ব্রিটিশ ভারতের মোতিহারিতে জন্ম নেন জর্জ অরওয়েল। ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস। ১৯৫০ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি মারা যান। ২০১৪ সালে বিবিসির এক সাংবাদিক মোতিহারিতে অরওয়েলের জন্মস্থানে গিয়ে দেখেন, সেখানে চারদিকে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাগল, গরু, ঘোড়া আর রাস্তার কুকুর। আগাছার জঙ্গল ঠেলে এক কোণে ঘোঁত ঘোঁত শব্দে খাবার খুঁজছে শূকর।
স্ট্রিম ডেস্ক

ভারতের বিহার রাজ্যের মোতিহারির এক পুরোনো বাড়ি। সেখানে চারদিকে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাগল, গরু, ঘোড়া আর রাস্তার কুকুর। আগাছার জঙ্গল ঠেলে এক কোণে ঘোঁত ঘোঁত শব্দে খাবার খুঁজছে শূকর। দৃশ্যটি দেখলে ক্ষণিকের জন্য আপনার বিভ্রম জাগতে পারে, এ কি তবে জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’–এর কোনো অপ্রকাশিত অধ্যায়?
মনে হতে পারে, একটু পরেই হয়ত বেরিয়ে আসবে সেই স্বৈরাচারী শূকর ‘নেপোলিয়ন’, অথবা গলা ফুলিয়ে বুলি কপচাবে তার বিশ্বস্ত মুখপাত্র ‘স্কুইলার’। কোথাও হয়ত নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছে পরিশ্রমী ঘোড়া ‘বক্সার’, যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিল, ‘নেপোলিয়ন সবসময় সঠিক’। বাস্তব আর কল্পনার এই অদ্ভুত ওভারল্যাপ ইতিহাসের নির্মম রসিকতা।

২০১৪ সালে বিবিসির এক সাংবাদিক যখন ভারতের বিহার রাজ্যের মোতিহারিতে অরওয়েলের জন্ম-বাড়িতে পা রাখেন, তখন তিনি ঠিক এমনই এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে তিনি লেখেন, জায়গাটি যেন এক ‘বাস্তব অ্যানিমেল ফার্ম’। যেখানে কোনো স্পষ্ট মালিকানা নেই, নেই যত্ন, নেই স্মৃতির মর্যাদা, আছে শুধু অবহেলা আর সময়ের ভার।
এই ‘বাস্তব’ অ্যানিম্যাল ফার্মের সীমানাতেই ১৯০৩ সালের ২৫ জুন জন্ম নিয়েছিলেন এরিক আর্থার ব্লেয়ার, যাকে বিশ্ব চেনে জর্জ অরওয়েল নামে। তাঁর বাবা রিচার্ড ওয়ালমেসলি ব্লেয়ার ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের আফিম বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল পপি চাষিদের তদারকি করা এবং চীনে রপ্তানির জন্য আফিম সংগ্রহ করা।
অরওয়েলের মা আইডা ব্লেয়ার ছিলেন ফরাসি বংশোদ্ভূত; তিনি ছিলেন বার্মার (বর্তমান মিয়ানমার) এক সেগুন কাঠ ব্যবসায়ীর কন্যা।

ঔপনিবেশিক ভারতের আফিম অর্থনীতির মানচিত্রে মোতিহারি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। এখানেই ছিল ব্রিটিশ সরকারের গুদাম, প্রশাসনিক দপ্তর, কর্মচারীদের আবাস। বাবার চাকরির সুবাদেই এই বাংলোতে অরওয়েলের জীবনের প্রথম বছরটি কেটেছিল। তবে সে স্মৃতি ছিল একেবারেই প্রাক-স্মৃতির। মাত্র এক বছর বয়সে মায়ের কোলে চড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি। এরপর আর কখনো নিজের জন্মভূমিতে ফেরা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে অরওয়েলের এই জন্ম ভবনটি পড়ে ছিল চরম অবহেলায়। দ্য কারাভান–এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লেখক উল্লেখ করেছিলেন, অরওয়েলের বাবার কর্মস্থল আফিমের গুদামঘর তখনো দাঁড়িয়ে ছিল অযত্নে, পরিচয়হীন। পরে সেটি সংস্কার করা হয়। কিন্তু সেই লেখা প্রকাশের সময় পর্যন্ত অরওয়েলের জন্ম ভবন ছিল প্রায় অদৃশ্য এক স্মৃতিস্তম্ভ, যেন ইতিহাস নিজেই তাঁকে ভুলে যেতে চেয়েছে।

২০০৩ সালে পরিস্থিতি একটু বদলাতে শুরু করে। অরওয়েল–ভক্তদের নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর জন্মস্থান নিয়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসে। বিবিসিতে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, জায়গাটি যেন এক ‘বাস্তব অ্যানিমেল ফার্ম’।
অবশেষে ২০১৪ সালে বিহার সরকার বাড়িটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার নিজে এই উদ্যোগে আগ্রহ দেখান এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৫৯ লাখ ভারতীয় রুপি বরাদ্দ করা হয় ভবনটির উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য। বাংলোটিকে রূপান্তর করা হয় একটি ছোট জাদুঘরে। যেখানে অরওয়েলের জীবন, লেখা ও রাজনৈতিক চিন্তার সংক্ষিপ্ত দলিল সংরক্ষিত।
এই সংস্কারের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন অরওয়েলের ছেলে রিচার্ড ব্লেয়ার। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেছিলেন, ‘বাবার পুরোনো বাড়িটি পুনরুদ্ধার করে জাদুঘরে রূপান্তরিত হওয়া তাঁর জন্য আনন্দের বিষয়।’
আজও বিহারের মোতিহারির সেই বাড়িটি এক অদ্ভুত স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটি মনে করিয়ে দেয় ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস, শোষণের কঠিন বাস্তবতা আর সাহিত্যের প্রতিবাদী কণ্ঠকে। সংস্কারের আগে এই বাড়ির সামনে দাঁড়ালে মনে হতো, ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ কখনো কখনো ইতিহাসই সেই গল্পকে সত্যি করে তোলে।

ভারতের বিহার রাজ্যের মোতিহারির এক পুরোনো বাড়ি। সেখানে চারদিকে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাগল, গরু, ঘোড়া আর রাস্তার কুকুর। আগাছার জঙ্গল ঠেলে এক কোণে ঘোঁত ঘোঁত শব্দে খাবার খুঁজছে শূকর। দৃশ্যটি দেখলে ক্ষণিকের জন্য আপনার বিভ্রম জাগতে পারে, এ কি তবে জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’–এর কোনো অপ্রকাশিত অধ্যায়?
মনে হতে পারে, একটু পরেই হয়ত বেরিয়ে আসবে সেই স্বৈরাচারী শূকর ‘নেপোলিয়ন’, অথবা গলা ফুলিয়ে বুলি কপচাবে তার বিশ্বস্ত মুখপাত্র ‘স্কুইলার’। কোথাও হয়ত নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছে পরিশ্রমী ঘোড়া ‘বক্সার’, যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিল, ‘নেপোলিয়ন সবসময় সঠিক’। বাস্তব আর কল্পনার এই অদ্ভুত ওভারল্যাপ ইতিহাসের নির্মম রসিকতা।

২০১৪ সালে বিবিসির এক সাংবাদিক যখন ভারতের বিহার রাজ্যের মোতিহারিতে অরওয়েলের জন্ম-বাড়িতে পা রাখেন, তখন তিনি ঠিক এমনই এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে তিনি লেখেন, জায়গাটি যেন এক ‘বাস্তব অ্যানিমেল ফার্ম’। যেখানে কোনো স্পষ্ট মালিকানা নেই, নেই যত্ন, নেই স্মৃতির মর্যাদা, আছে শুধু অবহেলা আর সময়ের ভার।
এই ‘বাস্তব’ অ্যানিম্যাল ফার্মের সীমানাতেই ১৯০৩ সালের ২৫ জুন জন্ম নিয়েছিলেন এরিক আর্থার ব্লেয়ার, যাকে বিশ্ব চেনে জর্জ অরওয়েল নামে। তাঁর বাবা রিচার্ড ওয়ালমেসলি ব্লেয়ার ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের আফিম বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল পপি চাষিদের তদারকি করা এবং চীনে রপ্তানির জন্য আফিম সংগ্রহ করা।
অরওয়েলের মা আইডা ব্লেয়ার ছিলেন ফরাসি বংশোদ্ভূত; তিনি ছিলেন বার্মার (বর্তমান মিয়ানমার) এক সেগুন কাঠ ব্যবসায়ীর কন্যা।

ঔপনিবেশিক ভারতের আফিম অর্থনীতির মানচিত্রে মোতিহারি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। এখানেই ছিল ব্রিটিশ সরকারের গুদাম, প্রশাসনিক দপ্তর, কর্মচারীদের আবাস। বাবার চাকরির সুবাদেই এই বাংলোতে অরওয়েলের জীবনের প্রথম বছরটি কেটেছিল। তবে সে স্মৃতি ছিল একেবারেই প্রাক-স্মৃতির। মাত্র এক বছর বয়সে মায়ের কোলে চড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি। এরপর আর কখনো নিজের জন্মভূমিতে ফেরা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে অরওয়েলের এই জন্ম ভবনটি পড়ে ছিল চরম অবহেলায়। দ্য কারাভান–এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লেখক উল্লেখ করেছিলেন, অরওয়েলের বাবার কর্মস্থল আফিমের গুদামঘর তখনো দাঁড়িয়ে ছিল অযত্নে, পরিচয়হীন। পরে সেটি সংস্কার করা হয়। কিন্তু সেই লেখা প্রকাশের সময় পর্যন্ত অরওয়েলের জন্ম ভবন ছিল প্রায় অদৃশ্য এক স্মৃতিস্তম্ভ, যেন ইতিহাস নিজেই তাঁকে ভুলে যেতে চেয়েছে।

২০০৩ সালে পরিস্থিতি একটু বদলাতে শুরু করে। অরওয়েল–ভক্তদের নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর জন্মস্থান নিয়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসে। বিবিসিতে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, জায়গাটি যেন এক ‘বাস্তব অ্যানিমেল ফার্ম’।
অবশেষে ২০১৪ সালে বিহার সরকার বাড়িটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার নিজে এই উদ্যোগে আগ্রহ দেখান এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৫৯ লাখ ভারতীয় রুপি বরাদ্দ করা হয় ভবনটির উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য। বাংলোটিকে রূপান্তর করা হয় একটি ছোট জাদুঘরে। যেখানে অরওয়েলের জীবন, লেখা ও রাজনৈতিক চিন্তার সংক্ষিপ্ত দলিল সংরক্ষিত।
এই সংস্কারের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন অরওয়েলের ছেলে রিচার্ড ব্লেয়ার। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেছিলেন, ‘বাবার পুরোনো বাড়িটি পুনরুদ্ধার করে জাদুঘরে রূপান্তরিত হওয়া তাঁর জন্য আনন্দের বিষয়।’
আজও বিহারের মোতিহারির সেই বাড়িটি এক অদ্ভুত স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটি মনে করিয়ে দেয় ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস, শোষণের কঠিন বাস্তবতা আর সাহিত্যের প্রতিবাদী কণ্ঠকে। সংস্কারের আগে এই বাড়ির সামনে দাঁড়ালে মনে হতো, ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ কখনো কখনো ইতিহাসই সেই গল্পকে সত্যি করে তোলে।
.png)

কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১৭ ঘণ্টা আগেচিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। প্রতিটি সংগ্রহশালায় ক্যানভাস থেকে ক্যানভাসে তিনি খুঁজেছেন শিল্পের ভাষা; রঙ, আলো আর তুলির আঁচড়ে অনুভব করেছেন শিল্পীদের জীবন, সময় ও সৃষ্টির গল্প। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক
১ দিন আগে
ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
২৫ জুলাই ২০২৬
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২৫ জুলাই ২০২৬