বিশ্বজুড়ে এই ধারণা ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে। মিলেনিয়াল এবং জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে স্টেরিওটাইপ ভাঙার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের বড় একটা কারণ সোশ্যাল মিডিয়া ও পপ কালচার।
ফাবিহা বিনতে হক

আজ ভালোবাসা দিবস। তাই শাহবাগসহ ঢাকার ফুলের দোকানগুলোতে অন্য দিনের চেয়ে ভিড় বেশি। দোকানিদের মুখেও বাড়তি হাসি। প্রিয় মানুষটাকে একটু খুশি করার জন্য অনেকেই ফুল কিনছেন। খেয়াল করলে দেখা যায়, ফুল কিনতে আসা মানুষের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যাই বেশি।
মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি পুরুষেরা ফুল পেতে ভালোবাসে না? ফুলের সৌন্দর্য্য কি কেবল নারীকেই মুগ্ধ করে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে টুইটা্র ও রেডিট-এ একটি বাক্য প্রায়ই ভাইরাল হয়, ‘মোস্ট ম্যান রিসিভ দেয়ার ফার্স্ট ফ্লাওয়ার এট দেয়ার ফিউনেরাল।’
মানে, বেশিরভাগ পুরুষ জীবনে প্রথম ফুল পায় নিজের শেষকৃত্যে। আমাদের দেশে এই চল না থাকলেও কথাটার ভেতরের দিকটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষমতা নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান। মানুষের মস্তিষ্কে সুন্দর কিছু দেখার বা সুবাস নেওয়ার প্রতিক্রিয়া লিঙ্গভেদে আলাদা হয় না। এ নিয়ে হয়েছে বৈশ্বিক গবেষণাও।
যুক্তরাষ্ট্রের রটগার্স ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জ্যানেট হ্যাভিল্যান্ড-জোনস মানুষের আবেগের ওপর ফুলের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, ফুল উপহার পেলে মানুষের মুখে যে তাৎক্ষণিক হাসি ফোটে, একে বলা হয় ‘ডুশেন স্মাইল’ যা সত্যিকারের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। মজার ব্যাপার হলো, এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী পুরুষদের প্রতিক্রিয়াও ছিল নারীদের মতোই। অর্থাৎ, ফুল পেলে পুরুষদের মস্তিষ্কেও ঠিক একইভাবে ‘ডোপামিন’ ও ‘সেরোটোনিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়। মানে, আনন্দ পাওয়ার জায়গায় সবাই সমান।
ড. হ্যাভিল্যান্ড-জোনস গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেন, ‘ফুল মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সামাজিক আচরণের জন্ম দেয়। এটি নারী বা পুরুষের জন্য আলাদা নয়। এটি মানুষের সর্বজনীন আবেগের সঙ্গে জড়িত। তবুও আমাদের সমাজব্যবস্থা পুরুষদের এই সর্বজনীন আনন্দ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।’
সোসাইটি অফ আমেরিকান ফ্লোরিস্টস-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি পুরুষ জানিয়েছেন, উপহার হিসেবে ফুল পেতে পছন্দ করেন। এই জরিপে অংশ নেওয়া পুরুষদের মতে, ফুল পেলে তাঁরা নিজেদের ‘বিশেষ’ মনে করেন এবং এটাকে যত্ন ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেন।
সমস্যা আসলে ভুল ধারণায়। সোসাইটি অফ আমেরিকান ফ্লোরিস্টস-এর জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ নারী মনে করেন পুরুষ সঙ্গীরা ফুল পছন্দ করবেন না। এই ভুল বোঝাবুঝি বা ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’-এর কারণে ছেলেরা ফুল উপহার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন বলে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এই ফুল না পাওয়ার পেছনের কারণটি আরও বেশি জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক। এক্ষেত্রে সামাজিক মনস্তত্ত্ব বা ‘সোশ্যাল সাইকোলজি’কে দেখা হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সামাজিকভাবে গড়ে তোলা হয় ‘প্রোভাইডার’ বা জোগানদাতা হিসেবে। বিখ্যাত রিলেশনশিপ এক্সপার্ট এবং সাইকোলজিস্ট ড. জন গ্রে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন, পুরুষদের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ফুল হলো ‘ফেমিনিন’ বা মেয়েলি বস্তু। এটি কোমলতা ও নাজুকতার প্রতীক।
তবে আশার কথা হলো, বিশ্বজুড়ে এই ধারণা ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে। মিলেনিয়াল এবং জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে স্টেরিওটাইপ ভাঙার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের বড় একটা কারণ সোশ্যাল মিডিয়া ও পপ কালচার। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক কিংবা সিনেমা-সিরিজে আমরা দেখছি, অনেক ছেলেই ফুল হাতে ছবি তুলছে, ফুলের নকশার জামা পরছে। ফ্যাশনে ফ্লোরাল প্রিন্ট এখন আর শুধু নারীদের জন্য সীমাবদ্ধ নেই।
যুক্তরাজ্যের একটি লাইফস্টাইল ব্লগের সমীক্ষাও এই বদলের কথাই বলছে। সেখানে দেখা গেছে, আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক পুরুষ এখন ‘ইমোশনাল গিফট’ বা আবেগঘন উপহারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দামী ঘড়ি, পারফিউম বা গ্যাজেটের চেয়ে হাতে লেখা একটি চিঠি কিংবা একগুচ্ছ ফুল তাঁদের কাছে সম্পর্কের গভীরতা আর আন্তরিকতার প্রতীক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে চাকরিজীবি পুরুষরা, যারা সারাদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাঁদের জন্য ফুল মানসিক প্রশান্তিদায়ক হতে পারে।
তাই উপহার পাওয়ার অপেক্ষায় বসে না থেকে, এবার উদ্যোগটা নিন আপনিই। আজই বাজারের সবচেয়ে সুন্দর ফুলটা তুলে দিন আপনার পুরুষ সঙ্গীর হাতে। ভালোবাসা কোনো লিঙ্গ মানে না, ফুলও না। ভালোবাসার রঙে রঙিন হোক প্রতিটি মানুষের জীবন।

আজ ভালোবাসা দিবস। তাই শাহবাগসহ ঢাকার ফুলের দোকানগুলোতে অন্য দিনের চেয়ে ভিড় বেশি। দোকানিদের মুখেও বাড়তি হাসি। প্রিয় মানুষটাকে একটু খুশি করার জন্য অনেকেই ফুল কিনছেন। খেয়াল করলে দেখা যায়, ফুল কিনতে আসা মানুষের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যাই বেশি।
মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি পুরুষেরা ফুল পেতে ভালোবাসে না? ফুলের সৌন্দর্য্য কি কেবল নারীকেই মুগ্ধ করে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে টুইটা্র ও রেডিট-এ একটি বাক্য প্রায়ই ভাইরাল হয়, ‘মোস্ট ম্যান রিসিভ দেয়ার ফার্স্ট ফ্লাওয়ার এট দেয়ার ফিউনেরাল।’
মানে, বেশিরভাগ পুরুষ জীবনে প্রথম ফুল পায় নিজের শেষকৃত্যে। আমাদের দেশে এই চল না থাকলেও কথাটার ভেতরের দিকটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষমতা নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান। মানুষের মস্তিষ্কে সুন্দর কিছু দেখার বা সুবাস নেওয়ার প্রতিক্রিয়া লিঙ্গভেদে আলাদা হয় না। এ নিয়ে হয়েছে বৈশ্বিক গবেষণাও।
যুক্তরাষ্ট্রের রটগার্স ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জ্যানেট হ্যাভিল্যান্ড-জোনস মানুষের আবেগের ওপর ফুলের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, ফুল উপহার পেলে মানুষের মুখে যে তাৎক্ষণিক হাসি ফোটে, একে বলা হয় ‘ডুশেন স্মাইল’ যা সত্যিকারের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। মজার ব্যাপার হলো, এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী পুরুষদের প্রতিক্রিয়াও ছিল নারীদের মতোই। অর্থাৎ, ফুল পেলে পুরুষদের মস্তিষ্কেও ঠিক একইভাবে ‘ডোপামিন’ ও ‘সেরোটোনিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়। মানে, আনন্দ পাওয়ার জায়গায় সবাই সমান।
ড. হ্যাভিল্যান্ড-জোনস গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেন, ‘ফুল মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সামাজিক আচরণের জন্ম দেয়। এটি নারী বা পুরুষের জন্য আলাদা নয়। এটি মানুষের সর্বজনীন আবেগের সঙ্গে জড়িত। তবুও আমাদের সমাজব্যবস্থা পুরুষদের এই সর্বজনীন আনন্দ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।’
সোসাইটি অফ আমেরিকান ফ্লোরিস্টস-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি পুরুষ জানিয়েছেন, উপহার হিসেবে ফুল পেতে পছন্দ করেন। এই জরিপে অংশ নেওয়া পুরুষদের মতে, ফুল পেলে তাঁরা নিজেদের ‘বিশেষ’ মনে করেন এবং এটাকে যত্ন ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেন।
সমস্যা আসলে ভুল ধারণায়। সোসাইটি অফ আমেরিকান ফ্লোরিস্টস-এর জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ নারী মনে করেন পুরুষ সঙ্গীরা ফুল পছন্দ করবেন না। এই ভুল বোঝাবুঝি বা ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’-এর কারণে ছেলেরা ফুল উপহার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন বলে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এই ফুল না পাওয়ার পেছনের কারণটি আরও বেশি জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক। এক্ষেত্রে সামাজিক মনস্তত্ত্ব বা ‘সোশ্যাল সাইকোলজি’কে দেখা হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সামাজিকভাবে গড়ে তোলা হয় ‘প্রোভাইডার’ বা জোগানদাতা হিসেবে। বিখ্যাত রিলেশনশিপ এক্সপার্ট এবং সাইকোলজিস্ট ড. জন গ্রে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন, পুরুষদের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ফুল হলো ‘ফেমিনিন’ বা মেয়েলি বস্তু। এটি কোমলতা ও নাজুকতার প্রতীক।
তবে আশার কথা হলো, বিশ্বজুড়ে এই ধারণা ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে। মিলেনিয়াল এবং জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে স্টেরিওটাইপ ভাঙার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের বড় একটা কারণ সোশ্যাল মিডিয়া ও পপ কালচার। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক কিংবা সিনেমা-সিরিজে আমরা দেখছি, অনেক ছেলেই ফুল হাতে ছবি তুলছে, ফুলের নকশার জামা পরছে। ফ্যাশনে ফ্লোরাল প্রিন্ট এখন আর শুধু নারীদের জন্য সীমাবদ্ধ নেই।
যুক্তরাজ্যের একটি লাইফস্টাইল ব্লগের সমীক্ষাও এই বদলের কথাই বলছে। সেখানে দেখা গেছে, আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক পুরুষ এখন ‘ইমোশনাল গিফট’ বা আবেগঘন উপহারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দামী ঘড়ি, পারফিউম বা গ্যাজেটের চেয়ে হাতে লেখা একটি চিঠি কিংবা একগুচ্ছ ফুল তাঁদের কাছে সম্পর্কের গভীরতা আর আন্তরিকতার প্রতীক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে চাকরিজীবি পুরুষরা, যারা সারাদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাঁদের জন্য ফুল মানসিক প্রশান্তিদায়ক হতে পারে।
তাই উপহার পাওয়ার অপেক্ষায় বসে না থেকে, এবার উদ্যোগটা নিন আপনিই। আজই বাজারের সবচেয়ে সুন্দর ফুলটা তুলে দিন আপনার পুরুষ সঙ্গীর হাতে। ভালোবাসা কোনো লিঙ্গ মানে না, ফুলও না। ভালোবাসার রঙে রঙিন হোক প্রতিটি মানুষের জীবন।

ভালোবাসা মানে যার কাছে ঋণী, তাকে স্বীকার করা। যে নীরবে রক্ষা করে, তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো। এই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তাই ভালোবাসার তালিকায় থাকুক সুন্দরবনও।
২ ঘণ্টা আগে
১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে পহেলা ফাল্গুন কিংবা ভালবাসা দিবস হিসেবেই আমরা জানি। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে আমাদের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৮৩ সালের এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের জন্য এক অগ্নিঝরা দিন।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে প্রকৃতিতে লেগেছে নতুনের ছোঁয়া। বসন্তে প্রকৃতিতে ঠিক কী কী পরিবর্তন হয়? আর বসন্তের সঙ্গে মনের কোনো সম্পর্ক আছে কি?
৩ ঘণ্টা আগে
আজ ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হকের জন্মদিন। ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্রজনতার সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন গাজীউল হক। এই তথ্যটিই কেবল গাজীউল হকের ইতিহাসের নায়ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। বরং কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি ইতিহাসের এই গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন, কী ধরনের দ্বিধার বৃত্ত ভেঙ্গে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতে পের
১ দিন আগে