরুর পর থেকে শাহরুখ খান অভিনয় করেছেন ৮০টিরও বেশি সিনেমায়। প্রতিবারই তিনি নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করেছেন, ভেঙেছেন নিজেরই তৈরি ছাঁচ। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-তে তিনি রোমান্টিক নায়কের প্রতীক, ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’-তে পরিণত হয়েছেন লড়াই ও নেতৃত্বের প্রতীকে। ‘ডন’ এবং ‘ডন ২’-এ তিনি কুলনেসের প্রতিমূর্তি, আর ‘জওয়ান’-এ হয়ে উঠেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মুখ।
এই বহুমাত্রিক উপস্থিতির কারণেই শাহরুখ খানের আবেদন প্রজন্ম ও সময়ের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বুমার, মিলেনিয়াল থেকে শুরু করে জেনারেশন জেড, সবার কাছেই তিনি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর সিনেমার গান, সংলাপ আর অঙ্গভঙ্গি নতুন করে বেঁচে আছে মিম, ম্যাশআপ ও টিকটকের দুনিয়ায়। ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, রসবোধ আর আত্মবিশ্বাস তাঁকে এই সময়েও অটুট জনপ্রিয়তার জায়গায় রেখেছে।

শাহরুখ খানের এই গল্পটা নিছক কোনো অভিনেতার ‘সুপারস্টার’ হয়ে ওঠার নয়। গল্পটা আসলে দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির আবহে দিল্লিতে বেড়ে ওঠা এক ছেলের বলিউডের ‘কিং খান’ হয়ে ওঠার।
বাবার দিক থেকে পাওয়া পেশোয়ারি পাঠানদের দৃঢ়তা আর মায়ের দিক থেকে পাওয়া হায়দরাবাদি ভদ্রতা, এই দুই স্বভাবের ভারসাম্যই গড়ে তুলেছে আজকের বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খানকে।
শাহরুখ খানের বাবা মীর তাজ মোহাম্মদ খান ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ারের একজন পাঠান। তিনি পেশায় আইনজীবী ছিলেন এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, শাহরুখের মা লতিফ ফাতিমা খান ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট ও সমাজকর্মী। তাঁর শিকড় ছিল হায়দরাবাদের এক শিক্ষিত ও অভিজাত পরিবারে।

দিল্লির রাজেন্দ্র নগরের ভাড়া বাড়িতে এই দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মোহনায় শাহরুখের বেড়ে ওঠা। বাড়ির পরিবেশে ছিল পাঠানদের দৃঢ়তা আর হায়দরাবাদি ভদ্রতা ও সংবেদনশীলতার মিশেল। বাবা মীর তাজ মোহাম্মদ সন্তানদের শোনাতেন পেশোয়ারের বীরত্বের গল্প, শেখাতেন হার না মানার মানসিকতা। মা লতিফ ফাতিমা শেখাতেন শিক্ষার গুরুত্ব, বিনয় আর মানুষের মন জয় করার ক্ষমতা। বাবার ব্যবসায়িক ব্যর্থতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের সময়ে মা-ই ছিলেন পরিবারের ভরসা ও শক্তি।
আজকের শাহরুখ খানের আত্মবিশ্বাসী, সংবেদনশীল ও পরিশ্রমী মনোভাবের পেছনে এই দুই ভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাবই হয়ত গভীরভাবে কাজ করেছে।
তবে শাহরুখের জীবন শুধু বৈচিত্র্য আর সাফল্যের গল্প নয়। মাত্র পনেরো বছর বয়সে বাবাকে হারান, আর বলিউডে পা রাখার আগেই ১৯৯০ সালে হারান মাকেও। কিন্তু শাহরুখ থেমে থাকেননি। এই শোকই তাঁকে আরও দৃঢ় করে তুলেছিল, এগিয়ে নিয়েছিল জীবনের এক অনন্য উচ্চতায়।
দিল্লির হংসরাজ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হওয়ার পর শাহরুখ খান ভর্তি হন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় গণযোগাযোগ বিভাগে। কিন্তু তাঁর আসল ভালোবাসা ছিল অভিনয়। দিল্লির থিয়েটার অ্যাকশন গ্রুপে যোগ দিয়ে নাট্যগুরু ব্যারি জনের তত্ত্বাবধানে শেখেন অভিনয়ের সূক্ষ্ম কৌশল। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর শিল্পযাত্রার ভিত গড়ে তোলা।
বাবা-মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর দুঃখ ভুলতেই হয়তো শাহরুখ নিজেকে অভিনয়ে পুরোপুরি সঁপে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টেলিভিশনের পর্দায় ‘ফৌজি’ (১৯৮৯) এবং ‘সার্কাস’ (১৯৮৯)-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে শাহরুখ ধীরে ধীরে পৌঁছে যান সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে।

কিন্তু এই অল্পতে কি আর কিং খান থামেন! তাঁর স্বপ্ন তখন সিনেমার রুপালি পর্দায়। একরাশ স্বপ্ন আর পকেটে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে পা রাখেন বোম্বেতে (মুম্বাই)। কোনো পারিবারিক সমর্থন বা সিনেজগতের কোনো ‘গডফাদার’-এর সমর্থন ছাড়াই শুরু হয় সিনেমার পর্দায় জায়গা করে নেওয়ার যুদ্ধ।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বলিউডের নায়কেরা শুধু ‘ভালো মানুষের’ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয় হচ্ছিলেন, তখন শাহরুখ খান বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। ‘ডর’(১৯৯৩), ‘বাজিগর’(১৯৯৩) এবং ‘আঞ্জাম’(১৯৯৪)-এ খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সবাইকে অবাক করলেন। তাঁর অট্টহাসি, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর বিখ্যাত সংলাপ ‘ক...ক...ক...কিরণ’ দর্শকদের মনে গেঁথে গেল। শাহরুখ প্রমাণ করলেন, প্রকৃত অভিনেতার শক্তি চরিত্রের ধরনে নয়, তাঁর উপস্থাপনায়।
তবে শাহরুখকে স্থায়ীভাবে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে যায় ১৯৯৫ সালের সিনেমা ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’। ‘রাজ মালহোত্রা’ চরিত্রের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন এক প্রজন্মের ভালোবাসার প্রতীক।
এরপর ‘দিল তো পাগল হ্যায়’(১৯৯৭), ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’(১৯৯৮), ‘কাভি খুশি কাভি গম’(২০০১) এবং ‘বীর-জারা’(২০০৪)-এর মতো ছবিতে রোমান্সের এক নতুন ভাষা তৈরি করেন তিনি। তাঁর দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়ানোর ভঙ্গি ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভালোবাসার ‘আইকনিক’ প্রতীকে।
সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারে একসময় এসে নেমেছিল অমাবস্যা। টানা বেশ কয়েকটি সিনেমা ‘ফ্যান’ (২০১৬), ‘জাব হ্যারি মেট সেজল’ (২০১৭), ‘জিরো’ (২০১৮) প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল আনতে পারেনি।
বক্স অফিসে ব্যর্থতার পর সমালোচকেরা বলতে শুরু করেন, হয়ত শাহরুখের সময় শেষ হয়ে এসেছে। তাঁর স্ক্রিপ্ট নির্বাচন, অভিনয়ের ধরণ, সবকিছু নিয়েই শুরু হয় প্রশ্ন।
এই সময়েই জনপ্রিয় হতে শুরু করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ট্রল, মিমের বাইরেও সবাই বলতে শুরু করে, ‘শাহরুখ হয়ত এই প্রজন্মকে বুঝতে পারেনি। শাহরুখের যুগের সমাপ্তি হলো।’

এই কঠিন সময়ে শাহরুখ খান প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নেন। প্রায় চার বছর তিনি বড় পর্দা থেকে দূরে থাকেন। তাঁর এই নীরবতা ভক্তদের মনেও প্রশ্ন জাগায়—‘বাদশা কি তবে তাঁর সিংহাসন চিরতরে হারালেন?’
সব সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৩ সালে শাহরুখ খান আবার পর্দায় ফিরলেন। আর কিং-এর প্রত্যাবর্তন তো রাজকীয় হবেই! ‘পাঠান’ (২০২৩) ও ‘জওয়ান’ (২০২৩) সিনেমার মাধ্যমে প্রমাণ করলেন, সিংহাসন আজও তাঁরই। বক্স অফিসের সমস্ত পুরোনো রেকর্ড চুরমার করে এই দুই সিনেমা নতুন ইতিহাস তৈরি করল।
গত বেশ কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার দাপটে পিছিয়ে পড়া হিন্দি সিনেমা যেন নতুন করে শ্বাস নিতে শুরু করে শাহরুখের এই ফেরায়। আর হবেই বা না কেন! বলিউডের রাজত্ব যদি হুমকির মুখে পড়ে, তাকে বাঁচাতে কিং খানকেই তো ফিরে আসতে হতো।
এরপর ‘ডাঙ্কি’ (২০২৩)-এর মতো ভিন্ন স্বাদের সিনেমা দিয়ে প্রমাণ করলেন, দর্শকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন আজও অটুট।

১৯৯২ সালে অভিনয়ে যাত্রা শুরুর পর থেকে শাহরুখ খান অভিনয় করেছেন ৮০টিরও বেশি সিনেমায়। প্রতিবারই তিনি নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করেছেন, ভেঙেছেন নিজেরই তৈরি ছাঁচ। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-তে তিনি রোমান্টিক নায়কের প্রতীক, ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’-তে পরিণত হয়েছেন লড়াই ও নেতৃত্বের প্রতীকে। ‘ডন’ এবং ‘ডন ২’-এ তিনি কুলনেসের প্রতিমূর্তি, আর ‘জওয়ান’-এ হয়ে উঠেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মুখ।
এই বহুমাত্রিক উপস্থিতির কারণেই শাহরুখ খানের আবেদন প্রজন্ম ও সময়ের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বুমার, মিলেনিয়াল থেকে শুরু করে জেনারেশন জেড, সবার কাছেই তিনি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর সিনেমার গান, সংলাপ আর অঙ্গভঙ্গি নতুন করে বেঁচে আছে মিম, ম্যাশআপ ও টিকটকের দুনিয়ায়। ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, রসবোধ আর আত্মবিশ্বাস তাঁকে এই সময়েও অটুট জনপ্রিয়তার জায়গায় রেখেছে।

প্রযুক্তির ইতিহাসে ১৯২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বর্তমান যুগে আমরা যে টেলিভিশনকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরে নিয়েছি, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল এই দিনটিতেই। স্কটিশ প্রকৌশলী জন লগি বেয়ার্ড সেদিন প্রথমবারের মতো ‘রিয়েল টেলিভিশন’ বা প্রকৃত টেলিভিশন জনসমক্ষে প্রদর্শন কর
২ ঘণ্টা আগে
দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১ দিন আগে
জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত জে এন গুপ্ত-এর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (বগুড়া) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
১ দিন আগে
আজ ২৫ জানুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য-পরিসরে শতবর্ষ পরেও তিনি বেঁচে আছেন সক্রিয়তার ভেতর দিয়েই। এও সত্য যে, তাঁকে নিয়ে তাঁর কালেই তো বেশ জোরজারের সাথে চর্চা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধুন্ধুমারভাবে প্রভাবিত করে গেছেন বিচিত্র ধারার সাহিত্যের লোকজনকে। এসবের পরও সেইকালে মধুসূদন
১ দিন আগে