ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি এবং ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড সোবার্স মারা গেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই তথ্য জানিয়েছে। নিজের ৯০তম জন্মদিনের মাত্র ১১ দিন আগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি।
স্ট্রিম ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বার্বাডোজের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন গারফিল্ড সোবার্স। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কোচিং ছাড়াই গলির ক্রিকেট খেলে নিজের দক্ষতা গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৫৩ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন। এর পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়।
কখনও দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান, কখনও ভয়ংকর বোলার আবার কখনও অসাধারণ ফিল্ডার। ব্যাট হাতে গ্যারি সোবার্স ছিলেন শিল্পী। ক্রিকেট ইতিহাসের তাঁকে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো তাঁকে ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার’ এবং স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান তাঁকে ‘তাঁর দেখা সেরা ব্যাটসম্যান’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
আর ফিল্ডিং? মাঠের যেকোনো জায়গায় তিনি ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। বিশেষ করে শর্ট লেগ পয়েন্টের মতো কাছাকাছি পজিশনে দাঁড়ালে ক্যাচ যেন চুম্বকের মতো এসে আটকে যেত তাঁর হাতে। এমন বিরল প্রতিভা ক্রিকেটে এখনও আসেনি। ভবিষ্যতে আসবে এমন সম্ভাবনাও ক্ষীণ। জীবনানন্দ দাশের ভাষায় বলা যায়, ‘এ পৃথিবী একবার পায় তারে, পায় নাকো আর।’
১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪—দুই দশকের টেস্ট ক্যারিয়ারে সোবার্স খেলেছেন ৯৩ ম্যাচ। করেছেন ৮,০৩২ রান, গড় ৫৭ দশমিক ৭৮। সেঞ্চুরি ২৬টি। পাশাপাশি নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট, বোলিং গড় ৩৪ দশমিক ০৩। ফিল্ডার হিসেবে ধরেছেন ১০৯ ক্যাচ। কিন্তু এই সংখ্যাগুলোও তাঁর প্রকৃত প্রভাব পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গ্যারি সোবার্সের অভিষেক হয় ১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে। বার্বাডোজের হয়ে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে খেলেই আলোচনায় চলে আসেন। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতকে ফলো-অনে ফেলতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এক বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জ্যামাইকায় টেস্ট অভিষেক। তখন তাঁকে মূলত বোলার হিসেবেই দেখা হতো। প্রথম ইনিংসে নেন ৪ উইকেট, আর ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে করেন ১৪ ও ২৬ রান। কারণ সেসময় তিনি নামতেন ৯ নম্বরে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে নিচের দিকে ব্যাটিং করায় সোবার্সের প্রকৃত প্রতিভা ধরা পড়েনি। প্রথম ২২ টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল মাত্র ৬৬। কিন্তু এরপরই বদলে যায় গল্প। পরের ২৪ টেস্টে তিনি করেন ২,২৫০ রান, গড় ৯৩ দশমিক ৭৫। তখনই ক্রিকেট বিশ্ব বুঝতে শুরু করে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেয়েছে এক বিরল প্রতিভা।
ব্যাটিং অর্ডারে ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে উঠতে একসময় ওপেনিংও করেছেন, যদিও সবচেয়ে বেশি খেলেছেন ৬ নম্বরে। তবে ইতিহাস গড়া প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটি আসে ৩ নম্বরে নেমে। ১৯৫৮ সালে, তাঁর বয়স তখন মাত্র ২১। কিংস্টনের স্যাবাইনা পার্কে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন ৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ভেঙে দেন লেন হাটনের সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসের রেকর্ড। ইনিংস শেষে উচ্ছ্বসিত দর্শক নেমে আসে মাঠে। সোবার্সের সেই ৩৬৫ রান টিকে ছিল টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ইনিংস হিসেবে টানা ৩৬ বছর। সেই ট্রিপল সেঞ্চুরির এক দশক পর ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে ঘটে আরেক কীর্তি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ওভারের ৬ বলেই ছক্কা। এ যেন রবিঠাকুরের ‘খেলা ভাঙার খেলা!’
ক্রিকেটের বাইরে ব্যক্তি হিসেবেও গ্যারি সোবার্স ছিলেন অন্যদের চেয়ে আলাদা। এত এত রেকর্ড যার ঝুলিতে আছে, তাঁর মধ্যে মধ্যে কখনোই রেকর্ড নিয়ে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন খেলাকে, দলকে। এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকানোর সেই কীর্তিকেও অসাধারণ কিছু বলে মনে করেননি। বরং তাঁর ভাষায়, ‘ওভারে ছয় ছক্কা কোনো সঠিক ক্রিকেট হলো নাকি! ওই ম্যাচে তখন আউট হলেও দলের কিছু আসত-যেত না বলেই মারার চেষ্টা করেছিলাম, লেগে গেছে। এসব আসলে হঠাৎই হয়ে যায়।’
টানা বিশ বছর ব্যাট-বলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও জীবনের শেষদিকে ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ ছিল কমতির দিকে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিজে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। সারা জীবন কি তা নিয়েই পড়ে থাকব নাকি! তা ছাড়া টানা চার-ছয় ঘণ্টা বসে ক্রিকেট দেখা আমার ধাতে নেই।’

গ্যারি সোবার্সের ৮৯ বছরের জীবনে অর্জনের অভাব ছিল না। কিন্তু এগুলো নিয়েও খুব একটা আবেগপ্রবণ ছিলেন না তিনি। তারকা হিসেবে নয়, সবার সঙ্গে মিশতেন সাধারণের মতো হয়ে। তাঁকে নিয়ে আরেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার এভার্টন উইকস বলছিলেন, ‘গ্যারি সোবার্স যত বড় ক্রিকেটার, মানুষ হিসেবে তার চেয়েও বড়।’
গ্যারি সোবার্সকে নিয়ে কয়েকটি মজার কথাও প্রচলিত আছে। সোবার্স সহজে সাক্ষাৎকার দিতেন না, আর দিলেও অনেক সময় পারিশ্রমিক নিতেন। এর পেছনে তাঁর যুক্তিও ছিল সরল। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার শেষে নিজের আত্মজীবনী টোয়েন্টি ইয়ার এট দ্য টপ-এ অটোগ্রাফ দিতে দিতে বলেছিলেন, ‘আমার সব কথা তো এই বইয়েই লেখা আছে। সেগুলো যদি পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়ে যায়, তাহলে মানুষ বই কিনবে কেন?’
২০০৭ বিশ্বকাপে বার্বাডোজে সেই স্বভাবেরই আরেক ঝলক দেখা যায়। স্থানীয় টেস্ট ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া লেজেন্ডস ক্লাবে বসেছিলেন সোবার্স। ভক্তরা ছবি তুলতে চাইলে তিনি হাসিমুখেই রাজি হতেন, তবে বিনামূল্যে নয়।
অটোগ্রাফ হোক কিংবা ছবি—সবকিছুরই আলাদা রেট ঠিক করা ছিল। একটি কক্ষে বসে নিশ্চিন্তে ম্যাগাজিন পড়ছিলেন তিনি। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে এক ভারতীয় সাংবাদিক ক্যামেরা তুলতেই ম্যাগাজিন দিয়েই মুখ ঢেকে ফেললেন।
এমন বর্ণাঢ্য বৈচিত্র্যময় জীবন পার করে অনন্তের পথে পাড়ি দিয়েছেন সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার। ১৯৩৬ সালে বারবাডোজে জন্ম, ২০২৬ সালে সেখানেই মৃত্যু। ছোট্ট ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় মানুষ তিনি। আর দশদিন পরই নব্বই বছরে পা দিতেন গ্যারি সোবার্স। কিন্তু তা আর হলো না। জীবনের পথে সেঞ্চুরি করার আগেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বার্বাডোজের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন গারফিল্ড সোবার্স। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কোচিং ছাড়াই গলির ক্রিকেট খেলে নিজের দক্ষতা গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৫৩ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন। এর পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়।
কখনও দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান, কখনও ভয়ংকর বোলার আবার কখনও অসাধারণ ফিল্ডার। ব্যাট হাতে গ্যারি সোবার্স ছিলেন শিল্পী। ক্রিকেট ইতিহাসের তাঁকে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো তাঁকে ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার’ এবং স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান তাঁকে ‘তাঁর দেখা সেরা ব্যাটসম্যান’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
আর ফিল্ডিং? মাঠের যেকোনো জায়গায় তিনি ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। বিশেষ করে শর্ট লেগ পয়েন্টের মতো কাছাকাছি পজিশনে দাঁড়ালে ক্যাচ যেন চুম্বকের মতো এসে আটকে যেত তাঁর হাতে। এমন বিরল প্রতিভা ক্রিকেটে এখনও আসেনি। ভবিষ্যতে আসবে এমন সম্ভাবনাও ক্ষীণ। জীবনানন্দ দাশের ভাষায় বলা যায়, ‘এ পৃথিবী একবার পায় তারে, পায় নাকো আর।’
১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪—দুই দশকের টেস্ট ক্যারিয়ারে সোবার্স খেলেছেন ৯৩ ম্যাচ। করেছেন ৮,০৩২ রান, গড় ৫৭ দশমিক ৭৮। সেঞ্চুরি ২৬টি। পাশাপাশি নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট, বোলিং গড় ৩৪ দশমিক ০৩। ফিল্ডার হিসেবে ধরেছেন ১০৯ ক্যাচ। কিন্তু এই সংখ্যাগুলোও তাঁর প্রকৃত প্রভাব পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গ্যারি সোবার্সের অভিষেক হয় ১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে। বার্বাডোজের হয়ে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে খেলেই আলোচনায় চলে আসেন। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতকে ফলো-অনে ফেলতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এক বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জ্যামাইকায় টেস্ট অভিষেক। তখন তাঁকে মূলত বোলার হিসেবেই দেখা হতো। প্রথম ইনিংসে নেন ৪ উইকেট, আর ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে করেন ১৪ ও ২৬ রান। কারণ সেসময় তিনি নামতেন ৯ নম্বরে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে নিচের দিকে ব্যাটিং করায় সোবার্সের প্রকৃত প্রতিভা ধরা পড়েনি। প্রথম ২২ টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল মাত্র ৬৬। কিন্তু এরপরই বদলে যায় গল্প। পরের ২৪ টেস্টে তিনি করেন ২,২৫০ রান, গড় ৯৩ দশমিক ৭৫। তখনই ক্রিকেট বিশ্ব বুঝতে শুরু করে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেয়েছে এক বিরল প্রতিভা।
ব্যাটিং অর্ডারে ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে উঠতে একসময় ওপেনিংও করেছেন, যদিও সবচেয়ে বেশি খেলেছেন ৬ নম্বরে। তবে ইতিহাস গড়া প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটি আসে ৩ নম্বরে নেমে। ১৯৫৮ সালে, তাঁর বয়স তখন মাত্র ২১। কিংস্টনের স্যাবাইনা পার্কে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন ৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ভেঙে দেন লেন হাটনের সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসের রেকর্ড। ইনিংস শেষে উচ্ছ্বসিত দর্শক নেমে আসে মাঠে। সোবার্সের সেই ৩৬৫ রান টিকে ছিল টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ইনিংস হিসেবে টানা ৩৬ বছর। সেই ট্রিপল সেঞ্চুরির এক দশক পর ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে ঘটে আরেক কীর্তি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ওভারের ৬ বলেই ছক্কা। এ যেন রবিঠাকুরের ‘খেলা ভাঙার খেলা!’
ক্রিকেটের বাইরে ব্যক্তি হিসেবেও গ্যারি সোবার্স ছিলেন অন্যদের চেয়ে আলাদা। এত এত রেকর্ড যার ঝুলিতে আছে, তাঁর মধ্যে মধ্যে কখনোই রেকর্ড নিয়ে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন খেলাকে, দলকে। এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকানোর সেই কীর্তিকেও অসাধারণ কিছু বলে মনে করেননি। বরং তাঁর ভাষায়, ‘ওভারে ছয় ছক্কা কোনো সঠিক ক্রিকেট হলো নাকি! ওই ম্যাচে তখন আউট হলেও দলের কিছু আসত-যেত না বলেই মারার চেষ্টা করেছিলাম, লেগে গেছে। এসব আসলে হঠাৎই হয়ে যায়।’
টানা বিশ বছর ব্যাট-বলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও জীবনের শেষদিকে ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ ছিল কমতির দিকে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিজে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। সারা জীবন কি তা নিয়েই পড়ে থাকব নাকি! তা ছাড়া টানা চার-ছয় ঘণ্টা বসে ক্রিকেট দেখা আমার ধাতে নেই।’

গ্যারি সোবার্সের ৮৯ বছরের জীবনে অর্জনের অভাব ছিল না। কিন্তু এগুলো নিয়েও খুব একটা আবেগপ্রবণ ছিলেন না তিনি। তারকা হিসেবে নয়, সবার সঙ্গে মিশতেন সাধারণের মতো হয়ে। তাঁকে নিয়ে আরেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার এভার্টন উইকস বলছিলেন, ‘গ্যারি সোবার্স যত বড় ক্রিকেটার, মানুষ হিসেবে তার চেয়েও বড়।’
গ্যারি সোবার্সকে নিয়ে কয়েকটি মজার কথাও প্রচলিত আছে। সোবার্স সহজে সাক্ষাৎকার দিতেন না, আর দিলেও অনেক সময় পারিশ্রমিক নিতেন। এর পেছনে তাঁর যুক্তিও ছিল সরল। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার শেষে নিজের আত্মজীবনী টোয়েন্টি ইয়ার এট দ্য টপ-এ অটোগ্রাফ দিতে দিতে বলেছিলেন, ‘আমার সব কথা তো এই বইয়েই লেখা আছে। সেগুলো যদি পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়ে যায়, তাহলে মানুষ বই কিনবে কেন?’
২০০৭ বিশ্বকাপে বার্বাডোজে সেই স্বভাবেরই আরেক ঝলক দেখা যায়। স্থানীয় টেস্ট ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া লেজেন্ডস ক্লাবে বসেছিলেন সোবার্স। ভক্তরা ছবি তুলতে চাইলে তিনি হাসিমুখেই রাজি হতেন, তবে বিনামূল্যে নয়।
অটোগ্রাফ হোক কিংবা ছবি—সবকিছুরই আলাদা রেট ঠিক করা ছিল। একটি কক্ষে বসে নিশ্চিন্তে ম্যাগাজিন পড়ছিলেন তিনি। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে এক ভারতীয় সাংবাদিক ক্যামেরা তুলতেই ম্যাগাজিন দিয়েই মুখ ঢেকে ফেললেন।
এমন বর্ণাঢ্য বৈচিত্র্যময় জীবন পার করে অনন্তের পথে পাড়ি দিয়েছেন সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার। ১৯৩৬ সালে বারবাডোজে জন্ম, ২০২৬ সালে সেখানেই মৃত্যু। ছোট্ট ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় মানুষ তিনি। আর দশদিন পরই নব্বই বছরে পা দিতেন গ্যারি সোবার্স। কিন্তু তা আর হলো না। জীবনের পথে সেঞ্চুরি করার আগেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
.png)

বিশেষত বাংলা সিনেমার হিরো নামক সত্তাটির সঙ্গে পরিচয়ের প্রথম প্রহরে যখন তারা চোখ মেলে পর্দায় দেখছে নায়ক রহমানকে অন্তত সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলাই যায়, বিএফডিসির প্রথম হিরো রহমান, যাকে অনুসরণ করেছে পরবর্তী নায়কেরা।
৩ ঘণ্টা আগে
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। আগে যেখানে ৩২ দেশ অংশ নিত, এবার সেখানে খেলেছে ৪৮ দেশ। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দর্শকের সংখ্যাও।
১ দিন আগে
অফিসের বসকে একটা তথ্য জানাতে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করলাম। তিনি কিছু না বলে একটা ‘থাম্বস আপ’ বা লাইক ইমোজি পাঠালেন। ধরে নিলাম, তিনি কাজটি অনুমোদন করেছেন বা সম্মতি জানিয়েছেন। অথচ কিছুদিন আগে এই ‘লাইক’ পাঠানো নিয়েই একচোট ঝগড়া হয়ে গেল বরের সঙ্গে।
১৭ জুলাই ২০২৬
গত দুই দশকে চীনা ভাষার ব্যবহারিক গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন আজ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। দুই দেশের সহযোগিতা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে চীনা ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তির চাহিদা। কর্মজীবনে আমি সেই চাহিদা পূরণে সামান্য হলেও ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি।
১৭ জুলাই ২০২৬