মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
স্ট্রিম ডেস্ক

বিজ্ঞানীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের চিরাচরিত ধারণা, বিজ্ঞানীরা বোধহয় নাওয়া-খাওয়া ভুলে সবসময় গবেষণাগারে পড়ে থাকেন। বাইরের পৃথিবীতে কী ঘটছে, সেগুলোতে তাঁরা তেমন মনোযোগ দেন না। কিন্তু এই ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিলেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন হয়েও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত কথা বলেছেন এবং লেখালেখি করেছেন তিনি। ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও এই বিজ্ঞানীর নাম জড়িত। ১৯৫২ সালে আইনস্টাইনকে নতুন রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দেন। আইনস্টাইন সেদিন কেন প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ আছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয়েছিল ইহুদিরা। শুধু ইহুদি হওয়ার কারণে তাদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালানো হয়। নাৎসিদের চালানো এই বিভীষিকা আইনস্টাইনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি ইহুদিদের জন্য একটি নিরাপদ আবাসভূমির ধারণাকে সমর্থন করেন এবং বিভিন্নভাবে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।
ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট চেইম ভাইৎসমান ছিলেন আইনস্টাইনের মতই একজন বিজ্ঞানী ছিলেন। সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় ছিল জরুরি। আইনস্টাইন ও ভাইৎসমান—উভয়েই বিভিন্ন পর্যায়ে সমর্থন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। তবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মূলত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই নেয়েছিল আমেরিকা।
এর অনেক আগে থেকেই ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি গড়ার পক্ষে আইনস্টাইনের ইতিবাচক মনোভাব ছিল। ১৯২৩ সালে তিনি ১২ দিনের জন্য ফিলিস্তিন সফর করেন এবং সেখানে হিব্রু ইউনিভার্সিটিতে বক্তৃতা দেন। পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ানে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ফিলিস্তিনে কাজ করা ইহুদিদের প্রশংসা করেন।
তিনি সেই চিঠিতে বলেন, ‘চমৎকার নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক গুণসম্পন্ন তরুণ-তরুণী; যারা খালি হাতে সড়ক নির্মাণ করছে, পরিত্যক্ত মাটিকে কৃষিতে রূপ দিচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। কোনো সচেতন ব্যক্তি ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অসাধারণ সাফল্য এবং তাঁদের একাগ্রতা দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারি না।’
ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট চেইম ভাইৎসমান ১৯৫২ সালে মারা যান। ইহুদি রাষ্ট্র গঠনে আইনস্টাইনের অবদানের জন্য তিনি আইনস্টাইনকে ‘সর্বকালের সেরা ইহুদি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ইসরায়েলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ন মনস্থির করেন, আইনস্টাইনের কাছেই এই প্রস্তাব পাঠানো হবে।
১৯৫২ সালের ১৬ নভেম্বর বেন গুরিয়ন আমেরিকার ইসরায়েলি দূতাবাসে চিঠি লেখেন। দূতাবাসের প্রধান আব্বা এবন পরের দিনই আইনস্টাইনের কাছে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠান।
বেন গুরিয়ন আইনস্টাইনকে এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট হলে আইনস্টাইনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার সমস্ত খরচ রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
কিন্তু পরদিনই আইনস্টাইন চিঠির জবাব নিয়ে সরাসরি বেন গুরিয়নের কাছে নিজের উত্তর পেশ করেন। সেই চিঠিতে আইনস্টাইন লিখেছিলেন,
“আমাদের ইসরায়েল রাষ্ট্রের দেয়া প্রস্তাবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। একইসাথে আমি দুঃখিত ও লজ্জিত বোধ করছি, কারণ এই প্রস্তাব আমি গ্রহণ করতে পারছি না। জীবনের পুরোটা সময় আমি ব্যয় করেছি বস্তুগত বিষয়গুলোর রহস্য উদঘাটন করতে, তাই গণমানুষের সাথে কাজ করা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করা– এসবের জন্য যে অভ্যাসগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তার অভাব রয়েছে আমার মধ্যে। শুধু এই কারণগুলোর জন্যই আমি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবো এবং বার্ধক্যের জন্য আগের শক্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমি সত্যিই অনেক দুঃখিত, যেহেতু ইহুদি জনগণের সাথে আমার আমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের বিপন্ন অবস্থা আমি অবলোকন করেছি।”
চিঠিতে বয়স আর অভিজ্ঞতার কথা বলা হলেও, প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পেছনে আরও কিছু জোরালো কারণ ছিল বলে ধারণা করা হয়। সারা জীবন শান্তিবাদী আইনস্টাইন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে শান্তির আহ্বানে একটি বিখ্যাত ইশতেহার লিখেছিলেন। অন্যদিকে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি গঠিত হয়েছিল অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং ফিলিস্তিনিদের রক্তের ওপর। এ ছাড়া চরমপন্থী ইহুদি সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি।
অনেকে মনে করেন, ব্যক্তিগত জীবনের প্রশান্তি বজায় রাখার স্বার্থে আইনস্টাইন ইসরায়েলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। জার্মান শরণার্থী হিসেবে তিনি নিউ জার্সির প্রিন্সটনে নিজের সাধারণ জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। রাজনীতির মারপ্যাঁচ কিংবা ক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়ার কোনো মোহ তাঁর কখনোই ছিল না। ইসরায়েল গঠনে তার প্রাথমিক সমর্থন থাকলেও, পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং নিজের শান্তিবাদী আদর্শের সংঘাতই সম্ভবত তাকে এই লোভনীয় প্রস্তাব থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।
বিশ্ব ইতিহাসে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বহু বছর ধরেই সমালোচনা ও বিতর্কের বিষয়। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে থাকলেও, এই প্রক্রিয়ায় জড়িত সহিংসতার ঘোর বিরোধী ছিলেন। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে সংঘটিত অনেক সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তিনি।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল ‘রাষ্ট্র’ ঘোষণা করার এক দশক আগেই আইনস্টাইন জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘প্রস্তাবিত ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ইহুদি জাতীয়তাবাদের (জায়োনিজম) ‘মূল চেতনার পরিপন্থী’।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী মেনাহেম বেগিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। তখন আইনস্টাইনসহ একদল ইহুদি বুদ্ধিজীবী নিউইয়র্ক টাইমসে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে বেগিনের দলের বিরুদ্ধে সরব হন। চিঠিতে বেগিনের হেরুত পার্টিকে সরাসরি নাৎসি ও ফ্যাসিবাদী দলের সাথে তুলনা করা হয়। বলা হয়, দলটি সংগঠন এবং রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে ফ্যাসিস্টদের মতোই। বর্তমানে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি হলো এই হেরুত পার্টিরই উত্তরসূরি।
আইনস্টাইনের ক্ষোভের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে। পশ্চিম জেরুজালেমের দেইর ইয়াসিন গ্রামে ইহুদি চরমপন্থীরা ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। বেগিনের সংগঠন ইরগুন এবং চরমপন্থী সংগঠন স্টার্ন গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে। হত্যার ধরন ছিল অত্যন্ত নৃশংস। মানুষকে গুলি করে এবং গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা হয়। অনেককে গ্রেপ্তারের পর প্যারেড করিয়ে হত্যা করা হয়। এমনকি ধর্ষণ ও অঙ্গচ্ছেদের মতো অভিযোগও ওঠে। এই খবর পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনস্টাইন অত্যন্ত কঠিন ভাষায় একটি চিঠি লেখেন। আইনস্টাইন চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন নিউইয়র্কে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অব দ্য ফাইটারস ফর দ্য ফ্রিডম অব ইসরায়েল’ নামের একটি সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শেফার্ড রিফকিন বরাবর।

বিজ্ঞানীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের চিরাচরিত ধারণা, বিজ্ঞানীরা বোধহয় নাওয়া-খাওয়া ভুলে সবসময় গবেষণাগারে পড়ে থাকেন। বাইরের পৃথিবীতে কী ঘটছে, সেগুলোতে তাঁরা তেমন মনোযোগ দেন না। কিন্তু এই ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিলেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন হয়েও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত কথা বলেছেন এবং লেখালেখি করেছেন তিনি। ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও এই বিজ্ঞানীর নাম জড়িত। ১৯৫২ সালে আইনস্টাইনকে নতুন রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দেন। আইনস্টাইন সেদিন কেন প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ আছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয়েছিল ইহুদিরা। শুধু ইহুদি হওয়ার কারণে তাদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালানো হয়। নাৎসিদের চালানো এই বিভীষিকা আইনস্টাইনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি ইহুদিদের জন্য একটি নিরাপদ আবাসভূমির ধারণাকে সমর্থন করেন এবং বিভিন্নভাবে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।
ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট চেইম ভাইৎসমান ছিলেন আইনস্টাইনের মতই একজন বিজ্ঞানী ছিলেন। সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় ছিল জরুরি। আইনস্টাইন ও ভাইৎসমান—উভয়েই বিভিন্ন পর্যায়ে সমর্থন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। তবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মূলত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই নেয়েছিল আমেরিকা।
এর অনেক আগে থেকেই ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি গড়ার পক্ষে আইনস্টাইনের ইতিবাচক মনোভাব ছিল। ১৯২৩ সালে তিনি ১২ দিনের জন্য ফিলিস্তিন সফর করেন এবং সেখানে হিব্রু ইউনিভার্সিটিতে বক্তৃতা দেন। পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ানে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ফিলিস্তিনে কাজ করা ইহুদিদের প্রশংসা করেন।
তিনি সেই চিঠিতে বলেন, ‘চমৎকার নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক গুণসম্পন্ন তরুণ-তরুণী; যারা খালি হাতে সড়ক নির্মাণ করছে, পরিত্যক্ত মাটিকে কৃষিতে রূপ দিচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। কোনো সচেতন ব্যক্তি ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অসাধারণ সাফল্য এবং তাঁদের একাগ্রতা দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারি না।’
ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট চেইম ভাইৎসমান ১৯৫২ সালে মারা যান। ইহুদি রাষ্ট্র গঠনে আইনস্টাইনের অবদানের জন্য তিনি আইনস্টাইনকে ‘সর্বকালের সেরা ইহুদি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ইসরায়েলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ন মনস্থির করেন, আইনস্টাইনের কাছেই এই প্রস্তাব পাঠানো হবে।
১৯৫২ সালের ১৬ নভেম্বর বেন গুরিয়ন আমেরিকার ইসরায়েলি দূতাবাসে চিঠি লেখেন। দূতাবাসের প্রধান আব্বা এবন পরের দিনই আইনস্টাইনের কাছে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠান।
বেন গুরিয়ন আইনস্টাইনকে এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট হলে আইনস্টাইনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার সমস্ত খরচ রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
কিন্তু পরদিনই আইনস্টাইন চিঠির জবাব নিয়ে সরাসরি বেন গুরিয়নের কাছে নিজের উত্তর পেশ করেন। সেই চিঠিতে আইনস্টাইন লিখেছিলেন,
“আমাদের ইসরায়েল রাষ্ট্রের দেয়া প্রস্তাবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। একইসাথে আমি দুঃখিত ও লজ্জিত বোধ করছি, কারণ এই প্রস্তাব আমি গ্রহণ করতে পারছি না। জীবনের পুরোটা সময় আমি ব্যয় করেছি বস্তুগত বিষয়গুলোর রহস্য উদঘাটন করতে, তাই গণমানুষের সাথে কাজ করা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করা– এসবের জন্য যে অভ্যাসগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তার অভাব রয়েছে আমার মধ্যে। শুধু এই কারণগুলোর জন্যই আমি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবো এবং বার্ধক্যের জন্য আগের শক্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমি সত্যিই অনেক দুঃখিত, যেহেতু ইহুদি জনগণের সাথে আমার আমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের বিপন্ন অবস্থা আমি অবলোকন করেছি।”
চিঠিতে বয়স আর অভিজ্ঞতার কথা বলা হলেও, প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পেছনে আরও কিছু জোরালো কারণ ছিল বলে ধারণা করা হয়। সারা জীবন শান্তিবাদী আইনস্টাইন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে শান্তির আহ্বানে একটি বিখ্যাত ইশতেহার লিখেছিলেন। অন্যদিকে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি গঠিত হয়েছিল অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং ফিলিস্তিনিদের রক্তের ওপর। এ ছাড়া চরমপন্থী ইহুদি সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি।
অনেকে মনে করেন, ব্যক্তিগত জীবনের প্রশান্তি বজায় রাখার স্বার্থে আইনস্টাইন ইসরায়েলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। জার্মান শরণার্থী হিসেবে তিনি নিউ জার্সির প্রিন্সটনে নিজের সাধারণ জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। রাজনীতির মারপ্যাঁচ কিংবা ক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়ার কোনো মোহ তাঁর কখনোই ছিল না। ইসরায়েল গঠনে তার প্রাথমিক সমর্থন থাকলেও, পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং নিজের শান্তিবাদী আদর্শের সংঘাতই সম্ভবত তাকে এই লোভনীয় প্রস্তাব থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।
বিশ্ব ইতিহাসে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বহু বছর ধরেই সমালোচনা ও বিতর্কের বিষয়। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে থাকলেও, এই প্রক্রিয়ায় জড়িত সহিংসতার ঘোর বিরোধী ছিলেন। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে সংঘটিত অনেক সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তিনি।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল ‘রাষ্ট্র’ ঘোষণা করার এক দশক আগেই আইনস্টাইন জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘প্রস্তাবিত ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ইহুদি জাতীয়তাবাদের (জায়োনিজম) ‘মূল চেতনার পরিপন্থী’।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী মেনাহেম বেগিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। তখন আইনস্টাইনসহ একদল ইহুদি বুদ্ধিজীবী নিউইয়র্ক টাইমসে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে বেগিনের দলের বিরুদ্ধে সরব হন। চিঠিতে বেগিনের হেরুত পার্টিকে সরাসরি নাৎসি ও ফ্যাসিবাদী দলের সাথে তুলনা করা হয়। বলা হয়, দলটি সংগঠন এবং রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে ফ্যাসিস্টদের মতোই। বর্তমানে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি হলো এই হেরুত পার্টিরই উত্তরসূরি।
আইনস্টাইনের ক্ষোভের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে। পশ্চিম জেরুজালেমের দেইর ইয়াসিন গ্রামে ইহুদি চরমপন্থীরা ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। বেগিনের সংগঠন ইরগুন এবং চরমপন্থী সংগঠন স্টার্ন গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে। হত্যার ধরন ছিল অত্যন্ত নৃশংস। মানুষকে গুলি করে এবং গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা হয়। অনেককে গ্রেপ্তারের পর প্যারেড করিয়ে হত্যা করা হয়। এমনকি ধর্ষণ ও অঙ্গচ্ছেদের মতো অভিযোগও ওঠে। এই খবর পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনস্টাইন অত্যন্ত কঠিন ভাষায় একটি চিঠি লেখেন। আইনস্টাইন চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন নিউইয়র্কে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অব দ্য ফাইটারস ফর দ্য ফ্রিডম অব ইসরায়েল’ নামের একটি সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শেফার্ড রিফকিন বরাবর।

চিত্তরঞ্জন সুতার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেপথ্য নায়ক। কর্মের মাধ্যমেই রাজনৈতিক ইতিহাসে আখ্যা পেয়েছে ‘রহস্য’ পুরুষের। শেখ মুজিবুর রহমানের ‘আস্থাভাজন’ চিত্তরঞ্জন ভারত এবং মুজিবনগর সরকারের সেতুবন্ধনে কাজ করেছিলেন।
১৮ ঘণ্টা আগে
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের (৬ মার্চ ১৯২৭, কলম্বিয়া-১৭ এপ্রিল ২০১৪, মেক্সিকো) র্নিজন হাত উঠে আসে মানবসমাজের বিস্তার ও নিঃসঙ্গতার পরিণতির দলিল নিয়ে। আমরা দেখি, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে; ঘুমহীনতার হাত থেকে বাঁচতে কীভাবে পালিয়ে গেলো আর পত্তন করল নিঃসঙ্গতা ও মাকোন্দো গ্রাম।
২১ ঘণ্টা আগে
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যেখানে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা রূপ নেয় সশস্ত্র সংগ্রামে। এই সংগ্রামকে কার্যকর ও সুসংগঠিত করতে একটি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছিল অপরিহার্য।
১ দিন আগে
রাস্তাঘাটে তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটি, রিকশাচালকের সঙ্গে অহেতুক তর্ক কিংবা বাসে কন্ডাক্টরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা—সবই যেন আমাদের রাস্তাঘাটের চেনা চিত্র। কিন্তু গরম আসলে এমন পরিস্থিতি আরও বেড়ে যায়।
১ দিন আগে