leadT1ad

১০ দলের নির্বাচনী সমঝোতা

বাকি ৪৭ আসনের ৪১টিই নিচ্ছে জামায়াত, এনসিপি-এলডিপি-বিডিপির ভাগে শূন্য

১০ দলের নেতারা। ফাইল ছবি

অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৪৭টি আসন বাদ রেখে ২৫৩ আসনে চূড়ান্ত সমঝোতার কথা জানিয়েছিল ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। তবে শেষ পর্যন্ত চরমোনাই পীরের দল ঐক্যে না আসায় ওই আসনগুলো নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিচ্ছে বাকিরা। আসনগুলোর সমঝোতায় ৪১ আসনেই ছাড় পাচ্ছে বৃহৎ শরিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অবশ্য সমঝোতা হলেও কয়েকটি আসনে উন্মুক্ত রয়েছে, যেগুলোতে ঐক্যের একাধিক দলের প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

বাকি দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনটি, খেলাফত মজলিসের তিনটি এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও নেজামে ইসলাম পার্টির একটি করে আসন বাড়ছে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) কোনো আসন বাড়ছে না।

চূড়ান্ত সমঝোতা অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত ২২০টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩টি, খেলাফত মজলিস ১৩টি, এলডিপি সাতটি, এবি পার্টি চারটি, নেজামে ইসলাম পার্টি তিনটি এবং বিডিপি দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, আসন সমঝোতায় সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা ১০ দলের একজন শীর্ষ নেতা স্ট্রিমকে বলেন, ইসলামী আন্দোলন জোটের অন্যতম শরিক দল ছিল। এ কারণে তাদের কথা মাথায় রেখে কিছু কিছু আসনে অন্য দলগুলো প্রার্থীই দেয়নি। সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে বাকি থাকা ৪৭ আসনে দেখা যাচ্ছে অনেক দলেরই প্রার্থী নেই। এ কারণে ফাঁকা আসনের বেশির ভাগ জামায়াতই পাচ্ছে।

জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩০০। তবে সমঝোতা অনুযায়ী সব মিলিয়ে মোট ২৯৯ আসনে সম্মিলিতভাবে একক প্রার্থী দেওয়া দেবে ১০ দল। বরিশালের একটি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে সমঝোতা থেকে ঘোষণা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া ইসলামী আন্দোলনকে।

১০ দলের সূত্রে জানা গেছে, ২৯৯ আসনে সম্মিলিতভাবে একক প্রার্থী থাকলেও ১০ দল থেকে সব মিলিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হবে ৩০২ জনকে। অতিরিক্ত তিনটি আসন উন্মুক্ত থাকবে। ওই তিন আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের একাধিক প্রার্থী ও প্রতীক থাকবে।

সুনামগঞ্জ-৩, কিশোরগঞ্জ-১, ফরিদপুর-৪ এই তিনটি আসন উন্মুক্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাছিত আজাদের দল খেলাফত মজলিস এবং এবি পার্টির প্রার্থী থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

তবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন আজ মঙ্গলবার স্ট্রিমকে জানান, উন্মুক্ত আসন ও প্রার্থীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) নিরঙ্কুশ আসন হলো ২৩টা, আর ছয়টি আসনে উন্মুক্ত।’ প্রার্থী প্রত্যাহারের পরে এবং চূড়ান্তভাবে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নানারকম পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহবুব আলম জানিয়েছেন, এনসিপি মোট ৩০টি আসনে নির্বাচন করবে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার-৪ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনটি উন্মুক্ত। এখানে এনসিপির পক্ষে লড়াই করবেন প্রীতম দাশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শেখ নূরে আলম হামিদি, আর জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করবেন মোহাম্মদ আব্দুর রব।

আজ মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে একক প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হতে পারে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত