leadT1ad

এনসিপির ৩০ আসনের ৭টিতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি জোটের প্রার্থীরা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৩৫
১০ দলীয় জোটের দলগুলোর লোগো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচনী জোটে এনসিপি ৩০ আসনে লড়ার কথা। এর মধ্যে ২৯টি আসনে এককভাবে আর একটি আসন জোটের প্রার্থীদের জন্য থাকবে উন্মুক্ত। এই শর্তেই রাজি হয়েছিল দলটি। সোমবারের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিনে দেখা গেছে, এককভাবে নির্বাচন করা ২৯টি আসনের মধ্যে ৬টি আসনেই জোটের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।

বুধবার বিকেলে দলটির মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহবুব আলম স্ট্রিমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাহবুব আলম স্ট্রিমকে বলেন, ‘সোমবার এনসিপির নির্ধারিত ৩০ আসনের মধ্যে ২৯টিতেই জোটের অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করার কথা। কিন্তু আমরা দেখলাম ৬টি আসনে জোটের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী, নরসিংদী-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এবি পার্টি, ঢাকা-২০ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবং রাজবাড়ী-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রত্যাহার করেননি।'

প্রত্যাহার না করলে জোটে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কীভাবে সমাধান করা যায় সেটি নিয়ে জোটের সিনিয়র নেতারা কথা বলছেন। আশা করছি সমাধান হয়ে যাবে।'

এদিকে এনসিপির দুইজন প্রার্থীও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে মাহবুব আলম বলেন, ‘এনসিপির ৩০টির বাইরে দুটি আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার হয়নি। এর মধ্যে শরীয়তপুর-১ ও শেরপুর-১ আসন রয়েছে। ওই দুই প্রার্থী সময়ের আগে পৌঁছাতে পারেননি দেখে প্রত্যাহারও করতে পারেনি। তবে এই ব্যাপারে জোটের অন্য প্রার্থীদের আশ্বস্ত করে আমরা পরবর্তী করণীয় নিয়ে ভাবছি।'

নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির হয়ে লড়ছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। ওই আসনে জোটের পক্ষ থেকে তার এককভাবে নির্বাচন করার কথা থাকলেও জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে সারোয়ার তুষার স্ট্রিমকে বলেন, ‘জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন নাই। আমি জানি না এখন কী হবে, আমার কাছে কোন উত্তর নেই। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এটার উত্তর জানতে চাইব।’

রাজবাড়ী-২ আসনে ‘শাপলা কলি’ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করার কথা এনসিপি প্রার্থী জামিল হিজাযী ওরফে সাইয়েদ জামিলের। ওই আসনে জোটের অন্যতম শরীক দল খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এটার কোন প্রভাব পড়বে কী না জানতে চাইলে তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘খেলাফত মজলিস ছাড়া অন্য দলগুলোর সাথে আমার ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। কথা ছিল খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রত্যাহার করবেন, কিন্তু তিনি করেননি। তবে বাকি দলগুলো আমার সাথে থাকবে, আশা করছি কোনো সমস্যা ফেস করতে হবে না।’

এনসিপির ৩০ প্রার্থী যারা

দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ ও সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসন থেকে লড়বেন।

ঢাকা জেলায় ৬টি আসন চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৮ আসনে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা-১৯ আসনে দিলশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ ও ঢাকা-৯ আসনে জাবেদ রাসিন মনোনয়ন পেয়েছেন।

বিভাগের অন্য জেলার মধ্যে নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, টাঙ্গাইল-৩ আসনে সাইফুল্লাহ হায়দার, গাজীপুর-২ আসনে আলী নাছের খান, রাজবাড়ী-২ আসনে জামিল হিজাযী ও মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে মাজেদুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে নোয়াখালী-৬ আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ, নোয়াখালী-২ আসনে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মাহবুব আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আশরাফ মাহদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ লড়বেন।

রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, দিনাজপুর-৫ আসনে আবদুল আহাদ এবং নাটোর-৩ আসনে এস এম জার্জিস কাদির মনোনয়ন পেয়েছেন। রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিক মুজাহিদ চূড়ান্ত হয়েছেন।

এছাড়া ময়মনসিংহ-১১ আসনে জাহিদুল ইসলাম, নেত্রকোণা- ২ আসনে ফাহিম পাঠান, পিরোজপুর-৩ আসনে শামীম হামিদী, মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রীতম দাশ এবং পার্বত্য বান্দরবান আসনে এস এম সুজা উদ্দিনকে প্রার্থী করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত