নিউইয়র্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মেয়র পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিলেন। জোহরান মামদানি ওল্ড সিটি হলের নিচের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে (পাতালরেল) স্টেশনে এই শপথ নেন। শপথবাক্য পাঠ করান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস। ধর্মগ্রন্থে ছুঁয়ে শপথের ব্যাপারটি আদালত, রাষ্ট্রপ্রধানের অভিষেক কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ—সব জায়গাতেই পরিচিত এক দৃশ্য। কিন্তু এই রীতির শুরু হলো কীভাবে?
স্ট্রিম ডেস্ক

নিউইয়র্ক নগরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। তিনি নিউইয়র্ক নগরের এক শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি নিউইউর্কের ওল্ড সিটি হলের নিচের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে (পাতালরেল) স্টেশনে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন। নিউইয়র্কের আগের প্রায় সব মেয়রই পবিত্র বাইবেল হাতে শপথ নিয়েছেন। যদিও ফেডারেল, স্টেট বা সিটির সংবিধানের বাধ্যবাধকতায় শপথের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
ধর্মগ্রন্থে ছুঁয়ে শপথের ব্যাপারটি আদালত, রাষ্ট্রপ্রধানের অভিষেক কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ—সব জায়গাতেই পরিচিত এক দৃশ্য। কিন্তু এই রীতির শুরু হলো কীভাবে?
প্রথমেই বলা যায়, এই শপথ আসলে শুধু কয়েকটি কথার আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর পেছনে আছে মানুষের বিশ্বাস আর মনস্তত্বের দীর্ঘ ইতিহাস। আইন, সংবিধান বা লিখিত নিয়মকানুন আসার অনেক আগেও মানুষ সমাজে বাস করত। তখন সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল, কে সত্য বলছে, কে মিথ্যা সেটা নির্ণয় করতে না পারা। মানুষের চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়, ক্ষমতাবানদের ভয় দেখানো যায়, কিন্তু প্রাচীন সমাজও বিশ্বাস করত, স্রষ্টাকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। তাই মানুষ সত্য বলার নিশ্চয়তা দিতে স্রষ্ট্রাকে সাক্ষী রাখত।
শুরুতে এই শপথ ছিল কেবল মুখের কথা। আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রতিজ্ঞা করা হতো। দ্য নিউ ইয়র্কার-এর তথ্যততে, নবম শতকের ইংল্যান্ডে প্রথম আইনি পরিসরে শপথগ্রন্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। তখন অনেক লেনদেন ও অঙ্গীকার হতো গির্জার বেদিতে, গসপেল বইয়ের উপর হাত রেখে শপথ নিয়ে।
তিন শতক পরে ইংল্যান্ডের আদালতগুলো এই রীতি গ্রহণ করে। জুরি সদস্য ও নির্দিষ্ট মামলার ব্যক্তিদের বাইবেলের ছুঁয়ে শপথ নিতে হতো। মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের আইন ও শপথপ্রথা বিষয়ক ঐতিহাসিক গবেষণায় পাওয়া যায়, ত্রয়োদশ শতকের একটি নামহীন লাতিন পাণ্ডুলিপি—যেটি এখন কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত—এই শপথের পদ্ধতি ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে। বইয়ের উপর হাত রেখে, তারপর সেটি চুম্বন করার মধ্য দিয়ে শপথগ্রহণকারী স্বীকার করতেন। তিনি যদি শপথ ভেঙে মিথ্যা বলেন, তবে বাইবেলের কথাগুলো, তাঁর সৎকর্ম বা প্রার্থনা—কোনোটাই তাঁকে পার্থিব বা আত্মিক কোনো লাভ এনে দেবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আইনি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।
এই ধারার মধ্য দিয়েই ধর্মগ্রন্থে ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার প্রথা আমেরিকাতেও পৌঁছে যায়। আজও ব্রিটিশ সাক্ষীরা ‘সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের নামে’ শপথ নেন, আর আমেরিকায় শপথের শেষে বলা হয় ‘সো হেল্প মি গড’। তবে সেখানে সাক্ষী বা কর্মকর্তারা চাইলে শপথের বদলে ‘অ্যাফার্মেশন’ করতে পারেন; সেখানে স্রষ্ট্রার উল্লেখ থাকে না, ‘আমি শপথ করছি’ নয়, বলা হয় ‘আমি ঘোষণা করছি’। এটি তৈরি হয়েছিল খ্রিষ্টধর্মের সেই সব সম্প্রদায়ের জন্য, যারা শপথ করাকে পাপ মনে করে।
তবে আগে শপথ শুধু আদালতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজতন্ত্র শক্তিশালী হওয়ার পর রাজাদেরও নিজেদের ক্ষমতার বৈধতা প্রমাণ করতে হতো। কেন প্রজা রাজাকে মানবে? এখানেও এল শপথ। রাজারা ধর্মগ্রন্থে হাত রেখে প্রতিজ্ঞা করতেন, ন্যায়বিচার করবেন, ধর্ম রক্ষা করবেন, প্রজাদের নিরাপত্তা দেবেন। ঈশ্বরের নামে নেওয়া এই শপথ রাজক্ষমতাকে দিল এক ধরনের অলৌকিক বৈধতা। ফলে শপথ হয়ে ওঠে রাজনৈতিক হাতিয়ার। জনগণ দেখে, শাসক শুধু মানুষের কাছেই নয়, ঈশ্বরের কাছেও দায়বদ্ধ।
আধুনিক রাষ্ট্রে এসে চিত্রটা কিছুটা বদলায়। সংবিধান লেখা হয়, প্রমাণভিত্তিক বিচার চালু হয়, আদালত শক্তিশালী হয়। তবু শপথের রীতি হারিয়ে যায় না। অনেক রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ হলেও শপথের বিকল্প রাখে—ধর্মগ্রন্থে শপথ অথবা ‘অ্যাফার্মেশন’। অর্থাৎ, ঈশ্বরে বিশ্বাস না থাকলেও, অন্তত নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার ঘোষণা।
তাহলে প্রশ্ন থাকে, ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ কি সত্যিই মানুষকে সত্যবাদী করে? ইতিহাস বলছে, শপথ ভঙ্গের ঘটনা বহুবার। তবুও ধর্মগ্রন্থের উপর হাত রেখে শপথ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কিছু দায় আছে, যা কাগজের আইনের বাইরে যায়। এটা বিশ্বাসের দায়, নৈতিকতার দায়, নিজের সঙ্গে নিজের চুক্তি।

নিউইয়র্ক নগরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। তিনি নিউইয়র্ক নগরের এক শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি নিউইউর্কের ওল্ড সিটি হলের নিচের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে (পাতালরেল) স্টেশনে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন। নিউইয়র্কের আগের প্রায় সব মেয়রই পবিত্র বাইবেল হাতে শপথ নিয়েছেন। যদিও ফেডারেল, স্টেট বা সিটির সংবিধানের বাধ্যবাধকতায় শপথের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
ধর্মগ্রন্থে ছুঁয়ে শপথের ব্যাপারটি আদালত, রাষ্ট্রপ্রধানের অভিষেক কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ—সব জায়গাতেই পরিচিত এক দৃশ্য। কিন্তু এই রীতির শুরু হলো কীভাবে?
প্রথমেই বলা যায়, এই শপথ আসলে শুধু কয়েকটি কথার আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর পেছনে আছে মানুষের বিশ্বাস আর মনস্তত্বের দীর্ঘ ইতিহাস। আইন, সংবিধান বা লিখিত নিয়মকানুন আসার অনেক আগেও মানুষ সমাজে বাস করত। তখন সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল, কে সত্য বলছে, কে মিথ্যা সেটা নির্ণয় করতে না পারা। মানুষের চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়, ক্ষমতাবানদের ভয় দেখানো যায়, কিন্তু প্রাচীন সমাজও বিশ্বাস করত, স্রষ্টাকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। তাই মানুষ সত্য বলার নিশ্চয়তা দিতে স্রষ্ট্রাকে সাক্ষী রাখত।
শুরুতে এই শপথ ছিল কেবল মুখের কথা। আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রতিজ্ঞা করা হতো। দ্য নিউ ইয়র্কার-এর তথ্যততে, নবম শতকের ইংল্যান্ডে প্রথম আইনি পরিসরে শপথগ্রন্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। তখন অনেক লেনদেন ও অঙ্গীকার হতো গির্জার বেদিতে, গসপেল বইয়ের উপর হাত রেখে শপথ নিয়ে।
তিন শতক পরে ইংল্যান্ডের আদালতগুলো এই রীতি গ্রহণ করে। জুরি সদস্য ও নির্দিষ্ট মামলার ব্যক্তিদের বাইবেলের ছুঁয়ে শপথ নিতে হতো। মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের আইন ও শপথপ্রথা বিষয়ক ঐতিহাসিক গবেষণায় পাওয়া যায়, ত্রয়োদশ শতকের একটি নামহীন লাতিন পাণ্ডুলিপি—যেটি এখন কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত—এই শপথের পদ্ধতি ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে। বইয়ের উপর হাত রেখে, তারপর সেটি চুম্বন করার মধ্য দিয়ে শপথগ্রহণকারী স্বীকার করতেন। তিনি যদি শপথ ভেঙে মিথ্যা বলেন, তবে বাইবেলের কথাগুলো, তাঁর সৎকর্ম বা প্রার্থনা—কোনোটাই তাঁকে পার্থিব বা আত্মিক কোনো লাভ এনে দেবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আইনি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।
এই ধারার মধ্য দিয়েই ধর্মগ্রন্থে ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার প্রথা আমেরিকাতেও পৌঁছে যায়। আজও ব্রিটিশ সাক্ষীরা ‘সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের নামে’ শপথ নেন, আর আমেরিকায় শপথের শেষে বলা হয় ‘সো হেল্প মি গড’। তবে সেখানে সাক্ষী বা কর্মকর্তারা চাইলে শপথের বদলে ‘অ্যাফার্মেশন’ করতে পারেন; সেখানে স্রষ্ট্রার উল্লেখ থাকে না, ‘আমি শপথ করছি’ নয়, বলা হয় ‘আমি ঘোষণা করছি’। এটি তৈরি হয়েছিল খ্রিষ্টধর্মের সেই সব সম্প্রদায়ের জন্য, যারা শপথ করাকে পাপ মনে করে।
তবে আগে শপথ শুধু আদালতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজতন্ত্র শক্তিশালী হওয়ার পর রাজাদেরও নিজেদের ক্ষমতার বৈধতা প্রমাণ করতে হতো। কেন প্রজা রাজাকে মানবে? এখানেও এল শপথ। রাজারা ধর্মগ্রন্থে হাত রেখে প্রতিজ্ঞা করতেন, ন্যায়বিচার করবেন, ধর্ম রক্ষা করবেন, প্রজাদের নিরাপত্তা দেবেন। ঈশ্বরের নামে নেওয়া এই শপথ রাজক্ষমতাকে দিল এক ধরনের অলৌকিক বৈধতা। ফলে শপথ হয়ে ওঠে রাজনৈতিক হাতিয়ার। জনগণ দেখে, শাসক শুধু মানুষের কাছেই নয়, ঈশ্বরের কাছেও দায়বদ্ধ।
আধুনিক রাষ্ট্রে এসে চিত্রটা কিছুটা বদলায়। সংবিধান লেখা হয়, প্রমাণভিত্তিক বিচার চালু হয়, আদালত শক্তিশালী হয়। তবু শপথের রীতি হারিয়ে যায় না। অনেক রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ হলেও শপথের বিকল্প রাখে—ধর্মগ্রন্থে শপথ অথবা ‘অ্যাফার্মেশন’। অর্থাৎ, ঈশ্বরে বিশ্বাস না থাকলেও, অন্তত নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার ঘোষণা।
তাহলে প্রশ্ন থাকে, ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ কি সত্যিই মানুষকে সত্যবাদী করে? ইতিহাস বলছে, শপথ ভঙ্গের ঘটনা বহুবার। তবুও ধর্মগ্রন্থের উপর হাত রেখে শপথ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কিছু দায় আছে, যা কাগজের আইনের বাইরে যায়। এটা বিশ্বাসের দায়, নৈতিকতার দায়, নিজের সঙ্গে নিজের চুক্তি।

নতুন বছর মানেই কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যাওয়া নয়; এটি মানবসভ্যতার জন্য পেছনে তাকিয়ে শেখার, সামনে তাকিয়ে নতুন করে ভাবার সময়। যুদ্ধ, সংঘাত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু বিপর্যয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণে ক্লান্ত মানবসভ্যতা নতুন বছরে যে প্রত্যাশাটি সবচেয়ে বেশি করে, তা হলো শান্তি।
৫ ঘণ্টা আগে
বছর শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। অদ্ভুত এক মানসিক তাড়না কাজ করছে অনেকের মধ্যে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার আগেই যেন সব হিসাব মেলাতে হবে। একেই বলা হচ্ছে ‘ওয়ান লাস্ট টাইম’ সাইকোলজি। কিন্তু বছর পাল্টালেই তো জীবন বদলাবে না। তবে কেন এই মানসিক অস্থিরতা?
১ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত গোটা জাতি। রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক পালন শুরু হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে শোক জানিয়েছেন ব্যান্ড সংগীত তারকারা।
১ দিন আগে
কিছুতেই সাক্ষাৎকার দিতে রাজী হননি খালেদা জিয়া। কিন্তু দুই ঘণ্টার অন্তরঙ্গ আলাপের ফাঁকে ফাঁকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাপন, তাঁর রুচি অভিরুচি ও সখের বিষয় এই রচনায় অন্তরঙ্গভাবে তুলে এনেছেন অসীম সাহা। লেখাটি ১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক নিপুণের মার্চ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করা
২ দিন আগে