জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবাসুন

ভালোবাসা মানে যার কাছে ঋণী, তাকে স্বীকার করা। যে নীরবে রক্ষা করে, তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো। এই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তাই ভালোবাসার তালিকায় থাকুক সুন্দরবনও।

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

কমে যাচ্ছে সুন্দরবনের কম লবণসহিষ্ণু সুন্দরীসহ অন্যান্য গাছ, কমছে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্রও। স্ট্রিম ছবি

ভালোবাসা মানে শুধু কারও হাত ধরা নয়, শুধু লাল গোলাপ নয়, শুধু ‘ভালোবাসি’ বলা নয়। ভালোবাসা মানে যার কাছে ঋণী, তাকে স্বীকার করা। যে নীরবে রক্ষা করে, তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো। এই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তাই ভালোবাসার তালিকায় থাকুক সুন্দরবনও।

সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় বন এই সুন্দরবন। জীববৈচিত্র্যের অসাধারণ প্রাচুর্যের জন্য ১৯৯২ সালে এটি ‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেসকো একে প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে। বিশ্বঐতিহ্যের অংশ হওয়ার পর দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় ভ্রমণকেন্দ্র। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রহরী।

বন বিভাগের তথ্য বলছে, এই বনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশই জলাভূমি। এখানে সুন্দরীসহ রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। বাঘ, চিত্রা হরিণ, লবণাক্ত পানির কুমির, কিং কোবরা, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতিসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন, ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ২১০ প্রজাতির মৎস্যসম্পদ। সব মিলিয়ে এটি এক চলমান জীবন্ত জাদুঘর।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একসময় এ বনে বাস করত ৪০০ প্রজাতির পাখি, যা কমতে কমতে এখন ২৭০ প্রজাতিতে দাঁড়িয়েছে।

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই জনপদ এখনও টিকে আছে সুন্দরবনের আশ্রয়ে। ঘূর্ণিঝড় এলে ঢেউয়ের প্রথম আঘাত নেয় এই বন। যেন এক মায়ের মতো বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকে। তবে সুন্দরবন এখন অস্তিত্ব সংকটে। কিছু মানুষের লোভ-লালসা আর অপকর্মের শিকার হচ্ছে বননির্ভরশীল মানুষ ও গোটা বনের জীববৈচিত্র্য।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একসময় এ বনে বাস করত ৪০০ প্রজাতির পাখি, যা কমতে কমতে এখন ২৭০ প্রজাতিতে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে সাগর-নদীর পানির উচ্চতা ও লবণাক্ততা। কমে যাচ্ছে সুন্দরবনের কম লবণসহিষ্ণু সুন্দরীসহ অন্যান্য গাছ, কমছে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্রও। একশ্রেণির জেলে সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ আহরণ করায় হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের মৎস্য ভাণ্ডার। একইভাবে হত্যা করা হচ্ছে বাঘ, হরিণ, শূকরসহ অন্যান্য প্রাণী।

জলবায়ু সচেতনতা এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক শুভ্র শচীন বলেন, ‘সুন্দরবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশ। সুন্দরবন মায়ের মতোই প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে আমাদের রক্ষা করে। যারা বুঝে বা না বুঝে এ বনের ক্ষতি সাধন করে আসছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকেই রুখে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবনের উপকূলে যে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, তা সমাধানে আমাদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। কারণ সুন্দরবনের টিকে থাকার ওপর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সমৃদ্ধি অনেকাংশেই নির্ভরশীল।’

বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘সুন্দরবন প্রকৃতিগতভাবেই সৃষ্টি এবং প্রকৃতিই এর রক্ষক। তারপরও বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি অনেক প্রকল্পও বাস্তবায়ন হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভালো রয়েছে সুন্দরবন।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত