বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি, ভ্রমণপিপাসু ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী নিয়াজ আব্দুর রহমান এবং তাঁর দল সম্প্রতি কেনিয়ার লাইকিপিয়া অঞ্চলে এক বিরল অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বিশ্বের অন্যতম বিরল ও রহস্যময় প্রাণী বিখ্যাত ব্ল্যাক প্যান্থার ‘গিজা’। দাবি করা হচ্ছে, এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি বন্যপ্রাণীপ্রেমী দল, যাঁরা গিজাকে দেখার উদ্দেশ্যে এই রোমাঞ্চকর অভিযান পরিচালনা করেছেন।
স্ট্রিম প্রতিবেদক

কেনিয়ার গহীন অরণ্য। একদল বাংলাদেশি পর্যটক ঝোপঝাড়ের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। তাঁদের চোখ খুঁজে ফিরছে কুচকুচে কালো এক প্রাণীকে। যাকে এক পলক দেখার জন্য অনেকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। নাম তার ‘গিজা’। বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় আর বিরল ব্ল্যাক প্যান্থার।
দিনটি ছিল গত ৫ মে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ আব্দুর রহমান তাঁর দলের সঙ্গী—লিসা, আশিক, এহসান ও নেহালকে নিয়ে বের হয়েছেন ব্ল্যাক প্যান্থারের সন্ধানে। নিয়াজ আব্দুর রহমান তাঁর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেই অনুসন্ধানের বর্ণনা লিখেছেন এভাবে, ‘গহিন অরণ্যে সারা দিন হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি চলছে। কিন্তু সেই আরাধ্য কালো রহস্যের কোনো দেখা নেই।’
নিয়াজ লেখেন, অবশেষে সূর্য ডোবার পর শুরু হলো নাইট সাফারি। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। প্রাণীদের যাতে বিরক্তি না ঘটে, তাই জ্বালানো হলো মৃদু লাল আলো। আর সেই রহস্যময় লাল আলোতেই যেন জাদুর মতো আবির্ভূত হলো সে—বিখ্যাত ব্ল্যাক প্যান্থার ‘গিজা’। অন্ধকারে উজ্জ্বল সাদা দুটি চোখ জ্বলজ্বল করছে তার। শিকারের খোঁজে ঘুটঘুটে অন্ধকারে যখন সে ঘাপটি মেরে বসেছিল, চারপাশের পরিবেশটা এক নিমিষেই হয়ে উঠেছিল ভুতুড়ে, গায়ে কাঁটা দেওয়া এক অদ্ভুত শিহরণ জাগানিয়া।

নিয়াজ আব্দুর রহমানের বর্ণনা অনুসারে, ভুতুড়ে সেই রাতের পরদিন সকালে আবারও শুরু হলো অভিযান। গিজার এক পূর্ণবয়স্ক শাবকের দেখা মিললেও, অধরাই রয়ে গেল সে। বিকেলের সাফারিটাও প্রায় শেষ হওয়ার পথে। সবার মনে যখন কিছুটা হতাশা, ঠিক তখনই সূর্যাস্তের আধা ঘণ্টা আগে যেন জাদুমন্ত্রে ঝোপের আড়াল থেকে রাজকীয় ভঙ্গিতে বেরিয়ে এল গিজা। শুরু হলো তার শিকারের প্রস্তুতি।
চোখের সামনে এক শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য—গিজা শিকার খুঁজছে, আর তাকে দেখামাত্রই ডিক ডিক (ছোট হরিণ) গুলো সতর্ক হয়ে চোখের পলকে পালিয়ে যাচ্ছে। শিকারের সন্ধানে গিজার সেই সতর্ক ভঙ্গি এবং শেষে গাছের ছায়ায় তার বিশ্রাম নেওয়ার দৃশ্য ছিল আক্ষরিক অর্থেই মন্ত্রমুগ্ধ করার মতো।

ব্ল্যাক প্যান্থার আসলে আলাদা কোনো প্রজাতি নয়, বরং এক ধরনের চিতা বা লেপার্ড। জিনগত পরিবর্তনের (মিউটেশন) কারণে এদের শরীরে মেলানিনের পরিমাণ অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘মেলানিজম’। এটি অনেকটা অ্যালবিনো বা শ্বেতীর ঠিক বিপরীত। এর ফলেই এদের গায়ের রং কুচকুচে কালো হয়।
তবে খুব কাছ থেকে বা দিনের আলো পড়লে এই কালো রঙের ওপর লেপার্ডের নিজস্ব গাঢ় কালো ছোপ বা রোজেট দাগগুলো স্পষ্ট চোখে পড়ে। কালো রঙের কারণে এরা গভীর জঙ্গলের অন্ধকারের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারে, যা তাদের শিকারের ক্ষেত্রে দারুণ সুবিধা দেয়। কেনিয়াতে ২০১৯ সালের আগে পর্যন্ত ব্ল্যাক প্যান্থারের কোনো ছবি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

স্থানীয় সোয়াহিলি ভাষায় গিজা ম্রেমবো-এর অর্থ হলো ‘সুন্দর অন্ধকার’। কেনিয়ার মধ্যভাগে নিরক্ষরেখার ওপর মাউন্ট কেনিয়া এবং গ্রেট রিফট ভ্যালির মাঝখানে অবস্থিত লাইকিপিয়া অঞ্চলে এই অপরূপ প্রাণীর বাস। বিস্তীর্ণ সাভানা, পাথুরে গিরিখাত আর একাশিয়া বনভূমিতে ঘেরা এই অঞ্চলের আসল রত্ন হলো গিজা।
সাধারণত ব্ল্যাক প্যান্থার অত্যন্ত লাজুক ও গোপনচারী হলেও, গিজা ছোটবেলা থেকেই মানুষের উপস্থিতি ও সাফারি গাড়ির সঙ্গে বেশ অভ্যস্ত। মানুষ দেখে সে বিচলিত হয় না, আপন মনে নিজের কাজ করে যায়। আর এ কারণেই বিশ্বের বুকে ব্ল্যাক প্যান্থারের সবচেয়ে সুন্দর ও অভাবনীয় ছবিগুলো গিজারই তোলা।
এমন একটি দুর্লভ ও আজীবনের সেরা অভিজ্ঞতার সফল আয়োজনের জন্য ‘iDreamOfSafaris’-এর নেহাল ও নিকোকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিয়াজ আব্দুর রহমান। তিনি লেখেন, বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফি এবং রহস্যময় অভিযানের জগতে বাংলাদেশি এই দলটির কেনিয়া ভ্রমণ নিঃসন্দেহে এক রোমাঞ্চকর মাইলফলক।

কেনিয়ার গহীন অরণ্য। একদল বাংলাদেশি পর্যটক ঝোপঝাড়ের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। তাঁদের চোখ খুঁজে ফিরছে কুচকুচে কালো এক প্রাণীকে। যাকে এক পলক দেখার জন্য অনেকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। নাম তার ‘গিজা’। বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় আর বিরল ব্ল্যাক প্যান্থার।
দিনটি ছিল গত ৫ মে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ আব্দুর রহমান তাঁর দলের সঙ্গী—লিসা, আশিক, এহসান ও নেহালকে নিয়ে বের হয়েছেন ব্ল্যাক প্যান্থারের সন্ধানে। নিয়াজ আব্দুর রহমান তাঁর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেই অনুসন্ধানের বর্ণনা লিখেছেন এভাবে, ‘গহিন অরণ্যে সারা দিন হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি চলছে। কিন্তু সেই আরাধ্য কালো রহস্যের কোনো দেখা নেই।’
নিয়াজ লেখেন, অবশেষে সূর্য ডোবার পর শুরু হলো নাইট সাফারি। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। প্রাণীদের যাতে বিরক্তি না ঘটে, তাই জ্বালানো হলো মৃদু লাল আলো। আর সেই রহস্যময় লাল আলোতেই যেন জাদুর মতো আবির্ভূত হলো সে—বিখ্যাত ব্ল্যাক প্যান্থার ‘গিজা’। অন্ধকারে উজ্জ্বল সাদা দুটি চোখ জ্বলজ্বল করছে তার। শিকারের খোঁজে ঘুটঘুটে অন্ধকারে যখন সে ঘাপটি মেরে বসেছিল, চারপাশের পরিবেশটা এক নিমিষেই হয়ে উঠেছিল ভুতুড়ে, গায়ে কাঁটা দেওয়া এক অদ্ভুত শিহরণ জাগানিয়া।

নিয়াজ আব্দুর রহমানের বর্ণনা অনুসারে, ভুতুড়ে সেই রাতের পরদিন সকালে আবারও শুরু হলো অভিযান। গিজার এক পূর্ণবয়স্ক শাবকের দেখা মিললেও, অধরাই রয়ে গেল সে। বিকেলের সাফারিটাও প্রায় শেষ হওয়ার পথে। সবার মনে যখন কিছুটা হতাশা, ঠিক তখনই সূর্যাস্তের আধা ঘণ্টা আগে যেন জাদুমন্ত্রে ঝোপের আড়াল থেকে রাজকীয় ভঙ্গিতে বেরিয়ে এল গিজা। শুরু হলো তার শিকারের প্রস্তুতি।
চোখের সামনে এক শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য—গিজা শিকার খুঁজছে, আর তাকে দেখামাত্রই ডিক ডিক (ছোট হরিণ) গুলো সতর্ক হয়ে চোখের পলকে পালিয়ে যাচ্ছে। শিকারের সন্ধানে গিজার সেই সতর্ক ভঙ্গি এবং শেষে গাছের ছায়ায় তার বিশ্রাম নেওয়ার দৃশ্য ছিল আক্ষরিক অর্থেই মন্ত্রমুগ্ধ করার মতো।

ব্ল্যাক প্যান্থার আসলে আলাদা কোনো প্রজাতি নয়, বরং এক ধরনের চিতা বা লেপার্ড। জিনগত পরিবর্তনের (মিউটেশন) কারণে এদের শরীরে মেলানিনের পরিমাণ অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘মেলানিজম’। এটি অনেকটা অ্যালবিনো বা শ্বেতীর ঠিক বিপরীত। এর ফলেই এদের গায়ের রং কুচকুচে কালো হয়।
তবে খুব কাছ থেকে বা দিনের আলো পড়লে এই কালো রঙের ওপর লেপার্ডের নিজস্ব গাঢ় কালো ছোপ বা রোজেট দাগগুলো স্পষ্ট চোখে পড়ে। কালো রঙের কারণে এরা গভীর জঙ্গলের অন্ধকারের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারে, যা তাদের শিকারের ক্ষেত্রে দারুণ সুবিধা দেয়। কেনিয়াতে ২০১৯ সালের আগে পর্যন্ত ব্ল্যাক প্যান্থারের কোনো ছবি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

স্থানীয় সোয়াহিলি ভাষায় গিজা ম্রেমবো-এর অর্থ হলো ‘সুন্দর অন্ধকার’। কেনিয়ার মধ্যভাগে নিরক্ষরেখার ওপর মাউন্ট কেনিয়া এবং গ্রেট রিফট ভ্যালির মাঝখানে অবস্থিত লাইকিপিয়া অঞ্চলে এই অপরূপ প্রাণীর বাস। বিস্তীর্ণ সাভানা, পাথুরে গিরিখাত আর একাশিয়া বনভূমিতে ঘেরা এই অঞ্চলের আসল রত্ন হলো গিজা।
সাধারণত ব্ল্যাক প্যান্থার অত্যন্ত লাজুক ও গোপনচারী হলেও, গিজা ছোটবেলা থেকেই মানুষের উপস্থিতি ও সাফারি গাড়ির সঙ্গে বেশ অভ্যস্ত। মানুষ দেখে সে বিচলিত হয় না, আপন মনে নিজের কাজ করে যায়। আর এ কারণেই বিশ্বের বুকে ব্ল্যাক প্যান্থারের সবচেয়ে সুন্দর ও অভাবনীয় ছবিগুলো গিজারই তোলা।
এমন একটি দুর্লভ ও আজীবনের সেরা অভিজ্ঞতার সফল আয়োজনের জন্য ‘iDreamOfSafaris’-এর নেহাল ও নিকোকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিয়াজ আব্দুর রহমান। তিনি লেখেন, বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফি এবং রহস্যময় অভিযানের জগতে বাংলাদেশি এই দলটির কেনিয়া ভ্রমণ নিঃসন্দেহে এক রোমাঞ্চকর মাইলফলক।
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১১ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
১৩ ঘণ্টা আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
১৩ ঘণ্টা আগে